ক্যাটাগরি সাতক্ষীরা

Satkhira district

  • অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ১২ কর্মকর্তাকে বদলি

    অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ১২ কর্মকর্তাকে বদলি

    ডেস্ক নিউজ:

    বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাতক্ষীরার ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মকবুল হোসেনকে একই পদে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে। ঢাকা এপিবিএন-১২’র অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. ইকবালকে ঢাকা এপিবিএন-৫’র অধিনায়ক করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনামুল কবিরকে ঢাকা এপিবিএন-১২’র অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ঢাকা এপিবিএন-১৩’র অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খানকে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে। র‌্যাবের পরিচালক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এবং মো. খালিদুল হক হাওলাদারকে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূইয়াকে নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। এপিবিএন’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) নুসরাত জাহান মুক্তাকে এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে বদলি করা হয়েছে।

    আরেক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। পুলিশ অধিদফতরের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে এবং ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারকে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

    বি/ এ

  • চৌগাছা সীমান্ত থেকে নারী শিশুসহ দশ জন আটক

    চৌগাছা সীমান্ত থেকে নারী শিশুসহ দশ জন আটক

    ডেস্ক নিউজ:

    যশোরের চৌগাছায় ভারতীয় সীমান্তের ইন্দ্রোপুর গ্রামের মাঠ থেকে নারী শিশুসহ দশ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে হিজলি বিওপির বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে আটক করেন। আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশী নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

    আটককৃতরা হলেন, যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামের আবু সাঈদ (৫০), তার স্ত্রী ছকিনা খাতুন (৪৩),সাতক্ষীরা জেলার বড় কুপুট গ্রামের মাছুরা খাতুন (৩৫), তার বড় ছেলে নুর জালাল (১৫), ছোট ছেলে ওমর ফারুক (১২), এবং মেয়ে মিনারা খাতুন (৭), খুলনার তেরখাদা উপজেলার রাব্বি হাসান (২২),তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন (১৮), মেয়ে রাহেলা খাতুন (২) এবং নানি মেহেরুন বিবি (৭০)।

    হিজলি বিওপির বিজিবি কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টাকালে টহলদলের সদস্যরা তাদেরকে আটক করেন।
    তিনি আরো বলেন, আটককৃতদেরকে বেআইনি ভাবে প্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে চৌগাছা থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে আটককৃতরা এ প্রতিবদকের নিকট তাদের বাড়ি বাংলাদেশে বলে দাবি করেন।

    তারা বলেন, আমরা ভারতে বিভিন্ন পেশায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমরা দেশে বেড়াতে আসার সময় বিজিবি আমাদেরকে আটক করেছে। আটক নুর জালাল ভারতের একটি মাদ্রাসায়, ওমর ফারুক ও মিনারা খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে বলে জানান।

    আর আই খান

  • কাচ্চি ডাইনে সরবরাহের সময় পঁচা মাংসসহ আটক ১

    কাচ্চি ডাইনে সরবরাহের সময় পঁচা মাংসসহ আটক ১

    ডেস্ক নিউজ :

    সাতক্ষীরা শহরের কাচ্চি ডাইনসহ কয়েকটি হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে পচা মাংস আনার অভিযোগে এক মাংস ব্যবসায়ীকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    রোববার (২ নভেম্বর) সকালে শহরের লাবণী মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই দণ্ড দেন।

    অভিযুক্ত ব্যক্তি দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া বাজার এলাকার রুহুল কুদ্দুসের ছেলে আব্দুল কাদের। তিনি “কবির মিট” নামে সাতক্ষীরার কামালনগর বউ বাজারে একটি মাংসের দোকান পরিচালনা করতেন।

  • নিজের পাতা ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    নিজের পাতা ফাঁদে কৃষকের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজ :

     

    জমি ইজারা নিয়ে মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে শাকসবজি চাষ করতেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জেলেখালী গ্রামের কৃষক রথীন্দ্রনাথ রপ্তান (৫২)। সবজিখেতে ইঁদুরের উপদ্রব ঠেকাতে পাতেন বৈদ্যুতিক ফাঁদ। কিন্তু সেই ফাঁদেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার জেলেখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রতিবেশী হরষিত রপ্তান জানান, রথীন্দ্রনাথ বাড়ির সামনের একটি ঘেরের বেড়িবাঁধে বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করতেন। খেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় তিনি চারপাশে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে না ফেরায় স্ত্রী তাঁকে খুঁজতে বের হন। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর স্ত্রী রথীন্দ্রনাথের লাশ ঘেরের পানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার সকালে স্থানীয় শ্মশানে রথীন্দ্রনাথের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে

  • দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    ডেস্ক নিউজ

    দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ পাতার ছায়ায় ঝুলছে রঙিন ফলের মালা। কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো অসময়ের তরমুজ। নিচে মিঠে ও লোনা পানির মিশ্র ঘেরে মাছের খেলা। ওপরে মাচায় ঝুলছে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন আর বাংলা লিংকের তরমুজ। এ মন ভোলানো দৃশ্য এখন সাতক্ষীরার দেবহাটার কৃষি মাঠে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    কয়েক বছর আগেও দেবহাটার মৎস্য ঘেরের ভেড়িগুলো ছিল অব্যবহৃত বা স্রেফ আগাছায় ভরা। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেই ভেড়িগুলোতে শুরু হয় পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষ। প্রথমে অনেকে সন্দিহান ছিলেন, লোনা পানির প্রভাবে কি তরমুজ হবে? তবে প্রথম ফসলেই মিললো সাফল্য। সেই সাফল্য ছড়িয়ে পড়লো আশপাশের গ্রামগুলোতে।

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৫০ জন কৃষক এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আলাদা জমির দরকার নেই। মাছের ঘেরের ভেড়ি আর সামান্য জমিই যথেষ্ট। ফলে বিনিয়োগ কম, ঝুঁকি কম আর লাভ অনেক।

    এখন বাজারে কেজিপ্রতি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। মৌসুমের বাইরে এত দাম পাওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। উপজেলার তিনটি প্রদর্শনী প্লটে এরই মধ্যে বাম্পার ফলন এসেছে। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। যার মধ্যে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলা লিংক আছে।

    টিকেট গ্রামের চাষি বিশ্বনাথ টাপালী বলেন, ‘লোনা এলাকায় টিউবওয়েলের পানি বালতিতে করে এনে প্রতিদিন গাছে পানি দিই, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করি। কষ্ট অনেক কিন্তু ফল মিষ্টি। প্রথম চালানেই ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আরও দুই দফা তোলা বাকি।’

    কৃষক আবুল কাশেমের অভিজ্ঞতা আরও উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘তরমুজ দেখতে সুন্দর, খেতেও অসাধারণ মিষ্টি। বাজারে চাহিদা প্রচুর। আশা করছি প্রায় ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।’

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘লোনাতে সোনার খোঁজে কাজ করছি আমরা। প্রথমে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। এখন নিজেরাই এসে বীজ চাইছেন।’

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান বলেন, ‘যেখানে আগে ভেড়ি পতিত থাকতো; সেখানে এখন ফসল হচ্ছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। কৃষকের আয় বাড়ছে আর স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।’

  • জামায়াত দখলদারিত্বের রাজনীতি করেনা

    জামায়াত দখলদারিত্বের রাজনীতি করেনা

    ডেস্ক নিউজ

     

    জামায়াতে ইসলামী দেশের কোথাও ঘের দখল করে না, জমি দখল করে না, কিংবা বালু উত্তোলন করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত। নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে ঢেউ শুরু হয়েছে, তা আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

    সোমবার বিকেলে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মাঠে আয়োজিত ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‌‘জামায়াতে ইসলামী গুম, খুন, লুটপাট ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। কোনো উসকানিতে উত্তেজিত না হয়ে তালা-কলারোয়ার মানুষকে শান্ত থাকতে হবে। একটি পক্ষ আমাদের গণজোয়ার রুখে দিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আমরা সেই ফাঁদে পা দেবো না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে কেউ বেকার থাকবে না। দুর্নীতি থাকবে না, লুটপাট থাকবে না। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবার সবাইকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।’

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুল, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজায়েত আলী, সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।

     

     

  • সসনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    সসনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    ডেস্ক নিউজ :

     

    সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা।

    মাছে মড়ক না লাগা, অতি দ্রুত বড় হওয়া এবং মাত্র তিন মাসে বিনিয়োগ করা অর্থের দ্বিগুণ ফিরে পাওয়ায় সংঘবদ্ধভাবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন তাঁরা। মৎস্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় বাগদা চিংড়ির এ চাষাবাদে উৎসাহ জোগাচ্ছে অন্যদের।

    জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে ৫৫ হাজার ঘেরে সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ হয়। এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে প্রতিবছর লোকসানে জর্জরিত হতো সাতক্ষীরার চাষিরা। ভাইরাস ও দাবদাহে ঘেরে বাগদা চিংড়ি উজাড় হয়ে যাওয়ায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো তাঁদের। পরবর্তী সময়ে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা হলেও তেমন সফলতা ছিল না। ফলে দিন দিন বাগদা চাষে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছিল চাষিদের।

    তবে এ বিপর্যয় থেকে চাষিদের রক্ষায় এগিয়ে আসে মৎস্য বিভাগ। ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ নামক একটি প্রকল্পের আওতায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পানির গভীরতা ঠিক রাখা ও বায়োসিকিউরিটি নির্বাহ করা এ চাষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নতুন এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে জেলার সব চাষিকে পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে কালীগঞ্জের শিবপুরে ১৩ একর জমিতে ২৩ জন চাষি ২৩টি ঘেরে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করছেন।

    শিবপুরের বাগদাচাষি মোক্তাদির হোসেন বলেন, ‘আমরা ২৩ জন মিলে এই প্রজেক্টে চাষ করছি। কালিন্দি নদী থেকে এই খালে নোনাপানি আসে। প্রথমে ঘেরে পানি ভর্তি করি। তারপর পর্যায়ক্রমে চুন ও ব্লিসিং মারার পর ভাইরাসমুক্ত পোনা ছাড়ি। এরপর নির্দেশনামতো খাদ্য দিই। এতে ব্যাপক সফল আমরা। ৭২ শতাংশ জমিতে আমি ১৮৫ কেজি মাছ উত্তোলন করেছি। অথচ আগে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ কেজি মাছ তুলতে পেরেছি।’

    চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির পিপিটি অনুযায়ী উৎপাদিত পোনা ছাড়া হয় বলে মড়ক নেই বললেই চলে। আগে পানির লবণাক্ততা ও ভাইরাস পরীক্ষা হতো না বলে ৪০ দিন যেতে না যেতে মাছ মারা যেত। আর এখন মাছ মরে না বললেই চলে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে আমরা মাছ চাষ করে শতকে তিন-চার কেজি মাছ উৎপাদন করতে পেরেছি।’

    এ বিষয়ে কালীগঞ্জের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় শিবপুরের ২৩ জন চাষিকে নিয়ে কাজ শুরু করি। সেখানে সফলতা ব্যাপক। বায়োসিকিউরিটি ও ভাইরাসমুক্ত পোনা ব্যবহার করা হয় ঘেরে। আমরা খুব আনন্দিত, মাত্র ৩ মাসে ২০টি চিংড়িতে ১ কেজি ওজন হচ্ছে। চাষিদের এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা উচিত।’

     

  • সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    সাতক্ষীরার টালি যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

    ডেস্ক নিউজ:

    কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন- ‘মধুর চেয়ে আছে মধুর, সে এই আমার দেশের মাটি, আমার দেশের পথের ধূলা, খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি।’ আর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের মাটি যেন কবিদের সেই কথার দৃষ্টান্ত। কারণ এই গ্রামের মাটিতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন টালি যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

    জানা গেছে, মুরারীকাটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় এসব টাইলস তৈরি করেন। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি এই পালপাড়ায়। আগের মতোই মাটি সংগ্রহ করে বছরের পর বছর উঁচু স্তূপ করে রাখতে হয়। তারপর সেখান থেকে মাটি কেটে কুমাররা পায়ের মাধ্যমে কাদা তৈরি করেন মণ্ড বা খামির। মাটি তৈরির পর শিল্পী তার নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ও খাঁচে ফেলে তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের টাইলস। সেগুলো রোদে শুকিয়ে তারপর রঙ ধরানো হয়। রঙ লাগানোর কাজ শেষ হলে রোদে শুকিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে আগুনে পোড়ানোর জন্য সাজানো হয় এই টাইলস।

    ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০২ সালের পর এই টাইলস তৈরি শুরু হয়। সে সময়ে ৪১টি কারখানা থাকলেও এখন টিকে আছে মাত্র ১৩টি কারখানা। সেখান থেকে উৎপাদিত টালি বছরে ১০ থেকে ১২ কোটি মতো টালি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। দেশে আসে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা। মুরারিকাটিতে মাটিতে তৈরি উৎপাদিত টালির মধ্যে ফেক্স এ্যাংগুলার, হেড ড্রাগুলার, স্কাটিং, স্টেম্প, স্কয়ার, রুপ, ব্রিকস্ ও ফ্লোর টালি রফতানি হচ্ছে। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জেকে ইন্টাররন্যাশনাল, নিকিতা ইন্টারন্যাশনাল, মা-কটোস্ ইন্টারন্যাশনালসহ ১০ থেকে ১২টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মুরারিকাটিতে উৎপাদিত টালি ইউরোপ-আমেরিকায় রফতানি করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,  আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের রফতানিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে মুরারিকাটির টালি।

    টালি কারখানার শ্রমিক রুস্তম শেখ বলেন, আমাদের এই মাটি মাঠের মিষ্টি মাটি। মহাজন এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এই মাটি কিনে আনে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই মাটি দিয়ে টালি তৈরি করা হয়।

    শ্রমিক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, মুরালিকাটির মাটি মিষ্টি মাটি। এই মাটি সোনার চাইতে খাঁটি। এ কারণে এই মাটিটা বিদেশে রফতানি হয়। মাটি দিয়ে তৈরির এসব কারখানায় আমরা পাঁচ থেকে ছয়টি কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

    প্র-এসও অর্গানিক টাইলস কোম্পানির মালিক কামাল হোসেন ভুট্টু বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন তারা এই সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের কারণেই আমরা যারা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করছি আমাদের কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টালি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান ‘জে কে ইন্টারন্যাশনাল’ এর সিইও জাকির হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা কলারোয়ার মুরালিকাটির মাটি বেলে হওয়ার কারণে এই মাটি দিয়ে টালি সুন্দরভাবে উৎপাদন হয়। যেটা বিশ্বমানের টালি হয়ে ওঠে। এই মাটিটা পোড়ানোর পরে যে সৌন্দর্য্যতা হয় সেটি পৃথিবীর সব থেকে বেশি সুন্দর টালি হয়ে ওঠে। যার জন্য এই টালি দিয়ে আমরা গোটা দুনিয়ার মার্কেট দখল করতে পেরেছি। যারা একবার কলারোয়ার মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করেছে তারা পৃথিবীর অন্য কোনো মাটির তৈরি টালি ব্যবহার করবে না।

    তিনি বলেন, আমরা এই টালি বিশ্ববাজারে রফতানি করে থাকি। বিশেষ করে এটার বড় বাজার ইটালিতে। যার জন্য এই কলারোয়াকে ইটালির শহর বলা হয়ে থাকে। এছাড়া, আরব আমিরাত, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, তুর্কি ও ব্রিটেনের লন্ডনে আমরা রফতানি করে থাকি।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সাতক্ষীরার উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বলেন, কলারোয়ার মুরালিকাটির টালি খুব সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। আমাদের পক্ষ থেকে এই শিল্প এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

  • শতবর্ষী পোস্ট অফিসে তালা, অবশেষে উন্মুক্ত

    শতবর্ষী পোস্ট অফিসে তালা, অবশেষে উন্মুক্ত

    ডেস্ক নিউজ:

    সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত শতবর্ষী এক পোস্ট অফিসকে নিজের সম্পত্তি দাবি করে তালা ঝুলিয়ে দেন এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি দরজায় ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দেন। পরে প্রশাসন ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে অবশেষে তালা খুলে পুনরায় উন্মুক্ত করা হয় পোস্ট অফিসটি।

    সোমবার  আশাশুনি উপজেলার চাম্পাফুল স্কুলগেট সংলগ্ন শোভনালী পোস্ট অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

    পোস্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. খাদেমুল ইসলাম বলেন, সোমবার সকালে চাম্পাফুল গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে আহসানুল্লাহ মীম কয়েকজনকে নিয়ে এসে দাবি করেন, পোস্ট অফিসের ভবনটি তাদের জায়গায় নির্মিত। এরপর দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন।

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার  আশাশুনি উপজেলা এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার, পুলিশ, শোভনালী ভূমি অফিসের নায়েবসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জায়গা মাপা হয়।

    সার্ভেয়ার অমল কুমার জানান, পোস্ট অফিসটি ২০৬ ও ২১০ দাগের জমিতে অবস্থিত এর মধ্যে ২১০ দাগ সরকারি রাস্তার জমি হলেও ২০৬ দাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন। তবে খতিয়ান যাচাই না করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হলে আহসানুল্লাহ মীম নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং পোস্ট অফিসের দরজার তালা খুলে দেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা কামাল সরদার বলেন, আমার জন্মের আগ থেকেই এই পোস্ট অফিস এখানে রয়েছে। হঠাৎ করে কেউ এসে তালা ঝুলিয়ে দিল, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

    আরেক স্থানীয় খায়রুল ইসলাম বলেন, পোস্ট অফিস বন্ধ থাকায় দুদিন ধরে লোকজন বিপাকে পড়েছেন। অনেকের গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও পরীক্ষার কাগজপত্র আটকে গেছে।

    আশাশুনি উপজেলা পোস্টমাস্টার মীর আহছানুজ্জামান বলেন, পোস্ট অফিস সরকারি সম্পত্তি। এভাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়াটা দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    আশাশুনি থানার ওসি সামছুল আরেফিন বলেন, এটি জমিসংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় আমরা এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি। তবে ভবিষ্যতে এমন দুঃসাহস কেউ দেখালে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমেদ বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তৎকালীন মালিক হেমনাথ মজুমদার পোস্ট অফিসের জায়গাটি লিখে দিলেও সেটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। বিষয়টি বিস্তারিত যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত জমির মালিকানা পরিষ্কার না হবে, ততদিন কেউ পোস্ট অফিসের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারবে না। বিষয়টি পোস্টমাস্টার জেনারেলকেও জানানো হবে।

  • ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন হচ্ছে ছয় নদী

    ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন হচ্ছে ছয় নদী

    বিডি নিউজ ডেস্ক

    যশোরের ভবদহ এলাকার দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই এলাকার ছয়টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার খনন করা হবে। ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার পাঁচ উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে।

    সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজটি শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ভিডিওকলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এ কাজ উদ্বোধন করেন।  ভবদহ স্লুইস গেটের পাশে এসকেভেটর দিয়ে নদী থেকে মাটি তোলার মাধ্যমে খনন কাজ শুরু হয়। নদীগুলো হলো শ্রী, হরি, টেকা, হরিহর, আপার ভদ্রা ও তেলিগাতি।

    আলোচনা সভায় উপদেষ্টা বলেন, সরকার ভবদহ অঞ্চলের মানুষের জলাবদ্ধতার দুঃখ দূর করার চেষ্টাকরছে। ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যাকে অনেক গভীর সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকটি সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার। নদী খনন কাজে যুক্ত হওয়ায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছয়টি নদীর ৮১.৫ কিলোমিটার খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধ এলাকার পানি সরিয়ে ফেলা হবে। এতে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে। সবাই মিলে সেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজতে হবে বলে মন্তব্য করেন।

    জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি, প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুন উর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক বিএম আবদুল মোমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।