ক্যাটাগরি সাহিত্য

  • আজ প্রমথ চৌধুরীর জন্মদিন

    আজ প্রমথ চৌধুরীর জন্মদিন

     

    প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর জন্মদিন আজ। ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দের এ দিনে তিনি যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন চাটমোহরের হরিপুর গ্রামের জমিদার বংশের সন্তান। প্রমথ চৌধুরী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। প্রমথ চৌধুরী নদীয়ার কৃষ্ণনগরে শৈশব ও কৈশর কাটলেও তিনি মাঝে মাঝে আসতেন পৈত্রিক নিবাস হরিপুরে।

    তিনি কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে এন্ট্রাস, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে এফএ, প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) দর্শন ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা, আইন কলেজে ও ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা ও ঠাকুর এস্টেটের ব্যবস্থাপক পদে কাজ করেন তিনি। এরই মাঝে সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন তিনি। সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরী চলিত ভাষাকে সম্মানের আসনে বসিয়েছেন। তার সমসাময়িক সময়ে তার মতো প্রখর রুচিশীল লেখক খুব একটা ছিল না।

    তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ হলো বীরবলের হালখাতা, তেল নুন লাকড়ী, নানা কথা, আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা, নানাচর্চা ও প্রবন্ধ সংগ্রহ। বীরবল ছদ্মনামে লিখতেন তিনি। বাংলা সাহিত্যের জন্য কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। প্রমথ চৌধুরী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রভাষক ইকবাল কবীর জানান, প্রমথ চৌধুরীর পৈত্রিকনিবাস ৩ বছর আন্দোলনের পর তিন একর জমি দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে।

    সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রমথ চৌধুরীর প্রধান খ্যাতি মননশীল প্রবন্ধলেখক হিসেবে। তবে তিনি উচ্চমানের গল্প ও কবিতাও রচনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন। বুদ্ধিদীপ্ত তির্যকভঙ্গি তার গদ্য-পদ্য সব রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। শাণিত যুক্তি ও আলঙ্কারিক ভাষা প্রয়োগেও তিনি দক্ষ ছিলেন। তিনি ইংরেজি ও ফরাসি সাহিত্যে সুপন্ডিত ছিলেন। ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট, তের্জারিমা ইত্যাদি বিদেশি কাব্যবন্ধ বাংলা কাব্যে তিনিই প্রবর্তন করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: তেল-নুন-লাকড়ি (১৯০৬), সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩), চার-ইয়ারি কথা (১৯১৬), বীরবলের হালখাতা (১৯১৬), The Story of Bengali Literature (১৯১৭), পদচারণ (১৯১৯), রায়তের কথা (১৯২৬), নীললোহিত (১৯৩২) ও আত্মকথা (১৯৪৬)।

    প্রমথ চৌধুরী ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে কৃষ্ণনগরে অনুষ্ঠিত একবিংশ বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিরিশচন্দ্র ঘোষ-বক্তারূপে বঙ্গ সাহিত্যের পরিচয় তুলে ধরেন। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জগত্তারিণী স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ২ ডিসেম্বর শান্তিনিকেতনে তার মৃত্যু হয়।

  • টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    টক দইয়ের অম্বলের রেসিপি

    উপকরণ

    টক দই ২ কাপ, ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ১ কাপ, শর্ষে অল্প পরিমাণ, পেঁয়াজবাটা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ১ টেবিল চামচ, শর্ষের তেল অল্প পরিমাণ।

    প্রণালি

    ডুমা ডুমা করে কাটা বেগুন ভেজে তুলে রাখুন। দই অল্প পানিতে মসৃণভাবে গুলে নিতে হবে। কোনো রকম দানা দানা ভাব থাকতে পারবে না। শর্ষে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজবাটা হালকা করে ভেজে নিতে পারেন। গোলানো দই ঢেলে দিন। লবণ ও চিনি দিন। ফুটে উঠলে ভাজা বেগুনগুলো দিয়ে নামিয়ে নিন। দই বেশি ফুটতে থাকলে ফেটে গিয়ে ছানা কেটে যাবে। সেদিকে লক্ষ রাখুন।

    আরও পড়ুন

  • রোজ এক কাপ চানা বুট খেলে কী হয়, জানেন?

    রোজ এক কাপ চানা বুট খেলে কী হয়, জানেন?

    চানা বুট বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার। কোনো এক বেলার স্ন্যাকস তো বটেই, রাতের খাবারের বিকল্পও হতে পারে এক কাপ চানা বুট। চানা বুটে আছে আমিষ, শর্করা এবং দেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজ উপাদান। আরও আছে পর্যাপ্ত আঁশ। এ সম্পর্কে জানালেন টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান

    ওজন নিয়ন্ত্রণ

    পর্যাপ্ত আঁশ ও আমিষ থাকায় চানা বুট খেলে আপনার সহজে ক্ষুধা লাগবে না। আবার এতে শর্করাও পাবেন। অর্থাৎ কর্মক্ষম ও সতেজ থাকার জন্য আপনি পর্যাপ্ত ক্যালরিও পাবেন তা থেকে। বুঝতেই পারছেন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রোজ চানা বুট খেতে পারেন। এভাবে ওজন কমানো সহজ হবে।

    আঁশের উপকার এখানেই শেষ নয়

    পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ। রক্তের খারাপ চর্বি কমাতেও কাজে আসে এই আঁশ। তা ছাড়া আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে হুট করে রক্তের সুগার বেড়ে যায় না, যেমনটা বাড়ে সাদা ভাত খেলে। চানা বুটের মতো আঁশযুক্ত খাবার খেলে রক্তের সুগার বাড়ে ধীরে ধীরে, স্বাস্থ্যকরভাবে।

    খনিজ উপাদানের উপকার অনেক

    চানা বুটে আছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও সেলেনিয়াম। চুল ও ত্বক সতেজ রাখার জন্য তো বটেই, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এসব উপাদান আমাদের প্রয়োজন রোজ। এসবের মধ্যে জিংক ও সেলেনিয়াম অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তার মানে তারুণ্য ধরে রাখতেও কাজে আসে এসব উপাদান। তা ছাড়া চানা বুটে আরও আছে সামান্য পটাশিয়াম ও আয়রন। তবে এই আয়রন দেহের কাজে লাগানোর জন্য এর সঙ্গে চাই ভিটামিন সি। অর্থাৎ টক ফল বা ফলের রসের সঙ্গে খেলে তবেই এই আয়রন কাজে লাগবে। হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতার জন্য সঠিক মাত্রায় পটাশিয়াম জরুরি। আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। তবে কেবল এক কাপ চানা বুটের আয়রনের ওপর নির্ভর করে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

    বিকল্প আমিষ

    চানা বুটে যে আমিষ থাকে, তা দেহের আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। তবে এটি উদ্ভিজ্জ আমিষ হওয়ায় একে দ্বিতীয় শ্রেণির আমিষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, উদ্ভিজ্জ আমিষে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে না। সুস্থ থাকতে সারা দিনে চানা বুটের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস থেকেও আমিষ গ্রহণ করতে হবে। আপনি চাইলে এক কাপ চানা বুটের সঙ্গে একটা সেদ্ধ ডিম কুচি করে যোগ করে নিতে পারেন। ডিম প্রাণিজ আমিষ বলে তা প্রথম শ্রেণির আমিষ। অর্থাৎ এতে আমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব কটি অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। চানা বুটে যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো নেই, সেসবের ঘাটতি মেটানো যায় এভাবে। অর্থাৎ চানা বুটের সঙ্গে ডিম যোগ করলে আমিষের মোট পরিমাণও বাড়ে, আবার আমিষের গুণগত মানও বাড়ে।

    খেয়াল রাখুন

    • চানা বুটে টক ফলের রস যোগ করলে আপনি ভিটামিন সির উপকারও পাবেন।
    • কাঁচা সবজি যোগ করলে পাবেন ভিটামিন বি।
    • চানা বুট সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো। তেল যোগ করা হলে ক্যালরির মাত্রা বেড়ে যাবে। তাতে ওজন নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত হবে।