ক্যাটাগরি শেরপুর

Sherpur district

  • ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    ভারতের মুসলমানরা যেভাবে রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যার শিকার

    নিউজ ডেস্ক:

     ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। একটি বিতর্কিত নির্বাচনি সংশোধনের পর এই ঘটনা ঘটে। সমালোচকরা এটিকে ‘রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ ও সংখ্যালঘুদের গণহারে ভোটাধিকার হরণ বলে অভিহিত করেছেন।

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মোট ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের ১০ শতাংশেরও বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই মৃত বা নকল নাম হলেও, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ তাদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করছেন, তবে তারপরেও তাদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।

    ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে চলছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নামে পরিচিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। এটিকে নরেন্দ্র মোদী সরকার নিন্দাসূচক অর্থে ব্যবহৃত অনুপ্রবেশকারীদের ভোটদান ঠেকানোর প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেণ। শব্দটি দিয়ে মূলত অবৈধ মুসলিম বাংলাদেশী অভিবাসীদের বোঝায়।

    কেন্দ্রীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের এমনি করেই বহু বিভাজনমূলক পদক্ষেপ সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনের আগে অভূতপূর্ব গতিতে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ বছর ধরেই রাজ্য শাসনকারী দল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের আশা করছছিল মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি।

    তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেছেন, ‘বাংলায় যা ঘটেছে তা একটি সাংবিধানিক অপরাধ। আর এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে, বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ।’

    ঘোষ আরো বলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তীতে পর ভারতের ইতিহাসে এটি একটি কেলেঙ্কারি হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট সংবিধান কর্তৃক ভারতীয় জনগণকে প্রদত্ত একটি মহান অধিকার। আপনি যতই দরিদ্র বা অসহায় হোন না কেন, আপনার ভোট দেওয়ার সেই অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

    বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সংস্থার মতে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো ও নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

    সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার কথা উল্লেখ করে সাবার ইনস্টিটিউটের প্রধান সাবির আহমেদ জানিয়েছে, ‘আমাদের গবেষণা অনুযায়ী, ধর্মই সবচেয়ে বড় পার্থক্যকারী কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, মুসলিমরা অসমভাবে এর শিকার হয়েছেন।’

    যদিও বিজেপি ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকারের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে তারা নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর একটি কারণ হলো, রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন তাদের নেই, যারা বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা নিয়ে সন্দিহান।

    কিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনি এলাকায় প্রায় অর্ধেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার প্রমাণপত্র থাকার পরেও অনেকে বাদ পড়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে নিজে, অথবা তাদের বাবা-মা, ভোটার যোগ্যতার কাট-অফ পয়েন্ট অর্থাৎ ২০০২ সালের যোগ্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    যাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সবাই মুসলমান

    বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মুর্শিদাবাদ জেলার শেরপুর গ্রামে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী জাবের আলী, যিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নথি সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরই একজন ছিলেন।

    চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আলী ৭০০-র বেশি পরিবার পরিদর্শন করেছেন, নথিপত্র যাচাই করেছেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত রেকর্ড আপলোড করেছেন। তার কাছে কাজটি ছিল অক্লান্ত পরিশ্রমের। তিনি বলেন, ‘আমি মাঠে ১২ ঘণ্টা কাজ করতাম, তারপর বেশিরভাগ রাত কম্পিউটারে কাটাতাম। আমি প্রায় ঘুমাতামই না।’

    কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষে যখন সংশোধিত তালিকা প্রকাশিত হলো, আলী বলেন, তিনি যাদের নাম যাচাই করেছিলেন তাদের বেশিরভাগই অনুপস্থিত ছিল, এমনকি তার নিজের নামও। তিনি বলেন, ‘লোকেরা আমাকে ফোন করে বলতে লাগল যে আমি আমার কাজ ঠিকমতো করিনি। তিনি বলেন, পরিহাসের বিষয় হলো, আমার নিজের নাম এবং আমার ভাইদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    আলী বলেন, গ্রামে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ নাগরিকরা সারাজীবন যে আশঙ্কা করছেন যে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী গণ্য করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে তার এলাকায় এই বাদ দেওয়ার ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ করেছে। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে যাদেরকে সরানো হয়েছে, তারা সকলেই মুসলমান। মানুষ মনে করছে যে তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।’

    সমালোচকরা এসআইআর-কে অসাংবিধানিক বলে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং এটিকে বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনি ব্যবস্থায় কারচুপি ও কারচুপির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    রাজনৈতিক বিরোধী দল ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধানকারী নির্বাচন কমিশনকে আর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা হিসেবে দেখা যায় না।

    পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর-এর যৌক্তিকতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ভারতের সাবেক নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশী। তিনি বলেন যে এটি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরি সম্পর্কে মন্তব্য করতে আমি খুব অস্বস্তি ও দ্বিধা বোধ করছি, কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমি দেখছি কী ঘটছে এবং আমাকে মুখ খুলতেই হবে। তিনি এসআইআর-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এই এসআইআর সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, এটি হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে এটি একটি বিপর্যয় এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য মহৎ নয়।

    তিনি আরো বলেন: ‘তালিকার নিরানব্বই শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করতে আমাদের ৩০ বছর লেগেছিল। আর তারা তিন মাসের মধ্যেই এর থেকে ভালো কিছু আশা করছে। যদি মূল উদ্দেশ্য নির্ভুলতাই হয়, তাহলে এই পাগলাটে তাড়াহুড়োর কারণ কী?

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তথ্যে তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নতুন এআই-সহায়ক অ্যালগরিদম প্রয়োগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, কুরাইশি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন সহ লাখ লাখ বাঙালিকে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হয়েছিল। আর তাদের মধ্যে অনেকেই ২৭ লক্ষ বাদ পড়া ভোটারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালগরিদমটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বিষয় বিবেচনায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাংলা নাম ইংরেজিতে লেখার কোনো প্রমিত পদ্ধতি নেই এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলা পদবিগুলোর পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক নথিপত্রে বানানে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এছাড়াও, পুরোনো প্রজন্মগুলোতে প্রচলিত থাকা সত্ত্বেও, অ্যালগরিদমটি ১৬ বছরের কম বয়সী পিতামাতা এবং পাঁচজনের বেশি ভাইবোনকে একটি ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    কুরাইশি বলেন, তার সময়ে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ও সংবেদনশীল ছিল। তিনি বলেন, “যদি এই সামান্য অসঙ্গতির ভিত্তিতে ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র এবং এই উদ্দেশ্যে ঠিক নয়।”

    যারা নিজেদের জীবন ভারতীয় রাষ্ট্রের সেবায় উৎসর্গ করেছেন, তাদের অনেকেই হঠাৎ করে ভোটাধিকারচ্যুত হয়েছেন। বাষট্টি বছর বয়সী সেনারুল হক, যিনি ৩৫ বছর চাকরি করার পর দুই বছর আগে ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স থেকে অবসর নিয়েছেন, তিনি দেখেন যে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম উধাও, অথচ তার স্ত্রী ও দুই ছেলের নাম তালিকায় রয়ে গেছে।

    হক বলেন, ‘এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমি দেশের সবচেয়ে কঠিন কিছু এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর যখন ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ পড়ল, আমি যথাযথভাবে আমার কাগজপত্র জমা দিয়েছি, তারপরেও আমার নাম নেই।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সারাদেশে নির্বাচনি দায়িত্বে ছিলাম। এখন আমাকে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবং এর জন্য কেউ জবাবদিহি করছে না। এটাকে ব্যবস্থার সঙ্গে উপহাস বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে কীভাবে এত মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা যায়?’

    যদিও ভোটারদের ভোট বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ট্রাইব্যুনাল চলছে। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগে অল্প কয়েকটি মামলারই মাত্র শুনানি হয়েছে। হাওড়া জেলার সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা, ৫৫ বছর বয়সী হিমানি রায় তাদের মধ্যে একজন। তিনি জানান তার মামলার শুনানি সময়মতো হয়নি, অর্থাৎ তিনি তার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারছেন না। আর এটি অত্যান্ত পরিহাসের বিষয় হলো যে পোলিং অফিসার হওয়ার জন্য তার নাম এখনও তালিকায় রয়েছে।

    হিমানি রায় বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং আমার নাম কেন বাদ পড়েছে তার কোনো স্পষ্ট উত্তর তাদের কাছে নেই।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন খারতের গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণের কথা বলি, ব্যাপারটা ঠিক তখন এমনই দেখায়। গণতন্ত্র এবং আমাদের দেশের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত দুঃসময়।’

    দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও বিজেপির এক ডজনেরও বেশি জাতীয় ও রাজ্য মুখপাত্র এই অভিযোগগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

    তবে, অতীতের মন্তব্যে বিজেপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে এসআইআর-কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘শুধু দেশের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি অপরিহার্য।

    ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও লেখক পরাকাল প্রভাকর জোর দিয়ে বলেছেন যে, একতরফাভাবে বিপুল সংখ্যক নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার গুরুতর প্রভাব রয়েছে, যা কেবল রাজ্য নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার চেয়েও অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী।

    প্রভাকর বলেছেন, ‘এটি সম্পন্ন হলে ভারতে দুটি শ্রেণীর তৈরি হবে যেখানে একদল রাজনৈতিক সমাজ ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে আর অন্যদল যাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব হত্যা করা। এটি একটি রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা।’

  • যেভাবে নিরর্বাচিত হয় সংরক্ষিত নারী আসনে

    যেভাবে নিরর্বাচিত হয় সংরক্ষিত নারী আসনে

    ডেস্ক নিউজ:

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয় ভোটের কয়েক দিন আগে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।

    এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাত জন, যার ছয়জনই বিএনপির এবং একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।

    বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকেন আর এর বিপরীতে নির্বাচিত হতেন; কখনো কখনো বিরোধী দলের নারী প্রার্থীরা কয়েকটা আসনে।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন ৩০০ আসনের মধ্যে আসনভিত্তিক আনুপাতিক হারে।

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুসারে, অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দলের ছয় জন যদি নির্বাচিত সাংসদ হন, তাহলে ওই দল থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হবেন।

    তখন ওই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ওই বিশেষ রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন এবং সেই দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে পারবেন ওই প্রার্থী। এই নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে থাকে নির্বাচন কমিশন। ভোটের জন্য একটি দিনও নির্ধারিত রাখা হয়।

    বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেও দলগুলো আসন সংখ্যা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার দিনই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো।

    এবার কোন দল কতটি আসন পাবে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। এর বাইরে বিএনপি জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদ একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি আসনে জয় পায়।

    সেই হিসাবে বিএনপি জোট এই ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। আইন অনুযায়ী আসনসংখ্যার ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টন হবে এবারও।

    প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত থাকায় অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পাবে বিএনপি জোট। বাকি তিনটি আসনের ভোট ও ফলাফল চূড়ান্ত হলে বাড়তি আরো একটি আসন পেতে পারে।

    এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।

    সেই হিসাবে জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসনের বিপরীতে ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে জানাচ্ছেন নির্বাচন বিশ্লেষকেরা।

    এই নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একত্রে জোটবদ্ধ হলে তারা অন্তত একটি আসন পেতে পারেন।

    যেভাবে সংরক্ষিত আসন চালু

    এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩টি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সংসদে নারী আসনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এবং ৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদে ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। তবে ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে চতুর্থ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না।

    ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ওই সংসদেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল।

    ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ওই নির্বাচনটি বাতিল হলে ওই বছরের জুন মাসে সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখনও ৩০টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।

    অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে সরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদে নারী আসন বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়।

    ধাপে ধাপে জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানো হলেও এই নির্বাচন পরোক্ষভাবে হওয়ায় নারী ক্ষমতায়ণ কতখানি নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনে নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলেই প্রকৃতভাবে নারীর ক্ষমতায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব। না হলে এই নারী আসন শুধু অলংকারিকভাবেই ক্ষমতায়িত হবে।

    যেভাবে বন্টন হয় সংরক্ষিত আসন

    আসনবণ্টন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনও নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকা নেই। তারা কেবল দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবে। এক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টিত হবে। নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জোটবদ্ধ হয়ে তাদের অংশ হিসেবে মহিলা আসন বন্টনের সুবিধা নিতে পারবে।

    বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৫০। এই ৫০ সংখ্যাকে ৩০০ (দেশের নির্বাচনি এলাকা) দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে সেটাকে কোনও দল বা জোটের যে সংখ্যক সদস্য শপথ নিয়েছেন তা দিয়ে গুণ করলে যে ফল পাওয়া যাবে, সেই সংখ্যক মহিলা সদস্য হবে ওই দল বা জোটের। গুণফল ভগ্নাংশ হলে সেক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫ (০.৫) বা তার থেকে বেশি সংখ্যকের জন্য একটি আসন পাওয়া যাবে। অর্থ্যাৎ ০.৫ এর বেশি হলে এক এবং কম হলে শূণ্য গণনা হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে বণ্টিত আসন সংখ্যা মোট আসনের (৫০) থেকে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনও কোনও ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।

    উহাদরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এবার জামায়াতে ইসলামী সংসদে ৬৮টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে এ দলটির ১১টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাওয়ার কথা। [৫০÷৩০০ = ০.১৬৬৭। এরপর ২২x০.১৬৬৭= ১১.৩৩৬] এখানে .৩৩৬ এর জন্য শূণ্য গণনা হবে।

  • শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর ভোট বর্জন

    শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর ভোট বর্জন

    বিডি ডেস্ক নিউজ:
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শেরপুর-৩ আসনে (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) চলমান নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ চলাকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

     শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করা হবে। এর আগে, শেরপুর-৩ আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের ভোট হয়। আর তফসিল ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হয়েছিল।
  • নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে ঘটে যাওয়া ব্যতিক্রমী ‘মহিষ বাজি’ এবার পেল এক মানবিক পরিণতি। মানবিক বিবেচনায় বাজিতে জেতা মহিষটি শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক মো. আব্দুল মান্নান।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেন কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ। মহিষের মালিকের কষ্ট দেখে হৃদয়ে আঘাত অনুভূত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বালুঘাটা গ্রামের আমির হোসেনের মধ্যে অভিনব এক বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন ৬টি মহিষ, আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমির হোসেন দেবেন ১টি মহিষ।

    ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হওয়ায় বাজিতে পরাজিত হন আমির হোসেন। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আব্দুল মান্নান। মহিষ নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কৌতূহলী ভিড় জমে সেই দৃশ্য দেখতে। তবে আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিষটি ছিল আমির হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি।

    এলাকাবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আব্দুল মান্নান ও আমির হোসেন সম্পর্কে ওরা আত্মীয়, নির্বাচনের আগে তারা মহিষ নিয়ে বাজি ধরেছিল। আমির হোসেন বাজিতে হেরে যাওয়ার পর আব্দুল মান্নান বিএনপির সমর্থক লোকজন নিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মহিষটি নিয়ে আসেন এরপর তিনি মানবিক বিবেচনা করে ফেরত দিয়ে দেন। এতে করে আমরা এলাকাবাসী ব্যাপক খুশি হয়েছি।

    আব্দুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক তা তিনি চান না। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটি আমির হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সাধুবাদ জানান।

    আমির হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দুজন মাঠে মহিষ চড়াইতে গিয়ে কথার এক পর্যায়ে বাজি ধরি। নির্বাচনের পর বাজিতে আমি হেরে গেলে আমার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে একটি মহিষ দিয়ে দেই। পরবর্তীতে উনি আমার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করে, উনার মনোবল বড় বিদায় আমার প্রতি খুব ভালোবেসে মহিষটি ফেরত দেন, এতে করে আমি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

    উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আনন্দের বাজি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য উদাহরণ।

  • শেরপুরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

    শেরপুরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

    শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে মো. জাহিদুল হক মনির নামের এক ইউপি সদস্য ও সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে ঝিনাইগাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৭১৪) করেছেন তিনি।

    ডেস্ক নিউজঃ

    মনির ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের ১নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের শেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঝিনাইগাতী ক্ষুদ্র বণিক সমবায় সমিতির লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।

    জিডি সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৭টা ৫২ মিনিটের দিকে তার ব্যবহৃত ০১৭৭৮৯১৯০০০ নম্বরে ০৯৬১০৯৭৩০২৮ নম্বর থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় লেখা ছিল, ‘মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও মনির। তুমি খুব তাড়াতাড়ি খুন হবা।’ এ ধরনের হুমকি পাওয়ার পর তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

    ভুক্তভোগী মো. জাহিদুল হক মনির বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও জনস্বার্থমূলক বিষয় নিয়ে কাজ করার কারণে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। অজ্ঞাত নম্বর থেকে আমাকে এ ধরনের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে থানায় জিডি করেছি।’

    ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, হুমকির ঘটনায় সাংবাদিক ও ইউপি সদস্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে, এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    এম কে

  • শেরপুরে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    শেরপুরে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজঃ

    শেরপুরে একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের মোবারকপুর কইন্যাপাড়া এলাকার একটি কলাবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত থাকলেও, কোমরের নিচের অংশ কাটা ছিল।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে লোকজন কলাবাগানে গেলে নারীর খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, অজ্ঞাত ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহটির কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। বাকি অংশ সেখানে ছিল না। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

    এম কে

  • শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

    ডেস্ক নিউজঃ

    শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) স্থগিত আসনের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ রোববার (১৫ মার্চ) সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

    এ সময় জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদকে প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপি প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেলকে ধানের শীষ ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমানের মাঝে কাঁচি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    এ নির্বাচনে পাঁচজন বৈধ প্রার্থী থাকলেও তাঁদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মোট তিনজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।প্রতীক বরাদ্দকালে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জহিরুল হকসহ বিএনপি এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    পরে প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন-বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক। ওই সময় তিনি সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল হয়। পরে আগামী ৯ এপ্রিল এই আসনে নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পুনঃতফসিল ঘোষণা করে ইসি। প্রয়োজন না থাকায় এই আসনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানা গেছে।

    এম কে

  • শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

    শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

    ডেস্ক নিউজঃ

    জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে বাতিল হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন আমিনুল ইসলাম বাদশা। এতে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের একক প্রার্থীসহ মোট ৪ জন বৈধ প্রার্থী রইলেন।

    বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান। আগামী ১৫ মার্চ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর হতে প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।

    এর আগে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে ৯ মার্চ আমিনুল ইসলাম বাদশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

    জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

    এম কে

  • স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা  শেরপুরে মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

    স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা শেরপুরে মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

    বিডটাইমস ডেস্কঃ

    বগুড়ায় একটি হিমাগারের পলাতক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টার অভিযোগে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    বগুড়ার শেরপুরের খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মিল্লাত হোসেন সম্প্রতি বগুড়ার অবকাশকালীন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা করেন।

    বিচারক সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির মামলাটি আমলে নিয়ে নথিপত্র ও প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব ও দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার আসামিরা হলেন- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. এম জুবায়দুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান, প্রধান কার্যালয়ের ইনচার্জ মাহমুদ হোসেন খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ, বগুড়ার জোনাল শাখার ইনচার্জ সিকদার শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (বিআরপিডি) ও সদস্য সচিব, নীতি সহায়তা প্রদান বাছাই কমিটি বায়েজিদ সরকার এবং বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচক বাজারে আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না (সভাপতি নাগরিক ঐক্য)।

    মামলায় কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরী ও পরিচালক তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুসহ পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

    বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা জালিয়াতি ও প্রতারণাকারী এবং আইন পরিপন্থি কাজের সঙ্গে জড়িত। তার সঙ্গে ২নং সাক্ষী এবিএম নাজমুল কাদির চৌধুরী ও ৩নং সাক্ষী ইসমত আরা লাইজুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামা সম্পাদক হয়। চুক্তিনামা অনুযায়ী এরা দুজন ও ৭নং আসামি মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রতিষ্ঠান আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করে তা বিক্রির জন্য চুক্তি হয়। চুক্তির দিন সাক্ষী ১০ কোটি টাকা বুঝিয়ে দেন এবং অবশিষ্ট ১৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের সময় পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করেন।

    পরে দেখা যায়, সাক্ষী এবিএম নাজমুল১ কাদির শাহজাহান চৌধুরী ও তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজু গত বছরের ১৯ আগস্ট আমেরিকা চলে যান। পলাতক অবস্থায় তাদের অনুপস্থিতিতে আসামি মাহমুদুর রহমান মান্না ওই দম্পতির স্বাক্ষর জাল করে ১ ডিসেম্বর বোর্ড সভার ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করেন। যেখানে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    আসামিরা এই জাল রেজুলেশনকে বৈধ রূপ দিয়ে তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকে দাখিল করে ঋণ পুনঃতফশিলের আবেদন করেন। পরে তারা পরস্পর যোগসাজশে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে মিথ্যা কাগজপত্রের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফশিলের অনুমোদন আদায়ের চেষ্টা করেন।

    গত ১১ ডিসেম্বর দাখিল করা ওই মামলায় আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বগুড়ার বড়গোলা শাখা থেকে খেলাপি ৩৮ কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার টাকা ঋণ পরিশোধের জন্য আসামিদের ‘কল ব্যাক নোটিশ’ দেওয়া হয়।

    ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এরপরও আসামিরা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে পুনঃতফশিলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল ওহাব বলেন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিবগঞ্জের কিচক বাজারে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম নাজমুল কাদির শাহজাহান চৌধুরী, তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এরপরও তাদের উপস্থিত দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৩৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের চেষ্টা করায় এ মামলা হয়েছে।

    দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল জানান, আদালতের আদেশের কপি বুধবার হাতে এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার আদেশের অনুলিপিসহ নথিপত্র দুদক ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সূত্রঃ যুগান্তর

    এআর/নিই

  • আ. লীগ নেতা চন্দন কুমার পালের জামিন বাতিল

    আ. লীগ নেতা চন্দন কুমার পালের জামিন বাতিল

    শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

    সোমবার (২০ অক্টোবর) বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় জামিনে মুক্ত আসামি চন্দন কুমার পালের পক্ষে করা আবেদন শুনানি না করায় তা নামঞ্জুরক্রমে এ আদেশ দেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভুঁইয়া।

    এসময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন দায়রা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান। তাকে সহায়তা করেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আশরাফুন্নাহার রুবী ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউর রহমান।

    জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান।

    এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন পালের জামিন ইস্যুতে বিচারক ও পিপির অপসারণসহ ৮ দফা দাবিতে এদিন সকাল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং হতাহত পরিবারের সদস্যরা আদালত চত্বর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

    এসময় জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মাহামুদুল হাসান রাকিব, এনসিপি নেতা রাশেদুল হাসান দেওয়ান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা শাহনূর রহমান সায়েম, মোর্শেদ জিতুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা কর্মসূচি স্থগিত করেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার পাল সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ৬ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে এবং সর্বশেষ আরো একটি মামলায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর জেলা দায়রা আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে পরদিন জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। আজ ২০ অক্টোবর ছিল সেই মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ।

    আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার পালের মুক্তির খবর জানাজানি হলে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। গুঞ্জন ওঠে, তিনি জামিনে মুক্তির পর দেশত্যাগ করেছেন।

    বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন-পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের পর গত ৬ অক্টোবর সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান গেটে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

    • পরবর্তী সময় ওই দিন বিকেলে চন্দন কুমার পালের দেশত্যাগের আশঙ্কায় তার পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি বিশেষ আবেদন করেন। সেই বিষয়ে শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ জহিরুল কবির রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে চন্দন কুমার পালের পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।