ক্যাটাগরি জাতীয় সংবাদ

  • রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে হবে

    রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলতে আমরা সচরাচর যেটা বুঝি তা হলো সরকার কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত এবং মালিকানাধীন সম্পদ। যেমন বিভিন্ন সরকারি অফিস, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, নদী, খাল, জলাশয়, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষাবাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কোর্ট-কাচারীসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এবং তাদের স্থাপনাসমূহ।

    একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কর নেয়া হয়, যা তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে। সেই করের অর্থ দেশের উন্নয়নের জন্যই সরকার বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ প্রদান করেন। কিন্তু সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার ফলে উন্নয়ন প্রতিনিয়তই বাধাগ্রস্ত হয়। অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে বিপুল পরিমাণ অপচয় হয়।

    প্রতিটি দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর। তাই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কেননা এটি মানুষের কাছে আমানত স্বরূপ। প্রতিটি নাগরিকের এ আমানত রক্ষা করা উচিৎ। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ভিতর সবথেকে বেশি অপচয় হয় বিদ্যুৎ। লোডশেডিংয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে বিদ্যুতের অপচয়। বিশেষ করে অতিমাত্রায় বিদ্যুতের অপচয় লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে। যেখানে অযথা লাইট, ফ্যান, এসিসহ বিভিন্ন ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার হয়ে থাকে।

    বর্তমানে দেখা যায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিভিন্ন আলোকসজ্জা করা হয়, যেটা অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য দায়ী। তাছাড়া অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে প্রতিবছর সরকার কোটিকোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। বিদ্যুতের পরেই আসে গ্যাসের অপচয়।  শহর এলকার একশ্রেণির মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় চুলা জ্বালিয়ে রাখে, এতে করে গ্যাসের অনেক বড়ো একটি অংশ অপচয় হয়ে যায়।

    রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাষ্ট্র যেমন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়, তেমনি নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব রাষ্ট্রের সম্পদের সুরক্ষা করা। সরকারের একার পক্ষে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় সম্পদ ব্যবহারে প্রত্যেকের সচেতন হতে হবে। সবাইকে পাওয়ার সেভিং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, দিনের বেলায় লাইট, ফ্যান কিংবা এসি কম ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অধিক জ্বালানি গ্যাস ব্যবহার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যাবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সবার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর তাহলেই জাতীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

    বি/এ

  • ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে হামলা

    ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে হামলা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোমবার (৬ এপ্রিল) জানিয়েছে, তারা একটি ইসরাইলি মালিকানাধীন কনটেইনার জাহাজ এবং একটি মার্কিন আক্রমণাত্মক যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

    ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দিনের শুরুতে চালানো ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে তাদের ৯৮তম দফার হামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

    আইআরজিসি কনটেইনার জাহাজটির নাম ‘এসডিএন৭’ বলে উল্লেখ করে জানায়, এটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিখুঁতভাবে আঘাত করা হয়েছে এবং এতে আগুন ধরে যায়।

    তারা আরও জানায়, ৫ হাজারের বেশি সেনা বহনকারী মার্কিন উভচর আক্রমণ জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি (এলএইচএ-৭) লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।

    আইআরজিসি আরও দাবি করে, তাদের বাহিনী ইসরাইলের হাইফা শহরের কৌশলগত কেন্দ্রগুলোতে, পাশাপাশি বেয়ার শেভার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি ও স্থাপনাগুলোতে নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া মধ্য ইসরাইলের পেতাহ টিকভায় ইসরাইলি বাহিনীর একটি সমাবেশস্থলেও হামলা করা হয়েছে।

    আইআরজিসির মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং ওই আরব দেশের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা কয়েকটি বিমান।
    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের কয়েকটি শহরে যৌথ হামলা চালায়, যাতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।পাশপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

  • রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি

    রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি

    • ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে চারটি কূপ খনন।
    • এর মধ্যে তিনটিতে বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান মেলে।
    • খনিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন।
    • উত্তোলনযোগ্য প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।

      ডেস্ক নিউজঃ

      রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরে আবিষ্কৃত সম্ভাবনাময় কয়লাখনির কার্যক্রম প্রায় দুই দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনতায় থমকে আছে। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচিত হলেও এখনো শুরু হয়নি কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম।

      ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে পীরগঞ্জের খালাশপীর এলাকায় প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় চারটি কূপ খনন করা হয়। এর মধ্যে তিনটিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খনিটিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।

      ২০০৬ সালের আগস্টে খনির সমীক্ষা প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) অনুপ কুমার রায় বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

      প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আমরা প্রস্তুত রেখেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।’

      জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আমদানি করা কয়লা ও ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর (মাগুরা) গ্রামে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

      সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খনিটি চালু হলে এখান থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বছরে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হলে প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত রাখা যেতে পারে। এতে দেশের কয়লার চাহিদা দীর্ঘ সময়ের জন্য পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কয়লা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

      বর্তমানে প্রকল্পটিতে কাজ করছেন ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাঁদের কাজ মূলত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও খনির রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ। খনিটি চালু হলে এলাকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এতে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

      স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ বলেন, পীরগঞ্জের কয়লাখনি চালু হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারে। এতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গড়ে উঠবে নতুন শিল্পাঞ্চল, উন্নত হবে যোগাযোগ ও অবকাঠামোব্যবস্থা। আরেক বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, এই কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে দেশের কয়লার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

      পীরগঞ্জের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ‘সংসদে সুযোগ পেলে পীরগঞ্জের কয়লাখনির বিষয়টি উত্থাপন করব, যাতে দ্রুত এটি উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া যায়।’

      এম কে

  • লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’

    উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারীর বালাবাড়ি হাটে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’। এ মেলাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

    ডেস্ক নিউজঃ

    সরেজমিন শনিবার( ২৮ মার্চ) দুপুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে নববধূ ও গৃহবধূদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রঙিন শাড়ি, গয়না ও গ্রামীণ সাজে সজ্জিত নারীদের উপস্থিতিতে মেলায় তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল পরিবেশ।

    মেলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পসরা—হাতের তৈরি গহনা, মাটির তৈজসপত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রীসহ নানা রকম গ্রামীণ পণ্য। এছাড়া শিশুদের জন্য খেলনা, নাগরদোলা এবং বাহারি খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।

    উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে ঘিরে বালাবাড়ি হাটে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে আসছে। প্রায় ৪০০ বছরের এই প্রাচীন আয়োজনের অংশ হিসেবে স্নানের পরবর্তী দুই দিন এলাকায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জামাই মেলা’ এবং পরদিন ‘বউ মেলা’, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতিফলন।

    আয়োজকরা জানান, বালাবাড়ি হাটের এ মেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। মূলত নারীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা এই মেলায় তারা নিজেদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম হচ্ছে।

    মেলায় আসা সালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, এই মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে আমরা নিজেদের তৈরি জিনিস বিক্রি করতে পারছি, আবার আনন্দও উপভোগ করছি।

    রংপুর থেকে আসা দোকানী রাবেয়া বেগম বলেন, প্রতিবারে অষ্টমীর আগের দিন আসি। অষ্টমীর দিনে ভালোই বিক্রি হয়েছে। এবারে বউ মেলায় তেমন কোন বিক্রি করতে পারিনি। এখানে এবারে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আশা করি, পরের বার যেন সরকারের ব্যবস্থাপনায় মেলাটি হয়।

    মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামীতে এই মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে এবং এটি হয়ে উঠবে অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

    এম কে

  • ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

    ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

    বিডিটািইমস ডেস্ক

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় ছিল তখন অধ্যাদেশ করেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের নীরব থাকা উচিত নয় এবং তাকে রাজপথে নেমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া উচিত।

    তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম সংস্কার, বিএনপি বলেছিল নির্বাচন। দুই তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়ার পর তারা কোনও কিছুই তোয়াক্কা করছে না। গণভোট মানছে না। গণভোট কিন্তু জুলাই সনদ অনুযায়ী হয়নি। বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে আনছে না।

    তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, সচিবালয় অধ্যাদেশ তারা বাতিল করছে। তাদের অধিকাংশ নেতাই গুমের শিকার হয়েছে, এই গুমের অধ্যাদেশও তারা বাতিল করে দিতে চাচ্ছে। এই অধ্যাদেশ বাতিল আইনে পরিণত না হলে বিএনপির কলঙ্কমুক্ত হবে না।

    শনিবার দুপুরে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

  • চৌগাছায় ইজিবাইক উল্টে যুবক  নিহত

    চৌগাছায় ইজিবাইক উল্টে যুবক নিহত

    বিডিটাইমস ডেস্ক
    যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইমরান হোসেন (২৫) নামে এক জন নিহত হয়েছে। শনিবার  (৪ এপ্রিল) বিকেলে  চৌগাছা- কোটচাঁদপুর সড়কের মেসার্স বিশ্বাস ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত  ইমরান হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চানপাড়া গ্রামের রায়হান হোসেনের ছেলে।
    জানা যায়, ইমরান হোসেন ইজিবাইকযোগে তার শাশুড়িকে ডাক্তার দেখানোর জন্য  চৌগাছায় যাচ্ছিলেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইজিবাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় ইজিবাইক চাপা পড়ে মারাত্মক আহত  হয়। পরে স্থানীয়লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে  নিয়ে যায়। সে খানে তার অবস্থা অবনতি হলে  যশোর সদর হাসপাতালের রেফার্ড করেন। যশোরে যাওয়ার পথে মারা যায়।
    চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
  • ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট‘ ঘোষণা

    ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট‘ ঘোষণা

    বিডিটাইমস ডেস্ক

    দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরিভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২১ মে তথা পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    হামের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে- বরগুনা জেলা পৌরসভা ও সদর, পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা, চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও রামু উপজেলা। গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা। এ ছাড়াও রয়েছে, নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা, নওগাঁর পোরশা। যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোর পৌরসভা ও সদর, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা, মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

  • কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের লাশ উদ্ধার

    কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের লাশ উদ্ধার

    বিডিটাইমস ডেস্ক

    রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা পৌনে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ লাশ উদ্ধার করেন।

    এর আগে গ্যাস লাইটার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। পরে যোগ দেয় আরও ৪ ইউনিট। দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

  • নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়ে ৮০ শিশুসহ ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

    এ ছাড়া, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে আইসোলেশন বিভাগে রেখে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম বলেন, আমার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। বিকেলের দিকে সারা শরীরে র‍্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছে এটা হামের উপসর্গ।

    আরেক রোগীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারি সে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

    নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

    জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধে ফুটানো পানি পান, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

    এম কে

  • ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি : প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০

    ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি : প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০

    রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির কার্ড বণ্টন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অন্নদানগর ইউনিয়নে প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনে প্রশাসকের নিজের জন্য ৩৭৭টি এবং ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য ১২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

    এর আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের গত ৫ মার্চের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের কপি পাওয়া যায়। রেজুলেশনটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বিভিন্ন খাতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন প্রশাসকের জন্য ৩৭৭টি কার্ড এবং দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।

    এ ছাড়া, ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭৫টি, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০টি করে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি কার্ড বিতরণের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জন্য পৃথকভাবে ২৭৫টি করে কার্ড বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    তবে ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৩৯৭টি কার্ডের বিপরীতে ৪৮৩.৯৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কল্যাণী ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি, পারুল ইউনিয়নে ৫,৯৮৬টি, ইটাকুমারী ইউনিয়নে ৪,০৮৬টি, অন্নদানগর ইউনিয়নে ৪,৭৯৭টি, ছাওলা ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, তাম্বুলপুর ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, পীরগাছা ইউনিয়নে ৭,০৯৮টি, কৈকুড়ী ইউনিয়নে ৫,২৮৬টি ও কান্দি ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।

    এদিকে ভাগাভাগির রেজুলেশনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভিজিএফের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বণ্টনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য নির্দিষ্ট কার্ড সংরক্ষণের বিধান সরকারি নীতিমালায় নেই। ফলে এমন রেজুলেশন তৈরি করা হলে তা নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্য হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। কার্ড ভাগ বণ্টনের বিষয়টি প্রকাশ হলে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

    পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা চলে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান। এ সময় তিনি হারুন অর রশিদ বাবু নামে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ হুমকি দেন।

    রেজুলেশনে উল্লেখিত কার্ড বরাদ্দের বিষয়ে জানতে অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কার মাধ্যমে বিতরণ হলো সেটা বিষয় না। তবে সবাই যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায় সে লক্ষে কাজ করছি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পরে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে বিতরণ করা হয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

    পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এম কে