ক্যাটাগরি জাতীয় সংবাদ

  • ববি ছাত্রদলের কমিটিতে ২০ ছাত্রলীগ নেতা!

    ববি ছাত্রদলের কমিটিতে ২০ ছাত্রলীগ নেতা!

    ডেস্ক নিউজ:

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ১০ জনকে স্থান দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির–এর স্বাক্ষরে ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    কমিটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ভেতরে ও বাইরে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগকারীরা বলছেন, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও যাচাই করেই তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এটি ছাত্রদলের “পুনর্বাসন কমিটি” হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।

    কমিটির উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত পদপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের একাধিক নেতা।

    ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমন সংখ্যক বিতর্কিত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি তাদের জানা ছিল না। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতা অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার আগে স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত নেওয়া হয়নি।

    অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং সরাসরি বিতর্কমুক্ত প্রার্থীদের বিবেচনায় রেখেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। নেতৃত্ব আরও দাবি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় ববি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে।

    বি/ এ

     

  • হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩০২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭ জন।

    ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বি/ এ

  • বড়দের আচরণে ক্ষতি হয় শিশুর

    বড়দের আচরণে ক্ষতি হয় শিশুর

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    শিশুরা সবসময় নিজের চারপাশ থেকে শেখে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের আচরণই তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তারা বড়দের দেখেই অনেক কিছু রপ্ত করে ফেলে। তাই বাড়িতে ছোট সদস্য থাকলে বড়দের একটু বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। ছোটদের সামনে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা তাদের মনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।

    এখানে এমন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো, যেগুলো অভিভাবকদের এড়িয়ে চলা উচিত—বিশেষ করে যখন শিশুরা আশপাশে থাকে।

    অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করা নয়

    প্রতিটি শিশু আলাদা — তাদের ভাবনা, শেখার পদ্ধতি, আর গতি একেকরকম। তাই নিজের সন্তানের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা একেবারেই উচিত নয়। এতে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং মনে চাপ তৈরি হয়। শিশুকে তার নিজের মতো বেড়ে উঠতে দিন, প্রশংসা করুন তার নিজস্বতা।

    আবেগ দমন করতে শেখানো ঠিক নয়

    অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা কষ্ট বা রাগ পেলে সেটা প্রকাশ করতে চায়, কিন্তু বড়রা সেটা আটকান। ‘এগুলো বলো না’ বা ‘এত আবেগ দেখিও না’—এমন কথা শিশুর মনে বাধা তৈরি করে। ফলে তারা ধীরে ধীরে মনের কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলে। বরং, সন্তানের আবেগকে বোঝার চেষ্টা করুন, তাকে ভালোভাবে শুনুন।

    সব সময় ব্যস্ত রাখা শিশুর জন্য ক্ষতিকর

    আজকাল শিশুরা পড়াশোনা ছাড়াও নানা কাজে ব্যস্ত থাকে—কোচিং, হোমওয়ার্ক, ক্লাস, প্রজেক্ট ইত্যাদি। কিন্তু খেলাধুলা, বিশ্রাম, বা একান্ত নিজের সময়ও তাদের দরকার। যদি সারাদিন তাকে দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত রাখা হয়, তাহলে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তাই একটা ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন বানানো জরুরি।

    শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় তাদের চারপাশের পরিবেশ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বড়রা যেমন আচরণ করবেন, শিশুরাও তা দেখেই শিখবে। তাই নিজের আচরণে সচেতন হওয়া এবং ছোটদের বুঝে, ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তোলাই একজন অভিভাবকের আসল দায়িত্ব।

    বি/ এ

  • পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাড়ছে ৩৫ হাজার কোটি

    পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাড়ছে ৩৫ হাজার কোটি

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। সেই লক্ষ্য নতুন বাজেটে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বাড়তি অর্থ দিয়ে শুধু নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করা হতে পারে। পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ও পরের ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ দেয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতাগুলো।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংকেত পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

    নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত আগের কমিটিকে পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। বেতন কমিশনও একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এ সব সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

    বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ও জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ড. এ কে এনামুল হক বলেন, নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করলে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নই অধিক যুক্তিযুক্ত। তিনি জানান, বাজারে মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কমিশনও তিন বছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল।

    তিনি আরও বলেন, নতুন পে স্কেলের লক্ষ্য কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং সরকারি সেবার মান উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা। একজন কর্মচারী যদি ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে না পারেন, তাহলে তার কাছ থেকে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন। দারিদ্র্যজনিত চাপ থেকে কর্মচারীদের দূরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

    পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বছরে মোট ব্যয় প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

     

  • হাম রোগ কেন হয়, প্রতিকারের উপায়

    হাম রোগ কেন হয়, প্রতিকারের উপায়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    Measles (হাম) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন হাম রোগী গড়ে ১২–১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন (R₀ 12–18)—এ কারণে একে “অত্যন্ত দ্রুত ছড়ানো রোগ” বা high contagious disease বলা হয়।

    সবচেয়ে দ্রুত ছড়ানো সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে Measles (হাম)। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২–১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন, যা অত্যন্ত উচ্চ সংক্রমণক্ষমতা নির্দেশ করে। হাম, COVID-19 (করোনা) ও Influenza (ইনফ্লুয়েঞ্জা) ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়।

    হাম কিভাবে ছড়ায়?

    এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার পরও কিছু সময় পরিবেশে সক্রিয় থাকতে পারে। তাই টিকা না থাকলে অল্প সময়েই বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে এবং ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।

    হামের টিকা কিভাবে তৈরি হয়

    হামের টিকা (MMR) অত্যন্ত কার্যকর। টিকা তৈরিতে Measles ভাইরাসকে ল্যাবরেটরিতে দুর্বল (attenuated) করা হয়। এই দুর্বল ভাইরাস শরীরে রোগ সৃষ্টি করতে পারে না, কিন্তু রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system)-কে সক্রিয় করে তোলে। ফলে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে শক্তিশালী ভাইরাস আক্রমণ করলে তা দ্রুত প্রতিরোধ করতে পারে।

    এই পদ্ধতিকে “live attenuated vaccine” বলা হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়। দুই ডোজ নিলে প্রায় ৯৭% পর্যন্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। টিকা না নিলে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    বড়দের কি হাম হয়?

    বড়দেরও Measles হতে পারে, বিশেষ করে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। বড়রাও MMR টিকা নিতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ছোটবেলায় টিকা নেয়নি বা সম্পূর্ণ ডোজ নিশ্চিত নয়, তারা প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেও টিকা নিতে পারেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষার্থী, বিদেশযাত্রী বা ভিড়ের মধ্যে কাজ করেন—এমন মানুষের জন্য এটি বেশি জরুরি। অনেকে মনে করেন হাম শুধু শিশুদের রোগ—এটি ভুল।

    হামের উপসর্গ

    হামের প্রধান উপসর্গ হলো—উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)ও দেখা যেতে পারে।

    হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভিটামিন A অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।

    হামের জটিলতা সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা হলো মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)। Measles–এর জটিলতায় যখন মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়, বিশেষ করে এনসেফালাইটিস বা SSPE দেখা দেয়, তখন ব্রেইন কোষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন দেখা যায়—যেমন নিউরোইনফ্ল্যামেশন (Neuroinflammation), ডিমাইলিনেশন (Demyelination), অ্যাপোপটোসিস (Apoptosis), ব্লাড–ব্রেইন ব্যারিয়ার ডিসরাপশন (Blood–brain barrier disruption) এবং সিন্যাপটিক ডিসফাংশন (Synaptic dysfunction)।

    এতে খিঁচুনি, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, অস্বাভাবিক আচরণ এবং বাচন সমস্যা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। পরবর্তীতে আচরণগত সমস্যা, বুদ্ধিবিকাশে বিলম্ব বা অন্যান্য মানসিক ও স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

    হামের টিকা: এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের কাহিনি

    বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম (Measles) প্রতিরোধী টিকা নিয়মিত দেওয়া হয়—বাংলাদেশেও এটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটিন টিকা। কিন্তু কীভাবে এল এই টিকা?

    টিকা আবিষ্কারের চাঞ্চল্যকর ইতিহাস:

    হামের টিকা উদ্ভাবনের কৃতিত্ব মূলত জন এফ. এন্ডার্স ও তাঁর সহকর্মীদের। ১৯৫৪ সালে তারা ডেভিড এডমনস্টন নামের এক অসুস্থ শিশুর রক্ত থেকে হাম ভাইরাস আলাদা করেন। এই হাম ভাইরাসটিকেই পরবর্তীতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুর্বল করে তৈরি করা হয় ‘এডমনস্টন-বি স্ট্রেইন’ নামের নমুনা, যা পরবর্তী টিকা উদ্ভাবনে ব্যবহার করা হয়।

    ১৯৬৩ সালে এন্ডার্স ও তাঁর সহকর্মী চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জিনগতভাবে দুর্বল হাম ভাইরাস (‘এটেনুয়েটেড ভাইরাস এডমনস্টন-বি স্ট্রেইন’) ব্যবহার করে প্রথম সফল টিকা তৈরি করেন। এই দুর্বল ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে কোনো রোগ না ঘটিয়েই এক ধরনের প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা পরবর্তীতে প্রকৃত (সবল) হাম ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করে।

    পরবর্তীতে হামের টিকাকে আরও উন্নত ও নিরাপদ করে এমএমআর টিকা (হাম-মাম্পস-রুবেলা) আবিষ্কার করা হয়। এন্ডার্স শুধু হামের টিকার জন্যই নয়—পোলিও টিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান। এই আবিষ্কার সত্যিই বিশ্বস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক। হামের টিকা এখন পর্যন্ত কোটি কোটি শিশুকে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করেছে—এটাই বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি।

    উপসংহার

    সুতরাং, হামকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো টিকা গ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিরোধ। তবে মাস্ক ব্যবহার কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে, কিন্তু এটি টিকার বিকল্প নয়।

     

  • বাস্তবায়নের পথে ‘নবম পে স্কেল’

    বাস্তবায়নের পথে ‘নবম পে স্কেল’

    অর্থনীতি ডেস্ক:

     

    আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘নবম পে স্কেল’ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গেজেট প্রকাশের দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।

    বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘নবম পে স্কেল’ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি। এই সুপারিশ আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    শনিবার (০২ মে) সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘নবম পে স্কেল’ দ্রুত বাস্তবায়নে সমাবেশ ও আলোচনা সভার কথা জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মে মাসজুড়ে বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৮ মে পটুয়াখালী এবং ৯ মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

    এ ছাড়া আগামী ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা আয়োজন করা হবে।

    সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ১১ বছরে দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি কর্মচারীরা এখনো নতুন কোনো পে স্কেল পাননি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অধিকাংশ কর্মচারী ঋণের বোঝায় জর্জরিত এবং মাস শেষে ঋণ পরিশোধের পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই নতুন করে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন।

    সংগঠনটির মতে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ না রাখা হলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়তে পারে। দেশের উন্নয়নে ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকার আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে ২২ লাখ কর্মচারী পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

    নানা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি।

    এই কমিটির সুপারিশ আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সুপারিশে আর্থিক চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন জুলাই থেকে প্রথম ধাপের সুপারিশ অর্থাৎ মূল বেতন বৃদ্ধিরে বিষয়টি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বি/ এ

  • শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যামান ৩০০টি ক্লাসরুমের মৌলিক সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি) কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততার সাথে শেষ করার কাজ চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল  বলেন, ‘দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা অনুদানে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা
    হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলের ক্লাসরুমে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা রয়েছে।’

    মাউশির প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (আইইপি) সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে; ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

    দেশের শিক্ষা খাতের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন।

    তিনি  বলেন, ‘চীন সরকারের অনুদানে প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা যাবে।

    প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি মাল্টিমিডিয়া স্মার্ট ক্লাসরুম ছাড়াও ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে।

    প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের গবেষণা ও উদ্ভাবন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম  বলেন, ‘প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয় শেষে এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা টিএপিপি তৈরির কাজ শুরু করা হবে। এটি বাংলাদেশ সরকার এবং চীনা পক্ষ যৌথভাবে প্রণয়ন করবে।’

    সিফাতুল ইসলাম আরও জানান, টিএপিপি প্রণয়নের পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে পিইসি (প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটি) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করবে।

    এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীন সরকার একটি বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আর এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়াও মাউশি থেকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই তদারকির জন্য একজন কন্টাক্ট পারসন মনোনীত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের সাথে চীনা পর্যবেক্ষক দলের প্রাথমিক কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হুয়াওয়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চাঁদপুর সফর করেছেন বলে জানিয়েছেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (পরিকল্পনা) তানজিনা শাহরীন বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে, যা ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

    বি/ এ

  • সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    বিডি ডেস্ক:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন।

    রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

    এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।

    বিএনপির ৩৬ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) হলেন- সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জিবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, মোসা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    জামায়াত জোটের ১২ এমপি হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম।

    এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের সুলতানা জেসমিনকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

    এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র শনিবার বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম আইনি প্রক্রিয়া ও আপিলের সময় সংরক্ষণের কারণে গে

    জেট আকারে প্রকাশ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ফলে আজ রাতে জাতীয় সংসদে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

    বি/ এ

  • নড়াইলে দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    নড়াইলে দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

    নড়াইল প্রতিনিধি

    ‘হৃদয়ে বাংলার মুখ’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে নড়াইলে নানা আয়োজনে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার ৭ম বর্ষপূতি পালিত হয়েছে।

    এ উপলক্ষে শনিবার (২ মে ) বেলা ১১টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল-শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কেককাটা ও বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু। সভাপতিত্ব করেন-নড়াইল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন-দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার নড়াইল প্রতিনিধি আবদুস সাত্তার।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন-সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমিন, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি তারিকুজ্জামান লিটু, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী, সাংবাদিক ফরহাদ খান, আসাদ রহমান, শরিফুল ইসলাম বাবলু, শুভ সরকারসহ অনেকে।

    অনুষ্ঠানে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকাকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।

    প্রধান অতিথিসহ আলোচকবৃন্দ বলেন, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশেনের মাধ্যমে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখবে। এছাড়া পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমকে আরো গতিশীল করতে হবে।

  • গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    নড়াইল প্রতিনিধি

    অবিলম্বে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নড়াইলে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২ মে) বিকেলে পুরাতন বাসটার্মিনাল চত্বরে মুক্তমঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চু।

    তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভোটের পরে গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার। বিএনপির চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় জনসভায় গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে কথা বললেও এখন বাস্তবায়নে টালবাহানা করছেন। আমরা আবার কোনো স্বৈরাচার সরকার দেখতে চাই না। জনগণ আর কোনো বৈষম্য দেখতে চায় না। জনগণ আজ হতাশ।

    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন-জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আয়ুব হোসেন খান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন, জামিরুল হক টুটুল, হেমায়েতুল হক হিমু, ড. খান আব্দুস সোবহান, আকিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ আল আমিন, পৌর আমির জাকির হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা আমির মাওলানা হাদিউজ্জামান, কালিয়া উপজেলা আমির মাওলানা তরিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল পুরাতন বাস টার্মিনাল চত্বর থেকে শুরু হয়ে রূপগঞ্জসহ শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    এআর/এনআর