ক্যাটাগরি জাতীয় সংবাদ

  • চিতলমারীতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    চিতলমারীতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    ডেস্ক নিউজ

    জেলার চিতলমারী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে রবি মৌসুমে গম, মুগ, সরিষা, সূর্যমুখী (ওপি ও হাইব্রিড) এবং খেসারি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাবৃন্দ।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. সিফাত আল মারুফ জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৮৭০ জন কৃষকদের মধ্যে গম ২০জনকে, সরিষা ৩৫০ জন, সূর্যমুখী (ওপি) ৩০জন, সূর্যমুখী হাইব্রিড ২০০জন, খেসারি ৭০ জন এবং মুগ ২০০জনকে দেয়া হয়েছে।

  • ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মাল্টি-হ্যাজার্ড ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

    ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মাল্টি-হ্যাজার্ড ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

    ডেস্ক নিউজ:

     

    যে কোনো দুর্যোগে শিল্প কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে মোংলা ইপিজেডে শুরু হয়েছে ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি, ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা এবং বহু-বিপদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি । প্রশিক্ষণে মোংলা ইপিজেডের শিল্প-কারখানা হতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন।

    সোমবার (৩ নভেম্বর, ২০২৫) সকালে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক কালাম মো. আবুল বাশার।

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর সেইফটি কাউন্সিল এবং মোংলা ইপিজেডের যৌথ উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
     
    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবুল বাশার বলেন, দুর্যোগের প্রস্তুতি ও দুর্যোগকালে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিল্পকারখানার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পের উৎপাদনশীলতা অব্যাহত রাখা সম্ভব।
     
    এ সময়, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে এফবিসিসিআইয়ের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোংলা ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ওয়াহেদুজ্জামান।
     
    তিনি জানান বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ প্রিপেয়ার্ডনেস পার্টনারশিপ (বিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এফবিসিসিআই দেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।
     

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোংলা ইপিজেডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. কাউসার হোসেন, ইপিজেড জোন অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের কর্মকর্তাগণ।

  • বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    ডেস্ক নিউজ:

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পানবাড়িয়া গ্রামের যুবক সবুজ শিকদার (৩৪)। জীবিকার খোঁজে ১৭ বছর গ্রামের বাইরে ছিলেন। গত বছর নিজ গ্রামে ফেরেন তিনি। মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নিজ ঘরের বারান্দায় শুরু করেন মাশরুম চাষ। এখন সেই মাশরুমই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের পানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইছহাক আলী শিকদারের ছেলে সবুজ শিকদার। ২০০৭ সালে জীবিকার খোঁজে বাড়ি ছেড়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কাটিয়েছেন।

    এক সময় ওষুধের ব্যবসা করলেও, গত বছর তিনি নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সবুজ সাভারের মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে ১২ দিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাশরুম চাষ শুরু করেন। নিজের ঘরের বারান্দার মাত্র ১২ হাত জায়গায় তিনি ‘মেসার্স সাইবা পিও-টি জাতের মাশরুম’ প্রকল্প চালু করেন। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে ৬২২টি মাশরুম ব্যাগে চাষ করছেন এবং প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন কেজি মাশরুম উৎপাদন করতে সক্ষম।

    সবুজ স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন, আর মাশরুম গুঁড়া বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা দরে। তিনি দারাজ, পাঠাও, স্কুট এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাশরুম সরবরাহ করছেন। এছাড়াও ৫০০ গ্রাম ইস্পন প্যাক ২৫ টাকায়, ১ কেজি ৫০ টাকায় এবং ২ কেজির প্যাকেট ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

    পানবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সবুজ ভাই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আগে কেউ ভাবেনি যে ঘরের বারান্দায় বসেই এত কিছু করা যায়। এখন গ্রামের অনেক যুবকই মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

    স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শিরিন বেগম বলেন, মাশরুম চাষ করে সবুজ এখন ভালো আয় করছেন। এমন উদ্যোগে যদি সরকারি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন এবং স্বাবলম্বী হবে।

    সবুজ শিকদার বলেন, প্রথমে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। যদি সরকারি সহযোগিতা পাই, তাহলে আরও বড় আকারে চাষ করতে পারব। আমার স্বপ্ন অনেক বড়। এই বারান্দার ছোট পরিসর থেকে শুরু করে একদিন আমি এই মাশরুম চাষকে অনেক বড় একটি শিল্পে পরিণত করতে চাই।

    তিনি বলেন, আমি চাই আমার মতো আরও অনেক বেকার যুবক এই মাশরুম চাষে আগ্রহী হোক এবং স্বাবলম্বী হোক। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষকে আমি দেশের প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দিতে চাই।

    কচুয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শেখ নাইমুর রশিদ লিখন বলেন, মাশরুম চাষ এখন একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। খুব অল্প জায়গায়, অল্প খরচে এটি চাষ করা যায়। সবুজ যা করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই আরও যুবক তার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করুক। কৃষি অফিস থেকে আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি।  মাশরুম পুষ্টিকর হওয়ায় বাজারে এর

    চাহিদাও হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে। সবুজের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, সবুজের মতো কেউ যদি এই উদ্যোগ শুরু করতে চায়,  তাহলে  প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা যে কোনো সহযোগিতায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

  • মোড়লগঞ্জে চাচাত ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    মোড়লগঞ্জে চাচাত ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. কালাম খান (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে চোর তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। গতকাল  রাত ৯টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়িখালী ইউনিয়নের ছোট জামুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালাম খান ওই ইউনিয়নের ঢেপুয়ারপাড়

    গ্রামের ওয়াজেদ আলী খানের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন,  জমিজমা নিয়ে কালাম খান ও একই বংশের সোহেল খানের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার থেকে ফেরার পথে সোহেল খান তাঁর লোকজন দিয়ে কালাম খান ও তাঁর বড় ভাই লুৎফর খানকে ধরে নিয়ে চুরির অভিযোগে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে কালাম খান অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে রাস্তায় এনে ফেলে পুলিশে দেন। পরে পুলিশ তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় দুই ভাইকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালাম খানকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বড় ভাই লুৎফর খানের অবস্থায়ও সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    সুত্র: প্রথম আলো

  • সুযোগ পেলে মানবতার কল্যাণে কাজ করবো

    সুযোগ পেলে মানবতার কল্যাণে কাজ করবো

     

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    নির্বাচিত হলে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন চূয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ। তিনি বলেন, জামায়াত খলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজির রাজনীতি করেনা। জামায়াত একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা সততার গ্যারান্টি দিতে পারে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে একটি আত্মনির্ভরশীল দূর্নীতিমুক্ত কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করবে।

    ২ আক্টোবর রোববার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করবে। জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চাই বলে তিনি ঘোষণা দেন।
    তিনি আরো বলেছেন, জামায়াত মানুষের পাশে থাকতে চাই। জামায়াতে ইসলামী নেতারা দলকানা জনপ্রতিনিধি হতে চাইনা । আমরা জনপ্রতিনিধিদের কে জনগেণের নিকট জবাবদিহিতার কালচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

    আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাজারো আঘাতেও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিল। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাসিঁ, দিয়েও থামানো যায়নি এ দলের জানবাজ কর্মীদের। ভবিষ্যতেও কোনো হুমকি ধামকিতে কাজ হবেনা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে জিতে যাবে জনগন। এসময় তিনি উপস্থিত জনগণের কাছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহবান করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা পৌর আমীর অ্যাড. হাসিবুল ইসলাম, নায়েবে আমীর মাহবুব আসিক শফি ও আনোয়ার হোসেন, পৌর সেক্রেটারী মোস্তফা কামাল, সহকারী সেক্রেটারী ইমরান হোসেন, অফিস সম্পাদক আবু যায়েদ আনসারী, পৌর উলামা ও মসজিদ মিশন সভাপতি হাফেজ মাওলানা আঃ শুকুর মালিক, পৌর যুব বিভাগের সভাপতি শাহ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌর সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, অফিস সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাসুমসহ পৌর নেতৃবৃন্দ।

     

  • জীবননগরে পেয়ারা গাছের সাথে শত্রুতা!

    জীবননগরে পেয়ারা গাছের সাথে শত্রুতা!

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শত্রুতার জেরে জালাল উদ্দিন নামের কৃষকের প্রায় ৩০০টি উচ্চ ফলনশীল জাতের পেয়ারা গাছ কেটে ফেলেছে  দুর্বৃত্তরা । রোববার দিনগত রাতে উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের মাঠে ঘটনাটি ঘটেছে ।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে জালাল উদ্দিনের ২৫ কাঠা জমিতে  ৩০০টি পেয়ারার চারা রোপণ করেন এবং গত দুই বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানটিকে ফল ধরা শুরু হয়।  রাতের আঁধারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বাগানের সমস্ত গাছ কেটে ফেলে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, প্রায় দেড়  লাখ টাকা খরচ করে তিনি এই পেয়ারা বাগান তৈরি করেছিলেন। গাছে ফুল ও ফল ধরায় তিনি লাভের আশা করছিলেন। এই বছর তিনি প্রায় তিন লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করতে পারতেন। তিনি বলেন, হরিহার নগর গ্রামের মৃত মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে আলমগীর হঠাৎ করে আমার এই জমি তার বলে দাবি করে। এই নিয়ে কয়েকবার তার সাথে আমার ঝামেলা হয়েছে সে বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দেয় এবং আমার ছেলের গলায় হেসো ধরে। এর আগেও সে একবার আমার জমির নেটের বেড়া কেটে দেয়। আমরা এই জমিতে ৫৩ বছর চাষাবাদ করছি আমার দাদার কেনা জমি আজ হঠাৎ করে তারা এই জমি তাদের বলে দাবি করছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে আমাদের বারবার হুমকি দিচ্ছে। দুর্বৃত্তরা আমার সব গাছ কেটে দিল। আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কয়েক লাখ টাকার ফল উৎপাদনের স্বপ্ন ভেঙে গেল। এই ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মামুন হোসেন বিশ্বাস জানান,অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড

    রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড

    ডেস্ক নিউজ:

     

    বাগেরহাটে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। আগস্ট মাসে কেন্দ্রটি ৭৭১.৭০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের (১০ হাজার ১০০ মিলিয়ন ইউনিট) ৭.১৫ শতাংশ।

    গত তিন মাস ধরে প্ল্যান্টটি ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে ৬০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, যার মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৬.৪ মিলিয়ন ইউনিট।
    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম।

  • মোল্লার হাটে ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মানের দাবি

    মোল্লার হাটে ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মানের দাবি

    ডেস্ক নিউজ:

    বাগের হাট জেলার মোল্ল­ার হাটে ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। প্রতিদিন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীসহ হাজার হাজার মানুষ শ্যালো নৌকাযোগে ধলেশ্বরী নদী পার হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলে এলাকার  সাধারণ মানুষের চলা চলে সুবিধা হবে।

    সেতু নির্মানের জন্য সরকারের দৃষ্ট করেছে মোল্লাহাটের স্কুল কলেজ, এলাকার সাধারণ মানুষ।

  • নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    ডেস্ক নিউজ:

    চলতি বোরো মৌসুমে চাষি মোস্তফা হাসান চার বিঘা জমিতে মাত্র ২১ কেজি বীজ লাগিয়ে ২২১ মণ ধান উৎপাদন করেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা! বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে সোনালি বর্ণের এই ধান।

    বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক জাত ব্রি-১০৮ ধান চাষে এ অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার শৌখিন এই চাষি।

    ইউটিউবের মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক মোস্তফা হাসান শেরপুর থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে ২১ কেজি বীজ ধান সংগ্রহ করেন। চার বিঘা জমিতে কিষান খরচ, জমি চাষ, সার ওষুধ ও সেচ খরচ মিলে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অধিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় বীজতলা থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত তার এই খরচ হয়েছে বলে জানান। সার ব্যবস্থাপনা কম লাগায় ও বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় অধিক লাভের আশা প্রকাশ করেন। জানুয়ারিতে রোপণ করা ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। এক শতক জমির ধান নমুনা কর্তনে ৪৫ কেজি ধান পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৬০০ টাকা বলে তিনি জানান। ২/১ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা হবে বলে জানান মোস্তফা হাসান।

    ইতোমধ্যে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বীজের জন্য ২০ মণ ধানের চাহিদার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার  সকালে উপজেলার বাহিরদিয়া ব্লকে কৃষক মোস্তফা হাসানের ধানক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের অনেক কৃষক আগ্রহ নিয়ে ধান দেখতে এসেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের লোকজন কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

    উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নয়ন সেন বলেন, সোনালি রঙের ব্রি-১০৮ জাতের ধানটি এই উপজেলায় প্রথম চাষ হয়েছে। সম্ভবত জেলায়ও প্রথম হবে। এ ধানের চাল মাঝারি লম্বা ও চিকন। ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় উচ্চ মূল্যের জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে অধিক দামের কারণে ইতোমধ্যে ধানটির প্রতি ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষক মোস্তফা হাসান ও ক্ষেত মজুর রহমত ফকির জানান, ৪ বিঘা ৫ শতক জমিতে ব্রি-১০৮ ধান চাষের সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হবে। এ অঞ্চলে প্রথম চাষেই সাফল্য পাওয়ায় অনেক চাষি এটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা করতে চান তিনি। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রি-১০৮ হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আবিষ্কৃত সর্বাধুনিক জাতের ধান। এ ধানটি অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়। প্রতি গোছায় গড় কুশির সংখ্যা ১৬/১৭টি। দানার পুষ্টতা শতকরা ৮৮.৬ ভাগ। চালে প্রটিনের পরিমাণ ৮.৮ ভাগ যা অন্যান্য চালের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্য সম্মত।

    উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মাঝে ধানটি ছড়িতে দিতে এই ক্ষেত থেকে সরকারিভাবে বীজ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

  • নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    ডেস্ক নিউজ :

     

    বাগেরহাটের সদর উপজেলার বাসাবাটি এলাকায় নারীদের হাতে তৈরি অর্গানিক পণ্য এখন শুধু ঘরের সাজসজ্জা নয়, তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের উৎস। নারকেলের ছোবড়া, কাঠ, কাপড় ও সুতা দিয়ে তাদের হাতে তৈরি পাখির বাসা, বিড়ালের খেলনা, দোলনা, জুতাসহ নানা ধরনের পণ্য বাজারে বিক্রি হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় এগুলো। রোজী আহমেদের উদ্যোগে নারীবান্ধব এই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন ৮০ জন নারী। এই শ্রম শুধু নারীদের আয়ের পথই খুলে দেয়নি, জুগিয়েছে তাদের আত্মবিশ্বাস।

    সরেজমিনে দেখা যায়, রোজী আহমেদের ফ্যাক্টরিতে, বাড়ির উঠানে এবং পাশের দুটি একতলা ভবনে তৈরি হচ্ছে ৫০-৬০ প্রকারের অর্গানিক পণ্য। নারকেলের ছোবড়া ও আঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাখির বাসা, দোলনা, নারকেলের জুতা। কাঠ, কাপড় ও সুতো দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিড়ালের খেলনা, চপিং বোর্ড, দোলনা, কাপড়ের ব্যাগ। প্রতিটি পণ্যে নারীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্ট। প্রতিটি পণ্য নকশা অনুযায়ী সজ্জিত করা হয়, পরিশোধন করা হয়, এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য নিখুঁতভাবে প্যাক করা হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই উদ্যোগে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীরা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। প্রতিটি পণ্যে তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতার ছোঁয়া রয়েছে।

    রোজী আহমেদের তিনতলা বসতবাড়ি ও পাশের দুটি একতলা ভবন মিলিয়ে গড়ে উঠেছে অর্গানিক প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি। এখানে কমপক্ষে ৮০ জন নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা প্রত্যেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছেন। নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নারীরা অত্যন্ত খুশি।

    করোনার সময় যখন সমস্ত মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখনই রোজী আহমেদ ফেসবুকে নিজের হাতে তৈরি নারকেলের মাজুনি বিক্রি শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর উদ্দিপন নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আঁশের তৈরি পাখির বাসার তৈরির অর্ডার দেন। এরপর একের পর এক নতুন পণ্য তৈরি শুরু হয় এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশে বিক্রি করা শুরু হয়।

    বিসিক, বাগেরহাট উপ-ব্যবস্থাপক শরীফ সরদার বলেন, রোজী আহমেদের উদ্যোগ নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। অর্গানিক পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। এটি অন্যান্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। রোজী আহমেদ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা-২০২৪’ পেয়েছেন।

    বাগেরহাটের এই উদ্যোগ শুধু নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা আনার পথ খুলছে। প্রতিটি নারী শ্রমিকের প্রতিদিনের শ্রম, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায় অর্গানিক পণ্যকে দেশের এবং বিদেশের বাজারে পরিচিতি দিয়েছে। রোজী আহমেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ অসহায় নারীদের জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।

    নারীরা প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছে, নতুন কিছু তৈরি করছে, এবং প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে তাদের জীবনের গল্প ও স্বপ্ন মিশে আছে। এই উদ্যোগ অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস এবং এটি প্রমাণ করছে, উদ্যোক্তা নারীর উদ্যোগে একদম ছোট উপকরণ থেকেও বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।