ক্যাটাগরি জাতীয় সংবাদ

  • জুলাই যোদ্ধাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র সংসদ এলাকা

    জুলাই যোদ্ধাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র সংসদ এলাকা

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেওয়া ‘জুলাই শহীদের পরিবার ও আহত’ ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

    শুক্রবার দুপুরের দিকে তাদের ওপর লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ডিএমপি কমিশনার তাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা। ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালান।

    জুলাই যোদ্ধা, আহত জুলাই যোদ্ধা বিভিন্ন ব্যানারে শুক্রবার সকাল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে বেশ কিছু তরুণ জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে স্থাপিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েন।পুলিশি বাধা উপেক্ষ করে বৈধ আমন্ত্রপত্র ছাড়াই প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশের ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।

    একপর্যায়ে ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মঞ্চের সামনে সাজানো চেয়ারগুলোতে বসে পড়েন তারা।

    এরপর মাইক হাতে নিয়ে তাদেরকে শান্ত হবার অনুরোধ করেন একজন প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম উপস্থিত হন।

    পুলিশের ব্যারিকেড একত্রিত করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে।

    জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সেচ ভবনের সামনে তৈরি করা অস্থায়ী তাঁবুতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি এখন থমথমে রয়েছে।এক পর্যায়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থেকে জুলাইযোদ্ধাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেন।

    কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা হুশিয়ারি আমলে না নিলে এক পর্যায়ে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং লাঠিপেটা করে তাদের ভেন্যু থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। পুলিশের লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

    এর আগে শুক্রবার সকালে তিন দফা দাবিতে সংসদ ভবনের ফটক টপকে মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন জুলাইযোদ্ধারা। এক পর্যায়ে ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মঞ্চের সামনে সাজানো চেয়ারে বসে পড়েন তারা। এরপর মাইক হাতে নিয়ে তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান একজন প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল উপস্থিত হয়।

    সূত্র: আমারদেশ

  • বদলে যাচ্ছে জামালপুরের মানচিত্র!

    বদলে যাচ্ছে জামালপুরের মানচিত্র!

     

    বিডি নিউজ ডেস্ক

    নদীমাতৃক বাংলাদেশে যে কয়টি জেলা সারা বছর ভাঙনের মুখে থাকে তার মধ্যে জামালপুর একটি।

    জামালপুরে বর্ষার ভরা মৌসুমে কিংবা শীতের শুকনো মৌসুমেও যমুনা নদীর পাড় ভাঙতে দেখা যায়। এ ছাড়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্রেও ভাঙনে বদলে যাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ভরা নদীতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে জিঞ্জিরাম নদীতে।

    যমুনার করালগ্রাস আর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনেই বদলে গেছে জেলার মূল মানচিত্র। শুধু ভাঙনেই থেমে নেই নদীগুলো, শুকনো মৌসুমে জেগে ওঠা চর নিয়ে হতে দেখা যায় কাটাকাটি।

    নদীমাতৃক বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ‘সেচ, পানি উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়’ -এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে ‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়’ হিসেবে নতুনভাবে এর নামকরণ করা হয়।  জামালপুরে পাউবোর কার্যক্রম রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই নদীভাঙনের শিকার জামালপুরের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    জানা গেছে, ইমার্জেন্সি ডাম্পিং, এনডিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও স্থায়ী বাঁধ তৈরির প্রকল্প সহজে পাস হয় না। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙতে ভাঙতে, লাল ফাইলের দৌরাত্ম্য চলতে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বসতভিটা ভাঙার পর হয়ত একটা সময় গিয়ে একটা প্রকল্প পাস হয়।

    দেওয়ানগঞ্জের পোল্লাকান্দি এলাকার স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, আমি জন্মের পর যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই দেখি প্রায়ই নদীভাঙন। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার আমাদের বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যাদের একটু জায়গাজমি বেশি আছে তারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়। আর যাদের শুধু বাড়ির জায়গাটুকু নদীগর্ভে হারিয়ে যায়, তাদের সপরিবারে অন্য কোথাও চলে যেতে হয়। বেশিরভাগই চলে যায় ঢাকায়। রাজধানীতে গিয়ে তারা জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার চেষ্টা করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসমত আলী বলেন, আমাদের বাড়িঘর ২৫-২৬ বার পরিবর্তন করতে হয়েছে। আগেও নদীভাঙন ছিল, এ বছরও পাশের গ্রামে নদীভাঙন চলছে।

    জামালপুর জেলার উত্তর পশ্চিম, পশ্চিম এবং পশ্চিম দক্ষিণ অংশে পুরো যমুনা নদীতে ঘেরা। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ এবং সরিষাবাড়ী উপজেলা যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বদলে গেছে জামালপুর জেলার মূল মানচিত্র। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি, বাজারঘাট, সরকারি বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা নিমেষেই তলিয়ে গেছে যমুনার করালগ্রাসে। ২০৩২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জামালপুর জেলায় বর্তমানে পঁচিশ লাখ মানুষের বসবাস।

    জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান  বলেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। কোনো এলাকায় নদীভাঙনের খবর পেলে দ্রুত সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য যা যা করার করে থাকি কিন্তু পাশ করার দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

    তিনি আরও বলেন, যমুনা নদীতে বিশ কিলোমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রে দশ কিলোমিটারের মতো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে হয়ত নদীভাঙন মোটামুটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তিন হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে বলে জানান তিনি।

    সূত্র: কালবেলা

     

     

  • নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    নেত্রকোনার শতবর্ষের ঐতিহ্যের ধারক ‘বালিশ মিষ্টি’। নেত্রকোনার অনন্য এই মিষ্টি এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। আনুমানিক ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম ‘বালিশ মিষ্টি’। সাধারণ সন্দেশ বা রসগোল্লা থেকে একেবারেই ভিন্ন এই মিষ্টি এখন নেত্রকোনার সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও উপহারের অপরিহার্য অংশ। গয়ানাথ ঘোষের তৃতীয় প্রজন্ম এখনো এই মিষ্টি বানানোর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

    নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ডিপিডিটিতে বালিশ মিষ্টির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। পণ্যের ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বিস্তৃত প্রতিবেদন দাখিলের পর যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি এর স্বীকৃতি মিলল। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান কর্ণধার ও গয়ানাথ ঘোষের নাতি বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে যে মিষ্টির সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।’ তিনি জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে তার বাবা নিখিল চন্দ মোদক এবং এখন তৃতীয় প্রজন্মের তিন ভাই মিলে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

    নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘এর আগে বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই সনদ পেয়েছিল। এবার বালিশ মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় নেত্রকোনাবাসীর গর্ব আরও বেড়ে গেল। আমরা এটিকে জেলার ব্র্যান্ডিং হিসাবে তুলে ধরতে কাজ করব।’ এর আগে ২০২১ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছিল। ২০২৫ সালে এসে বালিশ মিষ্টির এই অর্জন জেলার জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক গৌরব যোগ করল। শত বছর আগে গড়ে ওঠা এই মিষ্টি এখন শুধু স্থানীয় স্বাদের সীমায় নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

  • ভারতে অনুপ্রবেশকালে শেরপুর সীমান্তে ২৪ জন আটক

    ভারতে অনুপ্রবেশকালে শেরপুর সীমান্তে ২৪ জন আটক

    শেরপুর সীমান্তে অবৈধ পথে দালাল চক্রের সহযোগিতায় ভারতে পাচারকালে পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ২৪ জনকে আটক করে বিজিবি। এসময় তাদের থেকে ১৪টি মোবাইল ফোন, একটি হাত ঘড়ি এবং নগদ ৫৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ভোরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম বিওপির সীমান্ত পিলার ১১১০/এমপি এর পাশে শালবাগান হতে তাদের আটক করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম বিওপির সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। এসময় ৪টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বহন করা মোট ২৪ জনকে আটক করে বিজিবি। পরে তারা জানায়, ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চুক্তি হয় শেরপুরের দুইজন দালাল চক্রের সঙ্গে। আর আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং শেরপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ টি মোবাইল ফোন, একটি হাত ঘড়ি এবং নগদ ৫৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদী হাসান জানান, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ভারতের চেন্নাই শহরে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। আটককৃত দুই মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ অনুযায়ী ঝিনাইগাতী থানায় মামলা কার হয়েছে।
  • খাগড়াছড়ির সেই কিশশোরীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি

    খাগড়াছড়ির সেই কিশশোরীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি

    খাগড়াছড়ির সেই কিশশোরীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি

    নিউজ ডেস্ক:

    খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতার মধ্যেই ঘটনার নতুন মোড় নিয়েছে। ওই কিশোরীর মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মেলেনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার ১০টি সূচকের প্রতিটিতে ‘স্বাভাবিক’ উল্লেখ রয়েছে।

    মারমা এই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর খাগড়াছড়িতে ব্যাপক উত্তেজনা, অবরোধ আর সহিংসতা ছড়িয়েছে; গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারির মধ্যে গুলিতে তিনজনের প্রাণ গেছে।

    জানা গেছে, খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জয়া চাকমা, ডা. মীর মোশাররফ হোসেন ও ডা. নাহিদ আক্তারের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম পরীক্ষা করে। চিকিৎসক দলটির প্রধান খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) জয়া চাকমা বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর মেডিকেল পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি।’

    খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, প্রতিবেদন মঙ্গলবার পেয়েছি। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খাগড়াছড়িতে ছড়ানো সহিংসতাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত সহিংসতায় তিনটি জীবন ঝরে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক।’

    উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল (১৯) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

    এ ঘটনায় খাগড়াছড়িতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একসময় সহিংসতায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এর পরও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। ১৪৪ ধারার মধ্যেই জেলার গুইমারায় ঝরে যায় তিন প্রাণ।

    এদিকে খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় মারমা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে গত রোববার গুইমারা সহিংসতার ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।

    সুত্র: কালবেলা

  • রমজানের আগেই নির্বাচন; প্রধান উপদেষ্টা

    রমজানের আগেই নির্বাচন; প্রধান উপদেষ্টা

    নিউজ ডেস্ক:

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগেই দেশে ত্রয়োদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।

    মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভিডিও কলে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। এসময় ড. ইউনূস এসব কথা বলেন। বাসসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    বাসস জানিয়েছে, ড. ইউনূস জর্জিয়েভাকে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সময়মতো ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র রমজানের পূর্বেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের পর তিনি (ড. ইউনূস) তার পূর্ববর্তী কাজে ফিরে যাবেন।

    বাসসের প্রতিবেদন জানিয়েছে, আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

    তিনি বলেছেন, অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এই কৃতিত্ব তার নিজেরই।

    অধ্যাপক ইউনূস জানান, তার সরকার এরইমধ্যে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন এবং রাজস্ব সংগ্রহ জোরদারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এক বিধ্বস্ত ও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। কিছু ব্যক্তি আক্ষরিক অর্থে ব্যাগভর্তি টাকা ব্যাংক থেকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।’

    অর্থনীতির সংকটকালীন পরিস্থিতি স্মরণ করে আইএমএফ প্রধান বলেন, ‘আপনার অর্জন আমাকে মুগ্ধ করেছে। অল্প সময়ে আপনি অনেক কিছু করেছেন। যখন অবনতির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি ছিল, তখন আপনি দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। আপনি সঠিক সময়ে সঠিক ব্যক্তি।’

    তিনি নিউইয়র্কে গত বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সময় জর্জিয়েভার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, সেই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে আগামী ফেব্রুয়ারি রমজান মাসের আগে নির্ধারিত সময়ে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, নির্বাচন শেষে তিনি তার পূর্বের কাজে ফিরে যাবেন।

    ফোনালাপে আইএমএফ প্রধান বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের এই অমূল্য সময়ে শক্ত অবস্থানে যেতে হলে সাহসী সংস্কার অনিবার্য।’

    অধ্যাপক ইউনূস জানান, সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা একেবারে ভেঙে পড়া অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। কেউ কেউ আক্ষরিক অর্থে ব্যাগভর্তি টাকা ব্যাংক থেকে চুরি করে পালিয়ে গেছে।’

    আলোচনায় আঞ্চলিক বিষয়ও উঠে আসে। অধ্যাপক ইউনূস নেপালের চলমান যুব আন্দোলন এবং বাংলাদেশের আসিয়ানভুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি ঢাকার নতুন বন্দর ও টার্মিনাল প্রকল্পসহ বড় ধরনের অবকাঠামোগত উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কেও অবহিত করেন।

    এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনাকালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এবং অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

  • এসপি গৌতমকে চুয়াডাঙ্গায় পদায়ন, প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন

    এসপি গৌতমকে চুয়াডাঙ্গায় পদায়ন, প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধ

    ডিএমপির মিরপুর জোনের ডিসি গৌতম কুমার বিশ্বাসকে চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছে চুয়াডাঙ্গাবাসী।

    রোববার  সকালে চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সামনে চুয়াডাঙ্গাবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এবি পার্টির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

    মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গায় পদায়ন করা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বিগত সরকারের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত।

    তিনি পাবনা ও ঢাকায় চাকরিরত অবস্থায় সাধারণ মানুষের ওপর বিভিন্নভাবে জুলুম ও নির্যাতন চালিয়েছেন। এমনকি জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    এমন একজন পুলিশ অফিসারকে চুয়াডাঙ্গার মানুষ মেনে নিবে না। চুয়াডাঙ্গাবাসী কোনো ফ্যাসিস্ট চায় না, আমরা মানবিক পুলিশ সুপার চাই। অনতিবিলম্বে এ আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

    গত ১১ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির মিরপুর জোনের ডিসি গৌতম কুমার বিশ্বাসকে পুলিশ সুপার হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় পদায়ন করা হয়।

    মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- চুয়াডাঙ্গা এবি পার্টির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন,  চুয়াডাঙ্গা জাতীয় নাগরিক কমিটির এনসিপির যুগ্ন আহবায়ক আমির হোসেন সমির, চুয়াডাঙ্গা পৌর জামায়াত ইসলামী শাখার ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর শাখার ২নং ওয়ার্ড সভাপতি নুরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক, দৌলোতদিয়ার ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সুমন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা এবি পার্টির যুগ্নআহবায়ক রেজওয়ান আহমেদ, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী রুজদী মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ যুগ্ম সমন্বয়কারী আমির হোসেন সামিরসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

  • জাবি শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাজা অনুষ্ঠিত

    জাবি শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাজা অনুষ্ঠিত

    নিউজ ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জাকসু নির্বাচনে ভোটগণনা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়।

    জানাজায় বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, দর্শন বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও তার সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্যানেলের ভিপি প্রার্থীদের অংশ নিতে দেখা যায়।

    এর আগে, এদিন সাড়ে ৯টায় জান্নাতুল মৃত্যুবরণ করেন বলে নিশ্চিত করেছে জাকসু নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

    জানা গেছে, দায়িত্বরত অবস্থায় বুকে ব্যথা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় জান্নাতুল ফেরদৌসকে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জাবির চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন ।

    এ বিষয়ে চারুকলা বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, ভোটগণনা অবস্থায় অসুস্থতা অনুভব করলে অ্যাম্বুলেন্স যোগে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সহকর্মীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

  • জাকসুর ফলাফল ঘোষণার দাবি সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের

    জাকসুর ফলাফল ঘোষণার দাবি সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের

    নিউজ ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফলাফল আজকের মধ্যে ঘোষণা করা না হলে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মাজহারুল ইসলাম।

    শুক্রবার বিকাল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নিচে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন তিনি।

    এ সময় তিনি বলেন, ভোট গ্রহণের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। কেবলমাত্র ২১টি হলের হল সংসদের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। আমরা জানি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে এর দ্বিগুণ সংখ্যক প্রার্থী রয়েছে। তাই ফলাফল ঘোষণা একটু অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে গিয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের একটি গ্রুপ এখনো নির্বাচন বানচালে সচেষ্ট রয়েছে। তারা নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যদি আজকের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা না করা হয় তাহলে আমরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হব।

    ছাত্রদল ও বাগছাস মিলে অটোমেটিক মেশিনে ভোট গণনাকে বন্ধ করেছে একটি ঠুনকো অজুহাতে। তারা ওইমার মেশিনে ভোট গণনা কোম্পানিকে জামায়াতি প্রতিষ্ঠান ট্যাগ দিয়ে ভোট গণনাকে কষ্টকর করে তুলেছে। অথচ গতকাল আমরা তথ্য প্রমাণ সহ হাজির করেছি প্রতিষ্ঠানটি বিএনপিপন্থিদের। তারপরেও অযৌক্তিক ভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা হচ্ছে। শিক্ষক শিক্ষার্থী অসহনীয় কষ্ট হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে জাকসুর ফলাফল ঘোষণা চাই।

  • ছাত্রদলকে মির্জা গালিবের পরামর্শ

    ছাত্রদলকে মির্জা গালিবের পরামর্শ

    নিউজ ডেস্ক

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন বর্জন করছে ছাত্রদল। বর্জন না করেও ভিন্ন কিছু করা যেত বলে মনে করেন ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। তিনি বলেন, তিনি যদি দলটির পরামর্শক হতেন, তাহলে পরাজয় নিশ্চিত হলেও তাদেরকে সারা দিন হাসিমুখে পিআর ক্যাম্পেইন করে যেতে বলতেন।

    বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে মওলানা ভাসানী হলের অতিথি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী। এর আগে সকাল থেকে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

    এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮টি পদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদসহ ২৩টি পদ জিতেছে তারা।

    ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন মোট ১৪ হাজার ৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন এবং উমামা ফাতেমা যথাক্রমে ৩ হাজার ৮৮৪ এবং ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট পেয়েছেন।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফেসবুকে পোস্ট করেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, পরিকল্পিত কারচুপির এ ফলাফল দুপুরের পরপরই অনুমান করেছি। নিজেদের মতো করে সংখ্যা বসিয়ে নিন। এ পরিকল্পিত প্রহসন প্রত্যাখ্যান করলাম।

    ছাত্রদল জাকসু নির্বাচন বর্জনের পর আজ বিকালে পোস্ট দেন মির্জা গালিব। তিনি লেখেন, আমি যদি ছাত্রদলের অ্যাডভাইজার হতাম, তাহলে বলতাম পরাজয় নিশ্চিত হলেও সারাদিন হাসিমুখে পিআর ক্যাম্পেইন করে যেতে। যাতে করে ফলাফলের পর মানুষের মনে দুঃখ লাগে, আহারে ছেলেগুলো কত কষ্ট করল, কিন্তু জিততে পারল না। ওই খারাপ লাগার অনুভূতিটুকু পরের নির্বাচনে কাজে লাগত।