ক্যাটাগরি এনসিপি

  • রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    ডেস্ক নিউজ :

    বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

    তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তাঁর কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ‘ক্যাঙ্গারু আদালতের’ নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?

    বি /এ

     

  • ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

    ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

    বিডিটািইমস ডেস্ক

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় ছিল তখন অধ্যাদেশ করেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের নীরব থাকা উচিত নয় এবং তাকে রাজপথে নেমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া উচিত।

    তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম সংস্কার, বিএনপি বলেছিল নির্বাচন। দুই তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়ার পর তারা কোনও কিছুই তোয়াক্কা করছে না। গণভোট মানছে না। গণভোট কিন্তু জুলাই সনদ অনুযায়ী হয়নি। বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে আনছে না।

    তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, সচিবালয় অধ্যাদেশ তারা বাতিল করছে। তাদের অধিকাংশ নেতাই গুমের শিকার হয়েছে, এই গুমের অধ্যাদেশও তারা বাতিল করে দিতে চাচ্ছে। এই অধ্যাদেশ বাতিল আইনে পরিণত না হলে বিএনপির কলঙ্কমুক্ত হবে না।

    শনিবার দুপুরে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

  • ধোবাউড়ায় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িতে আগুন

    ধোবাউড়ায় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতার বাড়িতে আগুন

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত তিনটার পর উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের ডোমগাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই নেতা। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

    জানা গেছে, জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলি হোসেনের ছেলে। তার গ্রামের বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী, দুই সন্তান ও বড় ভাই জয়নাল আবেদীন বসবাস করেন।

    মো. সাইফুল্লাহ অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির একটি রান্নাঘরে আগুন দেয় এবং বসতঘরে কুপিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘‘অনেক দিন ধরেই ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই হুমকির মাত্রা আরও বেড়েছিল। আগুন দেওয়ার ঘটনার পরও আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে মেসেজ দিয়ে বলা হয়েছে— ‘তোর বাড়িতে আগুন দিলাম, ভাগ্যিস তুই নাই। তোর ছেলে-মেয়ে বেঁচে গেল।’ এ ঘটনায় আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।”

    এর আগে গত ১০ মার্চ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিছু মেসেজের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সাইফুল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই পোস্টে তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।’

    এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেলা শাখার সাবেক সদস্যসচিব আলী হোসেন এবং জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে একটি লাকড়ির ঘরে আগুনের চিহ্ন এবং বসতঘরের টিনের বেড়ায় তিনটি কোপের দাগ দেখা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

  • জুলাই সনদ কোনো দলের নয়, জনগণের এজেন্ডা : সারজিস

    জুলাই সনদ কোনো দলের নয়, জনগণের এজেন্ডা : সারজিস

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা নয়, বরং এটি পুরো বাংলাদেশের মানুষের এজেন্ডা। এই সনদের ভিত্তিতেই দেশে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ এর বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সমিরউদ্দীন স্মৃতি মহাবিদ্যালয় হলরুমে আয়োজিত এক কর্মিসভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

    বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি এবার প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে সরকার গঠন করেছে। কিন্তু জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশ। এর অর্থ হলো, বিএনপির অসংখ্য সমর্থকও এই সনদের পক্ষে। ক্ষমতায় আসার পর যদি বিএনপি জনগণের এই বিশাল ম্যান্ডেট এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষা ভুলে যায়, তবে সেটি হবে তাদের স্বৈরাচারের পথে হাঁটার প্রথম ধাপ।

    তিনি আরও বলেন, সংবিধান জনগণের জন্য, রাষ্ট্রও জনগণের জন্য। দেশের সংবিধানই বলছে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। সেই জনগণ যখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ম্যান্ডেট দেয়, তখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করলে মুক্তিকামী মানুষ তা মেনে নেবে না। আমরা রাজপথ থেকে সংসদ সর্বত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিরোধ করব।

    দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সারজিস আলম বলেন, সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। উত্তরায় ও শহীদ মিনারে খুনের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত শক্ত কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সময়মতো কঠোর অবস্থান নিত, তবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।