ক্যাটাগরি খবর

  • যমুনা নদীর পাড়ে  ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    যমুনা নদীর পাড়ে ড্রেজার থেকে মরদেহ উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজঃ

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পাড়ে একটি ড্রেজার থেকে হাফিজুল ইসলাম হাফিজ (৩০) নামের গণঅধিকার পরিষদের এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পাড়ামোহনপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    নিহত হাফিজুল ইসলাম ওই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের বাঐখোলা গ্রামের মৃত কমল মুন্সীর ছেলে। তিনি গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর আড়কান্দি ও পাড়ামোহনপুরসহ আশপাশের এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশে বালুর ব্যবসা চলছিল। হাফিজুল ইসলামও ওই কাজে যুক্ত ছিলেন। রোববার রাতে একটি ড্রেজারের বাল্কহেডের ইঞ্জিন অংশে চার সহযোগীর সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে এনায়েতপুর থানা-পুলিশ ও চৌহালী নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

    স্থানীয় বাসিন্দা জামাল প্রামাণিক জানান, নদীভাঙনে বসতভিটা হারানোর পর হাফিজুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করতেন। কয়েক মাস আগে এলাকায় ফিরে এসে তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি নিজেকে গণঅধিকার পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন।

    এ বিষয়ে চৌহালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন  বলেন, ‘নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

    এম কে

  • সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর    মতবিনিময় 

    সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর   মতবিনিময় 

     

    জেলা প্রতিনিধি,চুয়াডাঙ্গা:

    চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গায় ২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের জন্য সঠিক নেতৃত্ব উঠে আসবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো, কৃষি ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হবে।

    মতবিনিময় সভায় দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

    সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তেই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত হলে তিনি এ আসনকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আদর্শ সংসদীয় আসনে পরিণত করতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সরদার আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

  • যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    যশোর প্রতিনিধি:
    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াত মনোনিত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    ২২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা মোছা: রনি খাতুনের দপ্তর থেকে প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    এসময় প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলম, চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম ও ঝিকরগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম।

    মনোনয়নপত্র প্রদানকালে সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সকল ধরনের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামায়াতের দলীয় আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‌‌”আমরা প্রথমেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পেরেছি। তিনি বলেন এই আসনে আমরা অতীতে কয়েকবার বিজয়ী হয়েছি। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা এখানে আবারো বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো ইনশায়াল্লাহ।

    চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, চৌগাছায় দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমরা বিজয়ী করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

    বি/এ

  • কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রি- ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদণ্ড

    ডেস্ক নিউজঃ

    সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ব্যবসায়ীর নাম ফিরোজ মাহমুদ(৩০)। তিনি ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকার বাদশা মিয়ার পুত্র ও কীটনাশক বিক্রেতা।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে নয়টা থেকে ঘন্টাকালব্যাপী উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া ইকোপার্ক এলাকায় মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় ওই দোকানে অবৈধভাবে টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীকে কুড়ি হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসাথে ওই দোকান থেকে জব্দকৃত ৮৩ কেজি টিএসপি, ৯০ কেজি ইউরিয়া ও ৮৬ কেজি এমওপি সার ডিলারদের ডেকে নিলামে ছয় হাজার ৩৯১ টাকায় বিক্রি করা হয়।

    এবিষয়ে গণমাধ্যমকে ইউএনও জানান,“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরল স্বীকারোক্তি প্রদান ও  অপরাধের উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করায় মানবিক দিক বিবেচনা করে সার বিক্রির অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এর ৮ ধারায় ওই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

    এম কে

  • বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    ডেস্ক নিউজঃ

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিয়েবাড়িতে বরের জুতা লুকিয়ে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরপক্ষ বউ না নিয়েই ফেরত চলে গেছে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গুলিয়াখালীর চর গ্রামের কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় একদিন পর জানাজানি হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ওই ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ৬০-৭০ জন বরযাত্রী নিয়ে গুলিয়াখালীর চরে কনের বাড়িতে আসে। বিয়ে উপলক্ষে ওই বাড়িতে সেদিন প্রায় ২০০ লোকের আয়োজন ছিল। কিন্তু জুতা লুকানোকে কেন্দ্র করে বর পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে সম্পন্ন না করে কনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।

    কনের মা খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বরকে স্মার্টফোন ও ১০ আনা সোনার চেইন দিয়ে আমরা বরণ করেছিলাম। শুধু তাই নয় বাড়িতে ২০০ লোকের আয়োজন করতে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ও পাঁচ মণ দই কেনা হয়েছিল। সবাই খাবার খাওয়া শেষ করেছে। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও লুটপাট হওয়ায় বিয়ে ভেঙে গেছে।শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এম কে

  • দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    ডেস্ক নিউজ

    শুঁটকির গ্রাম হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভর তেঁতুলিয়া গ্রাম। এখানকার উৎপাদিত দেশীয় ছোট মাছের শুঁটকি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ায় কদর রয়েছে দেশজুড়ে। শুধু দেশেই নয়, ভারতে রয়েছে এখানকার শুঁটকির কদর। তবে এখন ভরা মৌসুম হলেও মাছের অভাবে ভাটা পড়েছে শুঁটকি উৎপাদনে। অল্পস্বল্প যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

    আত্রাই উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকির বাজার মূলত দেশের রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও ঢাকা। রপ্তানি হয় ভারতেও। এ উপজেলায় একসময় ৪০ জন ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত থাকলেও বর্তমানে আছেন ১৫-১৮ জন।

    সম্প্রতি দেখা গেছে, আত্রাই রেলস্টেশনের দুই পাশে রয়েছে শুঁটকি মাছ শুকানোর চাতাল। নারী-পুরুষেরা মাছ কাটা, ধোয়া, লবণ লাগিয়ে চাতালে শুকাতে দিচ্ছেন। সকালে রোদে দেওয়া ভেজা মাছগুলোও কেউ কেউ এপিঠ-ওপিঠ উল্টে রাখছেন। মাছের অভাবে অনেক চাতাল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আত্রাই উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। পাশাপাশি ছোট যমুনা নদী ও আরও রয়েছে শতাধিক খাল-বিল। এসব নদী ও খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করলে বাজারে উঠতে শুরু করে দেশীয় প্রজাতির ট্যাংরা, পুঁটি, খলসে, টাকি, শোল, চাঁদাসহ নানা জাতের মাছ। কিন্তু চায়না দুয়ারি, সুতি, কারেন্ট ও ভাদাই জালের অবাধ ব্যবহারে পানি কমলেও এ বছর দেখা নেই মাছের। মাছের অভাবে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বন্ধ ছিল অধিকাংশ চাতাল। এতে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছেন না। এ ছাড়া শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

    শুঁটকি ব্যবসায়ী ভর তেঁতুলিয়া গ্রামের রামপদ শীল বলেন, ‘এ বছর মাছের খুব অভাব। বাজারে যেটুকু মাছ পাওয়া যাচ্ছে তাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি ১০০-২২০ টাকা কেজিতে মাছ কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২০-২৫ মণ মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও মৎস্য আড়ত ঘুরে ৭-১০ মণের বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছি না।’

    ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এই সময় শুঁটকিপল্লি মুখর থাকত। কিন্তু এখন বর্ষার শুরুতেই সুতি, দুয়ারি ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরায় বাজারে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ পাওয়া গেলে এত দিন দুই-আড়াই মাস ব্যবসা করা যেত। মাছের অভাবে অনেক চাতাল বন্ধ আছে। এ অবস্থায় চাতালের কাজে জড়িত নারী-পুরুষ শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়ছেন।’ নারী শ্রমিক আনজুমান বেগম বলেন, ‘মাছের অভাবে কাজ কমে গেছে। এই শুঁটকি মাছের চাতালে কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। কাজ না পেয়ে অনেকে বসে থাকে।’

    এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘শুঁটকির সঙ্গে জড়িতদের নিরাপদ ও মানসম্মতভাবে শুঁটকি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অসাধু উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • নওগাঁয় মাদকের বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান, আটক

    নওগাঁয় মাদকের বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান, আটক

    ডেস্ক নিউজ

    নওগাঁ, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস):জেলা জুড়ে চলছে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান।চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকে জেলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে একের পর এক বড় বড় অভিযান পরিচালনা করে আসছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। শুধু মাদকের বিরুদ্ধেই নয় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন ডেভিলদের বিরুদ্ধেও। প্রতিদিন জেলার কোন না কোন উপজেলাতে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলমান রাখা হয়েছে।

    মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকালে শহরের মাদকের আখড়া নামে পরিচিত সুইপার কলোনি এলাকায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে ৪৫কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে গাঁজা ছাড়াও বাংলা মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদক বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    অভিযান চলাকালে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ সময় যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কদমতলা বারোপুতা গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২৪) কে আটক করা হয়। তাকে সহায়তা করার অপরাধে জেলার বদলগাছী উপজেলার লক্ষিকুল গ্রামের মৃত আব্বাস মন্ডলের ছেলে জলিল মন্ডল (৫০) কে আটক করা হয়।

    পুলিশ সুপার জানান, নওগাঁ জেলা ভারতীয় সীমান্তঘেষা হওয়ার কারণে মাদককারবারীরা নওগাঁকে মাদক চালানের জন্য উত্তম পথ হিসেবে ব্যবহার করে। বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলে মাদকের কারবার কিছুটা বেশি হয়েছে। আগের চেয়ে বর্তমান সময়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে সর্বদা সজাগ রয়েছে।

    জেলা জুড়ে এই ধরনের অভিযান আগামীতে আরো বেশি  পরিচালনা করার কথা জানান তিনি।

    বি/এ

  • মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    মকিমপুর জমিদারবাড়ি

    ডেস্ক নিউজঃ

    চুন–সুরকি খসে পড়েছে অনেকাংশে। বেরিয়ে এসেছে লাল ইট। বাড়িটির এখন জীর্ণ দশা। হবেই না কেন। বয়স তো কম হলো না—প্রায় দেড় শ বছর। বলছি মকিমপুর জমিদারবাড়ির কথা। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে কিলোমিটার দুয়েক উত্তরে গেলে মকিমপুর গ্রামে দেখা মিলবে বাড়িটির।

    সম্প্রতি বাড়িটিতে গিয়ে কথা হয় জমিদার পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে। তাঁরা জানালেন বাড়িটির ইতিহাস–ঐতিহ্যের নানা কথা। বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী। তাঁর ছিল দুই ছেলে। জমিদার জীবিত থাকা অবস্থায় এক ছেলের মৃত্যু হয়। আরেক ছেলের বংশধরেরা বর্তমানে এখানে রয়েছেন।

    মকিমপুরের মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করা হয় ১৮৮৫ সালে। এই ভবনে সাতটি কক্ষ। জমিদার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম কয়েক বছর আগেও এই ভবনেই বসবাস করতেন। এখন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনের উত্তর ও পশ্চিম পাশে আলাদা বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। তবে বাড়ির সামনে ১৮৮৭ সালে নির্মাণ করা মন্দিরে এখনো পূজা হয়।

    মন্দিরটিতে বিশেষ করে লক্ষ্মীপূজা হয় বেশ ঘটা করে। আগের দিনের নিয়ম মেনে এলাকার হিন্দুধর্মাবলম্বী এবং আত্মীয়স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে জমিদার পরিবার। পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য অমল কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের দাদু মকিমপুর জমিদারবাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি বাড়ির সামনে এই মন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপূজায় সবাইকে আমরা ডাকি।’

    জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী সম্বন্ধে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের জনশ্রুতিই রয়েছে। কেউ বলেন, তিনি ছিলেন প্রজাদরদি জমিদার। আবার কেউ বলেন অন্য কথা। তাঁর দাপটের কারণে প্রজারা নাকি জমিদারবাড়ির সামনে দিয়ে ছাতা মাথায় ও জুতা পায়ে যেতে পারতেন না। খাজনা আদায়ের বেলায়ও নাকি জমিদার গোবিন্দ রায় চৌধুরী ছিলেন ভীষণ কড়া।

    তবে জমিদার নিয়ে ভালো–মন্দ যে জনশ্রুতিই থাকুক না কেন—বাড়িটি একনজর দেখতে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

    সে কথাই বলছিলেন জমিদার পরিবারের সদস্য অশোক কুমার রায়। তিনি জানালেন, জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী মানুষজন আসেন। বিভিন্ন তথ্য জানতে চান তাঁরা। জমিদারবাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের পুত্রবধূ আঁখি রায়ও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের জানাশোনা যা আছে, তা তাঁদের জানাই।’

    পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার স্কুলশিক্ষক মো. মোকসেদ আলমের সঙ্গে দেখা হয় জমিদারবাড়িতে। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের খোঁজে সারা দেশে ঘুরে বেড়াই। মকিমপুর জমিদারবাড়িতে এসে পুরোনো দিনের নকশার বাড়ি ও মন্দিরটি দেখে খুব ভালো লাগল।’ জমিদার ভবনের করুণ দশার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সংস্কার করে আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা দরকার।

    একই আহ্বান রায়গঞ্জ: ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি বইয়ের লেখক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিমেরও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগের দিনের নির্মাণশৈলী খুবই সুন্দর ছিল। জমিদারবাড়ি ও মন্দিরটি নির্মাণে স্থাপত্যশিল্পের চমৎকার ব্যবহার লক্ষণীয়। কালের বিবর্তনে এ বাড়িটি ধ্বংসের পথে কিন্তু এটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের নিদর্শন মকিমপুর জমিদারবাড়িটি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    এম কে

  • কাজিপুরে উদ্বোধনের পৌণে তিন বছর পর জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু

    কাজিপুরে উদ্বোধনের পৌণে তিন বছর পর জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু

    ডেস্ক নিউজঃ

    অবশেষে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ছালাভরায় আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ইনস্টিটিউটের নিজস্ব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিপোর্টের যুগ্মসচিব ও পরিচালক (গবেষণা) মো. শফিকুল ইসলাম। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকাদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

    কাজিপুরের আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ডা. মোদাব্বেরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক রায়হানুল ইসলাম, কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সাঈদ।

    ১৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০২২ সালের ১০ মার্চ ভবনটি হস্তান্তর করেন। এরপর অনলাইনে ইনস্টিটিউটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ।

    এম কে

  • ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ওসমান হাদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে- মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান

    ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় ওসমান হাদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে- মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান

    ডেস্ক নিউজঃ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যারা সাহসিকতার সঙ্গে কথা বলছে, তাদেরই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর শাহাদাতের মধ্য দিয়ে এই হত্যাযজ্ঞের সূচনা হয়, আর ওসমান হাদী সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ শিকার।

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া (শনিবার বিকালে) উপজেলার পৌর উন্মুক্ত মঞ্চে মরহুম শরিফ ওসমান হাদীর (রহ.) মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা একজন দেশপ্রেমিক ও সময়ের বীর সন্তানকে হারালাম। যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের কারণেই আজ বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে এবং আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি।” তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদীর প্রতিটি রক্তবিন্দু থেকে ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠবে।”

    হত্যাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

    রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আজ যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে কিংবা উপদেষ্টার আসনে বসে আছেন, তারা ওসমান হাদীদের মতো সাহসী মানুষের আন্দোলনের ফলেই সেখানে পৌঁছেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল, কিন্তু রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।”

    তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আর কত ওসমান হাদীর মতো বিপ্লবী সন্তান হারাতে হবে—এই প্রশ্ন আজ গোটা জাতির সামনে।”

    আলোচনা সভা শেষে মরহুম ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

    উপজেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল বারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম (মুত্তালিব), পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল করিম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আকন্দ এবং জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি আতাউর রহমানসহ স্থানীয় ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

    এম কে