ক্যাটাগরি ছবি

  • ফ্যাসিবাদি সরকার পালিয়ে গেলেও দেশ ফাসিবাদমুক্ত হয়নি : শফিকুর রহমান

    ফ্যাসিবাদি সরকার পালিয়ে গেলেও দেশ ফাসিবাদমুক্ত হয়নি : শফিকুর রহমান

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ২টায় ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গাড়ি দিয়ে পালানোর সাহস বিগত ফ্যাসিবাদি সরকার হারিয়ে ফেলেছিল। এজন্য তারা আকাশপথে পালিয়েছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিকেও এই অপকর্মে ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছিল। দেশের সবকিছু তারা ধ্বংস করেছে। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। ফ্যাসিবাদকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে দেয়া হবে না।’ ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।’

    প্রয়োজনে আবারো ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

    শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ২টায় ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের উন্নয়ন করেছিল। রাস্তাঘাট তৈরি করেছিল রডের বদলে বাঁশ দিয়ে। বাংলাদেশের টাকা লুট করে সিঙ্গাপুরে গিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর কুখ্যাত প্রধানমন্ত্রী বলেছিল রঙ দিয়ে শুয়েছিল। তারা রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল রক্তাক্ত হাতেই বিদায় নিয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে কোরআনের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম থেকে ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজানো হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ।’

    ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে মন্তব্য করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।’

    আন্দোলনরত ৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঐক্য আমাদেরকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।’

    ‘প্রয়োজনে আবারো ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে,’ হুঁশিয়ার করেন তিনি।

    সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের রক্তে গড়া। বনেদিদের বাংলাদেশ আর থাকবে না। অনেক দল থেকে আসন সমঝোতার অফার দেয়া হয়েছিল। আমরা বাংলাদেশের অধিকার মালিকানা কায়েম করতে চাই। ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। পুঁজিবাদি অর্থব্যবস্থার কবর রচনা করে আল্লাহর আইনের ব্যবস্থা রচনা করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এবার ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার মাটিতে জেগে উঠেছে। সকল চক্রান্ত, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে জনতার বিজয় হবে।’

    বাংলার মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, “দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাক্স ভরতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সরকারকে তার দায় নিতে হবে।”

    তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘ব্রিটিশ এই দেশ থেকে চলে গেলেও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বৈষম্য দূর হয়নি। সেই থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা শাসক ছিল তারা বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। তাই ৫ আগস্টের আন্দোলনে হাজার হাজার জীবনের বিনিময়েও মানুষ মুক্তি পায়নি। আগামীতে আবারো চাঁদাবাজ, জালেমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না। কেউ দশ তলায় কেউ নিচতলায় থাকবে সেটা আর হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলামের পক্ষে, বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে চাই। ইসলামকে বিজয় করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসলাম আগামীতে ক্ষমতায় যাবে ইনশাআল্লাহ। যথাসময়ে নির্বাচন দিতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মানবে না। হুমকি-ধমকি চলবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।’

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে চট্টগ্রামকে ইসলামের ঘাঁটি বানাই। চট্টগ্রামের মাটি ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের এই শক্তি ক্ষমতায় গেলে আপনারাই দেশ শাসন করবেন। কারো দাদার শক্তিতে এ দেশ আর চলবে না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদশ এমন পর্যায়ে দাঁড়াবে বিদেশীরা এখানে পড়ালেখা করতে আসবে, আমাদের দেশে কাজ করতে আসবে। আসুন আমরা সবাই মিলে সেই দেশ গড়ি।’

    ৮ দলের প্রধানদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

    সমাবেশে ৮ দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্সি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আলাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব আল্লামা মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, খেলাফত মজসিলের যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ইসলামী

    আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আববার, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু মুজাফফর মোহাম্মদ আনাছ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক খুরশিদ আলম ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন।

    আরো বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার, দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ প্রমুখ।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম জামায়াতের অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী বান্দরবান জেলা আমির মাওলানা আবদুস সালাম আজাদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আল মুহাম্মদ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল ওয়াহেদ, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দীন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: এ কে এম ফজলুল হক, ডা: ছিদ্দিকুর রহমান, এস এম লুৎফর রহমান, শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ ইসহাক, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহসভাপতি নুর উদ্দিন, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক ও অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান প্রমুখ।

    ওইদিন সকাল থেকে নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে মিছিলে মিছিলে জড়ো হতে থাকেন ৮ দলের নেতাকর্মী ও নগরবাসী। দুপুর পৌনে ২টা থেকে শুরু হয় সমাবেশের মূল কার্যক্রম। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    বক্তাদের বক্তব্যের সময় নেতাকর্মীরা পাঁচদফা দাবি নিয়ে স্লোগান দেন।

  • একটি সড়কের অপেক্ষায়

    একটি সড়কের অপেক্ষায়

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    গ্রামের নাম কাঠালিয়া। চাঁদপুরের কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রামটির অবস্থান। কচুয়া উপজেলার ৫ নম্বর পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামে প্রায় এক হাজার ২শ জনসংখ্যা। অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী মাধব সরকার বলেন, আমার বয়স ৫৮। সেই শৈশব কাল থেকে দেখে আসা যাতায়াতের কষ্ট যেন শেষ হয়নি আজও। শেষ বয়সে এসেও আধুনিক যুগে এমন দুর্বিষহ কষ্ট আমাদের গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

    দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা পায়নি কাঠালিয়া গ্রামের মানুষজন। গ্রামটিতে রাস্তা না থাকার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। গ্রামবাসী বর্ষা মৌসুমে কখনও নৌকায়, আবার কখনও হাঁটু বা কোমর পানিতে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ইরি ক্ষেতের কর্দমাক্ত আইল দিয়ে যাতায়াত করছে।

    ওই গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের গ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনও রাস্তা না থাকায় সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছি না। এতে পড়ালেখায় আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
    দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তারা।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় আমরা অবহেলিত। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে চলাচলে পথ। একটি পক্ষ আদালতে মামলা করলে সেখানে রাস্তার নির্মাণ কাজ থমকে যায়। আধুনিক যুগেও একরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের নাম কাঠালিয়া গ্রাম। অনেকেই জনপ্রতিনিধি হয়ে আসেন কিন্তু আমাদের দুঃখ ও দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরে ওই গ্রামে রাস্তা নেই। কিছুদিন আগে আমি ওই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের জন্য পরিদর্শন করি। কিন্তু যে স্থানে রাস্তা নির্মাণ করা হবে তার দু পাশে কৃষকের মালিকানা জমি থাকায় এবং মামলা থাকায় রাস্তা নির্মাণে সমস্যা হচ্ছে। তবে মতলব ও কচুয়া জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণে চেষ্টা চলছে।

    উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলিম লিটন বলেন, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের রাস্তা নির্মাণ কাজের বরাদ্দের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কাঠালিয়া গ্রামের রাস্তাটি বরাদ্দের আওতায় বাদ পড়লে তালিকা তৈরি করে পুনরায় পাঠানো হবে।

    উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান শিশির বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি দুবার কাঠালিয়া গ্রাম পরিদর্শন করি। রাস্তা না থাকায় আমি ও আমার সঙ্গের লোকজনকে ওই গ্রামে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতে গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪টি সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। কাঠালিয়া গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করেন এবং দুর্ভোগ নিরসনের জন্য আমরা জোরালো চেষ্টা করছি।

  • ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রধানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষকদের নানান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান শেষে দ্রুত তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, কৃষক সংগ্রাম কমিটি চাঁদপুর-লক্ষীপুর সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলাল।

    সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র ফরিদ্গঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুুর রহমান, বিএডিসি চাঁদপুর (ক্ষুদ্রসেচ) ইউনিট’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষক প্রতিনিধি ও কৃষির সাথে সম্পক্ত দপ্তরের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

     

  • চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ আটক ৫১

    চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ আটক ৫১

    ডেস্ক নিউজঃ

    চাঁদপুরে পৃথক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ ৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গতকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের মুখার্জিঘাট, চৌধুরীঘাট, লন্ডনঘাট, ছায়াবানী মোড় ও পৌর সিএনজি স্ট্যান্ড (পুরান আদালতপাড়া), কালীবাড়ি প্ল্যাটফর্মসহ বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালায় সদর মডেল থানার পুলিশ। এতে ৪৫ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কিশোর অপরাধী সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে।

    সদর মডেল থানার ওসি বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে, প্রাথমিকেভাবে যাচাই-বাছাই শেষে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে বা যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ-সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে, তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বি/ এ

  • মেহেরপুরে বিএনপির মনোনয়ন দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি হামলা

    মেহেরপুরে বিএনপির মনোনয়ন দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি হামলা

    ডেস্ক নিউজঃ

    মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনের মনোনয়ন পাওয়ায় বঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার দুপুরে গাংনী বাজারে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।এ সময় গাংনী উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থকরা। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গাংনী বাজারজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন পক্ষের সমর্থকরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমজাদ হোসেন তার কার্যালয়ে আশ্রয় নিলে মিল্টনপন্থীরা গাংনী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কার্যালয়ের সামনে থাকা অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।এদিকে হামলার খবর পেয়ে হাসপাতাল বাজার থেকে গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর নেতৃত্বে আমজাদ হোসেন পক্ষের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আসে। এ সময় আমজাদ হোসেনপন্থী উত্তেজিত নেতাকর্মীরা জাবেদ মাসুদ মিল্টনের অফিসে হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে মিল্টনপন্থীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে গাংনী বাজারজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপরও আবার হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে; শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।চলমান এই ঘটনায় আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা দুপুর ৩টার দিকে গাংনী বাজারে অতর্কিত হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গাংনী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বনি ইসরাইল বলেন, গাংনী শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

    এম কে

  • বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট যাবে পাকিস্তানে

    বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট যাবে পাকিস্তানে

    ডেস্ক নিউজঃ

    বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানের করাচিতে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান।গতকাল বুধবার পাকিস্তানের ফরেন সার্ভিসেস একাডেমিতে বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। ইকবাল হোসেন খান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করছি। আমাদের জাতীয় বিমান সংস্থা করাচিতে তিনটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।’ফ্লাইটের রুট ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় উড়োজাহাজ যেমন বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে, তেমনি বিমানের ফ্লাইটও ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহার করে চলবে।’ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলোর ঢাকা রুটে শিগগির ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা কম।পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সরাসরি প্রবেশাধিকার না থাকায় বাণিজ্য সীমিত। অতীতে রেলপথে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য হতো। কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তানের খেজুর দুবাই হয়ে আঞ্চলিক বাজারে পৌঁছায়।

    এম কে

  • আজ চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

    আজ চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

     

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

    দেশের বিভিন্ন জেলায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। চুয়াডাঙ্গায় শীত বাড়ায় বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ও সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
    এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ ছিল বলে জানিয়েছেন জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় পুরো জেলা ঢেকে গেছে। শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। এরপরেও জীবনের তাগিদে শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে কাজের জন্য বের হয়েছেন রিকশাচালক, দিনমজুর।

    এক রিকশাচালক জানান কয়েকদিন ধরে খুব ঠান্ডা। এই ঠাণ্ডায় ভোরে বের হওয়া খুব কষ্ট। যাত্রী কম, আয়ও কমে গেছে।

    নিম্নআয়ের এক শ্রমিক বলেন, গরম কাপড় ঠিকমতো নেই। এই শীতে আমাদের কষ্ট বাড়ছে।

    এর আগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) জেলার তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আজকের নিম্ন তাপমাত্রা মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা বাড়বে।

    বি/এ

  • আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    আজ থেকে সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের অনুমতি পাচ্ছেন পর্যটকরা

    ডেস্ক নিউজঃ

    পর্যটন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার ১০ মাস পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে অবশেষে রাতযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকরা। আজ সোমবার চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার অনুমতি পেয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অনুমতি বহাল থাকবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে প্রতিদিন সকাল ৭টায় উত্তর নুনিয়াছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে জাহাজগুলো ছেড়ে যাবে। তবে, পর্যটকদের রাতযাপনের অনুমতি থাকলেও পর্যটকবাহী জাহাজগুলো একই দিন বেলা ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরতি যাত্রা করবে। সেক্ষেত্রে পর্যটকরা পরেরদিন বেলা ৩টায় ফিরতে পারবেন।কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ ও রাতযাপন করতে পারবেন। তবে, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের সরকার প্রদত্ত বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে হবে।জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, প্রথম দিনের যাত্রার জন্য এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।এর আগে, দীর্ঘ ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর গত ১ নভেম্বর সীমিত পরিসরে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু, রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় গত এক মাসে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপটিতে যাত্রা করেনি। এছাড়া কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটের পাশাপাশি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথও বছর খানেক সময় ধরে বন্ধ ছিল।কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই পর্যটনে সহায়তার জন্য পর্যটকদের সহযোগিতা করতে হবে।জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, ভ্রমণকারীদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। এছাড়া সেন্টমার্টিনে রাতযাপন করতে হলে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা পর্যটকদের কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণ সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

    এম কে

  • জীবননগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন

    জীবননগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন

    ডেস্ক নিউজঃ

    চুয়াডাঙ্গা-২ (জীবননগর-দামুড়হুদা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. রুহুল আমিন রোববার দুপুরে জীবননগরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    জীবননগর উপজেলা জামাতের এই মতবিনিময় সভায় তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার, উন্নয়ন ভাবনা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
    অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, জনগণের কল্যানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যলয়, চ্যাংখালী স্থলবন্দর, জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে, তিনি কাজ করতে চান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ভূমিকা ও সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা জামাতের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থীত ছিলেন জেলা জামাতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ, সমর্থক ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    এম কে

  • খুলনায় আদালত চত্বরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ২

    খুলনায় আদালত চত্বরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ২

    ডেস্ক নিউজঃ

    সন্ত্রাস ও খুনের জনপদ হিসেবে পরিচিত খুলনায় আবারো রক্ত ঝরেছে। দুর্বৃত্তরা দিনদুপুরে আদালতপাড়ায় গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই যুবককে। নিহতরা হলেন, নতুন বাজার চর মসজিদ গলির বাসিন্দা মো. মান্নাফ হাওলাদারের ছেলে মো. হাসিব হাওলাদার। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্তার অভিযোগ আছে। আরেকজন হলেন রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের ইজাজ শেখের ছেলে মো. রাজন।

    রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মেইন গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে খুলনা সার্কিট হাউজের অবস্থান। জনাকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্যের উপস্থিতিতে এমন ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাজন ও হাসিব মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে বের হয়ে মেইন রোডে আসামাত্রা আগে থেকে অবস্থান নেয়া ৩/৪ জন তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন মাথায় গুলি লাগলে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। তার মাথা থেকে মগজ বের হয়ে যায়। এরপরও দুর্বৃত্তরা তাদের চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।ঘটনার সময় আদালত ভবনের তৃতীয় তলা থেকে একজন দেখতে পান, গুলি ও কুপিয়ে দুইজনকে জখম করার পর ৩/৪ জন দৌড়ে ফরেস্ট অফিসের দিকে চলে যাচ্ছেন।অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একটি মামলায় হাজিরা দিতে ৬ জন এসেছিলেন। এর মধ্যে চারজনের জামিন না-মঞ্জুর হয়। এই দুইজন জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসামাত্র মেইন রোডে হামলার শিকার হন।খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত.ম. রোকনুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, দুর্বৃত্তরা আদালত এলাকায় গুলি করে দুইজনকে হত্যা করেছে। কী কারণে এই হামলা এবং কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে।

    এম কে