ক্যাটাগরি ছবি

  • ওয়ান ইলেভেনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে: মাহফুজ আলম

    ওয়ান ইলেভেনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে: মাহফুজ আলম

    নিউজ ডেস্ক:

    ওয়ান ইলেভেনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

    সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

    এদিকে মাহফুজ আলমের এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্নজন তার পোস্টে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন।এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ‘ফ্যাসিবাদ থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আইনজীবীদের ভূমিকা: আলোচনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে, যার ইঙ্গিত ভালো নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সবাই একতাবদ্ধ ও সতর্ক না থাকলে দেশে আরেকটি এক-এগারোর পুনরাবৃত্তি অসম্ভব নয়।

  • খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    খেজুর খাওয়া নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। শুধু পুষ্টি নয়, এর রয়েছে নানা রকম ওষুধি গুণও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, খেজুর খেলে শরীরে নানা উপকার হয়। তবে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই নয়, হাদিসেও খেজুরের উপকারিতার কথা বহুবার উঠে এসেছে।

    বিশেষ করে মদিনার ‘আজওয়া খেজুর’ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একাধিক বর্ণনায় এসেছে আশ্চর্যজনক সব উপকারের কথা।

    হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘মদিনার উচ্চভূমিতে উৎপন্ন আজওয়া খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। আর প্রথম ভোরে তা খাওয়া হলে এটি বিষের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে (মুসলিম : ৫১৬৮)।’

    অন্য এক হাদিসে হজরত সাদ (রা.) বলেন, আমি নবীজি (সা.) বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ বা জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না (বুখারি : ৫৪৪৫)।’

    একবার হজরত সাদ (রা.) অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) নিজ হাতে তার বুক স্পর্শ করে বলেছিলেন, ‘তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও, সে অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তাকে বলো আজওয়া খেজুর চূর্ণ করে সাতটি বড়ি তৈরি করতে (আবু দাউদ : ৩৮৩৫)।

    হজরত আলি (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সাতটি আজওয়া খেজুর খায়, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ দূর হয়ে যায় (কানজুল উম্মাল : ২৮৪৭২)।’

    মহানবী (সা.)-এর ইফতারেও খেজুর ছিল প্রধান। হজরত আনাস (রা.) বলেন,‘নবীজি (সা.) কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। না পেলে শুকনো খেজুর, সেটাও না পেলে পানি (তিরমিজি)।’

    এ ছাড়া তিরমিজির এক হাদিসে তো আজওয়া খেজুরকে জান্নাতের ফল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লিখিত উপকারিতাগুলো স্মরণে রেখে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন খেজুরও। বিশেষ করে ভোরবেলা নিয়ম করে সাতটি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস আপনার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

  • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জামায়াতের

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জামায়াতের

    নিউজ ডেস্ক:

    শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল। সোমবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ বেশকিছু দাবি জানিয়েছে দলটি।

    জামায়াতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেছি, যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের প্রথম দাবি ছিল দেশের বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ করতে হবে। কারণ জাতি গঠনের মেরুদণ্ড যদি শিক্ষা হয়, তবে শিক্ষার মেরুদণ্ড হলেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা যদি দুর্বল থাকেন, তাহলে জাতিও গঠিত হতে পারে না।

    তিনি বলেন, আমাদের দ্বিতীয় দাবি নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করা। বিগত ১৭ বছরে রাজনৈতিক কারণে যেসব শিক্ষক বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের অবসরভাতাও দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

    সিলেবাস প্রণয়ন কমিটিতে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান বলেন, সিলেবাস প্রণয়নের বিষয়ে একটি প্রস্তাব আমরা উত্থাপন করেছি। সেখানে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধি রেখে কমিটি গঠন করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিলেবাস প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো মন দিয়ে শুনেছেন এবং তা পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা আশাবাদী, আমাদের এ কথার মাধ্যমে গোটা দেশ ও জাতির প্রতিফলন হবে। আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামিকরণের মাধ্যমে ঈমান-আকিদা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একইসাথে সৎ ও আলোকিত মানুষ গড়ার উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও জামায়াত-সমর্থিত আদর্শ শিক্ষক ফোরামের নেতারা।

  • জুলাই অভ্যাত্থান স্মরনে চৌগাছায় জামায়াতের গণসমাবেশ

    জুলাই অভ্যাত্থান স্মরনে চৌগাছায় জামায়াতের গণসমাবেশ

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের চৌগাছায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার বিকেলে শহরের প্রেসক্লাব চত্ত¡রে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. গোলাম মোরশেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত মনোনীত চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
    উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাও. নুরুজ্জামানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাও নুরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা আমীর হাফেজ আমিন উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা আমির মুফতি আনিছুর রহমান, সেক্রেটারি মুফতি শিহাব উদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমির মাও আব্দুল খালেক, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাষ্টার কামাল আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন, রহিদুল ইসলাম খান, জগদিসপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাও. আব্দুর রহমান, ফুলসারা ইউনিয়নের সভাপতি মাও. শরিফুল ইসলাম, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আলিম, পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাও. আব্দুল কাদের, হাকিমপুর ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, স্বরুপদাহ ইউনিয়নের সভাপতি মাও. আবু বক্কর সিদ্দিক, ইসলামী ছাত্র শিবিরের উপজেলা সভাপতি হাফেজ আবু সাঈদ প্রমুখ।
    প্রধান অতিথি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের ৭০ শতাংশই ছিলেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তবু জাতির জন্য জীবন দিতে তাঁরা দ্বিধাবোধ করেননি। এখন তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব দেশবাসীকে বিশেষ করে সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা কারও কাছে ভিক্ষা চান না। তাঁরা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান।
    তিনি আরো বলেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির একশ শয্যা কার্যক্রম আগামি এক মাসের মধ্যে চালু হবে।
    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, কারো পিছনে না লেগে চৌগাছা- ঝিকরগাছা উন্নয়নে ভোটের আগে ও পরে সকলেই এক সাথে কাজ করতে হবে।
    সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব চত্ত¡র থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

     

  • শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় সাবেক তিন মন্ত্রী গ্রেপ্তার

    শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় সাবেক তিন মন্ত্রী গ্রেপ্তার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান পান্থ (১৮) হত্যা মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (৪ আগস্ট) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। এদিন তাদের কেরানীগঞ্জে বিশেষ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মো. আরিফ হোসাইন গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।  আদালত এটি মঞ্জুর  ফের তাদের করে ফের কারাগারে পাঠায়।

    মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় তোলারাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহাদী হাসান পান্থ আন্দোলনে অংশ নেন। ঘটনার দিন বিকেল ৪টায় আসামিদের ছোড়া গুলি তার মুখের সামনের অংশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ৮ নভেম্বর কদমতলী থানায় মামলা হয়। এ মামলায় রাশেদ ৭, ইনু ৮ ও পলক ৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

    গত বছরের ১৪ আগস্ট রাতে পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। ২২ আগস্ট রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর অর্ধশতাধিকের বেশি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

     

  • ৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও পোশাক কারখানা

    ৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও পোশাক কারখানা

    নিউজ ডেস্ক:

    সারা দেশে আগামী মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ব্যাংক বন্ধ থাকবে। দিনটি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে সরকার ঘোষিত ছুটির দিন হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অব সাইট সুপারভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    বাংলাদেশ সরকার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ২ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে উপলক্ষে দেশের সব অফিস-আদালতের মতোই তপশিলি ব্যাংকগুলোকেও ছুটির আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট সরকারি ছুটির দিন হিসেবে দেশের সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। অতএব, সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে এবং আর্থিক লেনদেন পরিকল্পনা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ আগস্ট ২০২৪ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের দমনপীড়ন, ভোট কারচুপি, লুটপাট ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ অবশেষে ক্ষমতা হারিয়েছে। শেখ হাসিনা, যিনি একযুগ ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে ধরে ছিলেন, শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জনগণের বিজয় হয়েছে, আর বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

    এদিকে শনিবার (২ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ জানায় ৫ আগস্ট সব পোশাক কারখানা ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এ ছুটির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

     

  • ইয়েমেন উপকূলে ৬৮ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

    ইয়েমেন উপকূলে ৬৮ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

     

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

    ইয়েমেন উপকূলে আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ায় কমপক্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সবাই আফ্রিকান নাগরিক।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার (৩ আগস্ট) এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা জানায় জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, নৌকাটিতে ১৫৪ জন ইথিওপীয় নাগরিক ছিলেন। এটি ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে ডুবে যায়।

    তিনি জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫৪ জনের মরদেহ খানফার জেলায় এবং আরও ১৪ জনের মরদেহ আশপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫৪। তবে পরে আইওএম নিশ্চিত করে, মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন।

    এদিকে জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার কাছে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং ইয়েমেনের মধ্যকার সমুদ্রপথ অভিবাসীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোতে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়েছে।

    আইওএম-এর মতে, ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় অনেক কম।

    আইওএম আরও জানায়, এই রুটে ২০২৩ সালে ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ২ হাজার ৮২ জন। যাদের মধ্যে ডুবে মারা গেছেন ৬৯৩ জন। বর্তমানে ইয়েমেনে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন।

  • পালাতক থেকেও চাকরিতে বহাল চৌগাছা হাসপাতালের চিকিৎসক মৃদুল কান্তি !

    পালাতক থেকেও চাকরিতে বহাল চৌগাছা হাসপাতালের চিকিৎসক মৃদুল কান্তি !

     

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :
    যশোরের চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক মৃদুল কান্তি দশ বছর পালাতক থাকলেও খাতা-কলমে বহাল তবিয়তে আছেন। এছাড়া আরো দুই চিকিৎসক দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। পদ শুণ্য না হওয়ায় চিকিৎসক পদায়ন করছেনা কর্তৃপক্ষ। যারফলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে ।

    সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মৃদুল কান্তি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ২০১৪ সালের পর আর কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। একইভাবে মেডিকেল অফিসার সাইমা নাহিদ শান্তা ২০২১ সাল থেকে এবং মেডিকেল অফিসার গোলাম রসুল ২০১৯ সাল থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যে কারনে পদও শুণ্য হয়নি। অপরদিকে চিকিৎসক পদায়ন না করায় ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। তিনজন চিকিৎসক না থাকায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসকরা।
    হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩২টি। খাতাকলমে কর্মরত দেখানো হচ্ছে ১৭ জন চিকিৎসককে। কিন্তু এই ১৭ জনের ৩ জন দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্তিতে রয়েছেন আরও চার জন চিকিৎসক। এছাড়া মেডিকেল ছুটি ও ট্রেনিংএ আছেন আরো দুই জন। বাকি ৮ জনের ২ জন প্রশাসনিক পদে কর্মরত। বর্তমানে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে দেশ সেরা এই মডেল হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।
    একটি সুত্র জানিয়েছে যে সকল চিকিৎসকরা চৌগাছা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারনে তারাও বদলি নিতে চেষ্টা করছেন।
    বুধবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় বর্হির বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাইলে, বর্হির বিভাগের চিকিৎসক সাইদুর রহমান ইমন বলেন,এ হাসপাতালে রোগীর ভিড় নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রতিদিনই এখানে ২৪ ঘন্টা রোগীর ভিড় থাকে। সে তুলনায় চিকিৎসক সংখ্যা কম রয়েছে।
    একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছে অনুপস্থিত চিকিৎসকরা বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা আর কর্মস্থলে ফিরে আসবেননা।
    জানতে চাইলে চৌগাছা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানুল মিজান রুমি বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন আগে এই হাসপাতালে যোগদান করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে অনুপস্থিত তিনজনের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করা যায় সমস্যার সমাধান হবে।

  • জুলাইয়ের বিশ্বাসঘাতকদের প্রতিহত করতে হবে: ডা. তাহের

    জুলাইয়ের বিশ্বাসঘাতকদের প্রতিহত করতে হবে: ডা. তাহের

    নিউজ ডেস্ক:

    জুলাইয়ের চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য চক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ফসল ভোগকারীদের মাঝে বিশ্বাসঘাতকতার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এই বিশ্বাসঘাতকদেরকে চিনে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে। ক্ষমতার মসনদ থেকে তাদেরকে চিহ্নিত করে বের করে দিতে হবে।

    রোববার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী ছাত্রশিবির ঘোষিত ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান–২০২৪’ শীর্ষক স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. তাহের বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা, সুষ্ঠু রাজনৈতিক কালচার তৈরি, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন করার জন্য যা কিছু সংস্কার করার প্রয়োজন এ সরকারকে করতে হবে। না হলে জনগণ ও শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে ইতিহাস তাদেরকে চিহ্নিত করবে।

    তিনি বলেন, যারা সংস্কারে বাধা দিচ্ছে তারা সংস্কারকে গ্রহণ করতে চায় না, যারা সংস্কারের আইনি ভিত্তি অনুভব করে না, তারাই নির্বাচন বিরোধী। তারা নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়। তারা যেনতেন নির্বাচন করে বাংলাদেশকে আবার পিছিয়ে সেই ১৫ বছরের জঞ্জালে নিয়ে যেতে চায়।

    সরকারকে বলব, যেখানে যেখানে সংস্কার প্রয়োজন-নির্দ্বিধায় করতে হবে। কোন দল মানে আর কোন দল মানে না-বাংলার জনগণ এটা শুনতে চায় না। একথা বাংলাদেশের মানুষ মানে না।

    তিনি বলেন, আমরা বড় ধরনের চক্রান্তের কথা শুনছি। আমাদের চেতনাকে আবার মুছে ফেলার জন্য, রাষ্ট্র কাঠামোকে আবার পূর্ণভাবে উল্টে ফেলার জন্য এবং জুলাইয়ের চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য চক্রান্ত হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় ছিল, থাকবে। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান করব, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে ষড়যন্ত্রকারী নয়, বিশ্বাসঘাতকদের নিয়ে একটু আতঙ্কিত হই। কারণ কাজের মানুষ বিশ্বাসঘাতকতা করলে তা মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে যায়।

    ডা. তাহের বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে তিনটি কথা বলেছিলাম। সংস্কার ও খুনি-দোষীদের দৃশ্যমান বিচার সুস্পষ্টভাবে অর্জনের পর নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। আমরা নির্বাচন চাই। কিন্তু যেনতেন নির্বাচন চাই না। আমরা হাসিনা মার্কা লুটপাট, কেন্দ্র দখলের নির্বাচন চাই না। দিনের নির্বাচন রাতে অনুষ্ঠিত হওয়া চাই না। তিনি শহীদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সরকারসহ সকল পক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আন্দোলনে ত্যাগ ও অবদান রাখা সকল শ্রেণির মানুষ যাতে বৈষম্যহীনভাবে যেন যার যার প্রাপ্যতা সঠিকভাবে পেতে পারে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধারণ করতে হবে। কেউ যেন এটাকে বিকৃত করতে না পারে। তিনি একবছরের গণহত্যার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। বিচার দ্রুত করতে হবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্রকে যেভাবে পরিচালনার দরকার ছিল তা দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোতে জুলাইয়ের চেতনা ধারণে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে শিবির সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। এসময় জুলাই স্মৃতি লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

  • ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা সমূলে উৎপাটন না করে ঘরে ফিরতে পারিনা:  নাহিদ ইসলাম

    ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা সমূলে উৎপাটন না করে ঘরে ফিরতে পারিনা: নাহিদ ইসলাম

    নিউজ ডেস্ক:

    আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে এক দফা ঘোষণার বর্ষপূর্তির দিনে সেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা সমূলে উৎপাটনের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। গত বছর ওই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদই শেখ হাসিনার সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করেছিলেন।

    ৩ আগষ্ট রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম অভ্যুত্থানের পরে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গড়ে তোলার পেছনে যে আকাঙ্ক্ষা কাজ করেছে, সেটি তুলে ধরেছেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের এক দফা দাবি ছিল, আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করতে চাই। কেবল এক ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা হটিয়ে, আরেক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা উত্থানের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখে আমরা নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে পারি নাই। বরং রাষ্ট্র ও সমাজে দীর্ঘদিন জেঁকে বসা এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা সমূলে উটপাটনে আপনাদের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে আমরা আপনাদের ছাত্র–শ্রমিক–জনতা ও রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠন করেছি।’

    সমাবেশ থেকে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ শিরোনামে ২৪ দফা ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এতে সংবিধান সংশোধনসহ রাষ্ট্র ও জনগণের উন্নতির লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি, এনসিপির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পরে বাংলাদেশে এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরা আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের দ্বিতীয় রিপাবলিকের ২৪ দফা ইশতিহার ঘোষণা করছি।’

    জাতীয় নাগরিক পার্টির এই ২৪ দফার মধ্যে রয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার; নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক; গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার; ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার; সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন; ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার; টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষানীতি; সর্বজনীন স্বাস্থ্য; ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা; কল্যাণমুখী অর্থনীতি; জনবান্ধব পুলিশ; নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন; গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব; তারুণ্য ও কর্মসংস্থান; বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি; টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব; স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ; শ্রমিক-কৃষকের অধিকার; জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নগরায়ণ, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা; জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা; প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার; বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।

    সমাবেশে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হলো সমস্যা সমাধানের রাজনীতি। আমরা দেশব্যাপী ঘুরে মানুষের সকল সমস্যা শুনেছি। মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সমস্যা সমাধানের রাজনীতি করব।’

    তাসনিম জারা আরও বলেন, ‘আমরা এমন রাজনীতি করব, যাতে দেশের প্রতিটা মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে। সকল দলমতের মানুষ রাজনীতি করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করব। এমন রাজনীতি করব, যাতে প্রবাসী ভাইয়েরা ভোট দিতে পারেন। যাতে সকল নাগরিকের অধিকার থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলব, যাতে দেশের সকল নাগরিকের স্বাস্থ্যের তথ্য ডেটাবেজ থাকবে। এতে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করা ও ভুল চিকিৎসা দেওয়া বন্ধ হবে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসাকে শক্তিশালী করব। যাতে মানুষ প্রতিটি এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসা পায়।’

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাহাত্তরের সংবিধান একটা দলের ছিল, যে সংবিধান আরেকটা দেশ থেকে পাস হয়ে এসেছে। এই মুজিববাদী সংবিধান আর বাংলাদেশে থাকতে দিতে পারি না। আমরা আজ এই মঞ্চে মুজিববাদী সংবিধান ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়ে নতুন সংবিধান চাইতে এসেছি।’

    সারজিস আরও বলেন, ‘এক বছর আগে এই শহীদ মিনারে যারা ছিল, তাদের অনেকে আজ শহীদ। তাদের পরিবার এখানে আছেন। আমরা এই শহীদ ভাইদের হত্যার বিচার চাইতে এসেছি। আমরা এই সরকারের কাছে মৌলিক সংস্কারের নিশ্চয়তা চেয়েছি। আমরা শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন চাইতে এসেছি। আমরা আহত যোদ্ধাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে এখানে এসেছি।’