ক্যাটাগরি পিরোজপুর

Pirojpur district

  • নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদে ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত

    নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :  সেচের অভাবে ইরি-বোরো আবাদ বিপর্যয়ের মুখে। ভলো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও ডিজেলের অভাবে সেচ বন্ধে চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক। মৌসুমের শুরুতে ডিজেলের তীব্র সংকটে ইরি-বোরো ধান চাষ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর ধান ক্ষেতে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে পানি সংকটে ধানগাছ মাটিতে নুইয়ে পড়ছে এবং শীষে চিটা ধরার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। এতে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন কৃষকরা।

    মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেচনির্ভর এসব ফসলের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি হলেও ডিজেল না থাকায় অধিকাংশ সেচযন্ত্র বন্ধ আছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি ফেলে রাখছেন। আবার কেউ কেউ সীমিত পরিসরে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচানোর শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

    একাধিক কৃষক জানান, ‘ধান ভালোই হয়েছে, কিন্তু ডিজেলের অভাবে পানি দিতে না পারায় সব শেষ। বাজারে ডিজেল নেই। থাকলেও উচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের সব পরিশ্রম বিফলে যাবে।”

    নেছারাবাদের চামি গ্রামের কৃষক খালেক বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকায় আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি”।

    বিন্না গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন,” ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছি। ডিজেলের অভাবে ফসল নষ্ট হলে ঋণের বোঝা বইতে হবে।”

    উপজেলা কৃষি অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, “ডিজেল সংকটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “ইরি-বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ ব্যাহত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    আর আই খান

  • জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ-

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) ও পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    তাদের মধ্যে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে লড়বেন মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে লড়বেন শামীম সাঈদী।

    এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেন, আজ একটি আনন্দঘন পরিবেশে আমার বড় ভাই শামীম সাঈদী ও আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আসলে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের, কারণ এই আসনে আমার শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্বাচন করার কথা ছিল। আমি কিংবা আমার ভাই-কারোরই এখানে নির্বাচন করার কথা ছিল না। আমাদের একটি কষ্টের ইতিহাস আছে, জনগণ সেগুলো জানেন এবং জনগণ নিশ্চয়ই সে বিষয়ে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমরা নির্বাচনে এসেছি মূলত এই প্রজন্মের মানুষ বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে ভাবে, আমরা সেই বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। আমরা একটি শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে চাই এবং ইনশাআল্লাহ জনগণ যথোপযুক্ত সময়ে সেই রায় দিয়ে জনগণের মনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

    এ/আর

     

  • ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের  চিতই পিঠার মহোৎসব

    ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের চিতই পিঠার মহোৎসব

    বিডি নিউজ ডেস্ক-

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভেসে আসছিল মাটির চুলার ধোঁয়া আর গরম চিতই পিঠার ঘ্রাণ। কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণে সারি সারি জ্বলতে থাকা ১০৮টি মাটির চুলা, নারীদের ব্যস্ত হাত আর চিতই পিঠার গরম ঘ্রাণে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব এবারও রূপ নেয় জনসমাগমের মহোৎসবে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারসংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এ শতবর্ষী পিঠা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত। ধর্মীয় আচারকে ঘিরে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে।

    ‎অথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০৮টি মাটির চুলা। প্রতিটি চুলার ওপর রাখা হয়েছে মাটির সাজ ও সরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সন্ধ্যা ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে কেউ ভক্ত, কেউ মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থী, আবার কেউ নিছক দর্শনার্থী। অনেকেই সঙ্গে করে এনেছেন চালের গুঁড়া, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ।

    ‎সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী মন্ত্রপাঠ শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। তিনি প্রতিটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিলে নারীরা পিঠা বানাতে শুরু করেন। সরা তুলে সাজ থেকে পিঠা নামিয়ে বড় পাত্রে জমা করা হয়। পরে সেই পিঠা প্রতিমার ভোগে অর্পণ শেষে প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চিতই পিঠা।

    ‎বরিশাল থেকে আসা পুণ্যার্থী সুমিত্রা রানী দাস বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে আসতাম। বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছি, তবু এই দিনটা এলে মন টানে। মনে হয় এখানকার পিঠার সঙ্গে আমার শৈশব মিশে আছে।

    ‎গতবছর সন্তানের আশায় এখানে মাতন করে গিয়েছিলেন শ্যামা পাল। এবছর সন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন পিঠা তৈরি করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হয় না। গত বছর এখানে এসে মানত করে গিয়েছিলাম। মানত করে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই আমার সুখবর আসে। এ বছর সন্তান কোলে নিয়ে চিতই পিঠা বানাতে এসেছি।

    ‎স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল বিশ্বাস বলেন, আগে শুনতাম এটা শুধু মানতের আয়োজন ছিল। এখন এটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে সবাই এখানে আনন্দ করতে আসে।

    ‎মনোবাসনা পূরণের আশায় আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম গৃহবধূ বলেন, আমার সন্তান না হওয়ায় এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা তো সবার জন্য তাই এসেছি।

    ‎১৯৮৬ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবলাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ৯২ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী মাঘের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করতেন। অমাবস্যায় শুকনা খাবার খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মন্দিরে চিতই পিঠা তৈরি করে প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মানুষ মনোবাসনা পূরণের আশায় এই পিঠা গ্রহণ করতেন। যুগের পর যুগ ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে। বর্তমানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠা তৈরির এই আয়োজন ধীরে ধীরে বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।

    ‎শত বছরের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আর কেবল ধর্মীয় রীতি নয় পরিণত হয়েছে নাজিরপুরের সর্বজনীন লোকউৎসবে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনেই টিকে আছে চিতই পিঠার এই অনন্য উৎসব।

    এ/আর

  • ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    বিডি ডেস্ক নিউজ-

    পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে নির্ধারিত সময়ের ১২ মিনিট পরে পৌঁছানোয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি ৭৪ বছর বয়সি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। তিনি সপ্তমবারের মতো মনোনয়নপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। এর আগে ৬টি নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল তার। তারপরও সোমবার মনোয়নয়নপত্র দাখিল করতে যান সুধীর।

    জানা গেছে, কখনো নিজের ভোটটি ছাড়া কোনো ভোট পাননি সুধীর বিশ্বাস।

    সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী বিশ্বাস ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে হেরে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্যই নির্বাচন করে আসছেন সুধীর।

    নিজেকে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক দাবি করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে জমিয়ে রাখা টাকা ও কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে এ বছর মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলাম; কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে গেলে আমার কাগজপত্র জমা নেয়নি। আমার বয়স হয়ে গেছে, তাই কাগজপত্র রেডি করে নিয়ে যেতে একটু দেরি হয়।

    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার জানান, সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস দাউদখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। নির্বাচন করার অধিকার তার আছে। নির্ধারিত সময়ের পরে আসার কারণে তিনি জমা দিতে পারেননি।

    মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার ১২ মিনিট পরে তিনি কাগজপত্র নিয়ে আসায় জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

     

     

    উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল শরীফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির মাসরেকুল আজম রবি, জাসদ মনোনীত প্রার্থী করিম শিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌহিদুর ইসলাম।

  • সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    শীত মৌসুম এলেই বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদের গ্রামগুলো যেন ভিন্ন এক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষা এই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য নার্সারি। শীত মৌসুমে নার্সারিগুলোয় শুরু হয় ফুলের চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি।

    নদীতীরের এসব গ্রামে নার্সারির চারাগুলোর শাখায় শাখায় আর কদিন পরই ফুটবে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি—নানা ফুল। এই চারা ও ফুল উৎপাদনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন এক নীরব কিন্তু বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিপ্লব।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধকোটি ফুলের চারা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি।

    নার্সারিমালিকদের দাবি, গত বছর তাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ফুলের চারা বিক্রি করতে পারেননি। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগের চেয়ে বেশি জমিতে তাঁরা চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। অগ্রহায়ণের শুরুতেই এসব নার্সারি মুখর হয়ে ওঠে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায়।

    সম্প্রতি বানারীপাড়া উপজেলা সদরের তেতলা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি, কুনিয়ারী, মাহমুদকাঠি, সুলতানপুরসহ নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—নার্সারিগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, টিউলিপ, কসমস, বেলি, সূর্যমুখী, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফ্লাওয়ার, ক্যালেন্ডুলাসহ শতাধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের চারা। কেউ চারা পরিচর্যা করছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউবা পলিথিনে, টবে, সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বানানো ব্যাগে মাটি ভরে নতুন চারা করার জন্য প্রস্তুত করছেন। শুধু নেছারাবাদ ও বানারীপাড়া উপজেলাতেই অন্তত ২০টি গ্রামজুড়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

    নার্সারিমালিক আবদুর কাদের বলেন, ‘সারা বছর বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন করি, তবে শীত আসার আগেই শুরু করি ফুলের বীজ বপন। এই তিন মাস আমরা ফুলের চারা বিক্রি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। প্রতি মৌসুমে পাঁচ–ছয় লাখ টাকার ফুলের চারা বিক্রি হয়—এর অর্ধেকই থাকে লাভ।’

    নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানার নার্সারিমালিক সমীরণ রায় বলেন, ‘এবার ৯০ শতাংশ জমিতে ফুলের চারা করেছি। আশা করছি অন্তত দুই লাখ টাকার বিক্রি হবে।’

    নার্সারির শ্রমিক রাহাত হোসেন জানান, এখানে ফুলের চারার দাম ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনসাই ও বিদেশি জাতের ফুলের চারা সবচেয়ে দামি।

    নার্সারি ঘিরে দুই উপজেলায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন নার্সারি। প্রতিটি নার্সারিতে চার-পাঁচজন করে নারী শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে কর্মসংস্থান হওয়ায় আমাদের সংসারে আগের টানাপড়েন আর নেই।’

    কোহিনুর নার্সারির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গতবছর বরিশালের বাইরে থেকে ক্রেতারা কম এসেছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফুল ও বাগান তৈরির বরাদ্দও কম ছিল, তাই ক্ষতি হয়েছিল। এবার আশা করি, বিক্রি ভালো হবে। বাইরের ক্রেতারা এরই মধ্যে চারা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন।’

    রূপ-গন্ধে ভরা অলংকারকাঠি

    বরিশাল শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, বরিশাল–বানারীপাড়া–নেছারাবাদ সড়কের পাশে অলংকারকাঠি গ্রাম। চোখ ফেরালেই দেখা যায়, সবুজ আর শাখায় শাখায় বাহারি ফুলের শোভা।

    গ্রামের নার্সারি মালিক নূর হোসেন ব্যাপারী (৬৫) জানান, তিনি দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে সাত বছর আগে গড়ে তুলেছেন ‘ইয়ামিন নার্সারি’। তিনি জানান, অলংকারকাঠি গ্রামেই এখন ১৫০টির বেশি নার্সারি। ফুলের চারা বিক্রির পাশাপাশি ফলের চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তাঁরা।

    স্থানীয় লোকজন জানান, নদীনালায় ঘেরা এ অঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ কম। আগে চেরাই কাঠ, ভাসমান ফলদ-বনজ চারা উৎপাদন ও পেয়ারা–নারকেল–সুপারি বাগানের প্রচলন ছিল। সেই বাগানের চাহিদা থেকেই প্রায় ৫০ বছর আগে শুরু হয় বাণিজ্যিক নার্সারি ব্যবসা। গত দুই দশকে এখানে ফুলের চারা উৎপাদনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ফুলের চারার বড় অংশই আসে পিরোজপুর-বরিশালের এই উপজেলা থেকে।

    নার্সারিমালিক শাহাদাৎ হোসেন জানান, আশ্বিন মাসে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করেন। ১৫–২০ দিন পর চারা গজালে পলিথিন, সিমেন্টের ব্যাগ, টবে তুলে পরিচর্যা শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়। এই ফুলও তাঁরা পাইকারি বিক্রি করেন। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুল বিক্রি চলে।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে এ অঞ্চলে ৯ হাজার ৫৬৭ একর জমিতে চারা উৎপাদন হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি জমিতে শীতকালীন ফুলের চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে পিরোজপুর জেলার ২৯১ একর জমিতে।

    নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দুই হাজার নার্সারি আছে, এর মধ্যে ৩৬৩টি বড় আকারের। এ বছর চাষ বেড়েছে ১৫–২০ শতাংশ।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নার্সারি ব্যবসা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের নানা অঞ্চলের ক্রেতারা বরিশাল ও পিরোজপুরের নার্সারির দিকে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে, কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

    এ/আর

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

     

     

  • শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    ডেস্ক নিউজঃ

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করণের উদ্দেশে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‎ফরিদা আখতার বলেন, ৭২-এর সংবিধান অনেকবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সেটি আর সংবিধান নেই। যার যখন প্রয়োজন হয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই ‘হাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আগামীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোনো সরকারকে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং কাউকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হতে দেওয়া যাবে না। যে প্রার্থীরা সংসদে যাবেন এবং সংসদে গিয়ে সরকার গঠন করবেন এবং দেশের জন্য কাজ করবেন তারা জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান, জেলা তথ্য অফিসার পরীক্ষিৎ চৌধুরীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ শুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

    এ আর

  • জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

    জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে : শামীম সাঈদী

     

    প্রয়াত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শামীম সাঈদী বলেছেন, আগামী নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে। আমরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই, রাতের ভোট বা কেন্দ্র দখলের নির্বাচন চাই না। জনগণের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ ভোট চাই। কৃষক যেমন মাঠে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলায়, তেমনি জামায়াতে ইসলামী রক্ত দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।

    শুক্রবার  বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী বালিকা বিদ্যালয় মিলনায়তনে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওলামা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শামীম সাঈদী বলেন, আওয়ামী লীগ ইসলামের পতাকা মুছে ফেলতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয় পর্যন্ত হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে এবং নেতাকর্মীদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা জামায়াতের প্রয়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা এটিএম ইউছুফ, মাওলানা আজহার, কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অসংখ্য নেতাকে বিচারের নামে অবিচার করেছে। তিনি বলেন, যে ট্রাইব্যুনালে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অন্যায় বিচার করা হয়েছে, আজ সেই ট্রাইব্যুনালেই তাদের বিচার হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমার বাবা শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যায় ও নিপীড়নের মধ্যেও তিনি ইসলামী আদর্শে অটল ছিলেন। আমরা তার আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করব।

    এ সময় তিনি ফেনী-১ আসনে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিনের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জন্য ভোট প্রার্থনার আহ্বান জানান

    সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন এবং ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান।

    জেলা মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং ফুলগাজী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পরশুরাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হালিম, ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সামছুল হক, পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন এবং ফুলগাজী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আবুল কালাম শামীম প্রমুখ।

    সমাবেশে ওলামা, স্থানীয় সুধীজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কাঁঠালিয়ায় ১৪ বছরের সাঁজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    কাঁঠালিয়ায় ১৪ বছরের সাঁজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

    ডেস্ক নিউজঃ

    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ১৪ বছরের সাঁজাপ্রাপ্ত আসামি হাসান জমাদ্দারকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে কাঁঠালিয়া থানা পুলিশ।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) তাকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কাঁঠালিয়া থানার ওসি মংচেনলা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঁঠালিয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মিরপুরের শাহআলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে থেকে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) এর সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত হাসান জমাদ্দার (২৮) উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের দত্তেরপশারিবুনিয়া গ্রামের মো.হারেচ জমাদ্দারের ছেলে।

    জানাগেছে, ২০১১ সালে পিরোজপুর কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাসান জমাদ্দার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় ২০২০ সালে আদালত তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। এরপর থেকে সে পলাতক ছিল।

    কাঁঠালিয়া থানার ওসি মংচেনলা জানান, গ্রেফতারকৃত হাসান জমাদ্দারকে কোর্টে চালান করা হয়েছে।

    আর আই খান

  • বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা!

    বিনিয়োগের নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা!

    বিনিয়োগ ডেস্ক:

    দেশজুড়ে বিনিয়োগের নামে চলছে একের পর এক ভয়াবহ প্রতারণা। অনলাইন কিংবা অফলাইনে, অ্যাপসভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে সব জায়গায়ই লোভনীয় মুনাফার প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কেউ ব্যাংকে, কেউ শেয়ারবাজারে হচ্ছেন নিঃস্ব। অথচ প্রতারক চক্রের বেশির ভাগই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।গত সরকারের পুরো শাসনামলে দুর্নীতিবাজ আর লুটপাটকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল দেশের আর্থিক খাত। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাধারণ মানুষের পুঁজি লুট করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার যোগসাজশে ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার ধ্বংস করে লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মহোৎসবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিঃস্ব হয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। আর তাদের সম্পদ লুট করে দেশ-বিদেশে প্রাচুর্যের পাহাড় গড়েছে আওয়ামী রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, আমলাসহ বিভিন্ন লুটেরা গোষ্ঠী।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বল্পপুঁজিতে অল্প সময়ে অধিক লাভের প্রলোভনই এ প্রতারণার প্রধান অস্ত্র। শুরুতে অল্প অঙ্কের বিনিয়োগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লভ্যাংশ দেওয়া হয়, এতে আস্থা পেয়ে বিনিয়োগকারীরা আরো বড় অঙ্কের অর্থ ঢালেন। শুধু নিজে নয়, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনকেও বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন তারা। কিন্তু একসময় প্রতারক চক্র গা-ঢাকা দেয়, আর বিনিয়োগকারীরা হয়ে যান সর্বস্বান্ত।

     কৌশল ব্যবহার হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি জগতে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, বাইন্যান্স কয়েনের নামে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা বাস্তব ঠিকানা ছাড়াই এসব প্ল্যাটফর্মে মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। ফলে বিপুল অর্থ হারানোর পর অভিযোগ জানানোর পথও থাকে না তাদের সামনে।

    ‘সুদবিহীন শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ’—স্লোগানে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে প্রতারকরা। পিরোজপুরের এহসান গ্রুপের প্রতারণা এর বড় উদাহরণ, যেখানে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ। দেশের নানা প্রান্তে ‘হালাল মার্চেন্টিং’, ‘শরিয়াহ কমপ্লায়েন্ট ফার্মিং’ ইত্যাদি নামে একই রকম প্রতারণা চলছে। শুরুতে কিছুদিন নিয়মিত লভ্যাংশ দিলেও একসময় বন্ধ হয়ে যায় সব, বিপুল অর্থ নিয়ে হারিয়ে যায় সংগঠকরা।

    প্রতারণার আরো পথ

    বাংলাদেশে আলোচিত প্রতারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ই-ভ্যালি, ডেসটিনি, ইউনিপে টু ইউ ও যুবক অন্যতম। এরা উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। ডেসটিনি বিভিন্ন প্রকল্পের নামে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা, ই-ভ্যালি গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ও পণ্য মিলিয়ে প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা আজও তাদের অর্থ ফেরত পাননি।

    ক্ষুদ্রঋণ ও সমবায়ের নামে গ্রামীণ প্রতারণা

    গ্রামের সহজ-সরল মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, প্রতারকদের সহজ লক্ষ্যবস্তু। মাসিক ভিত্তিতে অল্প অল্প চাঁদা সংগ্রহ করার মাধ্যমে প্রথমে তাদের সদস্য বানানো হয়। পরে বড় কোনো রিটার্ন, কিংবা বাড়ি-গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণের লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। এভাবে বিপুল অর্থ হাতে এলে হাওয়া হয়ে যায় প্রতারক চক্র। এমনি একটি সংস্থা বগুড়ার শেরপুরের ‘আশার আলো মালটিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইট’। গ্রামীণ দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। শুধু এক ‘আশার আলো’ নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণা চলছে বিরামহীনভাবে।

    হাসিনা আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় লুটপাট

    অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশে লুটপাট, দুর্নীতি একটি অতি সাধারণ ঘটনা হলেও শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যেভাবে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন। শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও লুটপাটের এমন মাত্রায় পৌঁছায়, যা দেশের আর্থিক খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়েছে, বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছেন না কোনো লভ্যাংশও।

    লুটপাটের শিকার হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে এখন একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    শেয়ারবাজারে কারসাজি, বীমা খাতে প্রতারণা

    লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক মদতে তালিকাভুক্ত করা, ভুয়া লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎÑসব মিলিয়ে আস্থার চরম সংকটে শেয়ারবাজার। শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নিলেও বহু কোম্পানি বছরের পর বছর কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না। অন্যদিকে সেকেন্ডারি মার্কেটে কারসাজির মাধ্যমে বিভিন্ন চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলে তাদের পুঁজি লুটে নিয়েছে। মশিউর সিকিউরিটিজ একটি প্রতিষ্ঠান একাই দেড় হাজার বিনিয়োগকারীর ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় হাজার বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    অন্যদিকে বীমা খাতে প্রতারণা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। ২০২৩ সালেই ভুয়া এজেন্ট, গোপন শর্ত, মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ৫০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে। বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দাবির অর্থ আটকে আছে বিভিন্ন কোম্পানিতে। এসব অর্থ বীমা কোম্পানিগুলো লুটপাট করে হাতিয়ে নিয়েছে। এসব অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    সর্বগ্রাসী দুর্নীতিই মূল কারণ

    বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, দুর্নীতি এখন সিস্টেমিক রূপ নিয়েছে। ব্যাংক, বীমা, শেয়ারবাজার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রশাসন, আদালত সর্বত্রই দুর্নীতি। সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণে নানাভাবে সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র। তাদের থামাতে না পারলে এসব প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

    সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ এখন আর আয়ের নিশ্চয়তা নয়—বরং এক অনিশ্চিত ঝুঁকি। যখন রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতারণাকে প্রশ্রয় দেয়, তখন সাধারণ মানুষের সঞ্চয় হয়ে ওঠে লুটেরাদের হাতিয়ার।

    দৈনিক আমার দেশ