ক্যাটাগরি রাজশাহী বিভাগ

  • ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    ডেস্ক নিউজ:

    আগামী দিনের মাঠের কর্মসূচি বেগবান এবং তৃণমূলকে আরো সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে একযোগে ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনটি। তবে সেসব কমিটি নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এগুলো নিয়ে সংগঠনের মধ্যে রীতিমতো তুলকালাম চলছে।

    কমিটি নিয়ে গুরুতর

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র ও বিবাহিতরা পদ পেয়েছেন। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকা এবং ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের নিপীড়ন, হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের বঞ্চনা সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের আন্তরিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। ঘটেছে সংঘর্ষ ও আহত হওয়ার ঘটনা। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এছাড়া পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে।

    পদবঞ্চিত নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি ঘোষণার ফলে যেখানে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক। পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় অভিমানে দল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন কেউ কেউ। শুধু তাই নয়, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ‘নিষ্ক্রিয়’ এবং সুবিধাবাদীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্কোন্দলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার অবস্থা।

    পদবঞ্চিত নেতাদের দাবি, আগামী দিনে বিরোধী দলের মাঠের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। সেসব কর্মসূচিতে এ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাত্রদলের শক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের কেন্দ্র ও তৃণমূলের একাধিক নেতা বলেছেন, আগামী দিনে ছাত্রদলের কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে এমন অনেককে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের রাজপথে কখনো দেখা যায়নি। আবার নিষিদ্ধ ও বৈরী ছাত্র সংগঠনের অনেককেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যাদের মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বিপরীতে রাজপথে ভূমিকা রাখা, জেল-জুলুমের শিকার অনেক নেতা পদবঞ্চিত হয়েছেন। কীসের ভিত্তিতে কমিটিতে এমন পদায়ন হয়েছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সেই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, বিএনপির চেয়ার‌ম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সোচ্চার একটি অংশ ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা—কমিটি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা না হলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    একযোগে ৪৫ ইউনিটের কমিটি

    ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি মর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। তার মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে ২২ ইউনিটে। সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদল, ভোলা, ঝালকাঠি, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী মহানগর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর, যশোর, বান্দরবান, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমসহ ২৩টি ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলো হলো— কুমিল্লা মহানগর, ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, জামালপুর, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা মহানগর, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ।

    ক্ষোভ ও বিতর্কের নেপথ্যে

    বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি ঘোষণার পরপরই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরে রাজপথে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক এলাকার নেতাদের অভিযোগ—অনেক ইউনিটে নিয়মিত ছাত্রদের বাদ দিয়ে অছাত্র, ব্যবসায়ী ও বিবাহিতদের পদ দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি কোথাও কোথাও ত্যাগীরা অবমূল্যায়িত হ

    য়েছেন। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকটি জেলা ও মহানগরে নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতারা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অনেক জায়গায় পদবঞ্চিত কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কুশপুতুল পুড়িয়েছেন। অনেকে ফেসবুক লাইভে অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের বর্ণনা দিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। কেউ কেউ অভিমানে ছাত্রদলের রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

    কমিটি নিয়ে তুলকালাম

    ছাত্রদল ঘোষিত জেলা ও মহানগর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র, ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

    ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ গত রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ—কমিটিতে অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং নব্যদেরও পদায়ন করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে বিগত দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    রাঙামাটিতে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা

    জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে নবনির্বাচিত কমিটি ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করেছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

    নিজ জেলায় অবাঞ্ছিত ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক

    সদ্য ঘোষিত নোয়াখালী জেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। সেই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনকে নোয়াখালীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নাছির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগতদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির ১৮ জনই বিবাহিত।

    মমেকের কমিটিতে ৮ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ২২ সদস্যের কমিটিতে আটজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পদবঞ্চিতরা। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে।

    কক্সবাজার ও বরিশালে সড়ক অবরোধ

    দীর্ঘ দুই বছর পর ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি দাবি করে রোববার রাতে শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একই অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকের এক পোস্টে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেলের অভিযোগ, তার সহযোদ্ধাদের দেখে দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটাকে অপরাজনীতি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর পূর্বের ৪০০ সদস্যের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। দিনাজপুরেও একতরফা কমিটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা। এছাড়া ভোলায় বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের পদ পাওয়া নিয়েও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

    সার্বিক বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির  বলেন, জেলা কমিটিগুলো গঠনের ক্ষেত্রে শীর্ষ দুজন ছাড়া বাকিদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। বিগত দিনের কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনায় নিয়েই কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তবে বাস্তবে সংগঠনের পদ এবং প্রত্যাশীদের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন সম্ভব হয়নি। এ কারণে অনেকের সংক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

    ময়মনসিংহ মেডিকেলের বিষয়ে নাছির বলেন, সেখানে ছাত্রলীগ গণহারে অনেককে পদ দিয়ে দিয়েছে। যে কারণে এমন অনেকের নাম এসেছে, যারা আসলে এ বিষয়ে জানেও না।

    আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নাকচ করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ রকম কোনো বিষয় নেই। আর এমন অভিযোগ কাম্য নয়।

    বি/ এ

  • রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    রাণীনগরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের, অভিযুক্ত গ্রেফতার

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।নওগাঁর রাণীনগরে চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ওই মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে (৪০) গ্রেফতার করেছে।

    গ্রেফতার আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

    মামলার বরাত দিয়ে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, গত ২ মে দুপুরে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে টিফিনের বিরতিতে বাড়িতে খাবার খেতে যায়। এরপর খাবার খেয়ে স্কুলে ফেরার পথে আব্দুর রাজ্জাক ওই শিশুকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

    পরে ওই শিশু বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনদের বিষয়টি জানায়। এছাড়া শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে শিশুর পরিবারের লোকজন থানায় এসে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার রাজ্জাককে শুক্রবার (৮ মে) আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিশুর শারীরিক পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ, আর
  • হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে রাজশাহী বিভাগে ২ জন ছাড়াও বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২৩৮ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ২০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    বি/ এ

  • পশ্চিমবঙ্গের পটপরিবর্তনে সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ

    পশ্চিমবঙ্গের পটপরিবর্তনে সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে ঘিরে উদ্ভূত উত্তেজনা বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের নিশ্চিত আভাসে রাজ্যজুড়ে সহিংসতা, সঙ্ঘাত এবং বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ‘অনুপ্রবেশ’ বা জোরপূর্বক ‘পুশইন’-এর ঝুঁকি মাথায় রেখে বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সাথে বাংলাদেশের দিনাজপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও রাজশাহী অঞ্চলের সরাসরি সীমান্ত সংযোগ থাকায় এসব এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। হিলি স্থলবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ শুধু ভারতের একটি রাজ্য নয়; বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি কৌশলগত সংযোগস্থল। ভাষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কারণে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হতে পারে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরো স্পর্শকাতর করে তুলছে।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যাদের একটি বড় অংশ মুসলিম। এ বিষয়টি নির্বাচনপূর্ব সময় থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্য- নির্বাচনের পর ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ খুঁজে বের করে বহিষ্কার করা হবে- সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।

    Politics

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব:) আশরাফুজ্জামান খান বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং তাদের অধিকাংশ মুসলিম হওয়ায় মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট তৈরি হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এসব মানুষকে ‘পুশইন’ করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হতে পারে, যা রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো আরেকটি জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এ অবস্থায় সীমান্তে বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিজিবি সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি যাতে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তে টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে। অতীতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কিছু মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার জন্ম দেয়। নির্বাচনের ফল বিজেপির পক্ষে গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

    ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত রুটগুলো

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট রয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের লালগোলা হয়ে জলপথে রাজশাহীর সাথে সংযোগ, জলঙ্গী থেকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সীমান্ত, মালদহের মহাদিপুর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর এবং উত্তর দিনাজপুরের রাধিকাপুর ও হিলি সীমান্ত উল্লেখযোগ্য। এসব রুটে বৈধ যাতায়াতের পাশাপাশি অনিয়মিত পারাপারের ঝুঁকিও বিদ্যমান, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়াতে পারে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ মুসলিম ভোটার’ বিষয়ে নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ লাখের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, বাদ পড়াদের একটি বড় অংশ মুসলিম, যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

    জনসংখ্যাগত প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যার হার গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি, যা রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এসব জেলায় ভোটার তালিকা পর্যালোচনার আওতায় থাকা কেসের সংখ্যাও বেশি।

    এ বিষয়ে মেজর জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন বলেন, প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য-নদী, জলাভূমি ও দুর্গম এলাকা-সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তোলে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে মানবিক ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা উপেক্ষা করা হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকলে সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    সার্বিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

  • রাত ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    রাত ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দেশের ১৬ জেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে কালবৈশাখী হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, রোববার রাত ৯টার মধ্যে মৌলভীবাজার, সিলেট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার কিছু স্থানে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি/বৃষ্টি হতে পারে। এসময় ঘরের বাইরে না যেতে বলা হয়েছে।

    এর আগে এক বার্তায় জানানো হয়, এই মুহূর্তে দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত সংঘটিত হচ্ছে। যা পরবর্তীতে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বি/ এ

  • নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নিউজ ডেস্ক:

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারপ্রধানের বাবা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানা।

    এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬), স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) ও শিশুকন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা সকালে তাদের ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পান।

    পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। কিভাবে ও কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

    এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওরা (শ্বশুর পরিবার) আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি ও তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার পাঁচ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীকে মেরে ফেলেছে।’

    নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
  • ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট‘ ঘোষণা

    ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট‘ ঘোষণা

    বিডিটাইমস ডেস্ক

    দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরিভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২১ মে তথা পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    হামের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে- বরগুনা জেলা পৌরসভা ও সদর, পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা, চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও রামু উপজেলা। গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা। এ ছাড়াও রয়েছে, নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা, নওগাঁর পোরশা। যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোর পৌরসভা ও সদর, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা, মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

  • সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা

     

    ডেক্স নিউজ : পাবনায় সাঁথিয়ায় ঋণের চাপে খয়বার আলী নামে এক ব্যক্তি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

    খয়বার আলী (৬০) উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ইকরজানা গ্রামের মৃত হারান উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি দিনমজুর ছিলেন।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খয়বার আলী বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় তিন-চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। একদিকে সংসারের খরচের চাপ অন্যদিকে ঋণের কিস্তির জন্য এনজিওর চাপ। তিনি কোনোভাবেই ঋণ দিতে পারছিলেন না।

    বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা ইকরজানা গ্রামের পাশে কানাবিলের মধ্যে পুকুরপাড়ে জামগাছে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁসি নেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশ ও তার পরিবারকে খবর দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

    গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ বলেন, খয়বার আলী কৃষি ও দিনমজুরের কাজ করতেন। তিনি অভাবী ও ঋণগ্রস্ত ছিলেন। হতাশা থেকেই হয়তো রাতের যেকোনো সময় আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ও থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    সাঁথিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অভাব ও ঋণগ্রস্তের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

    m
  • পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম

    ডেক্স নিউজ : দেশের ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাবনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম বিশু একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম বিশু এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ১৯৯১ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপির আমলে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্য এবং পাবনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। জহুরুল ইসলাম বিশু পাবনা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাবনা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদায় উন্নীত হয়।

    এদিকে জহুরুল ইসলাম বিশু জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ায় পাবনার বিভিন্ন মহল অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জহুরুল ইসলাম বিশুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশু ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলা পরিষদ এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন হবে।

    m

  • পাবনায় ২৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ, আটক ২

    ডেক্স নিউজ : পাবনার চাটমোহরে অভিযান চালিয়ে ১২টি ব্যারেলে থাকা ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করেছে থানা পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

    এ ঘটনায় কীটনাশক ও তেল ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন এবং নসিমন চালক শামসুলকে আটক করা হয়েছে।

    আটকদের বরাত দিয়ে চাটমোহর থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, তেলের মালিক উপজেলা সদরের জারদিস মোড় এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে লিটন ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের চিনাভাতকুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মুকুল হোসেন। তারা বাঘাবাড়ী এলাকা থেকে তেল ক্রয় করে এনেছিল বলে দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

    পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জব্দকৃত তেল মথুরাপুর এলাকায় নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেন।

    মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    m