ক্যাটাগরি নীলফামারী

Nilphamari district

  • নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়ে ৮০ শিশুসহ ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

    এ ছাড়া, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে আইসোলেশন বিভাগে রেখে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম বলেন, আমার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। বিকেলের দিকে সারা শরীরে র‍্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছে এটা হামের উপসর্গ।

    আরেক রোগীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারি সে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

    নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

    জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধে ফুটানো পানি পান, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

    এম কে

  • গাছে ধাক্কা লেগে উল্টে গেলো যাত্রীবাহী বাস

    গাছে ধাক্কা লেগে উল্টে গেলো যাত্রীবাহী বাস

    পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস সড়কের পাশে আমগাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেছে। এতে দুই যাত্রী আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণী ফুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নীলফামারীর ডোমার উপজেলা শহর থেকে দিনাজপুরগামী শাহী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি আমগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে দুই যাত্রী আহত হন। বাসটিতে ৩০-৩৫ যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলটি দূরবর্তী স্থানে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ছুটে যাই। আমরা যাওয়ার আগেই যাত্রীরা নিজ উদ্যোগে সেখান থেকে চলে যান।

    এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম মালিক বলেন, দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনাটি নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। যাত্রীদের মালামাল নিরাপদ রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।।

  • ভাবীকে হত্যা মামলায় দেবর আটক

    ভাবীকে হত্যা মামলায় দেবর আটক

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাবিকে হত্যার সাড়ে তিন মাস পর অভিযুক্ত দেবর কমল চন্দ্র অধিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

    বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে র‍্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের পশ্চিম দলিরাম শ্রী ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মনকষা গ্রামের বাসিন্দা রতনের সঙ্গে বিয়ে হয় কৃষ্ণা রানীর। বিয়ের পর থেকে তার স্বামী রতনের সঙ্গে দেবর কমলের দ্বন্দ্ব দেখা যায়। চলতি বছরের মার্চের দিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষ্ণার স্বামী রতন মারা যায়। এরপর তমার সঙ্গে দেবর কমলের প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।

    স্বামীর মৃত্যুর পর তার অংশের ৪০ শতক জমি কৃষ্ণা রানীর নামে রেজিস্ট্রি দলিল করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত তার আগেরদিন গত জুলাই সন্ধ্যায় কৃষ্ণার শরীরে বিষ জাতীয় দ্রব্য স্যালাইন/ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করে হত্যা করে। পরেরদিন নিহত কৃষ্ণার বাবা দীজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে সাতজনকে আসামি করা হয়।

    র‍্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার আসামি কমলকে গঙ্গাচড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • আসন কমলো সরকারি মেডিকেল কলেজে

    আসন কমলো সরকারি মেডিকেল কলেজে

    ডেস্ক নিউজ :

    দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ৩৫৫টি আসন কমানো হয়েছে। তবে তিনটি কলেজে ৭৫টি আসন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে চূড়ান্তভাবে আসন কমেছে ২৮০ এবং সরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১০০টি।

    সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (চিকিৎসা শিক্ষা-১) সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব দাশ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের পর মোট আসন সংখ্যা নির্ধারণ হয়েছে ৫ হাজার ১০০টি। আসন কমানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনটি কলেজে কিছুটা আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে, ফলে মোট আসন কমেছে ২৮০টি।

    পুনর্বিন্যাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, সিলেট এমএজি ওসমানী, বরিশাল শের-ই-বাংলা, ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে ২৫টি করে আসন কমানো হয়েছে। এছাড়া শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ২৩০ থেকে কমিয়ে ২২৫টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

    হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের আসন কমিয়ে ৫০ করা হয়েছে। নেত্রকোনা, নীলফামারী, নওগাঁ, মাগুরা ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের আসনও ২৫ করে কমিয়ে ৫০ করা হয়েছে। অন্যদিকে তিনটি কলেজে আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে ২৫ করে বাড়িয়ে ১২৫ এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ২৫ বাড়িয়ে ১০০ আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজের আসন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কুমিল্লা, খুলনা, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান, ফরিদপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে ২০০টি করে আসন রয়েছে। পাবনা, নোয়াখালী, কক্সবাজার, যশোর, সাতক্ষীরা, কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া, জামালপুর এবং মুগদা মেডিকেল কলেজে ১০০টি করে আসন। গোপালগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ১২৫টি করে এবং সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে ৭৫টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বি/এ

  • চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকার তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় শুটকি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের তিন শতাধিক চাতালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ দিয়ে শুটকি তৈরির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৭৫.৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শুটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমণ কাঁচা মাছ ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা হয়। তাড়াশের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩ কেজি কাঁচা মাছ থেকে প্রায় ১ কেজি শুটকি তৈরি হয়। উৎপাদিত শুটকি মাছ প্রকারভেদে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। সকাল বা বিকেলে স্থানীয় আড়ত থেকে এসব মাছ কিনে এনে চাতালে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। চলতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রতিটি চাতালে ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে নারীরাই বেশি দক্ষ বলে জানা গেছে।

    চলনবিলে শুটকি তৈরির কাজ শুরু হলেও বাজারজাত হতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। শুকনো মৌসুমে এসব শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, এখানকার উৎপাদিত শুটকির বেশিরভাগই সৈয়দপুর আড়তে যায়।

    তাড়াশ এলাকার শুটকি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, এবার শুটকি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলনবিলে যত্রতত্র পুকুর খনন এবং বন্যা কম হওয়ায় পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলেন, গত বছর ৩০ থেকে ৩২ মেট্রিক টন শুটকি তৈরি হলেও এবার ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়।

    চাতালের নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা চরম মজুরি বৈষম্যের শিকার। একজন নারী শ্রমিক দিনে ২৫০ টাকা পান, যেখানে পুরুষ শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা এবং তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু নারী শ্রমিকদের কোনো খাবার দেওয়া হয় না।

    উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসীর হাছেন আলী বলেন, বর্ষাকালে মাছের আমদানি বেশি হয়। এলাকার হাট-বাজার থেকে মাছ কিনে এনে তারা শুটকি তৈরি করেন। এখানকার শুটকি মাছ সৈয়দপুর, জয়পুরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মোকাম বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়।

    চাতালের নারী শ্রমিক হাফিজা ও শাহিনুর জানান, সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য তারা মাছ বাছাইয়ের কাজ করেন। দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান।

    তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকারম হোসেন বলেন, ইতিমধ্যেই শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

    উল্লাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, বর্তমানে এখানে ৩০–৩৫টি চাতালে শুটকি উৎপাদন চলছে। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদিত হয়। এখানকার শুটকির চাহিদা দেশের বিভিন্ন মোকাম বাজারে রয়েছে। উৎপাদিত শুটকি ঢাকা ও নীলফামারীতেও পাঠানো হয়।

    সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুটকি উৎপাদনের জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলছে। সিরাজগঞ্জের শুটকির চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। এখানকার শুটকি নীলফামারী আড়ত হয়ে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

  • ভুলভাবে রায় বাস্তবায়ন, খোলা আকাশের নিচে ৩ পরিবার

    ভুলভাবে রায় বাস্তবায়ন, খোলা আকাশের নিচে ৩ পরিবার

    নীলফামারীতে সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ৩ সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে ৩টি পরিবার।

    এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে ১১ অক্টোবর জেলা সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানী ইউনিয়নের বাবরীঝাড় এলাকায়।

    দেন আদালত। এরই প্রেক্ষিতে ডিক্রিদার পক্ষে সিভিল কোর্ট কমিশনার অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম শাহের উপস্থিতিতে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত নাজির মেহেদী পারভেজকে দখল প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।

    আদালতের নির্দেশে ওই উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নালিশী জমির পাশাপাশি নালিশীর বাইরের ভূমির গাছপালাসহ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

    বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাবুল হোসেন জানান, বাদী পক্ষ লুৎফর রহমান গং নীলফামারী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অন্য ১৬/১৫ নম্বর মামলা করেন। উক্ত মামলায় নালিশী জমি ছিল চার শতাংশ এবং বাদী পক্ষের মোকদ্দমায় বিবাদীর তিনটি টিনের চালাঘর উচ্ছেদের নিমিত্তেই এই মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদীপক্ষকে চার শতাংশের মধ্যে টিনের চালাঘর অপসারণের রায় ডিক্রি প্রদান করেন। এতে বিবাদীপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে জেলা জজ আদালতে অন্য আপীল ৯৫/২৪ দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-১ এ বিচারাধীন রয়েছে।

    বাদীপক্ষ অন্য ডিং ১৬/১৫ নম্বর মামলার রায় ডিক্রি প্রাপ্ত হয়ে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলা করেন। যা বিবাদীপক্ষ অবগত ছিল না এবং অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলা পরিচালনা সংক্রান্তে বিবাদী পক্ষ আদালত থেকে কোনো প্রকার নোটিশ প্রাপ্ত হননি। বিবাদী পক্ষ অন্য ডিং-০৫/২৪ মামলার দখলি পরোয়ানার বিষয়বস্তু জানতে পেরে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের নিমিত্তে অন্য ৯৫/২৪ নম্বর মামলায় দরখাস্ত আনয়ন করলে, আদালত ২৩ সেপ্টেম্বর/২৫ শুনানির জন্য ধার্য করেন। কিন্তু বাদীপক্ষ স্থগিতের দরখাস্তের বিষয় জানতে পেরে নালিশী ভূমি দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ সেপ্টম্বর/২৫ আদালত হতে দেনদার পক্ষের নালিশীয় চার শতাংশ জমির উপর চারটি টিনের চালাঘর উচ্ছেদের নির্দেশ থাকলেও, নালিশীয় চার শতাংশের অভ্যন্তরে ওই ৩টি টিনের চালাঘরসহ আরও বেনালিশীয় আটটি টিনের চালাঘর ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং নালিশের বাইরের ভূমির গাছপালাও কেটে ফেলা হয়। এতে বিবাদীপক্ষের প্রায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। আদালতের নির্দেশে ডিক্রিদার পক্ষে চার শতাংশ জমির উপর স্থাপনা উচ্ছেদের সময় জমি পরিমাপ করে বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু বলাই বাহুল্য, যারা অপসারণের দায়িত্বে ছিল আদালতের আদেশ আইনানুগভাবে পালন না করায় চরমভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিবাদীপক্ষ। তারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, আদালতের আদেশ ভুলভাবে বাস্তবায়নে সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করলেও, আদালতের প্রতি ন্যায় বিচারে যথেষ্ট আশাবাদী তারা।

  • আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    আত্মগোপনে চেয়ারম্যান অদৃশ্যভাবে চলছে ইউপি, জনদুর্ভোগ চরমে

    • ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে থেকে চালাচ্ছেন পরিষদের কার্যক্রম। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিক সেবাসহ পরিষদের কাগজপত্র গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে কোনো রকমে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। অন্যদিকে কাগজে-কলমে গ্রাম আদালত পরিচালনা হলেও বাস্তবে পরিষদ থাকে বন্ধ। জনগণের সেবায় পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি থাকা বাধ্যতামূলক হলেও দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থেকে অদৃশ্যভাবে চালানো হচ্ছে পরিষদ। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চিত্রটি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের।গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, ইউপি সদস্য, গ্রাম আদালত পরিচালনার রুম তালাবদ্ধ। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানকালে পরিষদের রুমগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। এসময় শুধু অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের রুম খোলা পাওয়া যায়।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান যাদু মিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম অদৃশ্য স্থান থেকে পরিচালনা করছেন। তিনি এক বছর ধরে পরিষদে আসেন না। তবে পরিষদের কাগজপত্র একজন গ্রাম পুলিশকে দিয়ে তার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়।গ্রাম আদালত পরিচালনা নেই বললে চলে। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ নাগরিক সেবার কাগজপত্রে জনগণকে বুড়িরহাটে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে পরিষদের এলেও পাঁচ থেকে দশ মিনিটের বেশি থাকেন না বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা, আইনশৃঙ্খলা সভাসহ অন্যান্য সভায় রয়েছেন প্রায় ৮ মাস ধরে অনুপস্থিত। তবু তিনি রয়েছেন বহালতবিয়তে।ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকাবাসী একরামুল জানান, চেয়ারম্যান অনেক দিন ধরে অফিসে আসে না। ফলে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। জনগণ যেখান থেকে সেবা পাওয়ার কথা, সেখান থেকে পাচ্ছে ভোগান্তি। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে যখন দেখছেন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, তখন তাদের বুড়িরহাটে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।গ্রাম পুলিশ আব্দুল ওহাবকে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, আমি কাগজপত্র চেয়ারম্যান সাহেবে যেখানে থাকে, সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি। আমাকে সচিব কাগজ দেন, আমি স্বাক্ষর নিয়ে আসি।হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোর্শেদুল হক বলেন, আমরা জনগণকে সেবা দিচ্ছি। প্রথমে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি তা স্বীকার করেন। অফিসের সব রুমে তালাবদ্ধ, কেউ কি অফিসে আসেন না, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সচিব ম্যাডাম কিছুক্ষণ আগে চলে গেছেন। গ্রাম আদালতের সব মামলা মীমাংসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই আজ গ্রাম আদালত বসেনি। নাগরিক সনদে স্বাক্ষর নেয়া রয়েছে, জনগণ এলে দেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চেয়ারম্যান না আসায় ট্রেড লাইসেন্সসহ নাগরিক সেবায় একটু হলেও ভোগান্তি হচ্ছে।ইউপি সচিব আনোয়ারা বেগম জানান, চেয়ারম্যান মাঝে মধ্যে আসেন। জনগণের অতি প্রয়োজন হলে বুড়িরহাটে তার নিজস্ব অফিসে পাঠানো হয়। নাগরিক সেবা দেয়া হচ্ছে। আমি অফিস থেকে কিছুক্ষণ আগে বাড়ি এসেছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা জানান, নাগরিক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, ভোগান্তি হচ্ছে এ রকম অভিযোগ আমাকে এখন পর্যন্ত কেউ দেয়নি। উপজেলা পরিষদের সভায় তিনি প্রতিনিধি পাঠান। ওই চেয়ারম্যানের সাথে এখন পর্যন্ত আমার দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। অফিস সময়ে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কেন অফিস বন্ধ থাকে, কেন তিনি উপস্থিত থাকছেন না, এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।