ক্যাটাগরি ঠাকুরগাঁও

Thakurgaon district

  • জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    বিডিডেস্ক নিউজ,

    তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসাথে তার পরিচালিত একটি বেসরকারি চক্ষু ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার হাসদহ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল।

    অভিযানে ‘বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাফহিমুল হোসাইন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা করার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এতে না বুঝে প্রতারিত হতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

    অভিযানের সময় তাফহিমুল হোসাইনের কাছে বৈধ সনদপত্র, প্রশিক্ষণের প্রমাণ কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অন্য এক নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করছিলেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

    এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত তাফহিমুল হোসাইন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগ ছিল। অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এতোদিন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

    অভিযানে সহযোগিতা করেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফাহমিদা আক্তার রুনা ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    এ, আর

  • চার ইটভাটায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরও ২টি

    চার ইটভাটায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল আরও ২টি

    ডেস্ক নিউজঃ

    পরিবেশ রক্ষা ও আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পরিচালিত এক অভিযানে একাধিক অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং দুটি ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম (সিনিয়র সহকারী সচিব)। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান।

    জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছিল। এতে আশপাশের কৃষিজমি, গাছপালা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর এ অভিযান পরিচালনা করে।

    সহকারী পরিচালক মো. তামিম হাসান জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী এম বি বি ব্রিকস এবং মেসার্স ডি স্টার ব্রিকস নামের দুটি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এছাড়া এম বি বি ব্রিকস, মেসার্স ডি স্টার ব্রিকস, এস বি এস ব্রিকস এবং মেসার্স এম বি এস ব্রিকস এই চারটি ইটভাটার প্রতিটির বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য ও তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, এসব ইটভাটা অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে ব্যবহার করছিল, যা কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একই সঙ্গে ইট পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুদূষণ বাড়িয়ে তুলছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য ঝুকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    অভিযান চলাকালে দুটি ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের শিকার হওয়া এলাকাবাসী এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান।

    পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশের ক্ষতি করে এমন যেকোনো অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় পুরো অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

    এম কে

  • ঠাকুরগাঁওয়ে চড়ক মেলায় বাঁশ-কাগজের শিল্পে প্রাণ ফিরল গ্রামীণ ঐতিহ্যে

    ঠাকুরগাঁওয়ে চড়ক মেলায় বাঁশ-কাগজের শিল্পে প্রাণ ফিরল গ্রামীণ ঐতিহ্যে

    ডেস্ক নিউজঃ

    ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফারাবাড়ি গ্রামের শিব মন্দির প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী চড়ক মেলা ও হস্তকারুশিল্প প্রদর্শনী। বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসব গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির প্রাণ ফিরে এনে পুরো এলাকাকে রূপ দেয় এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হয়ে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ফারাবাড়ি এলাকা। মেলার মূল আকর্ষণ ছিল স্থানীয় গ্রামীণ শিল্পীদের হাতে তৈরি কাগজ ও বাশের নান্দনিক শিল্পকর্ম। হাতি, হেলিকপ্টার, নৌকা, পালকি, গরু, জিরাফ, মাছসহ বিভিন্ন জীবজন্তু ও যানবাহনের প্রতিরূপে সাজানো এসব শিল্পকর্ম দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। শুধু প্রদর্শনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এসব শিল্পকর্ম অনেক ক্ষেত্রে হাতে চালিয়ে প্রদর্শন করায় দর্শনার্থীরা পান এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা, যা মেলার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

    শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবে। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসে অংশ নেন এই চড়ক মেলায়।

    দর্শনার্থী মানষ চন্দ্র বলেন, এই মেলায় এসে আমি সত্যিই অভিভূত ও আনন্দিত। এখানে এত মানুষের সমাগম আর কাগজ-বাঁশ দিয়ে তৈরি অসাধারণ সব হস্তশিল্প দেখে মন ভরে গেছে। গ্রামবাংলার এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন যে এখনো এত সুন্দরভাবে টিকে আছে, তা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। প্রতিটি শিল্পকর্মে রয়েছে শিল্পীদের পরিশ্রম, সৃজনশীলতা আর ভালোবাসার ছাপ। পরিবার-পরিজনসহ এমন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে আমি খুবই খুশি।

    প্রিয়াঙ্কা রায় বলেন, এটি সত্যিই একটি ব্যতিক্রমধর্মী মেলা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার এমন উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। কাগজ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি নানান ধরনের শিল্পকর্ম হাতি, নৌকা, পালকি, জীবজন্তু ও যানবাহনের প্রতিরূপ সবকিছুই অত্যন্ত নিখুঁত ও সৃজনশীলভাবে তৈরি করা হয়েছে। এসব হাতে তৈরি শিল্পকর্ম দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। পুরো মেলা জুড়ে যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    জেলা বিএনপির সদস্য মীর জাহিদ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই এই চড়ক পূজার মেলা দেখে আসছি। এটি আমাদের এলাকার একটি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে শুধু এই মেলার টানেই। বিশেষ করে কাগজ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি নানান ধরনের প্রতিকৃতি হাতি, নৌকা, পালকি, গরু, বিভিন্ন জীবজন্তু ও যানবাহনের রূপ দেখতে পুরো এলাকা তখন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এমন উৎসবমুখর পরিবেশ গ্রামীণ জীবনে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য সন্তোষ রায় বালু বলেন, এটি শুধু একটি মেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এখানে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবধারা এবং লোকজ শিল্প একসঙ্গে মিশে গেছে। কাগজ ও বাশ দিয়ে তৈরি নানা ধরনের শিল্পকর্ম এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

    মেলা কমিটির সভাপতি বাবু চন্দ্র বর্মণ বলেন, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতি বছর এই চড়ক পূজা ও হস্তকারুশিল্প মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজন, যার মাধ্যমে গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়। এবারের আয়োজন ছিল ১০৫তম আসর।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা এবং তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য একটি উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সবাই মিলেমিশে সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারে।

    এম কে

  • দিনাজপুরে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

    দিনাজপুরে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।

    ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হওয়ায় অন্যান্য ট্রেনগুলো স্টেশনের ২ নম্বর লাইন দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।সেতাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেতাবগঞ্জ স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ‘গ’ নম্বর বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাত্রীদের সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেই বগিটি রেখে অন্যান্য বগি নিয়ে ট্রেনটি সান্তার অভিমুখে যাত্রা করবে।

    দিনাজপুর স্টেশন সুপার এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নাম্বার লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। ২ নাম্বার লাইন দিয়ে অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক। সকালে পঞ্চগড় থেকে একতা এক্সপ্রেস সঠিক সময় ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ ও দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে গেছে।

    এম কে

  • ভালোবাসায় বিদায়

    ভালোবাসায় বিদায়

    ডেস্ক নিউজঃ

    ভালোবাসা দিবসে প্রিয় শিক্ষককে জাঁকজমক আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা মাইক্রোবাসে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। পেছনে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর—যা চোখে পড়ার মতো দৃশ্য। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

    সম্প্রতি অবসর নেওয়া বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীকে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানান প্রায় ৫০০ প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

    দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন। বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কাদিহাট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান আলী মানিক, বালিয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

    বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইউসুফ আলী।

    তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এত ভালোবাসায় বিদায় পাব, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

    এম কে

  • আসামি ধরতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে এএসআইয়ের মৃত্যু

    আসামি ধরতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে এএসআইয়ের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজঃ

    ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শহিদুল ইসলাম শহীদ (৪০) নামে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মারা গেছেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শহিদুল ইসলাম পীরগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন।

    থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার গভীর রাতে পীরগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে উপজেলার সেনুয়া গ্রামে অভিযানে যান। সেখানে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় এএসআই শহিদুল ইসলাম হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আসামি ধরার পর গাড়িতে ওঠার সময় এএসআই শহিদুল অসুস্থবোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানজিনা এএসআই শহিদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এম কে

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার  রাতে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি করেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।

    আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মো. ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।

    এর আগে শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে যায়।

    হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকা লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এ সময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে আবারো সেগুলো দিয়ে আসা হয়েছে।

    মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিছন্নতাকর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় যাচ্ছি।

    এ বিষয়ে হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এম কে

  • ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। 

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার  রাতে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই গ্রামে যুবদলের কয়েকজন নেতা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় নেকমরদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হলে দুই দলের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি নেতা মো. আরিফুল, মো. ফারুক, মো. রুবেল এবং জামায়াত নেতা মো. আক্তার হোসেন আহত হন।

    আহতদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় আহতদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এজাহার দেওয়া হয়েছে অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি এজাহার পাওয়া গেছে, সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

    এম কে

  • মির্জা ফখরুলের অনুরোধে টার্মিনালে ফিরল দূরপাল্লার বাস

    মির্জা ফখরুলের অনুরোধে টার্মিনালে ফিরল দূরপাল্লার বাস

    ডেস্ক নিউজঃ

    দীর্ঘদিনের যানজট, সড়ক দখল ও অনিয়মিত পরিবহন স্টপেজের ভোগান্তি দূর করতে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব কোচের জন্য চালুর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই যুগ আগে বিএনপির তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া ভবনটির উদ্বোধন করলেও বাস্তবে এটি কখনই ব্যবহার হয়নি। টার্মিনালটি নিয়মিত ব্যবহৃত হলে শহরের যানজট কমবে এবং ঠাকুরগাঁওবাসী প্রকৃত সুফল পাবে। শহরের ভেতরে বাস-ট্রাক প্রবেশের কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তাই মালিক ও শ্রমিক ভাইদের অনুরোধ করব গাড়িগুলো টার্মিনালে রাখুন, শহর আরও সুশৃঙ্খল হবে।

    তবে উদ্বোধনের পর কয়েক দিন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মাঝে তেমন সাড়া দেখা যায়নি। আগের মতোই শহরের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে চলতে থাকে যাত্রী ওঠানামা। ফলে যানজট আবারও তীব্র আকার ধারণ করে।


    প্রশাসনের তৎপরতায় শহরের প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা হয় এবং দূরপাল্লার সব বাসকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী ওঠানামার জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবহন মালিক শ্রমিকরাও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং টার্মিনালে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেন।

    একাধিক পথচারী বলেন, আগে প্রধান সড়কে হাটারই উপায় ছিল না। যানজট, হর্ন, ধুলো আর ভিড়ে প্রতিদিনই কষ্ট পোহাতে হতো। বাসগুলো যেখানে-সেখানে দাড়ালে আমরা ভুগতাম সবচেয়ে বেশি। এখন বাসগুলো টার্মিনালে চলে যাওয়ায় অনেক স্বস্তি লাগছে। রাস্তাঘাট আগের তুলনায় অনেক খালি, চলাচলও সহজ হয়েছে। আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ তার উদ্যোগে বিষয়টি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

    ঠাকুরগাঁও জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে টার্মিনাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমেছে এবং সবার জন্যই সুবিধা তৈরি হয়েছে।

    ঠাকুরগাঁও জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী বলেন, শহরের যানজট কমানো এবং পথচারী, যাত্রী ও শ্রমিকদের সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ব্যবহারের উদ্যোগ আমরা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি। প্রশাসন ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা নিশ্চিত করব যে টার্মিনাল ব্যবহারে যাত্রী সেবা সুবিধাজনক হবে এবং শহরের রাস্তাগুলো শৃঙ্খলাপূর্ণ থাকবে। সবাই মিলে কাজ করলে ঠাকুরগাঁওবাসীর স্বস্তি এবং সুবিধা দুটোই নিশ্চিত করা সম্ভব।

    এম কে

  • রমেশ সেনের বাড়িতে জামায়াত নেতা দেলোয়ার, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অঞ্জলি

    রমেশ সেনের বাড়িতে জামায়াত নেতা দেলোয়ার, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অঞ্জলি

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তার রুহিয়ার গ্রামের বাড়িতে শেষবারের মতো দেখতে যান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন।

    সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রমেশ চন্দ্র সেনের সহধর্মিণী অঞ্জলি রানী সেনকে সান্ত্বনা দিতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত অঞ্জলি রানী সেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তুমি এসেছ বাবা। আমার আর কেউ নাই। নির্বাচনটা পর্যন্ত (তিনি) থাকলেন না।

    এ সময় তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার স্মৃতিচারণ করেন এবং দেলাওয়ার হোসেনকে নিজের সন্তানের মতো সম্বোধন করেন। জামায়াত প্রার্থীও পরম মমতায় তাকে পানি খাইয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

    উপস্থিত সাংবাদিকদের দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজ শোকাহত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোকে আমি নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছি। আমি তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

    কারা সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে অবস্থানকালে রমেশ চন্দ্র সেন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকালের নাস্তা সেরে গোসলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচবারের নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৬ আগস্ট তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে হত্যাসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

    তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে।