ক্যাটাগরি মৌলভীবাজার

Moulvibazar district

  • পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    সোমবার দুপুরে রোদ উঠতেই হাওরপারের গ্রামগুলো কিছুটা চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রামীণ পাকা–কাঁচা সড়ক, উঁচু ফাঁকা জায়গা যেখানে সুযোগ মিলেছে, সেখানেই রোদে ধান শুকানোর ধুম পড়ে যায়। কেউ সড়কের ওপর, কেউ পলিথিন বা চটের চাটাইয়ে, আবার কেউ খলায় ধান মেলে দিয়েছেন। তবে ধান শুকাতে দিলেও কারও মনে স্বস্তি নেই।

    কৃষকেরা জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাঁদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠেছে। এতে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, বছরের খোরাকিও জুটবে না।

    মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। গতকাল বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।

    একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, ‘খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই।’ তাঁর সঙ্গে থাকা তপন দাস বলেন, ‘খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।’

    স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়। অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, ‘তার চেয়ে রুজি করতাম, ভালা থাকতাম। যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। অউদিনই এক রাইতে খেতর মধ্যে কোমরসমান পানি।’ এক নারী বলেন, ‘এলাকায় সুদ ছাড়া কেউ টাকা ধার দেয় না।’

    রনি চক্রবর্তী বলেন, ‘চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।’ সুমন দাস আধা পচা ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে স্তূপ করছিলেন, আর গান গাইছিলেন। তিনি বলেন, ‘আনন্দে নায় ভাই, মনের জ্বালায় গান গাইরাম। এক লাখ টাকা ঋণ আছে। ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।’

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন আজ মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।

    এ, আর

  • বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    গ্রীষ্মকাল ধান কাটার মৌসুম৷ এ সময়ে অতি বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পানি বিস্তীর্ণ এলাকাকে বন্যার ঝুঁকিতে ফেলেছে৷

    অবিরাম বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং বজ্রসহ ঝড় ও বৃষ্টি সত্ত্বেও কৃষকরা তাই ফসল রক্ষার জন্য ছুটে যাচ্ছেন ক্ষেতে৷ হাঁটু-সমান পানিতে হেঁটে আংশিকভাবে ডুবে যাওয়া ফসল কাটছেন তারা৷

    সুনামগঞ্জের এক কৃষক মোহাম্মদ আল আমিন ফসল রক্ষার এ লড়াইয়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘এখনও যতটুকু দাঁড়িয়ে আছে, সেইটুকুই বাঁচানোর চেষ্টা করছি আমরা৷”

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান৷ হাওর অববাহিকায় বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে৷ বন্যা পরিস্থিতি হাওরসহ আরো কিছু এলাকার গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং জাতীয় খাদ্য সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে৷

    কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চল থেকে আসা পানির প্রবাহ বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে আকস্মিকভাবে বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷

    স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের অনেক এলাকার ফসলের ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে৷ বেশ কিছু জায়গায় পানির স্রোতে বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে বা বাঁধ উপচে বন্যার পানি ফসলের জমিতে ঢুকে পড়েছে৷ শাকসবজিসহ অনেক ধরনের ফসলের ক্ষতি করেছে ভারী বৃষ্টি৷ এতে খাদ্যের সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা বেড়েছে৷

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন আরো বৃষ্টি হতে পারে৷ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উজানের অতিরিক্ত পানির প্রবাহ হাওর অববাহিকা জুড়ে আরো ব্যাপক বন্যার শঙ্কা বাড়াতে পারে৷ কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, এই পর্যায়ে অল্প সময়ের জন্য জলমগ্ন থাকলেও ধানের ফলন অনেক কমতে পারে৷

    ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে৷ রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে৷

    বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ প্রায় নিয়মিতই বন্যার ঝুঁকিতে থাকে৷ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইনস্টিটিউটের ২০১৫ সালের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ দেশে বছরে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ নদীর পানি বাড়ায় বন্যার ঝুঁকিতে পড়ে৷

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশটিতে উৎপাদিত চালের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায়৷ বন্যা বা খরার কারণে ঘাটতি দেখা দিলে সেই ঘাটতি ধান আমদানিও করে বাংলাদেশ৷

     

  • কুলাউড়ায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

    কুলাউড়ায় ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ.

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর নামক স্থানে গোগালীছড়া ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর নামক স্থানে গোগালীছড়া ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ফসল রক্ষা বাঁধে এ ভাঙন দেখা দেয়।

    এ সময় পাহাড়ী ঢলে গোগালীছড়ার বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজ তলাসহ শতাধিক ফিশারি তলিয়ে যায়

    সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুরসহ ১৫ গ্রামের বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।

    ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ জানান, বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রামের ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিউদ্দিন জানান, কুলাউড়া ও জয়চণ্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছে।

    এ,আর

  • রাত ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    রাত ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দেশের ১৬ জেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে কালবৈশাখী হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, রোববার রাত ৯টার মধ্যে মৌলভীবাজার, সিলেট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার কিছু স্থানে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি/বৃষ্টি হতে পারে। এসময় ঘরের বাইরে না যেতে বলা হয়েছে।

    এর আগে এক বার্তায় জানানো হয়, এই মুহূর্তে দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত সংঘটিত হচ্ছে। যা পরবর্তীতে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বি/ এ

  • সিলেটে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

    সিলেটে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (০৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ইলাশপুরে সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান।

    নিহত দুজনই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে।

    নিহতরা হলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে সুফিয়ান ইসলাম নাহিদ বয়স (২০), মোহাম্মদপুর গ্রামের শওকত আলী ছেলে আহমেদ মোহাম্মদ সায়েম আহমেদ (১৪)।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে সিলেট থেকে দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে ফেঞ্চুগঞ্জ যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস তাদের ধাক্কা দিয়ে দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়। পরে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধার করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

    রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

    সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

    আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

    কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

    কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

    গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

  • স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    এইচএসসি বিভিন্ন ব্যাচের সহপাঠীরা মঞ্চে উঠে কলেজজীবনের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন। সামনে চেয়ারে বসে অনেকে তন্ময় হয়ে তা শুনেছিলেন। কেউ কেউ সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে, গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন, খুনসুটি করছিলেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছিলেন।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুলাউড়া সরকারি কলেজে গতকাল শনিবার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দিনভর এভাবেই সময় কাটান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কুলাউড়া সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ১৯৬৯ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।

    গতকাল রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য দেন পুনর্মিলনী প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্যপ্রদীপ ভট্টাচার্য। শুরুতে প্রতিষ্ঠানের প্রয়াত সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা শুরু হয়। দুপুরে প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুফিয়ান আহমদ।কলেজের ১৯৭২ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন খন্দকার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, কুলাউড়া কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আশপাশের বড়লেখা, জুড়ী ও রাজনগর উপজেলায় কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা কুলাউড়া কলেজেই পড়তেন। তখন ভালো যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। বাস-ট্রেনে করে, কেউ হেঁটে কলেজে যাতায়াত করতেন। সে সময় কলেজে ৭০০ থেকে ৮০০ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ঠিকানা ছিল এ কলেজই। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত। এখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। রাজনীতিতেও অসহিষ্ণু পরিবেশ। আগে এমনটা ছিল না।’

    ১৯৮৭ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন রাহাত আরা বেগম। তিনি বর্তমানে কুলাউড়া পৌর শহরে অবস্থিত লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সহপাঠী ও চাচাতো বোন রুবিনা বেগমকে নিয়ে মঞ্চের সামনের চেয়ারে পাশাপাশি বসা ছিলেন। রাহাত আরা বললেন, ‘আমাদের ব্যাচের কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। মেয়েবন্ধুদের কেউ আসেনি। তাদের কেউ বিদেশে, কেউ কেউ ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত। তবে তাদের মিস করছি।’

    ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর কলেজে যাননি বেসরকারি একটি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান ইকবাল নেওয়াজের। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর পর এলাম। দুই সহপাঠীকে পেয়ে আড্ডা দিলাম, একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম। অনেক স্মৃতি মনে হলো। মনে হচ্ছে, পুরোনো দিনে ফিরে গেছি।’

    অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘এ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন সৃষ্টি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।’

  • দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    পৌষসংক্রান্তি এলেই মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রাণ ফিরে পায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটির বাস্তব রূপ যেন এই আয়োজন। শুধু মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ মেলা আজ আর কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলার নাম।

    পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

    কুশিয়ারা নদীপাড়ের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মেলাটির আয়োজন করা হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে। আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।স্থানীয় মানুষ, মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে মাছ নিয়ে বিক্রেতারা মেলায় আসেন। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তগুলোয় দরদাম হাঁকাহাঁকিতে জমে ওঠে কেনাবেচা। এখান থেকে মাছ ছড়িয়ে পড়ে জেলার ছোট-বড় হাটে।

    সোমবার রাতে দেখা গেছে, ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। পছন্দ হলে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন।

    মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দুই মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন তিন লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। সেলফি তুলছে বেশি। প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

  • বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া আহত পোষা হাতিটিকে বাঁচানো গেল না। চিকিৎসাচেষ্টার মধ্যে আজ সোমবার দুপুরে হাতিটির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পোষা হাতিটির নাম সুন্দরমালা। বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম হাতিটির মালিক।

    ঢাকার প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠান পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক আজ বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সকাল থেকেই হাতিটি নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে ছিল। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এটি মারা যায়। এ সময় হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবদুস সবুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্ধার করার পর আহত হাতিটি ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে ছিল জানিয়ে রাকিবুল হক বলেন, প্রাণীটির দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। পেট ফোলা ছিল এবং পেছনের ডান পা নাড়াতে পারছিল না। পিঠে মেরুদণ্ডের মাঝবরাবর ক্ষত দেখা গেছে। এসব কারণে রক্তচাপ বেড়ে হাতিটির হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠানে হাতিটিকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে ইমন ও রাকিব নামের দুজন মাহুত ছিলেন। ফেরার পথে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি রেললাইন-সংলগ্ন একটি ডোবায় পড়ে যায়।

    এরপর গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় পেলোডার যন্ত্রের সঙ্গে রশি বেঁধে হাতিটিকে ডোবা থেকে টেনে ডাঙায় তোলা হয়। দীর্ঘ সময় ডোবায় পড়ে থাকায় হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ জন্য এটিকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এর আগে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করা হয়েছিল।

  • মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে আসছেন। এদিন তিনি শেরপুরের আইনপুর মাঠে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ জনসভা হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান এই অঞ্চলে আসছেন। এই সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কর্মযজ্ঞ চলছে। বিএনপি আশা করছে, এ জনসভায় সারা জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে।

    জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন। এ জন্য বুধবার রাতে আকাশপথে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন।

    তারেক রহমান পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর এদিন বেলা ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি।

    সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান ঢাকা-সিলেট সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এ সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় আইনপুর খেলার মাঠে দিনের দ্বিতীয় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। বেলা একটা থেকে দুইটার মধ্যে জনসভায় তাঁর উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। পরে

    তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, জেলার সাতটি উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। জনসভা সফল করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। মৌলভীবাজার জেলা ছাড়াও শেরপুরের কাছাকাছি হওয়ায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশের মানুষ এ জনসভায় অংশ নেবেন।

    জেলা বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, সমাবেশের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে মাঠের কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রায় দিনই কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা মাঠ ঘুরে দেখছেন

    জেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর মৌলভীবাজারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এ জনসভা হচ্ছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৌলভীবাজারের এই শেরপুর এলাকা সফর করেছেন।

    মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম আজ সোমবার  বলেন, ‘শেরপুরের আইনপুর মাঠে জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে। এই জনসভায় আমরা লক্ষাধিক লোকসমাবেশ আশা করছি। এটা একটা বড় প্রোগ্রাম। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন মাঠে কাজ চলছে। আমরা রেগুলার মাঠে যাচ্ছি, মিটিং করছি। জেলা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন।’