Blog

  • আইআরআইয়ের প্রতিবেদন; জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ ৮ সুপারিশ

    আইআরআইয়ের প্রতিবেদন; জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ ৮ সুপারিশ

    ডেস্ক নিউজ:

    ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক। নির্বাচনের আগে আরো সহিংসতার শঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)।

    গত ২০-২৪ অক্টোবর সংস্থাটি বাংলাদেশের নির্বাচনি পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন করতে মিশন পরিচালনা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

    নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আট দফা সুপারিশ প্রদান করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইআরআই ।

    তাদের মিশনটি নির্বাচন কমিশন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য নির্বাচনি স্টেকহোল্ডারদের জন্য এসব সুপারিশ দিয়েছে।

    এই সুপারিশগুলো যদি নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়কাল এবং পরবর্তীতে কার্যকর করা হয়, তবে তা বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করেছে তারা।

    সুপারিশগুলো হলো- জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত করা, নাগরিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার সমর্থন করা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা, প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বয় বৃদ্ধি, নাগরিক নির্বাচনি পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক তহবিলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের সময় স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পরিবেশ প্রচার করা।
    জুলাই চার্টারের বাস্তবায়ন চূড়ান্ত করা: রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই জাতীয় চার্টার চূড়ান্তকরণ এবং তা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছে সময়সীমা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট ধারার বিষয়ে বাকি থাকা মতবিরোধ সমাধান এবং গণপরিষদের সামনে তাদের উদ্দেশ্য ঘোষণা করা যে তারা গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলোকে সমর্থন করবে। অস্থায়ী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে জুলাই চার্টারের গণভোট পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট এবং বৈধ কাঠামো স্থাপন করা উচিত। গণভোটের ক্রম এবং সময় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আইনগত ব্যাখ্যা এবং বিস্তৃত রাজনৈতিক সম্মেলনের ভিত্তিতে গ্রহণ করা উচিত। গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া এবং প্রভাব সম্পর্কে জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করা অপরিহার্য, যা সংস্কার এজেন্ডা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা নিশ্চিত করবে।

    নাগরিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার সমর্থন করা: জুলাই চার্টারের বিষয়বস্তু বোঝার জন্য দৃঢ় নাগরিক শিক্ষার উদ্যোগ অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, মিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় স্তরে ভোটারদের শিক্ষিত করার প্রচেষ্টা অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর মধ্যে থাকবে সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের প্রভাবের ব্যাখ্যা। নাগরিক শিক্ষার প্রচেষ্টা সর্বজনীন, সহজলভ্য এবং প্রথমবার ভোটার, যুবক, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি হতে হবে।

    নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা: রাজনৈতিক জীবনের সব স্তরে নারীরা এখনও অপ্রতিনিধিত্বমূলক। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নেতৃত্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-নারী প্রার্থী নিয়োগ, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংরক্ষিত আসনের বাইরে অংশগ্রহণ সমর্থন করা। দলগুলোকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারী ভোটার এবং প্রার্থী উভয়ের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

    প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা: রাজনৈতিক দলগুলোকে অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন শক্তিশালী করতে হবে। প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিয়মিত এবং পক্ষপাত বা জোরপূর্বক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। প্রার্থী মনোনয়নকালে স্থানীয় স্তরের সহিংসতা কমানো এবং নারীদের প্রার্থী ও প্রচারক হিসাবে অংশগ্রহণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।

    নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সমন্বয় বৃদ্ধি: নির্বাচন কমিশনকে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে, স্থানীয় উত্তেজনা কমাতে এবং নির্বাচনের সময় সহিংসতা প্রতিরোধ করতে। যৌথ পরিকল্পনা,
    পরিষ্কার যোগাযোগ প্রোটোকল এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভোটার আস্থা শক্তিশালী করতে অপরিহার্য।
    সুত্র: আমার দেশ
    বি/এ

  • ১১ নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট দেওয়ার আল্টিমেটাম জামায়াতের

    ১১ নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট দেওয়ার আল্টিমেটাম জামায়াতের

    ডেস্ক নিউজ:

    বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জামায়াতসহ আট দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।আগামী ১১ নভেম্বর রাজধানীতে আট দলের সমাবেশের আগে পাঁচ দফা মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ সময় দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তার আগে দাবি না মানলে ওই দিন ঢাকার চিত্র ভিন্ন হতে পারে।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় জামায়াতসহ আট দলের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    এসময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টাকে ‘রেফারির ভূমিকায়’ থাকার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল। তার আগেই সরকারকে দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    ‘পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের প্রতি এই গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তা না হলে ১১ তারিখে রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে,’ বলেন তিনি।
    এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, আট দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন।

    সুত্র: নয়াদিগন্ত
    বি/এ

  • কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামে অবস্থিত কৃষি বিষয়ক লাইব্রেরি ও সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’। এই সংগঠনটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই কৃষিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণসহ কাজ করে যাচ্ছে এলাকার তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে।

    সংগঠনটির কার্যক্রমে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামের কৃষকদের কাছে, মাঠে গিয়ে তাদের বই পড়ে শুনিয়ে আসেন। জানান চাষের আধুনিকতা, জীবনমান উন্নয়নের গল্প, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উপায়, সাহিত্য, ভ্রমণসহ নানাবিধ বিষয়ে। এছাড়া গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এই সংগঠন; যা জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করছে গ্রামের নিরক্ষর চাষি এবং সাধারণ মানুষদের।

    এছাড়া বর্তমানে তীব্র তাপদাহ, খরা এবং অতিবৃষ্টি বা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে কৃষিতে। আলাদা সেচের ফলে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত খরচ। এ নিয়ে ফসল চাষ করেও ক্ষতি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। জলবায়ুর এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করে কৃষকদের উন্নয়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক পরামর্শ ও সেবা দিচ্ছে এই সংগঠন। ফসলের মাঠ ঘুরে কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করেন এবং পরামর্শ দেন।

    কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া মিরপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক ছামিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকের বাতিঘরের সদস্যরা এসে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কে জানিয়েছেন। বই পড়ে শোনান কিভাবে ফসলের ভালো উৎপাদন করা যাবে। এটা আমাদের কৃষকদের জন্য অনেক বড় উপকার। আমরা এখন জমিতে রাসায়নিক সার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়েছি। আর জমিতে পার্চিং করা সহ ক্ষেতের আইলে বিভিন্ন বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এখন ফসলের মাঠ দেখতেও আরও সুন্দর লাগে।

    এদিকে এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে এই সংগঠনটি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বইয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, নেতৃত্ব শেখানো এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী কর্মী এবং সদস্যদের। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যই এই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

    এ বিষয়ে সংগঠনের সদস্য সাদিয়া খাতুন বলেন, আমরা যখন কৃষকদের বই পড়ে শোনায়, তার আগে নিজেরা সেই বইটি ভালো করে পড়ি; তা না হলে তো আমরা সেটি পড়ে কৃষকদের বোঝাতে পারবো না। এদিক থেকে আমাদের উন্নয়নটা অনেক বেশি। আমরা পাঠ্যক্রমের বাইরেও অনেক বিষয়ে জানতে পারছি। আর সব থেকে বড় ব্যাপার হলো এগুলো আমরা শুধু পড়িই না, বরং তা আত্মস্থ করি। কেননা সেগুলো আমাদের আবার কৃষককে বোঝাতে হয়। অনেক সময় একটা বই পড়ার পরেই আমরা তা ভুলে যায়, কিন্তু এভাবে চর্চার ফলে আমরা সহজে ভুলি না। ফলে বিভিন্ন বিষয় খুব ভালোভাবে জানার মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের অন্যদের তুলনায় আরও দক্ষ করে তুলতে পারছি। এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

    কৃষকের বাতিঘরের স্বেচ্ছাসেবী মো. শোয়েব মল্লিক বলেন, আমি আগে কম্পিউটার চালাতে পারতাম না। এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর আমি কৃষকের বাতিঘরের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর এখানে থেকে আমাকে ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমি এখন কম্পিউটারে দক্ষ। এখন নিজে একটা কম্পিউটার কিনে সংগঠনের কাজেও সহায়তা করি, অন্যদেরও কম্পিউটার শিখতে সাহায্য করি।

    কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে- কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কৃষি, ব্যবসা, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও পেয়েছে কর্মসংস্থান।

    সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে মিরপুর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী বলেন, কৃষকের বাতিঘর সংগঠন আমাদের উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকশই কৃষিতে উদ্বুদ্ধের মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের বাতিঘর সংগঠন এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই কৃষি সম্পর্কে সচেতন করছে। এছাড়াও সংগঠনটি এলাকার শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমি আশা করি, কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের এই উদ্যোগ আমাদের উপজেলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    সার্বিক বিষয়ে কৃষকের বাতিঘরের উদ্যোক্তা হোসাইন মোহাম্মদ সাগর বলেন, কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রম কৃষকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি কৃষকদের ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কৃষকদের প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রামে বসবাসকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব, এবং কর্মসংস্থানমূলক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। কৃষকের বাতিঘর সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সংগঠনটি বিশ্বাস করে যে দক্ষ মানবসম্পদের মাধ্যমেই বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন সম্ভব। সূত্রঃ দৈনিক আমাদেরসময়

    বিডিটাইমস/এআর/এনই/

  • ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ঢাকা-ওয়াশিংটন বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, ভারতের ঘুম হারাম

    ডেস্ক নিউজ:

    সম্প্রতি এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সয়াবিন রপ্তানি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী এক বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানি করবে।

    ঢাকা-ওয়াশিংটনের এই বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তি ভারতের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু জানায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের তেল ও সয়ামিল রপ্তানি এমনিতেই নিম্নমুখী ছিল। এর ওপর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি ভারতের সয়ামিল রপ্তানিকারকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।

    ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সয়ামিল আমদানিকারক বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে দেশটি। গত অর্থবছরেই বাংলাদেশের বাজারে ভারতের সয়ামিল রপ্তানি ১.৬৩ লাখ টনে নেমে আসে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ কম।

    ভারতের সয়াবিন প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডি.এন. পাঠক এ বিষয়ে বলেন,

    “বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বল্পমূল্যে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ তেলবছরে আমাদের রপ্তানি তীব্রভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশ মাত্রই এক বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তি করেছে, যা আমাদের জন্য স্পষ্ট সংকেত—বাংলাদেশ আর ভারত থেকে এ পণ্য কিনবে না। এটি ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”

    এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের সয়াবিন আমদানি করবে।

    এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যনিরাপত্তায় নয়, কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো মজবুত করেছে, যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
    সুত্র আমার দেশ
    বি/এ

  • সাবেক ডিজি হারুনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    সাবেক ডিজি হারুনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    ডেস্ক নিউজ:

    র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মো. হারুন অর রশীদ, তার স্ত্রী ফাতেহা পারভীন লুনা এবং তাদের দুই কন্যা ফাহমিদা ফারাহ ফাবিয়া ও নুসরাত যারীন আর্দিতার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের এ আদেশ দেন।

    সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান। এ দিন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন এ আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগটি অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশীদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা দেশের ভেতর পলাতক রয়েছেন। তারা যে-কোনো সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগের শুধু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা একান্ত প্রয়োজন।

  • খোকসায় ডলফিন হত্যায় যুবক আটক

    খোকসায় ডলফিন হত্যায় যুবক আটক

    ডেস্ক নিউজ

    কুষ্টিয়ার খোকসায় ডলফিন হত্যা করে ফেসবুক-টিকটক করার অপরাধে এক যুবককে আটক করেছেন থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে খোকসা কলেজ রোড থেকে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হয়েছে।

    অভিযুক্ত যুবক খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আ. আওয়ালের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০)।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সাদ্দাম একটি ডলফিন পদ্মা নদী থেকে ধরে হত্যা করে সেটি কাঁধে নিয়ে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে।

    ঘটনাটি কুষ্টিয়া বনবিভাগের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় বনবিভাগ কমকর্তা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে সাদ্দামের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ শুক্রবার রাতে খোকসা কলেজ রোড থেকে সাদ্দামকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

    খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. মঈদুল ইসলাম জানান, বন বিভাগ খোকসা থানায় অভিযোগ করে আমবাড়িয়ার সাদ্দাম নামে একটি ছেলে পদ্মা নদী থেকে ডলফিন ধরে এনে সেটি হত্যা করে টিকটক ভিডিও করেছিল। বন বিভাগ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরে এটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং আসামিকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে। ডলফিনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আদালতে আসামির রিমান্ডের আবেদন করেছি। ডলফিন উদ্ধারের কাজে আমরা তৎপর থাকব।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বলেন, তাদের বাড়ির পাশ দিয়েই ডলফিনটি একজন ভ্যান চালক নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার কাছ থেকে নিয়ে ভিডিওটি করেছেন। ভ্যানচালককে তিনি মুখ দেখলে চিনবেন। তবে ভ্যানচালকের নাম জানেন না বলে জানিয়েছে আসামি।

    বিডি/ আর/এনই/
  • মোবাইলে অশোভন বার্তা পাঠালে ২ বছরের দণ্ড ও দেড় কোটি টাকা জরিমানা

    মোবাইলে অশোভন বার্তা পাঠালে ২ বছরের দণ্ড ও দেড় কোটি টাকা জরিমানা

    ডেস্ক নিউজ:

    ফোনে অশ্লীল বা অশোভন বার্তা পাঠালে হতে পারে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং দেড় কোটি টাকা জরিমানা। এমনকি কাউকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করলেও গুনতে হতে পারে এক লাখ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড। এসব বিধান রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ায়।

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বুধবার অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করেছে। অংশীজন ও সাধারণ নাগরিকদের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

    অধ্যাদেশের ধারা ৭০ অনুযায়ী, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কাউকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর ধারা ৬৯-এ বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ বা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে অশ্লীল, ভীতিকর, অপমানজনক বা অশোভন কোনো বার্তা, ছবি বা ভিডিও পাঠালে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

    এছাড়া, বেআইনিভাবে আড়ি পাতলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা দেড় কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা যেমন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মেসেজিং ও ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ—সবই সরকারের অনুমোদনের আওতায় আসবে। এসব প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে নিবন্ধন নিতে হবে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

    এ খাতে গঠিত হবে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন’, যা হবে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কমিশনটি লাইসেন্স প্রদান, নীতিনির্ধারণ, স্পেকট্রাম বণ্টন ও প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে। পাঁচ সদস্যের এই কমিশনের একজন হবেন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান।

    খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, অনুমতিহীনভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা বা বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনে যেকোনো প্ল্যাটফর্ম স্থগিত বা বন্ধ করতে পারবে।

    অধ্যাদেশের বিষয়ে মতামত পাঠানো যাবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ই-মেইলে অথবা ডাকযোগে সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভা
    বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা ঠিকানায়।
    সুত্র: ইত্তেফাক
    বি/এ

  • ছাত্রী হলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছাত্র নেতা!

    ছাত্রী হলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছাত্র নেতা!

    ডেস্ক নিউজ:

     

    জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ছাত্রী হলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পুরুষ সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ায় ক্যাম্পাসে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

    বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি সাংগঠনিক নোটিশ প্রকাশ করেন। এতে ছাত্র ও ছাত্রী হলের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির জন্য কয়েকজন নেতার নাম ঘোষণা করা হয়।

    নোটিশে দেখা যায়, ছাত্র হলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হামজা, সদস্য মোহাম্মদ আমানউল্লাহ ও রবিউল ইসলাম রিমনকে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে ছাত্রী হলের কমিটি।ছাত্রী হলের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে—যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন, সদস্য সাদ ইবনে ওয়াহিদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আদিবা হক মিলাকে। এই তালিকায় দুজন পুরুষ সদস্যের নাম থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—‘ছাত্রী হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ছেলেদের সম্পৃক্ততা কতটা যৌক্তিক?’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা হলে রাজনৈতিক কার্যক্রম চাই না। তাছাড়া ছাত্রী হলের দায়িত্বে ছাত্রদের রাখা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের সাংগঠনিক ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থি এবং প্রশাসনের পূর্বঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নুর হোসেন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়— ক্যাম্পাস এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, প্রচার বা সংগঠন পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, লোগো ও প্রতীক রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    সুত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে তুরস্ক

    বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে তুরস্ক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় দেশে সরকারিভাবে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল নেই। গত কয়েক বছরে ঢাকাসহ দেশের একাধিক শহরে ২৫টি সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) সেন্টার গড়ে উঠেছে, এতে সফলতাও মিলছে। তারপরও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যান। সম্প্রতি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ভুক্তভোগীরা যাচ্ছেন তুরস্কে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতি বছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় আইভিএফ হাসপাতাল করতে চায় তুরস্কের ওকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমেরিকা-জার্মানিসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়টির হাসপাতাল রয়েছে। তারা বাংলাদেশেও এ ধরনের হাসপাতাল করতে চায়। বাংলাদেশে তুরস্ক সরকারের অনুমোদিত একমাত্র মেডিকেল ট্যুরিজম কোম্পানি টার্কিশডক এটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শেষের দিকে হাসপাতালটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।

    টার্কিশডক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। চালুর অন্তত প্রথম দুই বছর তুরস্কের চিকিৎসকরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করবেন। টেকনোলজি ও অভিজ্ঞতা হাতেকলমে শিক্ষা দেবেন তারা। এরপর পুরোটাই চলবে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের দ্বারা।

    বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন এমন দম্পতির সংখ্যার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। একই সঙ্গে ঠিক কত সংখ্যক বাংলাদেশি এ সমস্যার সমাধান পেতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন, সেই তথ্যও জানাতে পারেননি প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভুগছেন। উন্নত দেশগুলোতে এই হার সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আর বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশগুলোতে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

    ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফার্টিলিটি অ্যান্ড স্টারিলিটি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম বলেন, নিম্ন মধ্যআয়ের দেশে যারা বন্ধ্যত্বের সমস্যায় ভোগেন তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই দেশের বাইরে যায় চিকিৎসার জন্য।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি রোগী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। বিদেশগামী এসব রোগীর বড় একটি অংশ যাচ্ছেন বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায়। যাদের মূল গন্তব্য ভারত ও সিঙ্গাপুর। যেখানে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। বর্তমানে বন্ধ্যত্বের সমস্যার সমাধান পেতে বাংলাদেশিরা তুরস্কমুখী হচ্ছেন। সরকার অনুমোদিত চ্যানেল ছাড়াও ভ্রমণ ও বিজনেস ভিসায়ও অনেকেই গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

    টার্কিশডকের মাধ্যমে গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক ব্যক্তি দেশটিতে লিভার, কিডনি ও বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা নিতে গেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই গেছেন বন্ধ্যত্বের সমাধান পেতে। টার্কিশডক বলছে, বাংলাদেশিরা এ চিকিৎসা সিঙ্গাপুরে নিলে যে খরচ হয়, তার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে

    সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দিচ্ছে তুরস্ক। যেখানে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত মিলে খরচ ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।

    টার্কিশডকের কান্ট্রি হেড এম নুরুজ্জামান রাজু আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি আইভিএফ সেন্টার ও হাসপাতাল হয়েছে। অনেকে ভালো সেবা দিচ্ছে। তাদের সেবায় দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে থাকা অনেক দম্পতির মুখে হাসি ফুটছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। ফলে বড় অংশই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তুরস্কেও যাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি। টার্কিশডকের মাধ্যমে যেসব বাংলাদেশি তুরস্কে চিকিৎসার উদ্দেশে যাচ্ছেন, তাদের ৩০ ভাগই এ জটিলতার সমাধান পেতে যান। এতে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশের টাকা যাতে দেশেই থাকে তাই এমন চিন্তা।

    তিনি আরো বলেন, তুরস্কের দুটি বেসরকারি কোম্পানি হাসপাতালটি করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী বছরের শেষদিকে হাসপাতালটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বোনম্যারো ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টসহ জটিল রোগের চিকিৎসা চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। যেহেতু আমরা মেডিকেল ট্যুরিজম শুরু করেছি, কী পরিমাণ বাংলাদেশি তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে তার তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে রয়েছে। তাই বিনিয়োগ সহজ হবে। এ বিনিয়োগে বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে আগ্রহী হলেও সেটিকেও আমরা স্বাগত জানাব। তাছাড়া সরকারি পর্যায়েও বাংলাদেশে তুরস্কের নানা কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশের রোগীদের উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া আমাদের চাওয়া।

    নুরুজ্জামান রাজু বলেন, বাংলাদেশ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনো কিছুটা পিছিয়ে। এ হাসপাতাল হলে সেখানকার অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশে আসবেন। তাদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। চিকিৎসকরা আরো বেশি প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ হবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের কোনো চিকিৎসক তুরস্কে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে চাইলে আমরা সেটিও করতে প্রস্তুত।

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ নিয়ে টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী ফাইক গকসুর সঙ্গে কথা হয়েছে আমার দেশের। তিনি বলেন, ‘গত দুই দশকে তুরস্ক বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ দেশ হয়ে উঠেছে। আজকের দিনে তুরস্কের অনেক হাসপাতাল উন্নত প্রযুক্তি, ইনফেকশন কন্ট্রোল, নৈতিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ক্লিনিক্যাল দক্ষতার দিক থেকে ইউরোপের অনেক প্রতিষ্ঠানকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের লক্ষ্য, এ অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ, যার তরুণ জনসংখ্যা অনেক, কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো সম্পূর্ণভাবে জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।’

    ফাইক গকসু বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্ধ্যত্ব একটি গভীর মানসিক ও সামাজিক বিষয়, যেখানে বিশ্বস্ত চিকিৎসাসেবার চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। টার্কিশডক এমন একটি মডেল দেয়, যা নৈতিক, ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য এবং বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত। তুরস্কে আমাদের আইভিএফ প্রোটোকলে সফলতার হার ৭০ শতাংশের বেশি এবং সব চিকিৎসা শুধু দম্পতির নিজস্ব জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করেই করা হয়, যা ইসলামি চিকিৎসা নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশে আমাদের নতুন প্রকল্পটি শুধু একটি ক্লিনিক নয়, বরং একটি যৌথ রেফারেন্স সেন্টার। যেখানে তুর্কি ও বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করবেন। প্রথম ধাপে আইভিএফ, জেনেটিক স্ক্রিনিং ও নারীদের স্বাস্থ্যসেবা শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপে আমরা লিভার, কিডনি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সমন্বয় প্রোগ্রাম চালু করব। এর ফলে বাংলাদেশের রোগীরা দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন, আবার প্রয়োজনে তুরস্কের সঙ্গেও সংযুক্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা নিতে পারবেন।’

    তিনি বলেন, তুরস্ক শুধু চিকিৎসা প্রদানকারী হিসেবেই নয়, বরং একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়—যারা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও নৈতিক মানদণ্ড স্থানান্তর করবে। টার্কিশডকের লক্ষ্য শুধু রোগী স্থানান্তরে সীমাবদ্ধ নয়, আমরা বাংলাদেশে ডাক্তার প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, যৌথ মেডিকেল সেন্টার, ডিজিটাল কনসালটেশন সিস্টেম এবং উন্নত সার্জিক্যাল প্রযুক্তি স্থানান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছি।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখছেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় একটি সমস্যা পর্যাপ্ত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং বিশেষজ্ঞ জনবলের ঘাটতি। হাসপাতালগুলোর ভবন ও কাঠামো ভালো, কিন্তু ইনফেকশন রেট বেশি, উন্নত ডায়াগনস্টিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং সার্জারিতে নিরাপত্তা প্রটোকলের অভাবের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। এখানেই আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। বিশেষ করে তুর্কি মেডিকেল প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের হাসপাতালে একীভূত করা, রিমোট ডায়াগনোসিস ও সেকেন্ড ওপিনিয়ন সিস্টেম চালু করা এবং তুর্কি ও বাংলাদেশি চিকিৎসকদের যৌথ সার্জারি ও প্রশিক্ষণ মডেল তৈরি করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তুরস্কের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত জিরো ইনফেকশন সার্জিক্যাল মডেল বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হবে। এতে রোগীরা নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পাবেন।

    সু্ত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • বসনিয়ায় নার্সিংহোমে আগুন, নিহত ১১

    বসনিয়ায় নার্সিংহোমে আগুন, নিহত ১১

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

    বসনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি নার্সিংহোমে লাগা আগুনে পুড়ে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) পুলিশ জানায়, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। সারাজেভো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে আগুন লাগার পর সারাজেভো থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত তুজলার ওই নার্সিংহোমের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ। এখনো ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

    আহতদের মধ্যে দমকল বাহিনীর পাঁচজন কর্মী এবং তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

    মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তুজলা শহরের নার্সিংহোম ভবনের সপ্তম তলায় আগুন লাগে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের অনেকে শয্যাশায়ী এবং অসুস্থ ছিলেন।

    ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নার্সিংহোম ভবনের উপরের তলার জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছে।

    সুত্র: এএফপি

    বি/এ