Blog

  • বিরল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই শিশুর জন্ম

    বিরল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই শিশুর জন্ম

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সফল অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে দুটি নবজাতক শিশু পৃথিবীর আলো দেখেছে। সোমবার সকালে এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে নবজাতক ও মায়েরা সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নার্স-মিডওয়াইফ এবং মেডিকেল অফিসারদের একটি বিশেষ দলের সমন্বয়ে এই অস্ত্রোপচার পরিচালিত হয়।

    সফল এই সিজারিয়ান অপারেশনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন অবস এন্ড গাইনি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আহমদ শরীফ রুশো।উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে এমন উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

    এই বিষয়ে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পার্থ জ্বিময় সরকার জানান, নবজাতক এবং মায়েরা সকলেই বর্তমানে সুস্থ আছেন। তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।এদিকে, উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের জরুরি চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নবজাতকদের পরিবারের সদস্যরা।

    তারা জানান, বাড়ির কাছেই এমন নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়ায় তারা আনন্দিত। একইসঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    এম কে

  • দিনাজপুরের খানসামায় টানা অগ্নিকাণ্ডে জনমনে আতঙ্ক

    দিনাজপুরের খানসামায় টানা অগ্নিকাণ্ডে জনমনে আতঙ্ক

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গত তিন দিনে তিনটি পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন সময়ের মধ্যেই এসব দুর্ঘটনায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও গবাদিপশু পুড়ে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পর পর তিন দিন উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকটি পরিবার ও ব্যবসায়ী। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

    প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার ঈদের দিন রাতে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া এলাকার টুপারমোড় বাজারে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই ১০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা এসব দোকান হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা। এরপর গত রবিবার ভোরে একই ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ এলাকায় একটি বাড়িতে মশার কয়েলের আগুন থেকে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে তিনটি গরু ও দুটি ছাগল পুড়ে মারা যাওয়ার পাশাপাশি আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল ভস্মীভূত হয়। পরিবারটির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট জিয়া মাঠ সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। এই ঘটনায় ওই বাড়ির আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস।

    তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। খানসামা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা যথাসময়ে পৌঁছাতে পারায় আগুন বড় এলাকায় ছড়াতে পারেনি। তিনি জনগণকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও খোলা আগুন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, অসতর্কতার কারণেই অনেক সময় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের খুশির মুহূর্তে এসব ক্ষয়ক্ষতি সত্যিই বেদনাদায়ক। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এ ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ আগুনের আতঙ্কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    এম কে

  • কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে প্রাণ বাঁচালেন

    কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে প্রাণ বাঁচালেন

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক অনন্য সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন দিনমজুর এনামুল হক। রেললাইন ভাঙা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে লাল কাপড়ের বিকল্প হিসেবে কলার মোচার লাল অংশ ব্যবহার করে সংকেত দেন তিনি। এতে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পঞ্চগড়গামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন এবং এর শত শত যাত্রী।

    ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার  সকাল সাড়ে ৬টায় ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেললাইনের মধ্যবর্তী পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায়। এনামুল হক (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের তৃতীয় দিন ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় এনামুল লক্ষ্য করেন রেললাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন। আশেপাশে কোনো লাল কাপড় না পেয়ে তিনি উপস্থিত বুদ্ধিতে পাশের বাগান থেকে একটি কলার মোচা ছিঁড়ে নেন এবং এর লালচে পাপড়িগুলো একটি লাঠির মাথায় বেঁধে সংকেত হিসেবে লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে যান।ঠিক সেই মুহূর্তেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর ‍‍`পঞ্চগড় এক্সপ্রেস‍‍` ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। দূর থেকে এনামুলের লাল সংকেত দেখতে পেয়ে ট্রেনের চালক নিরাপদ দূরত্বে ট্রেনটি থামিয়ে দেন।

    এর ফলে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। এ সময় এনামুলের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবেশী শাহিনুর পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ও শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেনটি পার করার ব্যবস্থা করেন। পরে রেললাইনটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    ফুলবাড়ী স্টেশন মাস্টার শওকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রেললাইন ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই প্রকৌশলী টিম সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর বিশেষ করে এনামুল হকের এই সচেতনতার কারণে একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

    এম কে

  • পাম্পে তেল নিতে এসে অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের কাহারোলে পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল নিতে এসে ‌‘হিট স্ট্রোক’ করে এনায়েতুল করিম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

    এনায়েতুল করিম বীরগঞ্জ উপজেলার সাঁতোর ইউনিয়নের সাঁতোর গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

    তিনি কাহারোল উপজেলার ৪ নম্বর তারগাঁও ইউনিয়নের ইছাইল গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে পাম্পে তেল নিতে ঢোকেন। পরে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, এনায়েতুল করিম সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কাহারোল উপজেলার সুন্দইল আছমা লতিফা ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছে দেখেন পাম্পে তেল দিচ্ছে। তিনি তেল নিতে মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পের ভেতরে প্রবেশ করেন। দীর্ঘসময় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে একপর্যায়ে ঘামতে শুরু করেন।

    এসময় মোটরসাইকেলসহ মাটিতে পড়ে যান এনায়েতুল। তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা উপস্থিত জনগণ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এসময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার বর্মন জানান, তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এনায়েতুল করিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি আরও জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এম কে

  • দিনাজপুরে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

    দিনাজপুরে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে।

    ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হওয়ায় অন্যান্য ট্রেনগুলো স্টেশনের ২ নম্বর লাইন দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।সেতাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেতাবগঞ্জ স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ‘গ’ নম্বর বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাত্রীদের সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেই বগিটি রেখে অন্যান্য বগি নিয়ে ট্রেনটি সান্তার অভিমুখে যাত্রা করবে।

    দিনাজপুর স্টেশন সুপার এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নাম্বার লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। ২ নাম্বার লাইন দিয়ে অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক। সকালে পঞ্চগড় থেকে একতা এক্সপ্রেস সঠিক সময় ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ ও দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে গেছে।

    এম কে

  • ঘোড়াঘাটে ব্যাংক ম্যানেজারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    ঘোড়াঘাটে ব্যাংক ম্যানেজারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত ব্যবস্থাপকের দ্রুত অপসারণসহ প্রশাসনিক শাস্তির দাবিতে আজ বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

    সোমবার বেলা ১১টায় ঘোড়াঘাট উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি ঘোড়াঘাট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক শাখা থেকে জনৈক সেবাগ্রহীতার কাছে একটি ভুল লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সম্পর্কে সত্যতা যাচাই এবং তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ব্যাংক ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান।

    তবে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না করে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপস্থিত সংবাদকর্মীরা অভিযোগ করেন যে, ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন তাদের সাথে চরম কুরুচিপূর্ণ ও অপেশাদার আচরণ করেছেন যা পেশাগত মর্যাদাহানির শামিল।উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

    বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, উক্ত ব্যবস্থাপক শুধু সাংবাদিকদের সাথেই নয়, বরং ব্যাংকে আসা সাধারণ মানুষের সাথেও প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। তার এই একগুঁয়েমি ও অপেশাদার মনোভাবে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যাংকের সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।মানববন্ধন চলাকালীন বিক্ষুব্ধ বক্তারা অবিলম্বে উক্ত ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

    তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সম্মানজনক সমাধান এবং অভিযুক্তের অপসারণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ছাড়াও এলাকার সচেতন নাগরিক এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ব্যবস্থাপকের অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

    এম কে

  • দিনাজপুরে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিং সেমিনার অনুষ্ঠিত

    দিনাজপুরে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিং সেমিনার অনুষ্ঠিত

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরে খুরশিদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের উদ্যোগে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও স্ক্রিনিং বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দিনাজপুর কেয়ার নার্সিং কলেজ অডিটোরিয়ামে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের এই অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে সেমিনারটি সম্পন্ন হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল ঢাকার প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এবং খুরশিদ জাহান হক ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

    খুরশিদ জাহান হক ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের সাধারণ সম্পাদক এবং জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া হাবিব অর্পি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও খুরশিদ জাহান হক ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি এ কে এম আজাদ, ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক মো. আবু তাহের আবু, যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. জিয়াউল হক জিয়া এবং কেয়ার নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ড. শারমিন ছাত্তার প্রমুখ।সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সমাজকে ক্যান্সারমুক্ত করতে হলে স্বাস্থ্য সচেতনতার এই শিক্ষা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।

    তিনি ক্যান্সার প্রতিরোধের এই সচেতনতাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করতে পারলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব, তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।সেমিনারের প্রধান আলোচক ডা. সাদিয়া হাবিব অর্পি ক্যানসারের ঝুঁকি, প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং এর প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে উপস্থিতিদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

    সেমিনারে বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক ও সচেতনতামূলক সেমিনার উত্তরবঙ্গের মানুষের মাঝে ক্যান্সারের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

    এম কে

  • বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে বিশ্বাস করে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে বিশ্বাস করে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

    ডেস্ক নিউজঃ

    মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে বিশ্বাস করে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে খালেদা জিয়া কষ্ট সহ্য করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। তবু তিনি শেষ পর্যন্ত বলেছেন—প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ কিংবা ধ্বংস নয়; বরং বিএনপির কাজই হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা, কষ্টের সময় পাশে দাঁড়িয়ে মানুষকে সাহস জোগানো।’

     বৃহস্পতিবার  দুপুরে হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব-দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যশস্য, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৪টি পরিবারকে নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও চাল দেওয়া হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ১৮ কোটি মানুষের। এসব মানুষের সেবা করার জন্য আমরা ওয়াদাবদ্ধ। ধর্ম ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর নয়, এই সরকার সবার। কাজেই আমরা বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করলে বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাসযোগ্য ও সুশাসনের দেশ গড়তে পারব।’

    সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো অনিয়ম, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে, যাতে কেউ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’

    এম কে

  • নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার  উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    সরকারের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া নারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও খাদ্য সহায়তা সাশ্রয়ী মূল্যে সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে।

    বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ পরিবারগুলো যাতে এই সুবিধার আওতায় আসে, সে লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিখুঁত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও দরিদ্র পরিবারগুলো স্বস্তিতে থাকতে পারবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার এই প্রচেষ্টা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নারী ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে।

    এম কে

  • ইসলামী সংস্কৃতি ও আলোকিত মানুষ

    ইসলামী সংস্কৃতি ও আলোকিত মানুষ

    সংস্কৃতি সাধারণত তাহজিব, তমদ্দুন বা ইংরেজি কালচারের প্রতিশব্দ রূপে ব্যবহৃত হয়। এ সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করা। এ হচ্ছে একটি ব্যাপক জীবনব্যবস্থা যা মানুষের চিন্তা-কল্পনা, স্বভাব-চরিত্র, আচার-ব্যবহার, পারিবারিক কাজকর্ম, সামাজিক ক্রিয়াকলাপ, রাজনৈতিক কর্মধারা, সভ্যতা ও সামাজিকতা সবকিছুর ওপরই পরিব্যাপ্ত। এ সংস্কৃতি কোন জাতীয়, বংশীয় বা গোত্রীয় সংস্কৃতি নয়। বরং সঠিক অর্থে এটি হচ্ছে মানবীয় সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতি এক বিশ্বব্যাপী উদার- গোত্র, ভাষা নির্বিশেষে সকল মানুষই প্রবেশ করতে পারে। পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে এ সংস্কৃতি এক নির্ভুল সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে এবং এক সৎ ও পবিত্র জনসমাজ গড়ে তুলতে চায়। ইসলামী সংস্কৃতির ব্যবস্থাপনা একটি রাজ্যের ব্যবস্থাপনার মতো। এতে আল্লাহর মর্যাদা সাধারণ ধর্মীয় মত অনুসারে নিছক একজন উপাস্যের মত নয়। বরং দুনিয়াবি মত অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ শাসক ও রাসূল সা. তার প্রতিনিধি। কুরআন তাঁর আইনগ্রন্থ। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তার এই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা বজায় রাখা ও এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য তার প্রয়োজন সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষের আছে, অন্য জীবের সংস্কৃতি বলে কিছুই নেই। মানুষ হিসেবে মানুষের আসল পরিচয়ই তার সংস্কৃতি। জীবন ধারণের জন্য মানুষ খাবার খেয়ে থাকে, এই খাবার ভাত-রুটি হতে পারে, আবার মাছ-গোশতও হতে পারে। এই খাবার খেয়েই মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়; কিন্তু এই ভাত-রুটি বা মাছ-গোশত খাওয়াটাই সংস্কৃতি নয়, সংস্কৃতি হচ্ছে খাবারের পদ্ধতি। আমরা যে পদ্ধতিতে খাবার গ্রহণ করব, সে পদ্ধতিটাই হচ্ছে সংস্কৃতি। অর্থাৎ সংস্কৃতি হচ্ছে জীবন পরিচালনার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার নাম।

    সংস্কৃতির সংজ্ঞা

    এক কথায় সংস্কৃতির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন বিশ্লেষণের। সংস্কৃতি সম্পর্কিত এমন কতকগুলো উদ্ধৃতি পেশ করা হলো যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি সুষ্ঠু ধারণা অর্জন সহজ হতে পারে। আবুল মনসুর আহমেদ বলেন: “ইংরেজিতে যাকে বলা হয় (Culture/Refinement), আরবিতে যাকে তাহজিব বলা হয়, সংস্কৃতি শব্দটা সেই অর্থে ব্যবহার করা যেতে পারে।” আবুল ফজল বলেন: “ Culture শব্দের ধাতুগত অর্থ কর্ষণ অর্থাৎ সোজা কথায় চাষ করা। জমি রীতিমতো কর্ষিত না হলে যত ভালো বীজই বপন করা হোক না কেন তাতে ভালো ফসল কিছুতেই আশা করা যায় না। মন জিনিসটাও প্রায় জমির মতই। মনের ফসল পেতে হলে তার রীতিমত কর্ষণের প্রয়োজন।” ওয়াকিল আহমেদের ভাষায়: “জীবন ছাড়া সংস্কৃতি নেই।” বদরুদ্দীন উমর বলেন: “জীবন চর্চারই অন্য নাম সংস্কৃতি।” প্রচলিত অর্থে আমরা যাকে সংস্কৃতি বলে থাকি তারও লক্ষ্য মন আর চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন। মহত্ত্ব ও সৌন্দর্য সাধনার উপর, এক কথায় মনুষ্যত্বের উপর যে সংস্কৃতির ভিত্তি, একমাত্র সে সংস্কৃতিই মানবজীবনে বিকিরণ করতে পারে আলো। যে আলোর নেই কোনো দেশ, কোনো কাল ও জাত। তাই সংক্ষেপে বলা যায় যে, মানুষের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে চরিত্র আর চরিত্রের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে সংস্কৃতি।

    সংস্কৃতির ভুল ধারণা 

    আমরা সাধারণ গান, সিনেমা, নাটক, বাদ্যযন্ত্র, শিল্প, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়কে সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করে থাকি। আসলে এইগুলো ঠিক সংস্কৃতি নয়; বরং সংস্কৃতির বাহন মাত্র। সংস্কৃতি বিকাশের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয় উপকরণ বা বাহন হিসাবে। তাই আমরা ভুলবশত তা অজ্ঞতার কারণে এ উপকরণ বা বাহনকে সংস্কৃতি বলে থাকি। সংস্কৃতিকে শুধু রীতিনীতি কিংবা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। মানব মনের অন্তর্নিহিত শক্তি, কৌতূহল ও প্রতিভা স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ লাভ করে সংস্কৃতির মাধ্যমে। এ জন্যই সংস্কৃতির মাধ্যমে মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটতে পারে। খণ্ড খণ্ড কিংবা আংশিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কখনও মানুষকে তার মনুষ্যত্ব বিকাশের সহায়তা করতে পারে না।

    অপসংস্কৃতি

    অপসংস্কৃতি হচ্ছে একটি জাতির সাংস্কৃতিক স্বভাবের বিপরীত অথবা সাংস্কৃতিক আদর্শের বিরুদ্ধে যা মানুষের সুস্থ ও সুপ্ত প্রতিভাকে বিকৃতি ও বিধবস্ত করে তাই হচ্ছে অপসংস্কৃতি। বর্তমান সমাজে অপসংস্কৃতি বলে থাকে চিহ্নিত করতে পারি তা নিম্নবরূপ:

    ১. বিদেশি প্রাচুর্য থেকে সৃষ্ট এক ধরনের অশ্লীল নৃত্যগীত, নাটক ও সিনেমা ইত্যাদি।

    ২. বিদেশি মিডিয়ার কু-প্রভাব।

    ৩. ডিশ এন্টিনার বদৌলতে প্রাইম, স্টার টিভি, জিটিভি, এমটিভি আগ্রাসন।

    ৪. যৌন উত্তেজনামূলক সাহিত্য, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, কমিক বই ইত্যাদির মাধ্যমে চরিত্র হরণ করা।

    ৫. ছায়াছবির মাধ্যমে ভায়োলেন্সের চিত্র প্রদর্শন।

    ৬. বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ক্লাবের নামে মাদকের ছড়াছড়ি।

    ৭. পুরুষ ও মহিলাদের বিকৃত রুচির পোশাক পরিধান।

    ৮. অতি আধুনিকতার নামে বিদেশী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও অনুশীলন।

    ১০. বিকৃত রুচি ও যৌন সুড়সুড়িমূলক বিজ্ঞাপন, পোস্টার, ফেস্টুন আলোকচিত্র ইত্যাদির ব্যাপক প্রচলন।

    ১১. ধর্মের নামে মাজার পূজা, কবর পূজা, শিরক ও বিদাতের ব্যাপক সয়লাব।

    সুতরাং অপসংস্কৃতি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে একটি জাতি বা দেশের ঐতিহ্যকে বিবেচনার আয়ত্তে আনতেই হবে।

    সংস্কৃতি ও ধর্ম

    ধর্ম হচ্ছে সংস্কৃতির একটি উপাদান। ধর্মবিশ্বাসের কারণে সাংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা লক্ষ্য করছি যে, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং প্রেরণা সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টান সকলের ক্ষেত্রেই ধর্মবিশ্বাসটি জীবনের প্রেরণার উৎস। এ দেশের বিভিন্ন উৎসবের উৎস অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে যে, সেগুলোর প্রায় সব কয়টিই ধর্মভিত্তিক। ধর্মভিত্তিক হয়েও সকল উৎসব আয়োজনের মধ্যে একটি উদারতা, সহনশীলতা এবং সকল শ্রেণির এক সঙ্গে গ্রহণ করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আর এ কথা বলাই বাহুল্য যে, কোন জিনিস ব্যবহারের ব্যাপারে তার ¯্রষ্টা যে পদ্ধতি নির্দেশ করেন, সেই জিনিস ব্যবহারের সেটাই সর্বোত্তম ও নির্ভুল পন্থা। শুদ্ধ সংস্কৃতি পেতে হলে আমাদের যেতে হবে খোদায়ী দর্শনের কাছে। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, জীবন দিয়েছেন, আহার জোগাচ্ছেন এবং একদিন তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।

    ইসলাম ও সংস্কৃতি

    ইসলাম পৃথিবীতে নিছক রাজনৈতিক তা অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধনের জন্য আসেনি। ইসলাম এসেছে মানুষের চিন্তা ও কর্মকে পরিশুদ্ধ করার জন্য। মানুষের চিন্তা ও কর্মের এ পরিশুদ্ধির প্রচেষ্টাকেই বলা হয় সামগ্রিক অর্থে সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ইসলাম একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ফলে ইসলাম ছাড়া জীবন পরিচালনা মানেই হচ্ছে, অপূর্ণাঙ্গ বিধান দ্বারা পরিচালিত হওয়া। আর অপূর্ণাঙ্গ বিধান দ্বারা জীবন পরিচালনার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে অসঙ্গতি ও ত্রুটিপূর্ণ জীবন যাপন করা। স্বাভাবিকভাবেই এ জীবন অসংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতি শিকার হতে বাধ্য। এ জন্যই বলা যায়, পরিপূর্ণ মুসলমান হওয়া ছাড়া পরিপূর্ণ সংস্কৃতিবান হওয়া সম্ভব নয়। তাই হযরত মোহাম্মদ সা.-এর জীবনে ও বাণীতে, যে সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটেছে তাই ইসলামী বা মুসলিম সংস্কৃতি বলে পরিচিত।

    নীরব ঘাতক সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

    মুসলমানদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বাতিল শক্তি তার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। তারা মনে করে দৃশ্যমান এ পৃথিবীর বাইরে আর কোনো জগৎ নেই, নেই কোনো জবাবদিহিতার অবকাশ। তাদের ভোগবাদী দৃষ্টির বিস্তার ঘটিয়ে মুসলমানদের চিরায়ত মূল্যবোধ বিনষ্ট করে দিচ্ছে তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে অন্যান্য মূল্যবোধের সাথে বিনষ্ট হচ্ছে:

    ১. আখেরাতের চেতনা। যে চেতনা মানুষকে পাপ ও অশ্লীলতা থেকে মুক্ত করে সমাজে পূত পবিত্রতার বিস্তার ঘটায়।

    ২. নেতৃত্বের চেতনা। যে চেতনা সামাজিক বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

    ৩. তাওহিদের চেতনা। মানুষ একমাত্র আল্লাহর বান্দা এবং পরস্পর ভাই এ ধারণার বিলুপ্তি ঘটার ফলে সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এর ফলে ¯্রষ্টার শ্রেষ্ঠত্ব, মানুষের মর্যাদা, মানুষের প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য এসব ধারণার অবলুপ্তি ঘটে এবং মানুষ পশুর স্তরে নেমে আসে। বস্তুত এর ফলে একজন মুসলমান তার ঈমানী চেতনা হারিয়ে ফেলে এবং সে এমন সব কাজ করতে থাকে যা একজন মুসলমান তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না থাকার কারণে করে বসে। আর এ অবস্থা সৃষ্টি হলে মাথা গুনতিতে সে মুসলিম দলভুক্ত হলেও কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে সে আর মুসলিম থাকে না। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বা হামলার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে সত্যের পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। তার মধ্যে শয়তানি গুণ সৃষ্টি করা এবং জীবনকে ব্যর্থ করে দেয়া। যুগে যুগে মুসলমানরা বাতিলের যত রকম হামলার শিকার হচ্ছে তার মধ্যে এ সাংস্কৃতিক হামলাই সর্বাপেক্ষা মারাত্মক ও ক্ষতিকারক।

    সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের পরিণতি

    বাতিলের সর্বগ্রাসী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ফলে মুসলমানরা যে একটি মর্যাদাবান জাতি, তাদের রয়েছে আলাদা কৃষ্টি-কালচার, ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিশ্ব মানবতার নেতৃত্বদানের জন্য এবং মহত্ত্ব ও মানবতার বিজয় ঘোষণার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, এ কথা অধিকাংশ মুসলমান আজ বিস্মৃত। অপসংস্কৃতির সয়লাবে আজ মুসলমান দ্বিধা-বিভক্ত। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব এবং অনৈক্য দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিকতার নামে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে চলছে। শিক্ষার নামে কু-শিক্ষা, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি বিনোদনের নামে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা এবং সর্বনাশা মাদক মুসলিম সমাজকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে দিকে ধাবিত করছে। অন্যদিকে ধর্মীয় উন্মাদনার মাধ্যমে মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ককে পারস্পরিক কাদা ছুড়াছুড়িতে ব্যস্ত রেখেছে। যা বাতিলের তীক্ষè দূরদৃষ্টি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাতিলের সাংস্কৃতিক ঘুমপাড়ানি গান মুসলমানদের এতটা আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, তাদের ঘরজুড়ে দাউ দাউ আগুন দেখেও সে আগুন নেভাতে যে তাদের উঠে দাঁড়াতে হবে সে কথা বুঝতে পারছে না মুসলিম। এটাই মুসলমানের দুর্ভাগ্য। বাতিলের সাংস্কৃতিক হামলার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলিম তার মুসলমানিত্ব হারাচ্ছে মৃত্যু ঘটেছে তাদের ঈমানী চেতনার। দুনিয়ার আদম শুমারিতে তাদেরকে মুসলিম হিসাবে উল্লেখ করা হলেও আল্লাহর খাঁটি বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য হারাচ্ছে তারা। হালাল হারামের কোন নিয়ম তাদেরকে পরিচালিত করতে পারে না। পাপ পুণ্যের ধার ধারে না বাস্তব কর্মজীবনে এ সকল মুসলমান। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণ মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। অথচ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার ঈমানদারদের মৃত্যু ঘটে মুসলমানিত্বহীন অবস্থায়।

    সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব

    আধুনিক বিশ্বে মুসলিম মিল্লাতের অনগ্রসর তার মূল কারণ ইমলামী সংস্কৃতির চর্চার অভাব। ইসলামের যে মূল দাবি মানুষের চিন্তা ও কর্মের সংস্কার ও পরিশুদ্ধি, সে সংস্কার ও পরিশুদ্ধি ছাড়া প্রকৃত অর্থে মুসলমান হওয়া যায় না, সংস্কৃতিবানও হওয়া যায় না। তাই সংস্কৃতিবান হতে হবে প্রথম মুসলিম হতে হবে আর মুসলিম হতে হলে সংস্কৃতিবান হতে হবে। কারণ সংস্কৃতির নিজস্ব কোনো আদর্শ নেই। সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের আচরিত কর্মপ্রবাহের নাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো আদর্শের ভিত্তিতে এ কর্মধারা পরিচালিত হলে তা হবে সংকীর্ণ ও অসম্পূর্ণ। তাই ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। এক কথায় বলা যায়, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী সংস্কৃতির লালন ও চর্চা অপরিহার্য।

    ইসলামী সংস্কৃতির মূল ভিত্তি

    ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার মূল ভিত্তি হচ্ছে ঈমান। যে বিশ্বাস ও আচরণ ইসলাম একজন মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে তার সাথে সাংঘর্ষিত হতে পারে এমন কোন কিছুই ইসলামী সংস্কৃতির মধ্যে শামিল হতে পারে না। এ সীমারেখাকে অবহেলা করে বা কৌশলের নামে তাকে অবজ্ঞা করে যা করা হবে তা আর যাই হোক ইসলামী সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ইসলামী সংস্কৃতির প্রাসাদ নির্মিত হয়। বিষয়গুলো হচ্ছে: (১) তাওহিদ, (২) রিসালাত, (৩) আখেরাত ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার ভিত্তি হচ্ছে এ তাওহিদ, রিসালাত, আখেরাত। যে সকল কর্মকাণ্ড মানুষকে এ মৌলিক চেতনার স্মরণ থেকে ফিরিয়ে রাখে তাই অনৈসলামিক সংস্কৃতি, আর যে সব তৎপরতার মধ্য দিয়ে এ সকল চেতনা জাগ্রত, শাণিত ও মজবুত হয় তাই ইসলামী সংস্কৃতি।

    ১. তাওহিদ : তাওহিদ হচ্ছে ঈমানের বুনিয়াদ। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এটুকু বিশ্বাস করাই তাওহিদের জন্য যথেষ্ট হতে পারে না। রাসূলের জামানায় তৎকালীন আরব মুশরিক এবং কাফেররাও এটুকু বিশ্বাস করতো। তাওহিদের বিশ্বাসের অর্থ হচ্ছে আল্লাহই একমাত্র সর্বভৌম ক্ষমতার মালিক, তিনিই মানুষের রিজিকদাতা, পালনকর্তা এবং একমাত্র অভিভাবক। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তিনি তারই ইবাদতের জন্য আর দুনিয়ার সবকিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য। ভয় একমাত্র তাকেই করতে হবে সাহায্য চাইতে হবে তারই কাছে। মানুষের ভালো-মন্দ, কল্যাণ-অকল্যাণ সব তার হাতে। ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মনে এ তাওহিদ বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে হবে।

    ২. রিসালাত : মানবজাতির পথ প্রদর্শদনের জন্য আল্লাহ রাসূলকে সত্য দ্বীন ও হিদায়াতসহ পাঠিয়েছেন। ইসলামী সংস্কৃতির কাজ হলো মানুষের মনে রাসূলের নেতৃত্বের বিপরীত পৃথিবীর জন্য পাঠিয়েছেন। ইসলামী সংস্কৃতির কাজ হলো মানুষের মনে রাসূলের নেতৃত্বের বিপরীত পৃথিবীর জন্য কোনো নেতৃত্বের প্রতি যেন কারো মোহ সৃষ্টি না হয় মানুষের মনকে সেই উপলব্ধিতে উজ্জীবিত রাখা।

    ৩. আখিরাত : মানুষকে এ দুনিয়ায় আল্লাহ পাঠিয়েছেন তার ইবাদত করার জন্য। একদিন এ দুনিয়ার জিন্দেগি শেষ হয়ে যাবে। মানুষকে পুনরায় ফিরে যেতে হবে আল্লাহর দরবারে। যিনি আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করবে না তার জন্য রয়েছে অনন্ত আজাব। জীবনের প্রতিটি কাজে মানুষকে তাই ভাবতে হবে যে কাজটি আমি করছি তা কি পরকালে আমার নাজাতের উসিলা হবে, নাকি তা আমার জন্য বয়ে আনবে জাহান্নামের কঠিন আজাব। ইসলামী সংস্কৃতির কাজ হচ্ছে মানুষের দিলকে সর্বদা আখিরাতমুখী করা। সংস্কৃতির বিভিন্ন তৎপরতার মধ্যে দিয়ে বারবার আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেই কেবল একটি কল্যাণময় ইসলামী সমাজের আশা করা যেতে পারে।

    ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার, প্রসার ও

    লালন অপরিহার্য

    ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ এর প্রচার, প্রচার ও লালন করা ঈমানের দাবি। ঈমানের বিষয়ে কোন দুর্বলতা থাকলে যেমন পুরোপুরি ঈমানদার হওয়া যায় না। তেমনি ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ও পালন না করে পুরোপুরি মুসলিম হওয়া যায় না। কারণ বিজাতীয় সাংস্কৃতির গোলামির শিকল একবার কোন জাতির গলায় আটকে গেলে তা ছিন্ন করা যেমন দুঃসাধ্য তেমনি ছিন্ন করতে না পারলে তার পরিণামও ভয়াবহ। তাই সাংস্কৃতিক বিকাশ ও লালনের জন্য করণীয় বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো-

    (ক) পরিবার প্রথা : পরিবার মানব সভ্যতার মৌল ভিত্তি, সমাজের শান্তি-শৃংখলা, স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ইত্যাদি পারিবারিক সুস্থতা ও দৃঢ়তার ওপরই বহুলাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু পাশ্চাত্যের দর্শন শিক্ষা ও অপসংস্কৃতি এই পরিবার প্রথার উপর আঘাত হেনে সভ্যতার মূল ভিত্তিকেই বির্পযস্ত করে তুলছে। তাই এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য ইসলাম পরিবারকে সংস্কৃতি চর্চার নিয়ামকে পরিণত করে অতুলনীয় বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলছে তার কোনো বিকল্প নেই। পারিবারিক ক্ষেত্রে যদি আমরা ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ সাধন ও লালন করতে না পারি তাহলে পাশ্চাত্যের অবাধ ব্যক্তিস্বাধীনতা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছছে যে, সেখানকার নারী পুরুষ এখন “লিভটুগেদার সিস্টেমে” জীবন নির্বাহ করতেই ক্রমাগত অভ্যস্ত হচ্ছে। ফলে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে প্রতিনিয়ত। তাই এই প্রেক্ষিতে মানবসমাজে পরিবার প্রথা, পারিবারিক শিক্ষা, জীবন ধারার প্রচলন ও কল্যাণকর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলার জন্য এই পরিবারপদ্ধতি সব সময়ই অতিশয় কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে।

    (খ) মসজিদভিত্তিক সংস্কৃতি চর্চা : ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার দ্বিতীয় প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে মসজিদ। মসজিদকে আমরা শুধুমাত্র নামাজের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছি। অথচ রাসূলের সময় থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদার যুগে মসজিদকে ইসলামী সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মসজিদ যেমন ইসলামী সমাজের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্প চর্চার কেন্দ্রবিন্দু, তেমনি মসজিদ মুসলমানদের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার কেন্দ্রভূমি। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্য দিয়ে মুসলমানরা যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বোধে উজ্জীবিত হয় মুসলমানদের জীবনধারা যে বোধের দ্বারাই পরিচালিত হয়। আমাদের সমাজে মসজিদকে এখনো যথার্থ মর্যাদায় ব্যবহার করার মানসিকতা তৈরি হয়নি। এ মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে। মসজিদকে ব্যবহার করতে হবে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার কেন্দ্র রূপে। এ জন্য যথাযথ উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    ১. ইসলামী সংস্কৃতির সুষ্ঠু আঞ্জামের জন্য মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিনের বেতনভাতা বৃদ্ধি করে এ কাজে ফুলটাইম নিয়োজিত করতে হবে।

    ২. নিয়মিত কুরআন হাদিসের পাঠ ও আলোচনা করা।

    ৩. বিভিন্ন জাতীয় ও ইসলামী দিবসের ওপর আলোচনা করা।

    ৪. শিশু-কিশোর, যুবক ও বয়স্কদের জন্য পৃথক পাঠ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।

    ৫. বিশেষ বিশেষ সময় বা উপলক্ষে হামদ, নাত, ইসলামী সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, আযান, কেরাত এর প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।

    ৬. পাঠাগার ও ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার চালু করা এবং পাঠ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।

    ৭. মাঝে মাঝে বই, চিত্র ও শিল্পকলার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।

    ৮. প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা।

    ৯. আত্মকল্যাণমূলক কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

    ১০. রমাদাান মাসকে সাংস্কৃতিক মাস হিসেবে উদযাপন করা।

    ১১. ইসলামী দিবসে বিশেষ প্রীতিভোজ, প্রীতি …… ব্যবস্থা করা।

    ১২. সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন সম্পদ পারস্পরিক দ্বন্দ্ব কলহ, মামলা-মোকদ্দমা ইত্যাদির মীমাংসা করা।

    ১৩. বাৎসরিক সম্মেলন ও তাফসির মাহফিলের ব্যবস্থা করা।

    ১৪. সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য সনদ ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা।

    ১৫. নামাজ পড়া সহ প্রতিটি কর্মকাণ্ডে মহিলাদের সম্পৃক্ত করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা।

    ১৬. বয়স্কদের জন্য নৈশ পাঠ/ নৈশ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা।

    ১৭. ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি বা ব্যক্তির দ্বারা প্রতিদিন বাড়ি/বাসায় বই সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

    ১৮. সকল কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে বাৎসরিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা।

    এভাবে উপরোক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু, কিশোর, যুবক ও বয়স্কদেরকে ব্যাপকভাবে মসজিদমুখী করার উদ্যোগ নিতে হবে। মসজিদ কেবল নামাজ পড়ার জায়গা হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে মানুষের অবসর, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও বিনোদনের কেন্দ্র রূপেও মসজিদকে গড়ে তুলতে পারলে ইসলামী সংস্কৃতি বিকশিত হবে।

    (গ) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলা: আমাদের দেশের সরকারি ও বেসরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোকে অধিকতর সক্রিয় করে তুলতে হবে। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ সাংস্কৃতিক মন্ত্রালয়ের অর্থানুকূল্যে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৎপরতা অব্যশই এ দেশের অধিকাংশ জনগণের বিশ্বাস ও চেতনার সপক্ষে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এসব প্রতিষ্ঠান ভিনদেশী সংস্কৃতি নিয়ে যতটা সক্রিয় ইসলামী সংস্কৃতি বিষয়ে ততটা উদাসীন। জনগণের অর্থানুকূল্যে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানকে জনকল্যাণমুখী ও ইসলামী সাংস্কৃতিক বিষয়কে লালন করার জন্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

    (ঘ) মিডিয়ার ভূমিকা পালন : ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশের জন্য মিডিয়া একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া ছাড়া সংস্কৃতি বিকশিত হওয়া সম্ভব নয়। সরকারি মিডিয়া বিশেষ করে রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকার পাশাপাশি বেসরকারি মিডিয়া গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক বিশ্বে মিডিয়া সুবাদে অপসংস্কৃতি যে ভাবে মুসলমানদের ঈমান আকিদাকে ধ্বংস করছে তার মোকাবেলায় ইসলামী অনুষ্ঠান মানা অর্থাৎ সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে বেসরকারি চ্যানেলের কোনো বিকল্প নেই।

    (ঙ) চলচ্চিত্র নির্মাণ : চলচ্চিত্র দেশের একটি উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যম। এ মাধ্যমটি বর্তমানে এতটা অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় ভরপুর যার নাম শুনলে মানুষ মনে করে ইসলামে আবার সিনেমা তা কি করে সম্ভব। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, সিনেমা বা ফিল্মে মূলত ও স্বতঃই কোনো দোষ বা খারাবি নেই। তা কি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে কি উদ্দেশ্য সাধন করতে চাওয়া হচ্ছে সেটাই আসল প্রশ্ন। এ কারণে কতিপয় শর্তসমূহ সহকারে কাজে লাগালে তা খুবই ভালো, উত্তম ও কল্যাণকর হতে পারে।

    ১. শিরক থাকতে পারবে না।

    ২. নগ্নতা ও অশ্লীলতা থাকতে পারবে না।

    ৩. শিক্ষামূলক ও জ্ঞানমূলক হতে হবে।

    ৪. দেশ ও জাতি বিদ্বেষী হতে পারবে না।

    ৫. মৌলিক উভয় ক্ষেত্রে (অভিনয় ও দর্শক) নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা করা যাবে না।

    উপরোক্ত শর্তের আলোকে সিনেমা নির্মাণ করা হলে সংস্কৃতি ও ইসলামের বাণী পৌঁছানোর জন্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমটি অধিক ফলপ্রসূ হবে। তাই ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে ছবি নির্মাণের জন্য প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ব্যবসায়িক মনোভাব ও ইসলামের স্বার্থে মুসলিম ব্যবসায়ীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ইসলামী ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ প্রধানে এগিয়ে আসলে এ খাত দ্রুত বিকশিত হবে। এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। ফলে দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের কাজ অধিকতর বেগবান হবে।

    (চ) নাটক তৈরি করা : নাটক আরেকটি জনপ্রিয় গণমাধ্যম। নাটকের মাধ্যমেও সংস্কৃতি জনপ্রিয় করা সম্ভব। প্রধানত উচ্চমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এর দর্শক। সমাজ পরিবর্তনের মুখ্য নিয়ামক শক্তি মধ্যবিত্ত সমাজ, তাদের মানসিক পরিবর্তনের জন্য নাটক খুবই জরুরি, এ জন্য ইসলামী সমাজ নির্মাণের স্বপ্নে যারা বিভোর নাটকের বিষয়টিও তাদের গুরুত্বসহ বিবেচনা করতে হবে। তাই ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশে নাটক রচনা ও সঞ্চায়নের ব্যাপারেও তাদের উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

    (ছ) সঙ্গীতচর্চা : মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধ জাগাতে ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সঙ্গীতের ভূমিকা তাই অনস্বীকার্য। হাম্দ, নাত, দেশাত্মবোধক ও ইসলামী সঙ্গীতের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অডিও, ভিডিও, সিডি, ক্যাসেট এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে। তাই যারা ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের কাজে নিয়োজিত ইসলামী সঙ্গীতের প্রসারেও তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

    (জ) চারু ও কারুকলার বিস্তার : মানুষ স্বভাবতই সৌন্দর্যপ্রিয়। মানুষের এই শিল্প চেতনা যেন কল্যাণের পথে অগ্রসর হয় সে জন্যই ইসলামী চারু ও কারুকলার বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন। একজন মানুষের ঘরে প্রবেশ করলে বুঝা যায় লোকটি কোন প্রকৃতির। কেউ বা মূর্তি দিয়ে, আবার কেউবা সাজায় ফুল শোভায় বা ক্যালিগ্রাফিতে। এ জন্য চারু ও কারুকলা শিল্পে ইসলামের ছোঁয়া থাকলে মানুষ অশ্লীলতা থেকে এবং এমনকি প্রচ্ছন্ন শিরক থেকে রক্ষা পেতে পারে। সামাজিকভাবে ইসলামী আবহ সৃষ্টির জন্য। তাই চারু ও কারু শিল্পের ব্যাপক চর্চা হওয়া প্রয়োজন।

    (ঝ) সাহিত্য রচনা করা : আধুনিক বিশ্বে মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বোধ সৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যে মাধ্যমটি তা হচ্ছে সাহিত্য, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, ছড়া, এসব নান রকম ফর্মে সাহিত্যচর্চা চলে। শিক্ষিত মানুষ মাত্রই সাহিত্যের কোনো না কোনো ফর্মের প্রতি আগ্রহ পোষণ করবে এবং সাহিত্য পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এভাবে পড়ার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান দ্বারাই তার জীবনবোধ গড়ে ওঠে। ফলে ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হলে ইসলামী সাহিত্যের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে। ইসলামী সাহিত্যের চাহিদা যত বাড়বে ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টিতে লেখকরা ততবেশি আগ্রহী ও সচেষ্ট হবে। তাই আমাদের মাসিক বাজেটে চাল-ডালের মত বই ক্রয়েরও একটি পরিকল্পনা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ চাল-ডাল আমাদের দেহের ক্ষুধা মেটায় আর বই মেটায় আমাদের মনের ক্ষুধা।

    (ঞ) গান ও বাদ্যযন্ত্র : যে কাজে সাধারণত মানুষের মন আকৃষ্ট হয় ও অন্তর পরিতৃপ্তি ও প্রশান্তি লাভ করে এবং কর্ণকুহরে মধু বর্ষিত হয় তা হচ্ছে। নির্লজ্জতা, কুৎসিত-অশ্লীল ভাষা কিংবা পাপ কাজে উৎসাহ উত্তেজনা দানের সংমিশ্রণ না থাকলে তা মুবাহ্। উপরন্তু যৌন আবেগ উত্তেজনাকর বাদ্য সংমিশ্রণ না হলে সেই সাথে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারেরও কোন দোষ নেই। এ জন্য শরিয়তের দৃষ্টিতে কতিপয় শর্ত অপরিহার্য।

    ১. গানের কথা শিরকমুক্ত হতে হবে।

    ২. নগ্নতা ও অশ্লীলতা থাকতে পারবে না।

    ৩. যৌন আবেগ ও উত্তেজনাকর বাদ্য সংমিশ্রণ থাকতে পারবে না।

    ৪. শিক্ষা ও গঠনমূলক হতে হবে।

    ৫. গান ও বাদ্য মানুষের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হতে হবে।

    উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে আনন্দ উৎসবের ক্ষেত্রে খুশি ও সন্তোষ প্রকাশের জন্য এসব জিনিস শুধু জায়েজই নয়, পছন্দনীয়ও বটে। যেমন: ঈদ, বিয়ে, শুভসংবাদ, ওয়ালিমা, ইসলামী বিশেষ দিবস উদযাপন, আকিকা অনুষ্ঠান ও সন্তান জন্ম হওয়া কালে এসব ব্যবহার করা যেতে পারে দ্বিধাহীনচিত্তে। হযরত আয়িশা রা. বলেছেন, আনসার বংশের এক ব্যক্তির সাথে একটি মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তখন নবী করীম সা. বললেন: হে আয়িশা! ওদের সঙ্গে আনন্দ ফুর্তির ব্যবস্থা কিছু নেই? কেননা আনসাররা তো এগুলো বেশ পছন্দ করে। (বুখারি) তাই ইসলামী সংস্কৃতির বাহন হিসেবে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে সার্বজনীন করার জন্য ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের কাজে যারা নিয়োজিত তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

    (ট) ক্রীড়া, আনন্দ ও প্রতিযোগিতা : ইসলাম বাস্তববাদী জীবনবিধান। তা মানুষকে অবাস্তব কল্পনা বিলাস ও নানা চিন্তা ভাবনার কুঞ্ঝটিকার পরিবেষ্টনে আবদ্ধ করে রাখতে ইচ্ছুক নয়। বরং এ বাস্তবতার পৃথিবীতে ঘটনাপ্রবাহের আবর্তনের মধ্যে সুষ্ঠু রূপে বসবাস করার রীতি ও পদ্ধতিই ইসলাম মানুষকে শিক্ষা দেয়। তা মানুষকে নভোমণ্ডলে বিচরণকারী ফেরেশতা মনে করে কর্মবিধান তৈরি করেনি। খাদ্য-পানীয় গ্রহণকারী ও হাটে বাজারে বিচরণকারী মানুষ মনে করেই তার জন্য বিধান দেওয়া হয়েছে। ইসলাম মানুষকে প্রকৃতি ও স্বভাবগত ভাবধারার উপর পুরো মাত্রায় লক্ষ্য নিবদ্ধ রেখেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এভাবে যে, পানাহার যেমন তার প্রকৃতির চাহিদা তেমনি আনন্দ-স্ফূর্তি ও সন্তুষ্টি-উৎফুল্লচিত্ত হয়ে থাকা এবং হাসি-তামাশা-খেলা ইত্যাদিও তার প্রকৃতিগত ভাবধারা হয়ে রয়েছে। এ সত্য কোনোক্রমেই অস্বীকার করা যায় না। আনন্দ-স্ফূর্তি ও ক্রীড়ার বহু প্রকার ধরন ও পদ্ধতি এমন রয়েছে যা নবী করীম সা. মুসলমানদের জন্য জায়েজ করেছেন। মুসলমানরা এ গুলোর সাহায্যে মনের বোঝা হালকা করতে পারে, স্ফূর্তি লাভ করতে পারে। এসব ক্রীড়া মানুষকে ইবাদত ও কর্তব্য পালনে- এসব কাজে তৎপরতা সহকারে অংশ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। এসব শরীর চর্চামূলক ক্রীড়ার সাহায্যে শক্তিবর্ধক ট্রেনিং লাভ করতে পারে। তার দরুন মানুষ জিহাদে অংশগ্রহণের জন্যও প্রস্তুত হতে পারে। খেলাধুলা বিষয়ে শরিয়তের কতিপয় শর্ত রয়েছে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

    ১. খেলাধুলার কারণে নামাজ থেকে বিরত হওয়া বা বিলম্ব করা যাবে না।

    ২. তাতে জুয়া মদ্যপান ও অশ্লীলতা থাকতে পারবে না।

    ৩. খেলার সময় খেলোয়াড় ও দর্শক নিজেদের মুখকে গালাগাল, কুৎসিত-অশ্লীল কথাবার্তা থেকে মুক্ত ও পবিত্র রাখবে।

    ৪. পোশাক পরিচ্ছদ শালীন ও শরিয়াহ্ সীমারেখার মধ্যে হতে হবে।

    ৫. খেলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীল নৃত্য ও দেহের বিশেষ অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করা যাবে না।

    ৬. পুরুষ ও মহিলা একত্রে খেলা করা যাবে না।

    ৭. খেলা শরীর চর্চামূলক, গঠনমূলক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক হতে হবে।

    সুতরাং উল্লিখিত শর্ত পরিপালন করে খেলাধুলা করতে বিধিনিষেধ নেই। তবে এসব শর্ত লংঘিত হলে কিংবা তার অংশবিশেষও ভঙ্গ করা হলে সে খেলা হারাম হয়ে যাবে যা কাম্য হওয়া উচিত নয়।

    (ঠ) সাংস্কৃতিক কর্মী/শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান : ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্ব এত বেশি যে, ইসলামী বিপ্লবের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব অপরিহার্য। কোনো জনপদে যদি কখনও জনমতের কারণে ইসলাম বিজয় লাভ করে আর সেখানে যদি পূর্ব থেকে সাংস্কৃতিক চর্চা না থাকে তবে সে জনপদে ইসলাম বিজয়ী হিসেবে বেশিদিন টেকসই হবে না। কারণ সংস্কৃতি মানুষের মনের লালিত স্বপ্নকে বিকশিত করে। আর বিকশিত যখন সঠিকভাবে হবে না তখন মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে বিপথে ধাবিত হবে। এজন্য কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীরা হচ্ছেন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারিগর। তারা হচ্ছেন সমাজদেহের চক্ষু এবং সভ্যতার বাগান। আর সমাজ পরিচালকরা হচ্ছেন সে বাগানের মালী। তারা যত বেশি এ বাগানের পরিচর্যা করবে সমাজে তত বেশি হৃদয়ের পুষ্প ফুটবে। যে জনগোষ্ঠী এ বাগানের পরিচর্যায় অমনোযোগী হবে তারা বঞ্চিত হবে মানবতার পুষ্প সৌরভ থেকে। সে একটি কল্যাণকর ইসলামী সমাজ যাদের কাম্য তাদের উচিত কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীদের উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দান করা। এ পৃষ্ঠ-পোষকতা তারা যতবেশি দিতে পারবে ততই বৈচিত্র্যের বিকাশ ঘটবে। তাই শিল্পীদের সার্বিক সহায়তা দানের জন্য ব্যাপকভিত্তিক কিছু সৃস্পষ্ট ও সুষম পরিকল্পনা দরকার যা নি¤েœ আলোচনা করা হলো:

    ১. ইসলামী সংগঠনের উচিত তাদের পরিকল্পনায় সাংস্কৃতিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া।

    ২. সাংগঠনিক সকল কার্যক্রমে বেশি বেশি সাংস্কৃতিক চর্চা করা।

    ৩. সাংস্কৃতিক বিষয়ে জনমত সৃষ্টি করা।

    ৪. সাংগঠনিক প্রতিটি স্তরে পৃথক সাংস্কৃতিক বিভাগ চালু করা।

    ৫. সাংস্কৃতিক বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা।

    ৬. অসহায় শিল্পীদের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা।

    ৭. তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা।

    ৮. সাংস্কৃতিক চর্চা ও গবেষণার জন্য উপযুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা করা।

    ৯. বছরে একবার সারা দেশের সাংস্কৃতিমনা শিল্পীদের নিয়ে সম্মিলন বা পারস্পরিক মত বিনিময়ের ব্যবস্থা করা।

    ১০. বছরের শুরুতে এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা।

    ১১. এ খাতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এগিয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করণ ও আগ্রহ সৃষ্টি করা।

    ১২. এ খাতকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার জন্য জনমত গঠন এবং প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করা।

    পৃথিবীর প্রতিটি মানস পরিবর্তনে এ সত্যটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, মুখ্যত পরিবর্তন ঘটিয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কিন্তু তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে সংস্কৃতি কর্মীরা। সাংস্কৃতিক কর্মীরা হচ্ছে যুগের মুয়াজ্জিন আর রাজনৈতিক নেতা হচ্ছেন ইমাম। তাই আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব সাধনের জন্য যতক্ষণ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মীদের ময়দানে নামাতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত লাব্বাইক লাব্বাইক বলে ঘর থেকে ছুটে আসবে না জনগণ। জনগণ কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়াবে না কোনো নেতার পিছনে ইসলামী বিপ্লব সাধনের জন্য এ জন্যই সাংস্কৃতিক কর্মীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে ব্যাপকভাবে ইসলামী বিপ্লবের উপযোগী পরিবেশ ও জনমত সৃষ্টির জন্য ময়দানে নামানো আজ সময়ের দাবি।

    সাংস্কৃতিক বিষয়টি মুসলমানদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এ জন্য প্রতিটি সচেতন মুসলমানের উচিত নিয়মিত সাংস্কৃতিক তৎপরতা বৃদ্ধি ব্যাপারে উৎসাহী ভূমিকা পালন করা। এ ভূমিকা অব্যাহত না থাকলে অপসংস্কৃতি ইসলামী সংস্কৃতিকে ধ্বংস করবে। এ ধ্বংস মুসলমান তো দূরের কথা ইসলামী আন্দোলনের অনেক নেতাও কর্মীর কাছে সুস্পষ্ট নয়। তাই এ জন্য ইসলামী আন্দোলনে সংস্কৃতির চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতা না করলে তা জাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ও ক্ষতি ডেকে আনবে। এই ভয়াবহ ক্ষতির থেকে মুক্তির জন্য ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার, প্রসার করা সময় ও ঈমানের দাবি।

    লেখক : কলামিস্ট ও ব্যাংকার

    রফিকুল ইসলাম