Blog

  • পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’

    জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’। কালের বির্বতনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলাটি। তাই এই খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন আয়োজন।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ) বিকালে উপজেলার পীরপাল গ্রামে এই খেলাটির উদ্বোধন করা হয়। খেলায় ৫ জন পাতা অংশ নেন এবং ৪টি গ্রুপের ২০ জন তান্ত্রিক দল অংশ নেয়।ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন সব বয়সের মানুষ। তবে খেলাটি প্রতি বছর ও বড় পরিসরে করার দাবী দর্শনার্থীদের। তবে আগামীতে সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে খেলাটি করার ইচ্ছে আয়োজকদের।

    কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে প্রাচীন বাংলার খেলাধুলা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছিত পাতা খেলা নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অচেনা। তাই তাদের নতুন করে পরিচয় করে দেবার জন্য আয়োজন করেছে পীরপাল গ্রামের যুবসমাজ। খেলাটি চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।

    মাঠের চারপাশে মন্ত্র পড়ছে কিছু মানুষ। তান্ত্রিক দল মন্ত্র দিয়ে মানুষরূপী পাতাকে মাঠের মাঝখান থেকে নিজের দিকে টানার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। যে দল তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে পাতাকে নিজের জায়গার মধ্যে নিয়ে আসতে পারবে সেই বিজয়ী। প্রতিযোগিতায় যাদের পয়েন্ট বেশি সেই দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

    খেলোয়াড়রা বলেন, এই খেলায় মন্ত্রবিদরা যেমন আনন্দিত তেমনি আনন্দিত খেলোয়াড়রা যা ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। তারা চান মাঝে মধ্যেই যেন এ বিনোদন খেলাটি মানুষেরা উপভোগ করতে পারেন। কোনো পুরস্কারের আশায় নয় খেলাটি খেলতে এসেছের দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য।এদিকে আয়োজকরা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরা ও নতুনদেরকে এই খেলার সাথে পরিচয় করার জন্য এই খেলার আয়োজন। খেলাটি নিজেদের অর্থায়নে করা। যদি সরকার কিংবা জনপতিনিধিরা একটু সাহায্য করেন তাহলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।খেলায় ৩ টি টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন উপজেলার আটটুল গ্রামের তান্ত্রিক দল । খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে রাজহাঁস ও রার্নাস আপকে পাতী হাঁস পুরস্কৃত করা হয়।

    M

  • জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    জয়পুরহাটে বিএনপির গণসংযোগে প্রাণচাঞ্চল্য, নেতৃত্বে আমিনুর ইসলাম

    বিডিনিউজ ডেক্স :আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি।

     জয়পুরহাটের কালাই বাসস্ট্যান্ড, নিশ্চিন্তা, বটতলি, ইটাখোলা বাজার, গোপিনাথপুর, জামালগঞ্জ বাজার, মুঞ্জাহার বাজার, পাঁচগ্রাম ও পুনট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যান তিনি।এ সময় কয়েকশ মোটরসাইকেলের বিশাল শোভাযাত্রা, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি এবং নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে বাজার ও আশপাশের এলাকা। স্থানীয় জনসাধারণও বিএনপির এই গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া দেয়।

    গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালাই থানা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব ইব্রাহিম ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজউদ্দীন, সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার, পুনট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহীন, কালাই থানা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ কাফি এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনজুমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    গণসংযোগ চলাকালে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর ইসলাম সিআইপি বলেন, “বিএনপি জনগণের দল, এ দলের রাজনীতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ৩১ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্যই হলো রাষ্ট্র মেরামত ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। দল যাকেই মনোনয়ন দিক, আমি তার পক্ষেই কাজ করব।”

    M

  • কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    কুমড়ার মাচায় ঝুলছে হাসান আলীর স্বপ্ন

    বিডিনিউজ ডেক্স : জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপসারা মহল্লার কৃষক হাসান আলী এবার চাল কুমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন।

    মাত্র ৮ শতাংশ পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেছেন চাল কুমড়ার মাচা। এখন সেই মাচায় ঝুলছে সতেজ সবুজ চাল কুমড়া আর তার সঙ্গে দুলছে তাঁর স্বপ্নও।হাসান আলী জানান, জমিতে চাল কুমড়া চাষে তাঁর প্রথম পর্যায়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। মৌসুম শেষে এই ব্যয় গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭ হাজারে। ইতোমধ্যেই প্রথম দফায় ৫০টি চাল কুমড়া তুলেছেন তিনি।

    তাঁর আশা, আগামী তিন মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি চাল কুমড়া তুলতে পারবেন তিনি। সব মিলিয়ে মৌসুম শেষে চাল কুমড়ার সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৭০০টিতে।

    তিনি আরও জানান, এখন প্রতিটি চাল কুমড়া পাইকারিতে গড়ে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি চাল কুমড়া থেকে ১০ টাকা করে লাভ থাকছে তাঁর। সে হিসাবে মৌসুম শেষে তাঁর সম্ভাব্য লাভ হবে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

    তাঁর এই সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মোমিন এবং রেজওয়ান বলেন, ‘ধান আর আলু ছাড়া আমরা আর কিছু চাষ করতাম না।

    হাসান আলীর চাল কুমড়া চাষ দেখে বুঝছি, এতে পরিশ্রম ও খরচ কম—কিন্তু লাভ বেশি। তাই আগামীতে আমরাও চাল কুমড়া চাষ শুরু করতে চাই।’

    কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, ‘চাল কুমড়া চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম, লাভ দ্বিগুণ—কিন্তু এ এলাকার কৃষকেরা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। হাসান আলীর এই উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।’

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, ‘উদ্যোমী কৃষক হাসান আলী খরিপ-২ মৌসুম শুরুর আগেই চাল কুমড়ার মতো ফসল বাজারজাত করতে পেরেছেন, যা খুবই ইতিবাচক।

    প্রতিটি উপজেলায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চলছে। হাসান আলীর মতো উদ্যোগী চাষিদের নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়ার জন্য আমরা কালাই উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

    M

  • আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

    বিডিনিউজ ডেক্স : এক সময় শহর ও গ্রামের অলিগলিতে মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল প্যাডেল চালিত রিকশা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রিকশাচালকরা ঘুরিয়ে যেতেন জীবনের চাকা, আর তাদের ঘণ্টির ‘ক্রিং ক্রিং’ শব্দে মুখর থাকত পথঘাট। এই রিকশাই ছিল নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবারের জীবিকার উৎস।

    কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই প্যাডেল রিকশা হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোর দখলে। নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল ঐতিহ্য, রেখে যাচ্ছে কেবল স্মৃতির শব্দ—‘ক্রিং… ক্রিং…’জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের অলিগলিতে একসময় সকাল-বিকেল ভেসে আসত রিকশার ঘণ্টির সুর। কিন্তু এখন সে দৃশ্য প্রায় বিরল। ব্যাটারিচালিত অটোর দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন সেই বাহন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি পাল্টেছে পরিবহন সংস্কৃতিও।

    প্যাডেল রিকশায় পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কম শ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় চালকদের বড় একটি অংশ পেশা বদলেছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই এখন দেখা যায় অটোরিকশার সারি, যা যাত্রীদের কাছেও দ্রুত ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    ৬৫ বছর বয়সী রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘বাবা, অটো কিনতে টাকা লাগে, আমি গরিব মানুষ। এই রিকশাটাই আমার ভরসা। আগে যাত্রী তুলতাম, এখন আইসক্রিম বেচে খাই। দিনে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। এখন মানুষ হাঁটতেও চায় না, সবাই অটোতে ওঠে।’

    চোখের কোণে বিষাদ লুকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘণ্টির শব্দেই কেটেছে আমার জীবন। এখন সবাই বলে, ‘দাদু, এইটা চালাও কেন?’ কিন্তু আমি ফেলে দিতে পারি না, এটা তো আমার সঙ্গী।’

    একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

    অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

    জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

    যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

    সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

    একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

    অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

    জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

    জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

    কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

    যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

    সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

    M

  • ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    ক্ষেতলালে ফ্রি চক্ষু সেবা প্রদান

    বিডিনিউজ ডেক্স : জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান করেছে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার আয়োজনে সকালে পৌর সদরে থানা বাজার খোশবদন জি ইউ আলিম মাদ্রাসায় এ চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন,উপজেলা নিবার্হী অফিসার জনাব সানজিদা চৌধুরী।

    এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি বলেন, বিনামূল্যে এই চক্ষু সেবা স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়। ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছি।দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চোখের সমস্যা নির্ণয়,দৃষ্টি পরীক্ষা,পাওয়ার মাপা,ছানি রোগ সনাক্তকরণসহ বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের জন্য পৃথকভাবে রেফারেল করা হয়। সেবা নিতে আসা রোগী ছামছূল সহ একাধিক রোগী জানান,ফ্রি সেবা পাওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। গ্রামের মানুষ এমন সুযোগ খুব কম পায়।তরুণ মানবকল্যাণ যুব সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন,শীতকালকে সামনে রেখে পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে এই সেবা পৌঁছে দিতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। আগামীতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

     

    M

  • পুকুরে বিষ দিয়ে ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

    পুকুরে বিষ দিয়ে ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

    ডেস্ক নিউজ:

    নাটোরের সিংড়ায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের গোয়ালবাড়িয়া গ্রামে ১২ বিঘা আয়তনের ওই পুকুরে এই ঘটনা ঘটে।

    মাছগুলো বিক্রির উপযুক্ত হয়ে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে এমন ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে পুকুরে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি জানাজানি হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়ালবাড়িয়া গ্রামের মসজিদ ও কবরস্থান সংলগ্ন পুকুরটি গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন পাড়েরা গ্রামের মৎস্যচাষি সিদ্দিক প্রামাণিক। গত ছয় মাস ধরে তিনি সেখানে পাবদা, ট্যাংরা, রুই, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে ছিলেন।

    ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি সিদ্দিক প্রামাণিক জানান, পুকুরটিতে দেড় লাখ পাবদা, ২ লাখ ট্যাংরা, ২ হাজার রুই, ১ হাজার মৃগেল, ২২০টি বিগহেড ও ৩৮০টি সিলভার কার্পসহ বিপুল পরিমাণ মাছ ছেড়েছিলেন তিনি। মাছের পোনা, খাবার ও পরিচর্যা বাবদ তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা ছিল, ৩৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে কে বা কারা শত্রুতা করে পুকুরে গ্যাস ট্যাবলেট (বিষ) প্রয়োগ করায় সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

    সিদ্দিক প্রামাণিক আক্ষেপ করে বলেন, ‘শত্রুতা করে আমার সব শেষ করে দিলো। আমি তো পথে বসে গেলাম। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

  • নাটোরে রেললাইনে ফাটল

    নাটোরে রেললাইনে ফাটল

    ডেস্ক নিউজ:

    নাটোরের নলডাঙ্গায় রেললাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মাধনগর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফাটলটি নজরে আসে। তবে রেলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় মেরামত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মাধনগর রেলস্টেশনের দক্ষিণে এনড়ার পাড় এলাকায় ২৫৩ নম্বর পিলারের কাছে ১ নম্বর রেললাইনে ফাটল দেখতে পান এলাকাবাসী। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গ্রাম পুলিশ নাজমুল হোসেন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফাটল মেরামতের ব্যবস্থা নেয়।

    রেলওয়ের ট্রলিম্যান জুলফিকার হোসেন জানান, ফাটলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরই দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রেলওয়ের কর্মীরা মেরামত কাজ শেষ করেন। মেরামতের সময় ওই লাইনে সতর্কতামূলকভাবে ট্রেন ধীরগতিতে চলাচল করে। বর্তমানে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

    খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রেলকর্মী ও স্থানীয়দের ধারণা, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে রেললাইনের লোহা সংকুচিত হয়ে এ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী বীরকুৎসা রেলস্টেশনের উত্তরেও একইভাবে রেললাইনে ফাটল দেখা দিয়েছিল, যা পরে মেরামত করা হয়।

  • নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    নাটোরে নজর কাড়ছে ধানগাছে আঁকা জাতীয় পতাকা

    ডেস্ক নিউজ

    নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রশিদপুর গ্রামের তরুণ কৃষক ইমরান হোসাইন ধানখেতে তৈরি করেছেন জাতীয় পতাকার আকৃতি। ধান গাছ দিয়ে সবুজ জমির মাঝে লাল বৃত্ত তৈরি করে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন দেশের পতাকার রূপ। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    ইমরান হোসাইন জানান, দেশপ্রেম আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই উদ্যোগ। প্রায় ৪৫ শতক জমিতে দুই জাতের ধান রোপণ করে তিনি তৈরি করেছেন এই অনন্য চিত্র। সবুজ অংশে ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানি লং বাসমতী ধান, আর মাঝের লাল বৃত্তের স্থানে লাগিয়েছেন বেগুনি রঙের পারপোল রাইস। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ধানের শীষে আঁকা পতাকাটি যেন বাতাসে দুলছে।

    ইমরান বলেন, দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথা নয়। কাজের মাধ্যমেই দেশপ্রেম প্রকাশ পেতে পারে। এই খেত আমার কাছে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার প্রতীক।

    তার এই ব্যতিক্রমী কাজ দেখতে প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন ইমরানের সৃজনশীল এই প্রচেষ্টা।

    জামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, ইমরানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে দেখতে এসেছি। জীবন্ত ধান গাছের পতাকা আগে কখনো দেখেনি। দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

    গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, ইমরানের এই উদ্যোগ শুধু দেশপ্রেম নয়, কৃষিক্ষেত্রে সৃজনশীলতারও এক সুন্দর উদাহরণ। এমন উদ্যোগ তরুণদের কৃষির প্রতি উৎসাহিত করবে।

  • এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল!

    এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল!

    ডেস্ক নিউজ:

    নাটোরের বড়াইগ্রামে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে দুই বিষয়ে ফেল করেছেন  দুই শিক্ষার্থী। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। 

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের আইটি সাপোর্ট অ্যান্ড আইওটি বেসিকস ট্রেডের পরীক্ষার্থী আরাফাত সরদার এবং আহমেদপুর ডিগ্রি কলেজের ফুড প্রসেসিং ট্রেডের পরীক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, আরাফাত সরদার ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ‘আইটি সাপোর্ট এন্ড আইওটি বেসিকস’ ট্রেডে অংশ নেয়। সে বছর ১৫টি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে রসায়ন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এরপর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শুধু রসায়ন বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেন। তার প্রবেশপত্রেও শুধু রসায়ন বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের ১০ জুলাই প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি রসায়ন ছাড়াও কৃষি বিষয়েও ফেল করেছেন। অথচ কৃষি বিষয়টি তার পরীক্ষার অন্তর্ভুক্তই ছিল না।

    একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে আহমেদপুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদের ক্ষেত্রেও। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ‘ফুড প্রসেসিং’ ট্রেডে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আত্মকর্মসংস্থান বিষয়ে অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় শুধু আত্মকর্মসংস্থান বিষয়েই অংশ নেন। তার প্রবেশপত্রেও শুধু ওই একটি বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ফলাফলে দেখা যায়, আত্মকর্মসংস্থান ছাড়া তাকেও কৃষি বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে।

    সাব্বির আহমেদ বলেন, আমি এক বিষয়ে ফেল করেছিলাম, সে বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিয়েছি। এখন ফলাফলে দেখি কৃষি বিষয়েও ফেল। অথচ কৃষি আমার প্রবেশপত্রেই ছিল না।

  • বাবার কবরের পাশে করপোরাল মাসুদ রানার দাফন

    বাবার কবরের পাশে করপোরাল মাসুদ রানার দাফন

    ডেস্ক নিউজ:

    সুদানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে ড্রোন হামলায় নিহত করপোরাল মাসুদ রানার দাফন রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন তিনি।

    আজ বেলা আড়াইটার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে করে তাঁর মরদেহ বহনকারী সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার লালপুর উপজেলার বোয়ালিয়াপাড়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িসংলগ্ন করিমপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখানে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মরদেহটি তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশের এই বীর সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন মানুষ।

    শহীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে শহীদ মাসুদ রানার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হেলিকপ্টারে মরদেহ নাটোরে আনা হয়। গ্রামের বাড়িতে কিছু সময় রাখার পর বিকেলে বোয়ালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

    সেনাবাহিনী জানায়, মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণসহ দাফনের আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশনের একটি দল।

    শহীদ মাসুদ রানা ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। গত ৭ নভেম্বর স্ত্রী ও আট বছরের একমাত্র মেয়েকে রেখে শান্তি রক্ষা মিশনে যোগ দিতে সুদান যান তিনি। মিশন শুরুর মাত্র এক মাস সাত দিনের মাথায় সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। শান্তিরক্ষী হিসেবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়লেও কফিনে করে ফিরেছেন এই বীর।

    ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন। তাঁদেরই একজন করপোরাল মাসুদ রানা।