Blog

  • খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক ‘দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আজ (সোমবার) রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। এর পরেই জানা যাবে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।’

    খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক ‘দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আজ (সোমবার) রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। এর পরেই জানা যাবে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।’

    নিউজ ডেস্ক

     রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের যুক্ত রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমান হাসপাতালে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার পাশেই রয়েছেন

    বিদেশে নেয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। তবে, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে একান্তই তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রার্থনা অব্যাহত রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

    সোমবার (৮ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বলেন, ‘দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আজ (সোমবার) রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। এর পরেই জানা যাবে ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না।’

    খালেদা জিয়াকে দেখতে জুবাইদা রহমান আজ বিকেল ৩টা ৩৩ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডা: জুবাইদা রহমান চিকিৎসক দলের সাথে যুক্ত হয়ে ম্যাডামের চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন।’

    এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টিই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা দেশী-বিদেশী চিকিৎসকরাও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই যখনই মেডিক্যাল বোর্ড মনে করবে— তিনি ‘সেইফলি ফ্লাই’ করতে পারবেন, তখনই তাকে বিদেশে নেয়া হবে।’

    ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এ/ আর ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

  • শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি রক্ষায় অভিযান

    শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি রক্ষায় অভিযান

    ডেস্ক নিউজ:

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ফসলি জমির মাটি কাটায় মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রাগৈ এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে আজ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ফসলি জমি নষ্ট করে গভীরভাবে মাটি কাটায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

    উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার স্থান পরিদর্শন করেন এবং অবৈধ কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি তল্লাশি করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    অভিযানে শাহরাস্তি থানা পুলিশের একটি টিম এবং উপজেলা আনসার সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।

    স্থানীয়রা জানান, ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি কাটার কারণে কৃষির ক্ষতি হচ্ছিল এবং তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছিল। মোবাইল কোর্টের এ অভিযান তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে বলে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

  • হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    হাইমচরে ৫০ কোটি টাকার পান বিক্রি

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    চাঁদপুরের উপকূলীয় উপজেলা হাইমচরের অর্থকরী ফসলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পান। প্রতিবছর এখানকার পান বিক্রি হয় প্রায় ৫০ থেকে ৫২ কোটি টাকায়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পান সরবরাহ করা হয় পাশের উপজেলা ও জেলার বাজারেও। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাইয়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানচাষিরা সরকারের কাছ থেকে কখনো কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা পাননি—এমনটাই বলছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

    ভৌগোলিকভাবে হাইমচরবাসী মেঘনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম দুই পাড়ে বিভক্ত। পূর্বপাড়ের লোকজন মূলত কৃষিকাজ এবং পশ্চিমের চরাঞ্চলের বাসিন্দারা মাছ ধরা ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলে মহানলী, চালতা কোঠা, নল ডোগ, সাচি জাতের পান চাষ করে পরিবার চালাচ্ছেন হাজারো মানুষ। অনেকেই বংশপরম্পরায় যুক্ত এই আবাদে।

    উপজেলা ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুম ছাড়া বছরের বাকি সময়জুড়ে প্রতিদিনই চলে পান সংগ্রহ ও বিক্রি। আগে পানের বাজার ছিল জেলা শহরের বাইরে, এখন হাইমচর উপজেলা সদরের কাছেই গড়ে উঠেছে পানের আড়ত, যেখানে প্রতিদিন চলে পাইকারি বেচাকেনা।

    উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের চাষি ফারুকুল ইসলাম গাজী দেড় একর জমিতে পান চাষ করেন। প্রতিদিন তাঁর বরজে কাজ করেন তিন-চারজন শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তবে যখন দাম ভালো থাকে, তখন ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে আসে। কিন্তু কোনো দুর্যোগে কখনো সরকারি সহায়তা পাইনি।’

    বরজের একাধিক শ্রমিক জানান, অল্প বয়সেই তাঁরা পান চাষের কাজ শিখেছেন এবং এ কাজ দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

    একই গ্রামের আরেক চাষি মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘আমাদের বাবারা এই বরজ রেখে গেছেন। এখন আমরাই আবাদ করছি। পানে রোগ দেখা দিলে উৎপাদন কমে যায়, শিকড় পচে নষ্ট হয়, আবার নতুন করে শিকড় লাগাতে হয়। কোনো প্রশিক্ষণ পাই না, আগেরদের দেখে কাজ শিখে নিচ্ছি।’

    হাইমচরের পান ব্যাপারী মো. রাসেল দুই দশক ধরে এই ব্যবসায় যুক্ত। তিনি বলেন, ‘হাইমচরের বরজ থেকে পান কিনে স্থানীয় বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করি। বাবুরহাট, মহামায়া, চান্দ্রা বাজারসহ আশপাশের শতাধিক ব্যবসায়ী এ পেশায় যুক্ত।’

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্রামের চেরাগ আলী ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ‘প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার আমি বিভিন্ন বাজারে পান বিক্রি করি। হাইমচর থেকে প্রতিবার অর্ধলাখ টাকার পান কিনি। এই ব্যবসার ওপরই আমার সংসার চলে।’

    হাইমচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার জানান, ‘চলতি বছর হাইমচরে ২৩৫ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় বরজের সংখ্যা ১ হাজার ৭২। প্রতিবছর প্রায় ৫০–৫২ কোটি টাকার পান বিক্রি হয়। দুর্যোগ বা রোগ দেখা দিলে কৃষকদের পাশে থাকি, পরামর্শ দিই। প্রণোদনার প্রয়োজন হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত পান চাষে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।’

  • সকালে হাঁটতে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের

    সকালে হাঁটতে বেরিয়ে প্রাণ গেল স্কুলশিক্ষকের

    ডেস্ক নিউজঃ

    হবিগঞ্জের বাহুবলে ট্রাকচাপায় রূপজিত কর রাজু নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নতুনবাজার এলাকার বেন্দারপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রূপজিত কর রাজু (৩৬) উপজেলার মিরপুর সানশাইন মডেল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং বানিয়াগাঁও গ্রামের নিপেশ করের ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চাকরিজীবী স্ত্রীকে কুলাউড়া যাওয়ার উদ্দেশে মিরপুর বাজারে বাসে তুলে দেওয়ার পর রাজু কর বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর এলাকার আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর-শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে নতুনবাজার এলাকায় হাঁটতে যান। সকাল ৭টার দিকে বেন্দারপুল এলাকায় পৌঁছলে শ্রীমঙ্গলগামী একটি সবজিবোঝাই ট্রাক তাদেরকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।দুর্ঘটনায় রূপজিত কর রাজু ও ফুরঞ্জন দেব গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক রূপজিত কর রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ফুরঞ্জন দেবকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন।

    এম কে

  • মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    মেসি হতে চায় চাদপুরের ক্ষুদে বালক

    ডেস্ক নিউজঃ

    পায়ে বল, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। বলের ওপর অসম্ভব নিয়ন্ত্রণ। তার পায়ে যখন বল থাকে, মন্ত্রমুগ্ধের মতো চেয়ে থাকেন দর্শকেরা। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই এমন ফুটবল প্রতিভা শিশু সোহানের!

    প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যায় অনেকটা লিওনেল মেসির মতো করে, আর তার রেইনবো ফ্লিক ঠিক নেইমারের মতো। মিনিটের পর মিনিট পায়ের ওপর বল রাখতে পারে যেকোনো তারকা ফুটবলারের মতোই। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তার ভিডিও যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিস্মিত—বড় হয়ে কী হবে এই ছেলে!

    লিওনেল মেসির মতো ফুটবলার হতে চায় খুদে ফুটবলার সোহান। এই বয়সেই তার ফুটবল কসরত এবং মেসির মতো ফুটবলার হতে চাওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যা নজর এড়ায়নি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও। খুদে সোহানের ফুটবল প্রতিভায় মুগ্ধ তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সোহান ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক।

    প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে অনুশীলন করে সোহান। তাকে সাহায্য করেন বাবা সোহেল প্রধানিয়া। পেশায় সাইকেল মেকানিক। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাড়ে পাঁচআনি গ্রামে বসবাস তাঁদের। প্রধানিয়া জানান, তাঁর ছেলের নির্দিষ্ট কোনো কোচ নেই। সাড়ে তিন বছর বয়স থেকে নিজেই ছেলেকে শেখান ফুটবল খেলার নানান কৌশল। পাস দেওয়া, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কিংবা রেইনবো ফ্লিক এতই চমৎকার হয় যে তা দেখে মুগ্ধ হয় মানুষ। সোহানের বয়স, বয়স অনুযায়ী খেলার ধরন, সাহস নিয়ে কথা বলা ছড়ায় মুগ্ধতার রেশ। বড় হয়ে বড় ফুটবলার হতে হবে, এমন স্বপ্নের বীজ ছেলের মধ্যে বপন করেছেন সোহেল প্রধানিয়া।

  • বিতর্কিতদের নিয়ে এনসিপির কমিটি

    বিতর্কিতদের নিয়ে এনসিপির কমিটি

    ফেনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটিকে ঘিরে বিরোধ দেখা দিয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফেনী প্রেসক্লাবে কমিটি ঘোষণার এক দিনের মাথায় সংবাদ সম্মেলন করেন কমিটিতে স্থান পাওয়া একাংশের নেতারা।

    এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটিতে যুগ্ম সদস্য সচিব পদ পাওয়া আবদুল কাইয়ুম সোহাগ। এসময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জোবায়ের, ফজলে এলাহী সায়েমসহ অন্যরা।সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাইয়ুম সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভাবনা ও সাংগঠনিক বিধি উপেক্ষা করে জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনে তৃণমূলের মতামত নেওয়া হয়নি। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা অনেককে বাদ দিয়ে নতুন মুখ দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এমনকি চাঁদা ও ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ থাকা দুই ব্যক্তিকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে, যা জুলাই চেতনার পরিপন্থী। বিষয়টি কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের জানালেও কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হোক।আরেক যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জোবায়ের বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও ৫ আগস্ট পরবর্তী এনসিপির কার্যক্রমে অগ্রভাগে থাকা সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল আজিজ ও সক্রিয় সদস্য তাহমিদুল ইসলামকে কমিটিতে না রাখায় আমরা ক্ষুব্ধ। এনসিপির কার্যক্রম মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের জায়গা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয় জাহিদুল ইসলাম সৈকতকে এবং শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিককে সদস্য সচিব করা হয়।

    এম কে

  • ফ্যাসিবাদি সরকার পালিয়ে গেলেও দেশ ফাসিবাদমুক্ত হয়নি : শফিকুর রহমান

    ফ্যাসিবাদি সরকার পালিয়ে গেলেও দেশ ফাসিবাদমুক্ত হয়নি : শফিকুর রহমান

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ২টায় ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গাড়ি দিয়ে পালানোর সাহস বিগত ফ্যাসিবাদি সরকার হারিয়ে ফেলেছিল। এজন্য তারা আকাশপথে পালিয়েছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিকেও এই অপকর্মে ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছিল। দেশের সবকিছু তারা ধ্বংস করেছে। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও দেশ এখনো ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি। ফ্যাসিবাদকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে দেয়া হবে না।’ ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।’

    প্রয়োজনে আবারো ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।

    শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ২টায় ৮ দলের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের উন্নয়ন করেছিল। রাস্তাঘাট তৈরি করেছিল রডের বদলে বাঁশ দিয়ে। বাংলাদেশের টাকা লুট করে সিঙ্গাপুরে গিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর কুখ্যাত প্রধানমন্ত্রী বলেছিল রঙ দিয়ে শুয়েছিল। তারা রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল রক্তাক্ত হাতেই বিদায় নিয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে কোরআনের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম থেকে ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজানো হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ।’

    ৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে মন্তব্য করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অব্যাহত আছে। ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।’

    আন্দোলনরত ৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইসলামী দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঐক্য আমাদেরকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে।’

    ‘প্রয়োজনে আবারো ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে,’ হুঁশিয়ার করেন তিনি।

    সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ গরীব-দুঃখী-মেহনতি মানুষের রক্তে গড়া। বনেদিদের বাংলাদেশ আর থাকবে না। অনেক দল থেকে আসন সমঝোতার অফার দেয়া হয়েছিল। আমরা বাংলাদেশের অধিকার মালিকানা কায়েম করতে চাই। ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। পুঁজিবাদি অর্থব্যবস্থার কবর রচনা করে আল্লাহর আইনের ব্যবস্থা রচনা করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এবার ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলার মাটিতে জেগে উঠেছে। সকল চক্রান্ত, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে জনতার বিজয় হবে।’

    বাংলার মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, “দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের বাক্স ভরতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সরকারকে তার দায় নিতে হবে।”

    তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘ব্রিটিশ এই দেশ থেকে চলে গেলেও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বৈষম্য দূর হয়নি। সেই থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যারা শাসক ছিল তারা বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। তাই ৫ আগস্টের আন্দোলনে হাজার হাজার জীবনের বিনিময়েও মানুষ মুক্তি পায়নি। আগামীতে আবারো চাঁদাবাজ, জালেমদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হবে। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে বৈষম্য থাকবে না। কেউ দশ তলায় কেউ নিচতলায় থাকবে সেটা আর হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলামের পক্ষে, বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে চাই। ইসলামকে বিজয় করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইসলাম আগামীতে ক্ষমতায় যাবে ইনশাআল্লাহ। যথাসময়ে নির্বাচন দিতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মানবে না। হুমকি-ধমকি চলবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।’

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে চট্টগ্রামকে ইসলামের ঘাঁটি বানাই। চট্টগ্রামের মাটি ইসলামের ঘাঁটি। ৮ দলের এই শক্তি ক্ষমতায় গেলে আপনারাই দেশ শাসন করবেন। কারো দাদার শক্তিতে এ দেশ আর চলবে না।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদশ এমন পর্যায়ে দাঁড়াবে বিদেশীরা এখানে পড়ালেখা করতে আসবে, আমাদের দেশে কাজ করতে আসবে। আসুন আমরা সবাই মিলে সেই দেশ গড়ি।’

    ৮ দলের প্রধানদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

    সমাবেশে ৮ দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মুন্সি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আলাউল্লাহ আমিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব আল্লামা মুফতি মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, খেলাফত মজসিলের যুগ্ম মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ইসলামী

    আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আববার, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু মুজাফফর মোহাম্মদ আনাছ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক খুরশিদ আলম ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন।

    আরো বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার, দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহম্মদ আনোয়ারী, চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ প্রমুখ।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম জামায়াতের অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আমিন চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী বান্দরবান জেলা আমির মাওলানা আবদুস সালাম আজাদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আল মুহাম্মদ ইকবাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল ওয়াহেদ, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দীন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, নগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: এ কে এম ফজলুল হক, ডা: ছিদ্দিকুর রহমান, এস এম লুৎফর রহমান, শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ ইসহাক, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহসভাপতি নুর উদ্দিন, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক ও অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান প্রমুখ।

    ওইদিন সকাল থেকে নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে মিছিলে মিছিলে জড়ো হতে থাকেন ৮ দলের নেতাকর্মী ও নগরবাসী। দুপুর পৌনে ২টা থেকে শুরু হয় সমাবেশের মূল কার্যক্রম। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    বক্তাদের বক্তব্যের সময় নেতাকর্মীরা পাঁচদফা দাবি নিয়ে স্লোগান দেন।

  • একটি সড়কের অপেক্ষায়

    একটি সড়কের অপেক্ষায়

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    গ্রামের নাম কাঠালিয়া। চাঁদপুরের কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্রামটির অবস্থান। কচুয়া উপজেলার ৫ নম্বর পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ গ্রামে প্রায় এক হাজার ২শ জনসংখ্যা। অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী ও কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী মাধব সরকার বলেন, আমার বয়স ৫৮। সেই শৈশব কাল থেকে দেখে আসা যাতায়াতের কষ্ট যেন শেষ হয়নি আজও। শেষ বয়সে এসেও আধুনিক যুগে এমন দুর্বিষহ কষ্ট আমাদের গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

    দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাতায়াতের জন্য একটি রাস্তা পায়নি কাঠালিয়া গ্রামের মানুষজন। গ্রামটিতে রাস্তা না থাকার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। গ্রামবাসী বর্ষা মৌসুমে কখনও নৌকায়, আবার কখনও হাঁটু বা কোমর পানিতে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ইরি ক্ষেতের কর্দমাক্ত আইল দিয়ে যাতায়াত করছে।

    ওই গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের গ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনও রাস্তা না থাকায় সময়মতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছি না। এতে পড়ালেখায় আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়।
    দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তারা।

    কাঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমাদের গ্রামটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় আমরা অবহেলিত। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে চলাচলে পথ। একটি পক্ষ আদালতে মামলা করলে সেখানে রাস্তার নির্মাণ কাজ থমকে যায়। আধুনিক যুগেও একরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদের নাম কাঠালিয়া গ্রাম। অনেকেই জনপ্রতিনিধি হয়ে আসেন কিন্তু আমাদের দুঃখ ও দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, অনেক বছর ধরে ওই গ্রামে রাস্তা নেই। কিছুদিন আগে আমি ওই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের জন্য পরিদর্শন করি। কিন্তু যে স্থানে রাস্তা নির্মাণ করা হবে তার দু পাশে কৃষকের মালিকানা জমি থাকায় এবং মামলা থাকায় রাস্তা নির্মাণে সমস্যা হচ্ছে। তবে মতলব ও কচুয়া জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণে চেষ্টা চলছে।

    উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলিম লিটন বলেন, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের রাস্তা নির্মাণ কাজের বরাদ্দের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কাঠালিয়া গ্রামের রাস্তাটি বরাদ্দের আওতায় বাদ পড়লে তালিকা তৈরি করে পুনরায় পাঠানো হবে।

    উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান শিশির বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি দুবার কাঠালিয়া গ্রাম পরিদর্শন করি। রাস্তা না থাকায় আমি ও আমার সঙ্গের লোকজনকে ওই গ্রামে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাতে গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪টি সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। কাঠালিয়া গ্রামের মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করেন এবং দুর্ভোগ নিরসনের জন্য আমরা জোরালো চেষ্টা করছি।

  • ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    ফরিদগঞ্জে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে সভা

    ডেস্ক নিউজঃ

     

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রধানদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় সেচ সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কৃষকদের নানান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান শেষে দ্রুত তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, কৃষক সংগ্রাম কমিটি চাঁদপুর-লক্ষীপুর সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন দুলাল।

    সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র ফরিদ্গঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তাফিজুুর রহমান, বিএডিসি চাঁদপুর (ক্ষুদ্রসেচ) ইউনিট’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কৃষক প্রতিনিধি ও কৃষির সাথে সম্পক্ত দপ্তরের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

     

  • পাহাড়ি নারীদের তৈরি পিনন-হাদির কদর দেশ পেরিয়ে বিদেশে

    পাহাড়ি নারীদের তৈরি পিনন-হাদির কদর দেশ পেরিয়ে বিদেশে

    বিডিনিউজ ডেক্স ঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পিনন-হাদি’ এখন কেবল সংস্কৃতির প্রতীক নয়, এটি পাহাড়ি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম এমনকি বিদেশেও এর চাহিদা বাড়ায় ব্যবসার দ্রুত প্রসার লাভ করছে। তবে এই ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা সরকারি ঋণ ও সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে পুঁজির সংকটে ভুগছেন।

    জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ভাষাভাষীর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। পাহাড়ি এসব জনগোষ্ঠী নারীদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন-হাদি। ছোট বড় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পাহাড়ের প্রধান উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু উপলক্ষে পাহাড়ি নারীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের পরিচয় বহন করা এই পোশাকপাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী এই পরিধেয় বস্ত্রের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন শনি ও বুধবারে জমজমাট বাজার বসে পিনন-হাদির। খুচরা ও পাইকারি দামে বিক্রি হয় নারীদের এই পোশাক। হাটের দিন ভোরে দূরদূরান্ত থেকে নানা ডিজাইনের পিনন-হাদি নিয়ে বিক্রি করতে আসেন বিক্রেতারা। চাহিদা বাড়তে থাকায় ঢাকা -চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও। ঐতিহ্যবাহী এই পোশাকের বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে পাহাড়ি নারীরা।

    সম্প্রতি রাঙ্গামাটির বনরুপা বাজার ঘুরে দেখা যায়, নানা ডিজাইনের সারি সারি পিনন-হাদি বিক্রি করছেন নারী বিক্রেতারা। একজোড়া পিনন-হাদির দাম সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতা শতাব্দী চাকমা ও পহেলী চাকমা বলেন, আমরা সকালে ঘাগড়া থেকে এসেছি। এখানে কম দামে পিনন-হাদি পাওয়া যায় তাই কিনতে আসেছি।

    বিক্রেতা তিশা চাকমা বলেন, প্রতিটি পিনন-হাদির ডিজাইন ও কাপড়ের কোয়ালিটির ওপর দাম নির্ভর করে। একটা পিনন-হাদি সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    বিক্রেতা শ্যামলী চাকমা বলেন, পাহাড়ি নারী কারিগরের মাধ্যমে বুনন করে আমরা সপ্তাহে দুই দিন বাজারে এনে বিক্রি করি। মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়। অনেকে পাইকারি দরে কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে নিয়ে যায়। বিশেষ করে যেসব দেশে চাকমা কমিউনিটির লোকজন বসবাস করে।নির্মলা চাকমা বলেন, এই পিনন-হাদি বিক্রি করে আমরা আর্থিকভাবে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছি। অন্যদিকে আমাদের যে ঐতিহ্য সেটা টিকিয়ে রাখছি। বিজু ও বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক উৎসবে পিননের চাহিদা বেশি থাকে। তবে আমাদের ব্যবসা করতে অনেক অর্থের দরকার হয়। কিন্তু আমরা কোনো সরকারি সহযোগিতা বা কোনো ঋণ পাই না। নিজেদের জমানো টাকা আর নানাজনের থেকে ধারদেনা করে ব্যবসা চালাতে হয়।বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, এই ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য যে প্রণোদনামূলক বিনা সুদে ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে সেই প্রকল্প বন্ধ রয়েছে। যার কারণে তাদেরকে ঋণ দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারা চাইলে আমরা তাদেরকে ঋণের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকে সুপারিশ করতে পারি।

    M