ট্যাগ অর্থনীতি ও বানিজ্য
-
নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সবজি থেকে এলাচ—সবখানেই বাড়তি দাম
ডেক্স নিউজ : ঢাকার বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে নিত্যপণ্যের মূল্য। বেশিরভাগ সবজিই এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার ওপরে। অন্যদিকে, সপ্তাহ ব্যবধানে সোনালি মুরগির মূল্য স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম।আজ শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।সপ্তাহ ব্যবধানে অস্থির ঢাকার ডিমের বাজার। সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।বিক্রেতারা বলছেন, ‘সরবরাহ সংকটের কারণেই দাম বেড়েছে।’ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। সেই কারণে পাইকারিতেই দাম বাড়তি রয়েছে। আমরা বাধ্য হয়েই খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করছি।’মুরগির বাজারে অবশ্য সোনালি মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে অন্যান্য জাতের মুরগি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়, দেশি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৭৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় ও লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তবে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সবজির বাজারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ সবজিই এখন ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি পটোল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, পেঁপে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৭০-৮০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু ২০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাজারে সরবরাহ কম। গ্রামাঞ্চল থেকে ঠিকমতো সবজি আসছে না। আবার পরিবহন খরচও বেড়েছে। তাই দামের চাপটা আমাদের ওপরও আছে। আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না, বাজারের অবস্থাই এমন।’অন্যদিকে নিত্যপণ্যের অন্যান্য বাজারেও দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। খোলা আটা ও ময়দার দামও কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫৫ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এলাচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৮০০-৫৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪৫০০-৫০০০ হাজার টাকা।ক্রেতারা বলছেন, ‘বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় দৈনন্দিন খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’রাকিব হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘একদিকে আয় বাড়ছে না, অন্যদিকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিসের দাম বাড়ছে। এভাবে চললে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যাবে।’A M -
চৌগাছায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি
- বিডি ডেস্ক নিউজ
যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।
যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।
এক হাজার ৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে এবং বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকায়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ছোট-বড় ৩০টি হাট-বাজারে নির্ধারিত নতুন দামের চেয়েও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি করছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার সলুয়া, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, চৌগাছা, পাতিবিলিা, হাকিমপুর, নারায়নপুর, পুড়াপাড়া, মাশিলা ও চাদপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে এর দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছিল ৩৮৭ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রির কথা ছিল।
Oil & Gasতবে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলিন্ডারের কৃত্রিম সঙ্কটের অজুহাতে বেশি দাম রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৮১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে।
রোববার বিকেলে উপজেলার চৌগাছা বাজারে খুচরা এক বিক্রেতা বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আমি প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে ডিলাররা ১০ থেকে ১২টি করে সিলিন্ডার দিতেন। এখন তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার দেন। দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেন। আমরা খুচরা ব্যবসায়ী অল্প লাভে ব্যবসা করি।’
বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইডচৌগাছা বাজারের আম্রকানন পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘ক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে এই গ্যাসের দাম বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।’
যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তাদের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ/ আর