ট্যাগ আর্ন্তজাতিক

  • বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

     

    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম আকাশে রহস্যময় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) দৃশ্য হতে পারে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এই বিরল আলোর রেখা দেখা যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা অবাক হয়ে যান।

    সৈকতে উপস্থিত আব্দুর রহিম বলেন, “হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মিসাইলের মতো।’’

    অন্য পর্যটক সাইফুর রহিম বলেন, “পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে এমন দৃশ্য দেখব ভাবিনি। তবে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় লেগেছে।”

    তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক আবহাওয়াবিদ জানান, এটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়।

    এদিকে একটি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ভারত পূর্বেই বঙ্গোপসাগরে তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে রেখেছিল। সূত্র অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    গোয়েন্দা সূত্রটি আরও জানায়, “আমরা বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছি।” তবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার জন্য ‘নোটাম’ (Notice to Airmen) জারি করা হয়েছিল। এতে ওড়িশার ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, এই দ্বীপ থেকেই ভারত নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

    বি/ এ

  • শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    ডেস্ক নিউজ:

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সকল প্রতিনিধিসহ বিজয়ী সবাইকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    বিবৃতিতে শুধু শুভেন্দুর নাম উল্লেখ করা হলেও বিজয়ী সকলের সাফল্য কামনা করেছেন হাসিনা।

    বি/ এ

  • ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান

    ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের দাবি, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে জব্দ করে রাখা ইরানের অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্তকে ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর আন্তরিকতার লক্ষণ’ হিসেবে দেখছে তেহরান। খবর রয়টার্স

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তিনি আরও জানান, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে এবং এই পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    তবে কত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সে বিষয়ে প্রথম সূত্রটি নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে আরেকটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল ছাড়তে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন।

    এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    আট বছর ধরে জব্দ অর্থ

    উল্লেখিত ৬ বিলিয়ন ডলার ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ার কথা ছিল। তবে ওই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামলার পর হামাসের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন আবারও এই অর্থ স্থগিত করে।

    সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণভাবে তা আটকে রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।

    এই অর্থের উৎস মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে আটকে ছিল। ২০১৮ সালে তার প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এই অর্থ জব্দ হয়ে যায় এবং তেহরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিগুলোর পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করা হয়।

    বন্দি বিনিময় ও শর্তযুক্ত ব্যবহার

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দোহা’র মধ্যস্থতায় হওয়া বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তিতে ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিক মুক্তির বিনিময়ে অর্থ ছাড় এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয়।

    তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের আলোচনায় এই অর্থ ছাড়ার বিষয়টি যদি চূড়ান্ত হয়, তবে তা হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমাতে এবং বৃহত্তর সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।

    বি /এ

  • যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    উভয় পক্ষ যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো।

    তেহরান জোর দিয়ে বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

    ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে এটি এর অংশ।

    ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের সম্পদ থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং বছরের পর বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য শিথিলতার বিষয়ে আগ্রহী, তবে তা কেবল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের বিষয়ে ছাড় দেওয়ার বিনিময়েই।

    ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার কর্তৃত্বের স্বীকৃতি চায়, যেখানে তারা ট্রানজিট ফি আদায় এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই প্রণালি তেলের ট্যাংকার এবং অন্যান্য জাহাজের জন্য কোনো রকম সীমাবদ্ধতা ছাড়াই খুলে দেওয়া হোক, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর টোলও অন্তর্ভুক্ত।

    ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের সময়ে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হোক। তেহরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার নিয়ে কোনো আপস চলবে না।

    ইরান চায় এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার, সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি এবং অনাক্রমণনীতির প্রতি অঙ্গীকার। ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরান শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে লড়াই ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

    বি/এ

  • ‘হিজাবি নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে’, ওয়াইসির বক্তব্যে বিতর্ক

    ‘হিজাবি নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে’, ওয়াইসির বক্তব্যে বিতর্ক

    ডেস্ক নিউজঃ

    ভবিষ্যতে কোনো একদিন হিজাব পরা এক মেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি।

    ওয়াইসি মনে করেন, মুসলিমদের ওপর দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলটি মুসলিম নারীদের হিজাব পরতে বাধা দিচ্ছে বলেও হায়দ্রাবাদের সাংসদের অভিযোগ। এরপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ওয়াইসি এসব কথা বলেন।

    মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ভোটপ্রচারে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, এটা পাকিস্তান নয়, এখানে ঘৃণার কোনও জায়গা নেই। তার আশা, বিজেপির এই ঘৃণার রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না।

    ওয়াইসি অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপির বর্তমান সরকার মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরতে দেয় না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন। বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর প্রচার করেন। তিন তালাক নিষিদ্ধ করেন। অথচ মুসলিম মহিলাদের সম্ভ্রম রক্ষার বিরোধী।

    ওয়াইসি বলেন, যে হিজাবকে বিজেপি ঘৃণা করে সেই হিজাব পরা মহিলাই একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধান সেটার অনুমোদন দেয়। এ দেশে বাবাসাহেবের (ভীমরাও রামজি আম্বেদকর)  সংবিধান একজন হিজাব পরা মহিলাকে মেয়র, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুমতি দেয়। আমার আশা একদিন হিজাব পরা মহিলাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভবিষ্যতে সেই দিন আসবে।’

    তবে ওয়াইসির এই কথাগুলো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে বিজেপি। যদিও দলটির একাংশের দাবি এটি স্রেফ ভোট টানার জন্য বলছেন ওয়াইসি। তবে এটিকে ‘গাজাওয়াতুল হিন্দ’ এর অঙ্কুর রূপ হিসেবে দেখছে বিজেপি।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া 

  • চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    চিকেনস নেক ঘিরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক

    ডেস্ক নিউজঃ

    রাশিদুল ইসলাম : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃবাহিনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ভারতীয় সেনাবাহিনী, আর্মি ইন্টেলিজেন্স, ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ), বিএসএফ, এসএসবি, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, আরপিএফ, জিআরপি, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য স্তরের একাধিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল- চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, সীমান্ত নজরদারি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং আন্তঃসংস্থাগত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা।

    দিল্লির বিস্ফোরণ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈঠকের তাৎপর্য : ভারতের সংবাদমাধ্যম ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির লাল কেল্লার নিকটে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার পর উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোর অঞ্চল নতুন করে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণে চলে এসেছে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশগুলো- বিশেষ করে বাংলাদেশ ও নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহ, এবং ভুটান-চীন সীমান্ত পরিস্থিতির সংশ্লিষ্টতা এই বৈঠককে নতুন গুরুত্ব দিয়েছে।

    যদিও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর এই বৈঠককে ‘রুটিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা সম্ভব নয়- এটি আমাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।’ তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বৈঠক প্রতীকীভাবে রুটিনের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

    রেল, সড়ক ও বিমান নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা : বৈঠক শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে যাত্রী তথ্য যাচাই ও আচরণগত স্ক্রিনিং শুরু করা হয়েছে; এনজেপি, শিলিগুড়ি জংশন, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার স্টেশনে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে; রাজধানী এক্সপ্রেস ও বন্দে ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোতে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জাতীয় মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়েতে অতিরিক্ত পুলিশ টহল শুরু করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি : ভারত সরকার একইসাথে তিনটি সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভারত-নেপাল সীমান্ত, ভারত-ভুটান সীমান্ত ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। বিশেষভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) মেশিন স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, যা সীমান্ত দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের তথ্য রিয়েল টাইমে সংগ্রহে সহায়তা করবে।

    রাফাল বিমান ও আধুনিক যুদ্ধসজ্জার বার্তা : বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চিকেনস নেক-সংলগ্ন বিমান ঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমানসহ অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ভূরাজনৈতিক প্রতীকী বার্তা-বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি।

    চিকেনস নেক কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ : চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি ভূখণ্ড, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে। এই সঙ্কীর্ণ করিডোরের চারপাশে রয়েছে- পশ্চিমে নেপাল, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটান ও চীন সীমান্ত। ফলে, এই একটি করিডোরের নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা ভারতের জাতীয় সংহতি ও সামরিক নিরাপত্তার জন্য জীবনরক্ষাকারী ধমনীস্বরূপ।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতীয় উদ্বেগ : বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের পেছনে একটি বড় অপ্রকাশ্য প্রেক্ষাপট রয়েছে- বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতা বিরোধি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক ঘোষণা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপ এবং সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা। এসব বিষয় ভারতের দৃষ্টিতে চিকেনস নেক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে আরো স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

    নিছক রুটিন, নাকি কৌশলগত প্রস্তুতি : সরকারি ভাষ্যে এটি ‘রুটিন বৈঠক’ হলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন নিরাপত্তা ভারসাম্যের প্রস্তুতি, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে ভারতের কৌশলগত বার্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতির রূপরেখা হতে পারে।

    ভূরাজনীতিবিদদের মতে- চিকেনস নেক এখন কেবল একটি ভূগোল নয়- এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ শক্তি-সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    ভারত চিকেন নেককে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলে নিয়ে গণ্ডারের ঘাড়ে পরিণত করতে চায় : ড. শাহীদুজ্জামান

    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, এটা স্পষ্ট যে চিকেনস নেক এখন আঞ্চলিক উত্তেজনা ও দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা দিতে শুরু করেছে। লালমনিরহাটে বাংলাদেশে যে বিমানঘাঁটি উন্নয়ন করছে, মিলিটারি কনস্ট্রাকশন হচ্ছে, হ্যাঙ্গার তৈরি হচ্ছে, চীন কিংবা পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পর সেখানে মোতায়েনের কথা শোনা যাচ্ছে, নিশ্চিতভাবে বলা যায় লালমনিরহাট এখন বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হচ্ছে। চীন সেখানে ইনভলভড হবে কিন্তু এটা ভারত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, যেটাকে ওরা চিকেন নেক বলে যা ২২ কিলোমিটার চওড়া সেটাকে তারা গণ্ডারের ঘাড় বা রাইনো নেকে পরিণত করতে চায়। ভারত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের রংপুরের ভূখণ্ডের বেশ কিছুটা ভেতরে ঢুকে যেতে চাচ্ছে। চিকেন নেকের ২২ কিলোমিটার অংশকে তারা কমপক্ষে ৫০ কিলোমিটারে বর্ধিত করতে চায়। সেখানে যে ভারত কৌশলগতভাবে তিনটি গ্যারিসন স্থাপন করেছে, সেনা মোতায়েন করেছে এসব পরিকল্পনা মাথায় রেখেই। তারা সমর বিন্যাস এমনভাবে করছে, সেনা মোতায়েন এমনভাবে করছে যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যেন চিকেন নেক দখলে নিয়ে নিতে পারে। চীনভীতি ও বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতেই ভারত এসব করছে।

    এম শাহীদুজ্জামান বলেন, ভারতের আভাস থেকে সুস্পষ্ট যে চিকেন নেক দখল বা সেখানকার পরিধি বাড়াতে তারা বাংলাদেশের ভূমি প্রয়োজনে দখলে নেবে। এ কারণেই তিনটি গ্যারিসনে সেনা মোতায়েন করছে তারা। ভারত যদি চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনসহ অন্যান্য আইন ভাঙতে চায় তাহলে তারা সেটাই করবে। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের ওপর ভারত চাপ সৃষ্টি করছে বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু ভারত যদি তা করতে চায় তাহলে বাংলাদেশে আঘাত করেই চিকেন নেকের সম্প্রসারণ ঘটাবে। ভারত বাংলাদেশের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে লালমনিরহাট বিমানবন্দর উন্নয়নকাজ বন্ধ করার জন্যই।

    চীনভীতি থেকে এই তৎপরতা

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন বলেন, ভারত চিকেন নেকের আশেপাশে যে তিনটি সেনাঘাঁটি করেছে বা সম্প্রতি বিষয়টি একাধিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছে, মূলত দেশটি এসব করছে চীনভীতি থেকে। চীন যেকোনো সময় চিকেন নেকের আশেপাশে এলাকা দখল করে নিতে পারে এমন ভীতি কাজ করছে ভারতের মধ্যে। এ কারণেই চিকেন নেক ঘিরে তাদের সামরিক ও বেসামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের অংশ হিসেবেও ভারত এ ধরনের আচরণ করছে। যেমন- লালমনিরহাটের উল্টা পাশে ভারত রাফায়েল বিমান ও সেনা মোতায়েন করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।

    তিনি বলেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে। তিব্বত সীমান্তে ভারতের সাথে চীনের বৈরিতা দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত পুশইন করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ভারত উসকানি দেয়ায় তারা ফের তৎপর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই ভারত এসব করছে। বিশেষ করে কেএনএফকে ভারত টোপ দিয়ে ও দীর্ঘদিন থেকে সন্তু লারমার সমর্থিত গোষ্ঠীকে ভারত পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ব্যবহার করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এ সময়ে ভারতের এ ধরনের অপতৎপরতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো সরকারই আসুক ভারত সে সরকারকে চাপে রাখতে চায় বলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি প্রেশার পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে। ( সুত্র : নয়াদিগন্ত)

    আর আই খান

  • মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    মামদানির বিজয়: গাজায় নীরবতার বিরুদ্ধে সত্যের জয়

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির ঐতিহাসিক বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় লিখেছে। এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং ‘গাজায় নীরবতার উপর সত্যের বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ইসরাইলি নীতির সমালোচনা করায় তাকে ইহুদি-বিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। ভোটাররা বুঝেছেন, গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো বিদ্বেষ নয়, বরং ন্যায়বিচারের আহ্বান। মামদানি বলেছেন, “ন্যায়বিচার কখনো নির্বাচনী হতে পারে না।”

    এর বিপরীতে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো ইসরাইলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, যদি গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বিচার করা হয়, তবে তিনি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবেন। তার এই অবস্থান যে নৈতিক অন্ধত্বকে প্রকাশ করছে, নাগরিকরা তা বুঝতে পেরেছেন।

    হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জিয়াদ মোতালা আল জাজিরায় এক মন্তব্যে বলেন, “মামদানিকে বেছে নিয়ে ভোটাররা, দাতাদের আনুগত্যের উপর জনস্বার্থ এবং গাজায় নীরবতার উপর সত্যকে সমর্থন করেছেন।”

    মামদানি তার প্রচারণায় সাহসিকতার সঙ্গে প্রচলিত রাজনীতির দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন। তিনি শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রশ্নগুলোর সমাধান দিতে চেয়েছেন। কে এই শহরে টিকে থাকতে পারবে? এই প্রশ্নের জবাবে তার নীতিনিষ্ঠ স্পষ্টতা ফুটে উঠেছে। তিনি জনসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, ভাড়াটেদের অধিকার, সর্বজনীন শিশু যত্ন ও বিনামূল্যে গণপরিবহন পাশাপাশি, ধনীদের ন্যায্য কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বার্থে মুদি দোকানের সরকারি মালিকানা প্রস্তাব করেছেন।

    মামদানির বিরোধীরা তাকে ‘সমাজতান্ত্রিক’ বলে আক্রমণ করলেও, ভোটাররা এই পুরনো ভয় দেখানোর কৌশল প্রত্যাখ্যান করেছেন। মামদানি ট্রাম্পের মতো বিভাজনের রাজনীতির নয়, বরং জনসাধারণের কল্যাণকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    নিউইয়র্কের তরুণ ভোটাররা এবার একটু অন্যরকম ছিলেন। তারা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে গাজার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। আর তাই ‘ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতন্ত্র’ এই তত্ত্বকে তারা গ্রহণ করেননি। এমনকি অনেকেই প্রকাশ্যে ইসরাইলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বলতেও ভয় পাননি।

    অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতাও ভোটারদেরকে চরম হতাশ করেছে। সিনেটর চাক শুমার ও প্রতিনিধি হাকিম জেফ্রিস শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থন দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই দ্বিধা-দ্বন্দ ‍ছিল দাতা শ্রেণীর প্রতি নির্ভরতার প্রতিফলন।

    জোহরান মামদানির বিজয় আজ এক প্রজন্মের ক্ষোভ ও আশার প্রতীক। তরুণরা আর ‘ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ হলেও মেনে নিতে হবে’ এই তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। তারা এমন রাজনীতি চায় যা সত্য বলে এবং তার ওপর কাজ করে।

    সূত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

    তাকাইচি জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ঐতিহাসিক নির্বাচনে জিতে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ৬৪ বছর বয়সী এই রক্ষণশীল নেত্রী জাপানের আয়রন লেডি নামে পরিচিত। তৃতীয়বারের চেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন তিনি।

  • কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ইসরায়েল: জার্মানি

    কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ইসরায়েল: জার্মানি

    নিউজ ডেস্ক:

    গাজায় মানবিক সংকট এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইউরোপীয় দেশগুলোর পদক্ষেপ নিয়ে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল বলেছেন, এসব ইস্যুতে ইসরায়েল ক্রমেই কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জাতিসংঘের ‘দ্বি-রাষ্ট্র’ সমাধান সংক্রান্ত সম্মেলন বয়কট করেছে। এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত দিয়ে ইসরায়েল সফরের আগে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে জোহান ভাডেফুল এ কথা বলেন।

    ভাডেফুল আরও বলেন, ইসরায়েলি সরকারের কিছু সদস্য যেভাবে প্রকাশ্যে দখলদার ভূখণ্ড সংযুক্ত করার হুমকি দিচ্ছেন, তা বিবেচনায় রেখে এখন ইউরোপের অনেক দেশ আলোচনার আগেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত।

    গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কয়েকজন সদস্যসহ ৭০ জনের বেশি ইসরায়েলি আইনপ্রণেতা একটি প্রস্তাব পাস করে। এতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব’ আরোপের আহ্বান জানানো হয়।

    বার্লিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ওয়াডেফুল কড়া ভাষায় বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি আলোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া উচিত। এখন স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে হবে এবং যে কোনো একতরফা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় জার্মানিকেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

    গাজা উপত্যকার অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, সেখানে দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলকে ‘তাৎক্ষণিক, ব্যাপক ও স্থায়ী’ মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে যাতে ‘নাটকীয়’ পরিস্থিতি কিছুটা উপশম হয়।

    তিনি বলেন, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে বিমান পরিবহনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে জার্মানিও অংশ নেবে। তবে এসব স্থলপথে সহায়তা পৌঁছানোর বিকল্প হতে পারে না। প্রয়োজনীয় পরিমাণে সাহায্য শুধু স্থলপথেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। জার্মানি এই স্থলপথ পুনঃস্থাপনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।

  • পদত্যাগ করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক:

    আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী গিনতাউতাস পালুকাস। দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মাঝে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পালুকাসের পদত্যাগের বিষয়ে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদা। খবর আলজাজিরা

    সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির এক বিবৃতিতে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পালুকাস।গত বছর অক্টোবরে তিন দলীয় সংসদীয় জোট গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পালুকাসের পদত্যাগের মাধ্যমে গোটা সরকার ব্যবস্থার পতন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মন্ত্রীসভাও পদত্যাগ করতে পারে। অন্যদিকে নতুন জোট সরকার গঠনের বিষয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। পালুকাস তার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কেলেঙ্কারির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি কমপক্ষে এক দশক আগে করা হয়েছে।

    ২০১২ সালে রাজধানী ভিলনিউসের ইঁদুর নিধন পরিষেবার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ভুলভাবে পরিচালনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে পালুকাস কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে ১৬ হাজার ৫০০ ইউরোর জরিমানার কিছু অংশ পরিশোধ না করার অভিযোগ করা হয়েছে। পালুকাস ওই সময় ভিলনিয়াসের পৌর প্রশাসনের পরিচালক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দর দেয়া কোম্পানিকে অবৈধভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জেলে যেতে হয়নি। লিথুয়ানিয়ার দুর্নীতিবিরোধী ও আইন প্রণোয়নকারী সংস্থাও পালুকাসের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পালুকাস। তিনি এগুলোকে বিরোধী দলের কারসাজি হিসেবে অভিযোগ করেছেন।