ট্যাগ জাতীয়

  • মোল্লার হাটে ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মানের দাবি

    মোল্লার হাটে ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মানের দাবি

    ডেস্ক নিউজ:

    বাগের হাট জেলার মোল্ল­ার হাটে ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। প্রতিদিন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীসহ হাজার হাজার মানুষ শ্যালো নৌকাযোগে ধলেশ্বরী নদী পার হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলে এলাকার  সাধারণ মানুষের চলা চলে সুবিধা হবে।

    সেতু নির্মানের জন্য সরকারের দৃষ্ট করেছে মোল্লাহাটের স্কুল কলেজ, এলাকার সাধারণ মানুষ।

  • নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    ডেস্ক নিউজ :

     

    বাগেরহাটের সদর উপজেলার বাসাবাটি এলাকায় নারীদের হাতে তৈরি অর্গানিক পণ্য এখন শুধু ঘরের সাজসজ্জা নয়, তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের উৎস। নারকেলের ছোবড়া, কাঠ, কাপড় ও সুতা দিয়ে তাদের হাতে তৈরি পাখির বাসা, বিড়ালের খেলনা, দোলনা, জুতাসহ নানা ধরনের পণ্য বাজারে বিক্রি হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় এগুলো। রোজী আহমেদের উদ্যোগে নারীবান্ধব এই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন ৮০ জন নারী। এই শ্রম শুধু নারীদের আয়ের পথই খুলে দেয়নি, জুগিয়েছে তাদের আত্মবিশ্বাস।

    সরেজমিনে দেখা যায়, রোজী আহমেদের ফ্যাক্টরিতে, বাড়ির উঠানে এবং পাশের দুটি একতলা ভবনে তৈরি হচ্ছে ৫০-৬০ প্রকারের অর্গানিক পণ্য। নারকেলের ছোবড়া ও আঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাখির বাসা, দোলনা, নারকেলের জুতা। কাঠ, কাপড় ও সুতো দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিড়ালের খেলনা, চপিং বোর্ড, দোলনা, কাপড়ের ব্যাগ। প্রতিটি পণ্যে নারীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্ট। প্রতিটি পণ্য নকশা অনুযায়ী সজ্জিত করা হয়, পরিশোধন করা হয়, এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য নিখুঁতভাবে প্যাক করা হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই উদ্যোগে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীরা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। প্রতিটি পণ্যে তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতার ছোঁয়া রয়েছে।

    রোজী আহমেদের তিনতলা বসতবাড়ি ও পাশের দুটি একতলা ভবন মিলিয়ে গড়ে উঠেছে অর্গানিক প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি। এখানে কমপক্ষে ৮০ জন নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা প্রত্যেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছেন। নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নারীরা অত্যন্ত খুশি।

    করোনার সময় যখন সমস্ত মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখনই রোজী আহমেদ ফেসবুকে নিজের হাতে তৈরি নারকেলের মাজুনি বিক্রি শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর উদ্দিপন নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আঁশের তৈরি পাখির বাসার তৈরির অর্ডার দেন। এরপর একের পর এক নতুন পণ্য তৈরি শুরু হয় এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশে বিক্রি করা শুরু হয়।

    বিসিক, বাগেরহাট উপ-ব্যবস্থাপক শরীফ সরদার বলেন, রোজী আহমেদের উদ্যোগ নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। অর্গানিক পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। এটি অন্যান্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। রোজী আহমেদ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা-২০২৪’ পেয়েছেন।

    বাগেরহাটের এই উদ্যোগ শুধু নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা আনার পথ খুলছে। প্রতিটি নারী শ্রমিকের প্রতিদিনের শ্রম, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায় অর্গানিক পণ্যকে দেশের এবং বিদেশের বাজারে পরিচিতি দিয়েছে। রোজী আহমেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ অসহায় নারীদের জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।

    নারীরা প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছে, নতুন কিছু তৈরি করছে, এবং প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে তাদের জীবনের গল্প ও স্বপ্ন মিশে আছে। এই উদ্যোগ অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস এবং এটি প্রমাণ করছে, উদ্যোক্তা নারীর উদ্যোগে একদম ছোট উপকরণ থেকেও বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।

  • সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    ডেস্ক নিউজ :

     

    রাতের আঁধারে সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একদল শিকারি। তবে বন বিভাগের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে পুরো চক্রটি।

    শনিবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির হোন্দল এলাকা থেকে সাত শিকারিকে আটক করে বন বিভাগের স্মার্ট টিম–১ এর সদস্যরা।

    বন বিভাগ জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বন বিভাগের পতাকাসহ দুটি ট্রলার, ১০০টি হরিণ শিকারের হাটা ফাঁদ, একটি মই জাল, একটি করাত, ২০টি কন্টেইনার, দুটি ড্রাম, একটি নোঙর, তিনটি ত্রিপল, দুটি পাতিল ও দুটি ককসিট জব্দ করা হয়।

    আটকরা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শগুনা গ্রামের মনোজ পাল (৪২), বাইনতলা গ্রামের মুজিবুর রহমান (৫৬), চাঁনপুর গ্রামের মুনাফ আলী মোল্লা (২২), মোজাম্মেল শেখ (৫২), বারইপাড়া গ্রামের খান তামিম (২০), ওহিদ মল্লিক (৩৬) এবং মোংলার জয়মনি গ্রামের আলী হোসেন (৪৫)।

    বন আইনে মামলা দায়েরের পর রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আটক সাতজনকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গভীর রাতে হোন্দল এলাকায় হরিণ শিকারের ফাঁদ পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একটি চক্র। আমাদের স্মার্ট টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    বি/এ

  • দামুড়হুদায় তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    দামুড়হুদায় তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    ডেস্ক নিউজ

    ডিমের ক্রয় বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ না করা, পণ্যের মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়সহ নানা অপরাধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন জেলা টাস্কফোর্স কমিটি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    রোববার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি বাজার ও দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিম, পেয়াজ, মাছ-মাংশ, সবজি ও মুদিদোকানসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠানে তদারকি করার সময় এ জরিমানা করা হয়।

    অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোহা. সজল আহম্মেদ জানান, অভিযানে ডুগডুগি বাজারে মেসার্স রাজিব স্টোর নামক প্রতিষ্ঠানে ডিমের ক্রয় বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ না করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রাজিব হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৮ ও ৫১ ধারায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর মেসার্স শামিম ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক শামিম হোসেনকে মেয়াদ উত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রয়, সারের মুল্যতালিকা না থাকা, দাম বেশি নেওয়া ও ভাউচার প্রদান না করার অপরাধে একই ধারায় ৫ হাজার টাকা, এবং অপর একটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কৌশিক স্টোরের মালিক সুদেব হালদারকে একই ধারায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন- জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান, ছাত্র প্রতিনিধি মুশফিকুর রহিম, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি টিম।

  • দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সফল মঙ্গল মিয়া

    দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও সফল মঙ্গল মিয়া

    ডেস্ক নিউজ:

    বর্তমান সমাজে অনেকেই প্রতিবন্ধকতাকে জীবনের বোঝা মনে করে ভিক্ষাবৃত্তি বা নির্ভরশীলতার পথ বেছে নেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গার মঙ্গল মিয়া সেসব মানুষের জন্য অনন্য উদাহরণ। দুই চোখ অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজ পরিশ্রমে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাবলম্বী হয়ে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের পুড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গল মিয়া প্রায় ৩৫ বছর ধরে দৃষ্টিহীন। তবু তার কথা বলা, চলাফেরা ও কাজের ধরন দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তিনি চোখে দেখতে পান না।

    প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মঙ্গল মিয়া হাতে একটি লাঠি নিয়ে বের হন। কোনো সহযোগিতা ছাড়াই তিনি খুলেন নিজের ছোট্ট দোকান। সেখানে তিনি বাইসাইকেল, পানির পাম্প, স্যালো মেশিন এমনকি পাওয়ার টিলার পর্যন্ত মেরামতের কাজ করেন।

    অন্ধত্ব সত্ত্বেও তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত হন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ তাদের স্যালো মেশিন, টিউবওয়েল বা পাওয়ার টিলার মেরামতের জন্য একমাত্র মঙ্গল মিয়ার ওপর নির্ভর করেন। শুধু তাই নয়, তিনি হাতের স্পর্শেই টাকার পরিমাণ বুঝতে পারেন এবং একবার শোনা ফোন নম্বর মুখস্থ রাখতে পারেন নিখুঁতভাবে।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গল মিয়া একজন পরিশ্রমী ও দক্ষ মেকানিক। অন্ধত্ব কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। বহু দূর থেকেও মানুষ তার কাছে মেশিন মেরামত করাতে আসেন।

    নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে মঙ্গল মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর হলো আমি চোখে দেখি না। ছোটবেলায় সাইকেল সারানোর কাজ শিখেছিলাম। পরে স্যালো মেশিন ও পাওয়ার টিলার মেরামত শিখি। এমনকি একসময় বিদ্যুতের কাজও করেছি। একা একাই সব করি। এখন পর্যন্ত আনুমানিক এক লাখেরও বেশি টিউবওয়েল স্থাপন করেছি।’

    চোখে না দেখেও জীবন ও পরিশ্রমের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন মঙ্গল মিয়া। তার অদম্য সাহস ও পরিশ্রম প্রমাণ করে- ইচ্ছা থাকলে অন্ধত্বও কোনো বাধা নয়, বরং প্রেরণার উৎস হতে পারে।

  • মাগুরা সদরের ‍কৃষি অফিসার স্ট্যান্ড রিলিজ

    মাগুরা সদরের ‍কৃষি অফিসার স্ট্যান্ড রিলিজ

    ডেস্ক নিউজ:

    নানা অনিয়ম দূর্ণীতিতে অভিযুক্ত মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ তোজাম্মেল হককে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে।

    দীর্ঘ চার বছর একই উপজেলায় কর্মরত থাকার পর পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে তিনি একই কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়মত দূর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

    মাঠ পর্যায়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃষকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক (পরিচিতি নং–৩৬৯৮, বিসিএস ব্যাচ–৩৬) এর বিরুদ্ধে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে (স্মারক নং–৯৮৯) প্রথম শোকজ নোটিশ জারি করেন। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে (স্মারক নং–৯০৫) সরকারি তথ্য (PDS) সঠিকভাবে না দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়। এরপর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে (স্মারক নং–১৭০৪) তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে উপপরিচালক তাজুল ইসলাম মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে ১২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করেন উপপরিচালক তাজুল ইসলাম।

    নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, তোজাম্মেল হককে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি। তার এই গাফিলতির কারণে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে এবং কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।

    সুত্র: কালবেলা

  • স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে আর ফেরেনি

    স্কুলের উদ্দেশে বেরিয়ে আর ফেরেনি

    ডেস্ক নিউজ:

    ড়াইলের কালিয়া উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে দিমা ইসলাম (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দিমার বাবা কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ দিমা কালিয়া উপজেলার বাঁকা গ্রামের শরিফুল ইসলাম শিকদারের মেয়ে।

    নিখোঁজের পরিবার ও সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিমা নিজ বাড়ি থেকে কালিয়া উপজেলার পিয়ারী মংকর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও ওই স্কুলছাত্রীর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে দিমার বাবা গত শুক্রবার কালিয়া থানায় মেয়ের সন্ধান চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    দিমার মা নিলুফা বেগম বলেন, আমার মেয়ে খুবই সহজ-সরল। সেদিন স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল, তারপর আর ফিরে আসেনি। আমরা খুব চিন্তায় আছি।

    কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে তথ্য পাঠিয়েছি। মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে।

  • থানায় অভিযোগের পর ব্যবসায়ীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ

    থানায় অভিযোগের পর ব্যবসায়ীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ

    ডেস্ক নিউজ:

    নড়াইল সদর উপজেলায় চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়েরের পরের দিনই আসাদুল খন্দকার নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ব্যবসায়ীর পরিবার।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সদরের আগদিয়া গ্রামের ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামিল কবির ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ব্যবসায়ী আসাদুলের মুঠোফোনে অপরিচিত এক নম্বর থেকে ফোন করে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ঘণ্টা খানেক পর আবারও ফোন করে চাঁদা না দিলে বোমা মারার হুমকি দেওয়া হয়। পরের দিন (২৮ অক্টোবর) সদর থানায় ভুক্তভোগী একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

    অভিযোগের পরদিন বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিস্ফোরণ ঘটানোর পর হুমকি দাতারা পুনরায় আসাদুলকে ফোন করে নিশ্চিত করেন, তারা কথা রেখেছেন। ওই কল রেকর্ডে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আসাদুল, তুই বলছিলি যা পারি করতে। দেখছিস পারি কি না? ফোন নম্বর নিয়ে যা পারিস কর’।

    ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল খন্দকার বলেন, আমার ছেলে-মেয়ের তথ্য দিয়ে আমাকে মুঠোফোনে দুই দফায় হুমকি দেওয়া হয়। ৬ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে বোমা মারার হুমকিও দেয় তারা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) হুমকিদাতাদের মোবাইল নম্বর নিয়ে সদর থানায় ঘুরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে না পেরে অভিযোগ দিয়ে আসি। অভিযোগ দিয়ে আসার পর, পুলিশ আমার খোঁজ না নিলেও সন্ত্রাসীরা ঠিকই বোমা মেরে গেছে।নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তদন্ত করে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সুত্র: প্রথম আলো

  • নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

    নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৭

    ডেস্ক নিউজ:

    নড়াইলের লোহাগড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া-মঙ্গলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন, প্রিন্স শেখ (২৬), বিপুল মোল্যা (৪০), রানা মোল্যা (৩০), রাসেল মোল্যা (৩০), রাফিন (১৬), সৌরভ মোল্যা (১৪) ও মিল্টন মোল্যা (৩০)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় বিপুল মোল্যা ও মিল্টন মোল্যার মধ্যে ধান মাড়াই করা ধুলোবালি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এ ঘটনা নিয়ে নওশের মোল্যা সমর্থিত বিপুল মোল্যা ও মজিবর মেম্বারের সমর্থিত মিল্টন মোল্যার মধ্যে দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা (কোচ) ও ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষে বিপুল মোল্যা মুখে টেঁটাবিদ্ধ হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিবেশ বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ২৪০ টাকায় পেলন পুলিশের চাকরি!

    ২৪০ টাকায় পেলন পুলিশের চাকরি!

    ডেস্ক নিউজ:

    মেহেরপুরে পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়ে জেলার সাধারণ পরিবারে বয়ে যাচ্ছে খুশির জোয়ার। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে পুলিশে নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও এবারের নিয়োগ ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।

    মাত্র ২৪০ টাকা খরচ করে ৯ জন যুবক চাকরি পেয়েছেন পুলিশের কনস্টেবল পদে। তাদের মধ্যে আছেন ভ্যানচালক, কৃষক, দিনমজুর পরিবারের সন্তানেরা। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রমাণ করেছে—সত্যিকারের যোগ্যতা থাকলেই সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
    মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের ভ্যানচালক মিন্টু মোল্লার পরিবারের খুশি এখন সবার মুখে মুখে। তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম পুলিশের চাকরি পেয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে মিন্টু মোল্লা অপেক্ষা করছিলেন পুলিশ লাইনের মূল ফটকের সামনে। কিছুক্ষণ পর ছেলে দৌড়ে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরলেন। দুজনের চোখে-মুখে ঝলমল করছিল গর্ব আর আনন্দ।

    মিন্টু মোল্লা জানান, তিনি সারাজীবন ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন। সেই ভ্যানেই ছেলে মাজহারুলকে স্কুলে নিয়ে গেছেন। কখনো ভেবেও দেখেননি, তার ছেলে একদিন পুলিশের চাকরি পাবে। তিনি বলেন, আমার জীবনের কষ্ট বৃথা যায়নি। আজকের এই দিন দেখার জন্যই এতদিন পরিশ্রম করেছি।

    মাজহারুল বলেন, মাত্র ২৪০ টাকা খরচ করে চাকরি পেয়েছি। এখন থেকে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেব। প্রথম বেতন হাতে পেলে সেই টাকা বাবার হাতে তুলে দেব। বাবাই আমাকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাই বাবার সাথে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে চাই সারাজীবন।
    মেহেরপুর শহরের দিঘীরপাড়ার কৃষক আক্কাস আলীর ছেলে রুমমানও চাকরি পেয়ে উচ্ছ্বসিত। রুমমান বলেন, তাদের পরিবার অভাব-অনটনে দিন কাটিয়েছে। বাবার সীমিত আয়ে সংসার চালানোই কঠিন ছিল। এখন চাকরি পাওয়ার পর পরিবারের কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে।

    তিনি জানান, পুলিশে চাকরি করা আমার স্বপ্ন ছিল। পরিবারের কষ্ট কমাতে চাই। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবার সেই সুযোগ এসেছে। এখন কঠোর পরিশ্রম করে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করব।

    শুধু মাজহারুল বা রুমমান নয়, এবারের নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত ৯ জন যুবকের গল্প প্রায় একই রকম। কারো বাবা দিনমজুর, কারো বাবা কৃষক। অনটন, কষ্ট আর সংগ্রামের মাঝেই তারা বড় হয়েছেন। তাদের সবার অভিন্ন বক্তব্য—টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়নি, যোগ্যতার মাধ্যমেই তারা চাকরি পেয়েছেন।

    আরেক সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসান জানান, আগে চাকরি পেতে ঘুষ লাগত এমন অভিযোগ ছিল প্রচুর। এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। এতে যোগ্য তরুণরা উৎসাহিত হয়েছেন।

    মেহেরপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন ছাড়াই যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমরা কেবল যোগ্যতা আর মেধাকেই প্রাধান্য দিয়েছি। এজন্যই সাধারণ পরিবার থেকে আসা ছেলে-মেয়েরা চাকরি পেয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। সেই আস্থা অর্জনের প্রথম শর্ত হলো স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া।
    মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী এবারের কনস্টেবল পদে আবেদন করেছিলেন। লিখিত, মৌখিক, শারীরিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। সবশেষে যোগ্য বিবেচিত হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মাত্র ৯ জন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই মেহেরপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণ।