ট্যাগ জ্বালানি তেল

  • বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    ডেস্ক নিউজঃ

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

    বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার ৮০ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবার লেনদেন চলাকালীন তেলের দাম সর্বোচ্চ ৯৬ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছিল।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর খবরের প্রভাবেই বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

    তবে ঝুঁকি বিশ্লেষণী সংস্থা ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট-এর জ্বালানি ও সম্পদ বিষয়ক প্রধান কাহো ইউ সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলার হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    তিনি আরো বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও জ্বালানি বাজার এখনই সংকট-পূর্ব অবস্থায় ফিরছে না। চীন ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা উত্তেজনা হ্রাসে ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হচ্ছে কি-না, বাজার সেদিকেই নজর রাখছে। আগামী মাসগুলোতে তেলের সরবরাহ ও ট্যাংকার চলাচলের প্রকৃত চিত্রই বলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরছে কি-না। সূত্র: আলজাজিরা

    এম কে

  • কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

    কাঁচা তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে, পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

    নিউজ ডেস্কঃ

    কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর এক লাখ টন কাঁচা তেলবাহী একটি জাহাজ বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, ফলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পূর্ণ উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।‘

    এমটি নাইনেমিয়া’ নামের জাহাজটি বুধবার দুপুরে বন্দরে ভিড়ে।

    ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শরীফ হাসনাত বলেন, ‘আজ দুপুরে জাহাজটি বন্দরে এসেছে। আনলোডিং শেষ হলে আমরা পরিশোধন কার্যক্রম শুরু করে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করব।’

    ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, আনলোডিং প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ৮ বা ৯ মে’র মধ্যে রিফাইনারিটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে জাহাজ চলাচলের সূচি ব্যাহত হওয়ায় রিফাইনারিটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় কাঁচা তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানান, চালানটি মূলত সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে সঙ্ঘাতজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।

    বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় এক হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেলের দাম ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

    দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় চালু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাঁচা তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে।অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

    এম কে

  • ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

    ৫ টাকায় ১২০ কিলোমিটার চলে রতনের মোটরসাইকেল

    ডেস্ক নিউজঃ

    জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি আর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিতে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের, ঠিক সেই সময়েই সম্ভাবনার এক ভিন্ন দিগন্ত দেখাচ্ছেন রাণীশংকৈল উপজেলার এক তরুণ উদ্ভাবক। স্বল্প খরচে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে রতন মহন্ত তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    রাণীশংকৈল পৌর শহরের মহলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত পেশায় একজন অটোভ্যান মেকানিক। সাইকেল-ভ্যান মেরামতের আয়েই চলে তার সংসার। তবে সীমিত আয়ের মধ্যেও তার উদ্ভাবনী চিন্তা থেমে থাকেনি।

    জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি পুরোনো ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনার পর থেকেই নানা যান্ত্রিক জটিলতায় পড়েন রতন। বারবার মেরামত করেও স্থায়ী সমাধান না পেয়ে এবং জ্বালানি খরচের চাপ বাড়তে থাকায় তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। একপর্যায়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেন প্রচলিত ইঞ্জিন সরিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করবেন। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন খুলে সেখানে বসান ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার মোটর।

    তার এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ফল একটি কার্যকর ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল, যা এখন অনায়াসেই সড়কে চলাচল করছে। একবার চার্জে তার তৈরি এই বাইক প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে, যেখানে বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ৫ টাকা। বিপরীতে একই দূরত্বে একটি সাধারণ মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ প্রায় ৪০০ টাকার মতো, যা খরচের দিক থেকে এক বিশাল পার্থক্য তৈরি করেছে।

    রতন মহন্ত বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই আমার কাজ নিয়ে হাসাহাসি করেছে। কেউ বিশ্বাসই করতে চায়নি যে এই বাইক চলতে পারে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। এখন যখন তেলের জন্য মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে, তখন তারাই এসে আমার কাজের প্রশংসা করছে।

    তার এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমছে তার বাড়িতে। অনেক মোটরসাইকেল চালক ইতোমধ্যেই নিজেদের বাইক ব্যাটারিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

    রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ বলেন, তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ রতন খুব সহজেই চলাফেরা করছে, খরচও অনেক কম। আমিও এখন আমার বাইক ব্যাটারিতে রূপান্তরের কথা ভাবছি।

    স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর, নাজমুল ও আক্তার বলেন, বর্তমানে তেলের সংকট আমাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবুও নিশ্চয়তা থাকে না তেল পাব কি না। এতে করে দৈনন্দিন কাজকর্ম, বিশেষ করে যাদের চলাফেরার জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রতনের এই ব্যাটারিচালিত বাইক আমাদের কাছে নতুন আশার মতো মনে হয়েছে। খুব কম খরচে যদি ১০০-১২০ কিলোমিটার চলা যায়, এটা সত্যিই বড় একটা সুবিধা। এতে যেমন খরচ কমবে, তেমনি তেলের জন্য ভোগান্তিও কমে আসবে।

    তারা আরও বলেন, আমরা নিজের চোখে বাইকটা চলতে দেখেছি, যা আমাদের আরও বেশি আগ্রহী করে তুলেছে। ভবিষ্যতে যদি এই প্রযুক্তি আরও উন্নত করা যায় এবং সহজভাবে সবাই ব্যবহার করতে পারে, তাহলে এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠবে। আমরা আশা করি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন উদ্ভাবনকে সহযোগিতা করবে। যাতে রতনের মতো আরও তরুণ সামনে এগিয়ে আসতে পারে।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. মিঠুন বলেন, রতনের এই কাজটা সত্যি অনেক ভালো লাগছে। এত কম খরচে যদি একটা বাইক চলে, তাহলে এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকারে আসবে। এখন তেলের জন্য যে ভোগান্তি, সেটা কমাতে এই ধরনের উদ্যোগ খুব দরকার। আমি মনে করি তাকে যদি একটু সহযোগিতা করা হয়, তাহলে সে আরও ভালো কিছু করতে পারবে এবং এলাকায় এমন নতুন কিছু করার আগ্রহও বাড়বে।

    এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, রতন মহন্তের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিয়েছেন তা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তার এই ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।

    এম কে

  • ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    ঘোড়াঘাটে সাধনা ফিলিং স্টেশনে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক ফিলিং স্টেশন ম্যানেজারকে জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ঘোড়াঘাট উপজেলার সাধনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯-এর ৪০ ও ৪৫ ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ রুবানা তানজিন।অভিযানে সহযোগিতা করেন ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের এসআই মোঃ নজরুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

    জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ব্যতীত তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলার অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়।

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন জানায়, অব্যবস্থাপনার কারণে এবং পাম্পের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। আজ ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল বিক্রির কারণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। পাম্প ম্যানেজার ফুয়েল কার্ড ছাড়া প্রায় ১৫’ শ থেকে ২ হাজার লিটার তেল বিক্রি করছে। ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এই কারণে আমরা ভোক্তা অধিকার আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা্রেে আদায় করেছি।

    এম কে