ট্যাগ বিদ্যুৎ

  • বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার তিনশ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    রোববার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

    বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই বকেয়ার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিল বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে জানান মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিপণনে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা-শেষে সফল হলে সারা দেশব্যাপী তা বাস্তবায়ন করা হবে। উক্ত ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, চীন, আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ওমান ও ভারত হতে সরাসরি চুক্তির আওতায় বিপিসি ৫০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

    তিনি বলেন, ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসি-তে পরিশোধনের জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। বছরে ১৩-১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমদানি করা ক্রুড অয়েলের শতভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়। পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। সামগ্রিকভাবে মোট আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০-২৩ শতাংশ জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

    সরকার দলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও জড়িত ছিলেন। এতে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

    সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ওই অধ্যাদেশটি গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। এর ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    সরকার দলীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং না থাকলেও উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, কৃষি-সেচ ও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে থাকে ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

    বি/ এ