ট্যাগ মাদক

  • মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অধিভুক্ত আধাপাকা দুটি সরকারি ভবন মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে ভবন দুটির দরজা-জানালা ও বারান্দার চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়ে গেছে মাদকসেবীরা। ফলে ভবন দুটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই ভবনগুলোতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও জমিদাতাদের করা মামলার কারণে এবং ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দপ্তরটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো তদারকি না থাকায় ভবন দুটি মাদক সেবন, জুয়া এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর সুবিদখালী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিম সুবিদখালী–বটতলা সড়কের পাশে অবস্থিত ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সীমানাপ্রাচীর থাকলেও লোহার গেটের একটি দরজা ভেঙে পড়ে রয়েছে। দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় ভবন দুটি কঙ্কালে পরিণত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের আলামত, মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এসব কক্ষে মাদক সেবনের পাশাপাশি জুয়ার আসর বসে। চলে অসামাজিক কার্যকলাপও। আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, রাত হলেই দলবেঁধে মাদকসেবীরা ভবনটিতে প্রবেশ করে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট ভাঙা থাকায় মূল ফটক দিয়েই তারা দলবল নিয়ে অবাধে ভেতরে ঢুকে আড্ডা বসিয়ে মাদক সেবন করে। আবাসিক এলাকা হওয়ার এখানে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৬-৮টি পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় অর্ধশত পবিরারের বসবাস। মাদকসেবীদের মধ্যে ২-৪ জন যুবক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বলতে পারি না।

    স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পরিত্যক্ত ভবন দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।’

    মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘ব্যবহার-অনুপযোগী হওয়ায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিসটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। ভবনটির জমিদাতারা মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন, যেখানে আমাদের পক্ষে রায় এসেছে। ইতোমধ্যে ভবনগুলোর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছি।’

    মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. ছালাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানম বলেন, ‘সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক সেবন করা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এম কে

  • নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

    নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজঃ

    বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সীমান্ত নাফনদী ঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহলদল বড় জামছড়ি এলাকার পাহাড়ি পথ থেকে মালিকবিহীন পড়ে থাকা ৯ হাজার ৮৫০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, টহলদল সীমান্তবর্তী বড় জামছড়ি এলাকায় সন্দেহজনক নড়াচড়া লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। টহলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারীরা ইয়াবার ব্যাগটি ফেলে পাহাড়ি ঝোপঝাড়ের ভেতর পালিয়ে যায়। পরে এলাকাটি তল্লাশি করে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের টহলদল নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া প্রণয়নের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

    এম কে

     

  • যুবলীগের সভাপতি এখন ইয়াবা ব্যবসায়ী

    যুবলীগের সভাপতি এখন ইয়াবা ব্যবসায়ী

    ডেস্ক নিউজঃ

    বগুড়ার শাজাহানপুরে ৬৫ পিস ইয়াবাসহ গোহাইল ইউনিয়ন যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ (৪০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি গোহাইল সর্দারপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিরাজুলকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মিরাজ ওই এলাকার মাদক কারবারি।শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    এম কে