ট্যাগ মানবতা

  • মাকে বাঁচাতে আকুতি ঢাবি শিক্ষার্থী সজলের

    মাকে বাঁচাতে আকুতি ঢাবি শিক্ষার্থী সজলের

    ডেস্ক নিউজঃ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী সজল কুমার রায়। বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র পরিবারে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় মেধাবী স্বজল এখন দেশের সেরা বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী। বাড়িতে ভালো পোশাক কিংবা বেশিরভাগ সময় জোটেনি তিনবেলা খাবার। ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ চালাচ্ছেন সংগ্রামী সজল। তবে, এই সংগ্রামী জীবনে সজলকে নতুন করে যুদ্ধ করতে হচ্ছে তার ৪৬ বছর বয়সী মা স্বপ্না রানীর শরীরে বাঁধা অদৃশ্য এক শত্রুর সঙ্গে।

    জটিল ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত সজলের মা স্বপ্না রানী। বাবা কাঠ মিস্ত্রি ও সজলের টিউশনির আয়ের সমন্বয়ে চলা সংসারের পাশাপাশি চলতো মায়ের চিকিৎসা। রোগটি ধরা পড়ার পর গেল দুই বছরে শেষ সম্বল হিসেবে থাকা নিজেদের ১০ শতক জমি, তিনটি গরুসহ সহায়-সম্বল সবই বিক্রি করতে হয়েছে চিকিৎসার খরচে।

    তবে দীর্ঘ সময়েও দেশের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল মেলেনি। ফলে এখন যতদ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    সজল কুমার রায়ের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামে। বাবা মোহননাল চন্দ্র রায় পেশায় কাঠ মিস্ত্রি, মা গৃহিণী। চার ভাইয়ের মধ্যে সজল দ্বিতীয়। পরিবারে বাবা-মা, ভাই-ভাবি ও তাদের এক কন্যা সন্তানসহ সজলের ছোট আরও দুই ভাই রয়েছে। তারা স্থানীয় স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে দশম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ভাই টেক্সটাইলের ডে লেবার হিসেবে কাজ করেন।

    সজলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রথমে রংপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় মা স্বপ্না রানীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ‘সিএআরটি ব্রেস্ট, আইডিসিসি, জি-২’। বেশকিছু দিন সেখানকার চিকিৎসায় আশানুরুপ ফল না পেয়ে পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানেও চিকিৎসার উন্নতি না হয়ে সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল ঢাকার আহসানউল্লাহ মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন স্বপ্না রানীর। সেখানে মেডিকেল ইকোলজি ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. পারভিন শাহিদা আখতারের তত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।

    পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে সজলের মায়ের ক্যান্সার ধরা পরলেও সমেস্যা দেখা দিয়েছিল আরও দুই বছর আগে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভালো চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা যায়নি। প্রথম দুই বছর হোমিও চিকিৎসা করা হয় স্বপ্না রানীর। পরে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে তাকে রংপুরে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

    সজল বলেন, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা জরুরি। মাকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। যা আমাদের সংগ্রহ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যা ছিল সম্বল আগেই বিক্রি করে দিয়েছি।

    তিনি বলেন, শেষ চারমাস ধরে প্রতিমাসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ বাবদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার করে টাকা যাচ্ছে। এতে আমরা হাঁপিয়ে উঠছি। সামনে হয়তো আর সম্ভব হবে না।

    সজল জানান, সর্বশেষ গত (২৩ মার্চ) আহসানিয়া মিশন এন্ড ক্যান্সার জেনারেল হাসপাতালে মাকে দেখানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক প্রথম দিন কোনো ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) দিতে পারেননি, তারা সময় নিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার তারা ডেকেছেন। সেদিন হয়তো চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন। জানি না তারা কি জানান! গত এক বছর যাবত টানা চিকিৎসা চলছে কিন্তু বাংলাদেশের চিকিৎসায় কোনো রেজাল্ট হচ্ছে না।

    দেশের বাইরে জটিল এই রোগের জন্য চিকিৎসায় ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। যা সজলের পরিবারের জন্য জোগার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে মাকে বাঁচাতে দেশের সরকার ও বিত্তবানসহ সরকারি-বেসরকারি দানশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।

    স্বজল কুমার রায়ের নম্বর ০১৬১২০২৩৮৮৬ (বিকাশ, নগদ, রকেট)। এ ছাড়া, ব্র্যাক ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 1066367030001, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 060261339। ইসলামী ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20502156700186003, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 125261337।

    শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে প্রথম শুনলাম। সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সেক্টরে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহযোগিতা করা হয়। তারা যোগাযোগ করলে বা খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

    এম কে

  • নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে সৈয়দপুর থানায় প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগ হস্তান্তর করা হয়। 

    ডেস্ক নিউজঃ

    জানা যায়, দুপুরের দিকে পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক সৈয়দপুর থেকে নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢেলাপীর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা একটি টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মানিব্যাগে থাকা মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে প্রকৃত মালিক আলমগীর হোসেনকে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দেন তিনি। মানিব্যাগে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিল।

    পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক বলেন, আজকে দুপুরের দিকে নীলফামারিতে যাচ্ছিলাম। এ সময় টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। পরে মানিব্যাগে থাকা কাগজপত্র দিয়ে মালিকের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে কল দিয়ে থানায় ডেকে সবকিছু বুঝিয়ে দেই।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, থানার এক পুলিশ সদস্য এক ব্যক্তির টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মালিককে ডেকে সেটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এম কে