বিজেপি নেতা এবং ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং নারী কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তার মামলা থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। ছয়জন নারী কুস্তিগীর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন।

এই মামলাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের শাস্তি এবং ফেডারেশন ভেঙে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরঙ পুনিয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্তরে বিখ্যাত ভারতীয় কুস্তিগীর।

আইন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের পাশাপাশি এই মামলায় আরেক অভিযুক্ত তথা কুস্তি সংস্থার সাবেক সহ-সচিব বিনোদ তোমরকেও এই মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বলেন, ‘আদালত বলেছে, ব্রিজ ভূষণ সিং এবং বিনোদ তোমর, আপনারা দুজনেই সম্মানে সাথে খালাস পেলেন। একেবারে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম যে, যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আসে বা কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ আদালত আমাকে সম্মানের সাথে খালাস দিয়েছেন। এটা আমার এবং আমার অনুরাগীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমি আর কিছু বলব না আজ।’

অন্যদিকে, মামলার রায় প্রকাশ্যে আসার পর কুস্তিগীর ও কংগ্রেস নেত্রী ভিনেশ ফোগাট অভিযোগ করেছেন যে, শুরু থেকেই ব্রিজ ভূষণ সিংকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে সরকার।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘শাসক দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এফআইআর দায়ের করতে আমাদের অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়েছে। নিজের ক্ষমতা ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ব্রিজ ভূষণ অনেক মেয়েকে ভয় দেখিয়ে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু অনেক নারী কুস্তিগীর রুখে দাঁড়িয়ে আদালতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত যে, নারী কুস্তিগীরদের আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।’

অন্যদিকে, কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া বলেছেন, ‘আজকের রায় এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা, তাদের সবকিছুই আছে। তারা সাক্ষীদের ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখন আদালতের বিস্তারিত আদেশ জানার চেষ্টা করছি। কোন ভিত্তিতে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।’