লেখক: Daily BD Times

  • চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    চলনবিলের শুটকি যাচ্ছে দেশ-বিদেশে, ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা

    বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৎস্যভাণ্ডারখ্যাত চলনবিল এলাকার তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় শুটকি তৈরির ধুম পড়ে গেছে। শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের তিন শতাধিক চাতালে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ দিয়ে শুটকি তৈরির প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৭৫.৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শুটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমণ কাঁচা মাছ ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা হয়। তাড়াশের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩ কেজি কাঁচা মাছ থেকে প্রায় ১ কেজি শুটকি তৈরি হয়। উৎপাদিত শুটকি মাছ প্রকারভেদে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি করা হয়।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে চলনবিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। সকাল বা বিকেলে স্থানীয় আড়ত থেকে এসব মাছ কিনে এনে চাতালে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। চলতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের প্রতিটি চাতালে ১০ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে নারীরাই বেশি দক্ষ বলে জানা গেছে।

    চলনবিলে শুটকি তৈরির কাজ শুরু হলেও বাজারজাত হতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। শুকনো মৌসুমে এসব শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, এখানকার উৎপাদিত শুটকির বেশিরভাগই সৈয়দপুর আড়তে যায়।

    তাড়াশ এলাকার শুটকি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, এবার শুটকি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলনবিলে যত্রতত্র পুকুর খনন এবং বন্যা কম হওয়ায় পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বলেন, গত বছর ৩০ থেকে ৩২ মেট্রিক টন শুটকি তৈরি হলেও এবার ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়।

    চাতালের নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা চরম মজুরি বৈষম্যের শিকার। একজন নারী শ্রমিক দিনে ২৫০ টাকা পান, যেখানে পুরুষ শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা এবং তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু নারী শ্রমিকদের কোনো খাবার দেওয়া হয় না।

    উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙ্গাসীর হাছেন আলী বলেন, বর্ষাকালে মাছের আমদানি বেশি হয়। এলাকার হাট-বাজার থেকে মাছ কিনে এনে তারা শুটকি তৈরি করেন। এখানকার শুটকি মাছ সৈয়দপুর, জয়পুরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মোকাম বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়।

    চাতালের নারী শ্রমিক হাফিজা ও শাহিনুর জানান, সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য তারা মাছ বাছাইয়ের কাজ করেন। দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান।

    তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোকারম হোসেন বলেন, ইতিমধ্যেই শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

    উল্লাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, বর্তমানে এখানে ৩০–৩৫টি চাতালে শুটকি উৎপাদন চলছে। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদিত হয়। এখানকার শুটকির চাহিদা দেশের বিভিন্ন মোকাম বাজারে রয়েছে। উৎপাদিত শুটকি ঢাকা ও নীলফামারীতেও পাঠানো হয়।

    সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শুটকি উৎপাদনের জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলছে। সিরাজগঞ্জের শুটকির চাহিদা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও রয়েছে। এখানকার শুটকি নীলফামারী আড়ত হয়ে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।

  • মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে মেহেরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

    মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বে মেহেরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

    মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন সমর্থকদের মধ্যে এ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমজাদ হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মিল্টন পক্ষের বিরুদ্ধে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বিএনপির দুই কার্যালয় ঘিরে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় দুই পক্ষ অফিসের ভেতরের আসবাবপত্র বের করে আগুন দেয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল।

    মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন বলেছেন, মনোনয়ন বঞ্চিত মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সমর্থক গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়ালসহ তার ক্যাডার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলায় বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

    সাবেক সাবেক এমপি আমজাদ হোসেনের বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের পর হামলার পাল্টা জবাবে বিএনপির সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিল্টনের অফিস ভাঙচুর করেন আমজাদ হোসেনের  সমর্থকরা। তবে ্দুই গ্রুপের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়।

    আমজাদ হোসেনের সমর্থকরা দাবি করেছেন প্রথমে মিল্টনের সমর্থকরা একতরফাভাবে হামলা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

    এদিকে মিল্টনের সমর্থক গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু জানিয়েছেন আমজাদ হোসেনের লোকজন তাদের অফিস ভাঙচুর করেছে।

    গাংনী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর গাংনীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    উল্লেখ্য, গতকাল রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মেহেরপুর-২ আসনে এমপি প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মিল্টনের সমর্থকরা সোমবার রাতেই শহরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

  • স্বর্ণের দর পতন

    স্বর্ণের দর পতন

    ডেস্ক নিউজ:

    এবার স্বর্ণের আরো বড় দরপতন। একলাফে ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) কমেছে ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে এক লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকায়। বুধবার থেকে সারা দেশে স্বর্ণের নতুন এ দর কার্যকর হবে।

     

  • মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    মিতব্যয় মানুষের জীবনে বরকত ও শান্তির চাবিকাঠি

    ডেস্ক নিউজ:

    মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য এবং মধ্যপন্থার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় ইসলাম।  শক্তি, অর্থ, সময় এবং সুযোগ—এ সব কিছুর মধ্যে মিতব্যয়ী হওয়া, অপব্যয় ও অতিরিক্ততা পরিহার করা শুধু দুনিয়াতেই নয়, পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য অপরিহার্য। এ জন্য মানবতার সেবায় সব সময় মিতব্যয় ও মধ্যপন্থাকে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ইসলাম।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের তাৎপর্য

    ইসলাম ধর্মে জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তার বান্দাদের হুকুম দিয়েছেন, যাতে তারা তাদের সম্পদ, সময় ও শক্তি সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং কোনো কিছুতেই অতিরিক্ততা বা অপচয় না ঘটায়।

    মধ্যপন্থা ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা, যার মাধ্যমে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে চলতে পারে এবং একে অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না বরং সমাজের উপকারে আসে। এটি মানুষের জীবনে আধ্যাত্মিক শান্তি, সামাজিক ভারসাম্য ও দুনিয়া এবং পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

    মিতব্যয় শুধু অর্থের সংরক্ষণ নয় বরং এটি ব্যক্তিগত আচরণ ও আধ্যাত্মিক চরিত্রের একটি পরিচায়ক। ইসলামি শিক্ষা অনুসারে, আল্লাহ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপব্যয়, কৃপণতা বা অতিরিক্ত খরচের বিপক্ষে সতর্ক করেছেন। কারণ মিতব্যয়ী জীবনই বরকত আনে এবং একে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

    وَ لَا تَجۡعَلۡ یَدَكَ مَغۡلُوۡلَۃً اِلٰی عُنُقِكَ وَ لَا تَبۡسُطۡهَا كُلَّ الۡبَسۡطِ فَتَقۡعُدَ مَلُوۡمًا مَّحۡسُوۡرًا

    ‘আর তুমি বদ্ধমুষ্টি হয়ো না এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না; হলে তুমি তিরস্কৃত ও অনুতপ্ত (নিঃস্ব) হয়ে পড়বে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৯)

    এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, আল্লাহর নিয়ামতগুলো যদি তার নির্দেশিত পদ্ধতিতে ব্যবহার করা না হয়, তবে মানুষ বিপদ-আপদ, অভাব-অনটনের সম্মুখীন হয় এবং রিজিকের বরকত চলে যায়।  আর যে ব্যক্তি মধ্যপন্থায় থাকে, সে শুধু নিজের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলে না বরং তার আশপাশের পরিবেশেও শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে। তাই মানুষের উচিত, আল্লাহর নিয়ামতসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যাতে অপব্যয় ও কৃপণতা পরিহার করা যায় এবং জীবনে শান্তি ও বরকত আসে।

    রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী এবং ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, মিতব্যয়ী জীবনযাপন মানুষকে দারিদ্র্যের হাত থেকে রক্ষা করে এবং এটি আল্লাহর বরকত অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়।  তিনি বলেছেন-

    ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৭/৩০৩)।

    মধ্যপন্থা ও মিতব্যয়ী হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি অতিরিক্ত খরচ, আর্থিক সংকট, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে। উপরন্তু, এটি পরকালেও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কার লাভের পথ সুগম করে।

    অপব্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব

    অপব্যয় শুধু আর্থিক দিকেই ক্ষতি সৃষ্টি করে না, বরং এর মাধ্যমে মানুষের রিজিকের বরকতও চলে যায়।  আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِیۡنَتَكُمۡ عِنۡدَ كُلِّ مَسۡجِدٍ وَّ كُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ۚ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ

    ‘হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ গ্রহণ কর, আর খাও এবং পান কর। তবে অপব্যয় ও অমিতাচার করবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৩১)

    রাসূলুল্লাহ (সা.)ও নিজ জীবনযাপনে অপব্যয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন।  একবার তিনি সাদ (রা.)-কে অজুর মধ্যে অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করতে দেখে প্রশ্ন করেছিলেন-

    مَا هَذَا السَّرَفُ ‏”‏ فَقَالَ أَفِي الْوُضُوءِ إِسْرَافٌ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ وَإِنْ كُنْتَ عَلَى نَهَرٍ جَارٍ‏”‏

    ‘হে সাদ! অপচয় করছ কেন?’ সাদ (রা.) বলেছেন, ‘অজুতে কি অপচয় হয়?’ তখন নবী (সা.) বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, প্রবহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো, তা অপচয়।’ (ইবনে মাজাহ ৪২৫)

    মিতব্যয়ী জীবন: দারিদ্র্য মুক্তির উপায়

    যারা উপার্জন ও ব্যয়ে পরিমিতবোধের চর্চা করবে, তারা কখনো অভাবগ্রস্ত হবে না। রাসুল (সা.) হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, যারা মিতব্যয়ী জীবনযাপন করেন, তারা কখনো দারিদ্র্যের মুখোমুখি হন না।  হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন- ‘যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে নিঃস্ব হয় না।’ (মুসনাদে আহমাদ ৭/৩০৩)

    আল্লাহর পছন্দ ও অপছন্দ

    অনেক সময় আমরা খরচের ক্ষেত্রে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, লোকদেখানো খরচ করি, যা পরকালে কোনো লাভ বয়ে আনে না।  হাদিসে এসেছে-

    ‘আল্লাহ আমাদের তিনটি বিষয় পছন্দ করেন—তার ইবাদত করা, তার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকা। অন্যদিকে, তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন— অহেতুক কথা বলা, অহেতুক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক সম্পদ বিনষ্ট করা। ’(মুসলিম ১৭১৫)

    অতএব, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মিতব্যয়ী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  বাবা-মা, ভাইবোন ও স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করা উচিত, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো অনর্থক খরচ না হয়।  কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

    اِنَّ الۡمُبَذِّرِیۡنَ كَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ ؕ وَ كَانَ الشَّیۡطٰنُ لِرَبِّهٖ كَفُوۡرًا

    ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের প্রতি ঘোর অকৃতজ্ঞ।’ (সুরা বনি ইসরাইল: আয়াত ২৭)

    আসুন, আমরা সবাই ইসলামিক আদর্শে মিতব্যয়ী জীবনযাপন করি।  আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি।  দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও বরকত অর্জন করি। মিতব্যয়ী হয়ে  পরকালেও শান্তি এবং মুক্তি অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

    বি/এ

  • বিচারপতি খুরশীদ আলমকে অপসারণ

    বিচারপতি খুরশীদ আলমকে অপসারণ

    ডেস্ক নিউজ:

     

    সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারকে অপসারণ করেছেন রাষ্ট্রপতি।

    বুধবার (৫ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার তার পদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন।

    সংবিধানের পুনর্বহাল অনুচ্ছেদ ৯৬ এর দফা (৬) এর বিধান অনুযায়ী তাকে অপসারণ করা হলো বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

    সূত্র: যুগান্তর

    বি/এ

  • বিএনপির কাছে ২২২ আসনই চায় মিত্ররা

    বিএনপির কাছে ২২২ আসনই চায় মিত্ররা

    ডেস্ক নিউজ:

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিনের মিত্রদের নাম অনুপস্থিত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, বাকি ৬৩ আসন জোট ও শরিকদের জন্য খালি রাখা হয়েছে।

    বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ৬৩ আসনের সবকটি জোটের জন্য নয়; বরং কিছু আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় সেগুলো অমীমাংসিত রয়েছে। তবে শরিকদের আসন ছাড়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নেতারা।

    এদিকে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা এবার ধানের শীষ প্রতীক পাবেন না, নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।

    এ পরিস্থিতিতে চার-পাঁচজন নেতা ছাড়া শরিকদের বেশিরভাগেরই দলগত ও নিজস্ব কোনো ভোটব্যাংক না থাকায় তাদের জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। ফলে অমীমাংসিত আসনগুলোয় বিএনপির অন্য কারো কপাল খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ৫০টির বেশি দল একসঙ্গে যুক্ত ছিল। এসব দলের প্রার্থীদের এলাকায় অবস্থান ও জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই শেষে তাদের জন্য ২৫ থেকে ৩০টি আসন ছাড়া হতে পারে। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে জোট হলে তাদের জন্য আরো প্রায় ১০টি আসন ছাড়া হতে পারে।

    মিত্রদের আসন ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে। তাদের কে কোথায় নির্বাচন করবেন, তার আলোচনা চলছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

    তবে বিএনপি এখনো জোটের জন্য কত আসন ছাড়বে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৫-৩০টি আসন পেতে পারে বিএনপির আন্দোলনের শরিকরা।

    অন্যদিকে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ ছয় নেতা কে কোথায় নির্বাচন করবেন, তা জানতে চেয়েছিল বিএনপি। পরে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে তখন শীর্ষ নেতাদের প্রার্থিতার বিষয়ে বিএনপিকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ নেতাকে ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনি এলাকায় কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। তারা হলেন পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৭ আসনে

    বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। বাকিরা হলেন ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।এনসিপির সঙ্গে জোট হলে প্রায় ১০টি আসন ছাড়তে পারে বিএনপি। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, দক্ষিণের হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা-৪, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-১৮, তাসনিম জারা ঢাকা-৯, সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২, হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, আদিবুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ থেকে নির্বাচন করতে পারেন।

    সুত্র: আমার দেশ

    বি/এ

  • মনিরামপুর সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

    মনিরামপুর সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

    ডেস্ক নিউজ:

     

    যশোরের মনিরামপুর সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছে। আজ বুধবার উপজেলার ঝিকরগাছা-মনিরামপুর সড়কের বাকোশপোল বাজার এলাকায়  মোটর সাইকেল – ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন মনিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের রণজিত কুমার দাস (৪৯) ও তাঁর স্ত্রী পাপিয়া দাস (৪০)। রণজিত মনিরামপুর উপজেলার বাজিতপুর শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ আর মহিলা কলেজের প্রভাষক ও তাঁর স্ত্রী পাপিয়া দাস একই উপজেলার জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল দপ্তরে মেকানিক পদে কাজ করতেন।

    রণজিতের ভাই জীবন কুমার দাস জানান, স্ত্রী পাপিয়াকে নিয়ে নিজ গ্রাম থেকে মনিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন রণজিত। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাওয়ার টিলারের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তাঁরা উভয়ই সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে উভয়কে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

    মনিরামপুর থানার ওসি বাবলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, পাওয়ার টিলারের চালক পালিয়েছেন। পাওয়ার টিলারটি আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    বি/এ

     

     

  • উচ্চ মূল্যেও লোকসানের চাপে ঈশ্বরদীর শিম চাষীরা

    উচ্চ মূল্যেও লোকসানের চাপে ঈশ্বরদীর শিম চাষীরা

    বিডিনিউজ ডেক্স : পাইকারি বাজারে শিমের কেজি ৪০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে সেই শিমের দাম দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়। মৌসুমের এই সময়েও শিমের এমন উচ্চ মূল্যে সাধারণ জনগণ দিশেহারা। তবে চলমান এই উচ্চ মূল্য সত্ত্বেও লোকসানের চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ঈশ্বরদীর শিম চাষীরা।

    ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে শিম চাষের মোট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১২৯০ হেক্টর জমিতে এর মধ্যে আগাম শিম হিসেবে ইতোমধ্যে ৯১০ হেক্টর জমিতে চাষ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৩৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শিম চাষ হবে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ অঞ্চলের কৃষকরা এবছর আগাম জাতের শিম চাষ করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

    উপজেলার শিম প্রধান এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিম ও শিমের ফুল শূন্য মাচানে কাজ করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। শিম চাষীরা জানান, নিয়মিত রুটিন করে লতা ছাড়ানো, শুকিয়ে যাওয়া ফুল পরিষ্কার করা এবং ছত্রাকনাশক, ভিটামিন ও পচন রোধে স্প্রে করতে হয়। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় খরচের চেয়ে ফলন কম থাকায় লোকসানে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

    ঢুলটি এলাকার শিম চাষী সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের মানহীন কীটনাশক বিক্রির ফলে তাঁরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ এসব নিম্নমানের বালাইনাশক ফসলের কোনো উপকারে আসছে না। রেজওয়ান নগর এলাকার চাষী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার ভরা মৌসুমেও দাম কমার সাথে সাথে উৎপাদন না বাড়ায় লোকসানের চিন্তায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। রামনাথপুরের চাষী ইমরান হোসেন জানান, কিছু বালাইনাশক ব্যবহার করে তাদের গাছের ফুল ও শিমের কড়ি ঝরে পড়ছে, এতে ফলন কমার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে।

    ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ থেকে ৮ শত বৈধ কীটনাশক কোম্পানি রয়েছে। কোম্পানিগুলো যেন মানহীন পণ্য উৎপাদন না করে, সে জন্য নিয়মিত তাদের পণ্যের গুণগত মান যাচাই করতে ল্যাবে প্রেরণ করা হয়। তিনি কৃষকদের ভালো কোম্পানি খুঁজে সেই পণ্যগুলো ব্যবহার করার নির্দেশ দেন।

    তিনি আরও বলেন, এবছর আগাম শিম উৎপাদনকারীরা বিঘা প্রতি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মুনাফা অর্জন করেছে। তবে ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের শিমের ভালো ফলন পেতে নিয়মিত গুণগত মানসম্পন্ন বালাইনাশক স্প্রে করতে হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

  • কে এই জোহরান মামদানি

    কে এই জোহরান মামদানি

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

     

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি। অনেক দিক থেকেই নিউইয়র্কের নির্বাচনে ‘প্রথমবারের’ ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি। গত ১০০ বছরের মধ্যে নিউইয়র্কের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেয়া মেয়রও।

    গত বছরের শেষ দিনে যখন তিনি এই দৌড়ে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন, তখন খুব কম মানুষই তাকে চিনত। তার তেমন অর্থ ছিল না, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমর্থনও ছিল না।

    তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের বড় সমর্থন এবং সাহসী বামপন্থী ধারার মধ্য দিয়ে জোহরান মামদানির এই সাফল্য এসেছে।

    সাবেক গভর্নর কুমোর মতো একসময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিপরীতে তার জয় প্রগতিশীলদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এটি শহরের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে একরকম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে মামদানি বলেছেন, নিউ ইয়র্কের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।

    উগান্ডা থেকে কুইন্সে

    মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে পরিবারের সাথে নিউইয়র্কে আসেন। সেখানে তিনি ব্রঙ্কস হাই স্কুল অফ সায়েন্সে পড়াশোনা করেন এবং পরে বোওডেন কলেজ থেকে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সেখানে তিনি ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’-এর ক্যাম্পাস শাখার একজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

    মিলেনিয়াল প্রজন্মের এই প্রগতিশীল নেতা তার শেকড়ের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে তার ভিত্তিতে এগিয়েছেন। তিনি তার প্রচারণার একটি ভিডিও পুরোপুরি উর্দু ভাষায় করেছেন এবং তাতে বলিউডের সিনেমার দৃশ্য

    যুক্ত করেছেন। আরেকটি ভিডিওতে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেছেন।

    মামদানির স্ত্রী ২৭ বছর বয়সী ব্রুকলিনের সিরিয়ান শিল্পী রামা দুয়াজি। তার মা মীরা নায়ার একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এবং বাবা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক। তার বাবা-মা দুজনেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

    মামদানি নিজেকে গণমানুষের প্রতিনিধি ও সংগঠক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রোফাইলে লেখা হয়েছে, ‘জীবন যখন অনিবার্য দিকে মোড় নিচ্ছিল- সিনেমা, র‍্যাপ আর লেখালেখির বাঁকবদলে, যাই হোক না কেন, সবসময়ই সংগঠন করা তার মাঝে এক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। যে কারণে বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ তাকে হতাশা নয়, বরং কাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

    রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি আবাসন খাতের একজন কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কুইন্সে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করতেন।

    মামদানি তার মুসলিম পরিচয়কে তার প্রচারণার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতেন এবং শহরের উচ্চ জীবনযাত্রার খরচের সঙ্কট নিয়ে উর্দু ভাষায় একটি প্রচারণা ভিডিও প্রকাশ করেছেন।

    এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জানি যে একজন মুসলিম হিসেবে জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে বিসর্জন দিতে হয়।’

    সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ড্রামের রাজনৈতিক পরিচালক জাগপ্রীত সিং বলেন, ‘মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কারো মধ্যে জোহরানের মতো কাউকে দেখিনি, যিনি সামগ্রিকভাবে আমাদের চিন্তার বিষয়গুলোর প্রতিফলন ঘটান।’

    মামদানির সাশ্রয়ী যুদ্ধ

    মামদানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের ভোটাররা চায় ডেমোক্রেটরা সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিক। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি শহর যেখানে চারজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যের সাথে বসবাস করছে। এটি এমন একটি শহর যেখানে প্রতিরাতে পাঁচ লাখ শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমায়।’

    বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ-ও বলেন, ‘এটি এমন একটি শহর যা নিজের সেসব বৈশিষ্ট্য হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, যেগুলো একসময় এটিকে বিশেষ করে তুলেছিল।’

    তার প্রস্তাবনাগুলো হলো- শহরজুড়ে বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, বাড়িভাড়া স্থির রাখা এবং বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা করা, সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর জোর দিয়ে শহরের নিজস্ব মুদি দোকানের চেইন সৃষ্টি করা, ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সারা শহরে বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা তিন গুণ বাড়ানো, যা ইউনিয়নের মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে।

    তার পরিকল্পনায় মেয়রের অফিসের ‘পুনর্বিন্যাস’ বা সংস্কারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাতে করে সম্পত্তির মালিকরা দায়বদ্ধ থাকে এবং চিরস্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংখ্যা বাড়ানো যায়।

    মামদানি তার প্রচারণায় এই নীতিগুলোকে চোখে পড়ার মতো এবং ভাইরাল, অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে এনেছিলেন। তিনি বাসা ভাড়ার বিষয়টি তুলে ধরতে আটলান্টিক সাগরে ডুব দিয়েছেন। তিনি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে তুলে ধরার জন্য একটি বুরিতো (মেক্সিক্যান খাবার) দিয়ে একটি পাতাল রেল সাবওয়েতে রমজানের ইফতার করে রোজা ভাঙেন। এছাড়া, তিনি ভোটের আগের দিন পুরো ম্যানহাটন হেঁটে গেছেন এবং ভোটারদের সাথে সেলফি তুলেছেন।

    যদিও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শহরকে আরো সাশ্রয়ী করা সম্ভব, তবুও সমালোচকরা মনে করছেন, এই অতি উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস মেয়র নির্বাচনে কাউকে সমর্থন না দিয়ে সাধারণভাবে প্রার্থীদের সমালোচনা করে থাকে।

    তাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, মামদানির পরিকল্পনা ‘শহরের চ্যালেঞ্জের সাথে খাপ খায় না’ এবং এটি ‘শাসনের অতি জরুরি সমঝোতাগুলোকে অগ্রাহ্য করে’। তার প্রতিশ্রুত বাসা ভাড়ায় কড়াকড়ি করা হলে আবাসন সঙ্কট বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।

    সমালোচকরা তুলছেন অভিজ্ঞতার প্রশ্ন

    কুমো ও তার সমর্থকরা মনে করছেন, মামদানি এমন পদের জন্য খুবই অদক্ষ এবং কট্টরপন্থী। যেখানে ১১৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট এবং তিন লাখের বেশি পৌর কর্মী রয়েছে।

    বিল ক্লিনটনসহ বড় দাতা ও মধ্যপন্থীদের সমর্থন পাওয়া কুমো অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং কাজ কিভাবে করতে হয় তা জানা প্রয়োজন। ট্রাম্পের সাথে কিভাবে কাজ করতে হয় এবং ওয়াশিংটনে কিভাবে কাজ করতে হয়, সেগুলোও জানতে হবে। এছাড়া রাজ্যের আইনসভার সাথে কিভাবে কাজ করতে হয়, এসব মৌলিক বিষয়েও জানা প্রয়োজন।

    এদিকে, রাজনৈতিক কৌশলবিদ ট্রিপ ইয়াং মনে করেন, এই সময়ে কেবল ‘অভিজ্ঞতা’ দিয়ে আর কাজ হয় না এবং মামদানি না জিতলেও তার প্রচার এমন কাজ করেছে, যা অনেকের কল্পনার বাইরেও ছিল।

    ‘জোহরানকে সমর্থন দিয়েছেন হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ও লাখ লাখ ডোনার। নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে স্থানীয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে এমন তৃণমূল পর্যায়ের আগ্রহ খুব কমই দেখা যায়,’ তিনি বলেন।

    মামদানির সমর্থক লোকমণি রায় বলেন, ‘তিনি আমাদের বুঝতে পারেন, তিনি আমাদের অংশ, তিনি আমাদের এই অভিবাসী সম্প্রদায়েরই অংশ।’

    ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু

    জ্যাকসন হাইটসের এক পার্কে সম্প্রতি মামদানির প্রচারের সময় শিশুদের খেলা, লাতিন খাবারের দোকান ও আইসক্রিম বিক্রেতারা যে দৃশ্য তৈরি করেছিলেন, তা অনেক ডেমোক্রেটের চোখে নিউইয়র্কের বৈচিত্র্য আর শক্তির প্রতীক। তবে এই শহরটি জাতিগত ও রাজনৈতিকভাবে তিক্ততার উর্ধ্বে নয়।

    মামদানি বলেন, তিনি প্রতিদিন ইসলামবিদ্বেষের মুখে পড়েছেন, এমনকি তার পরিবারকেও এর সম্মুখীন হতে হয়েছে। পুলিশের মতে, এই হুমকিগুলো ‘হেট-ক্রাইম’ বা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ভোটারদের মনে সম্ভবত ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের বিষয়ে প্রার্থীদের অবস্থানের দিকটিও কাজ করেছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি দৃঢ় সমর্থন এবং ইসরাইলের সমালোচনা করার কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশিভাগ নেতার সাথে তার মতবিরোধ হয়েছে।

    এই অ্যাসেম্বলি সদস্য এমন বিলেরও প্রস্তাব করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অমান্য করে ইসরাইলের বসতি স্থাপনের সাথে সম্পৃক্ত চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানের নিউইয়র্কে করমুক্ত সুবিধা বাতিল করবে।

    তিনি আরো বলেছিলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা উচিত। অনেকবারই তাকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেছেন, তিনি ইসরাইলের ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে অস্তিত্বের অধিকারকে সমর্থন করেন কি না।

    তিনি বলেছিলেন, ‘ধর্ম বা অন্য কিছুর ভিত্তিতে নাগরিকত্বের শ্রেণিবিন্যাস আছে, এমন কোনো রাষ্ট্রকে সমর্থন করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। আমি মনে করি, এই দেশে আমাদের আধিকার যেভাবে আছে, বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা উচিত। এটাই আমার বিশ্বাস।’

    মামদানি আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে ইহুদি-বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই, এবং তিনি নির্বাচিত হলে ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রতিরোধে তহবিল বাড়াবেন।

    সূত্র : বিবিসি

    বি/এ

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ মৃত্যু!

    ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ মৃত্যু!

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৬৯ জন রোগী।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি, অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচজন, উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনজন এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

    এতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ২১৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৬৮ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), রাজশাহী বিভাগে ৩৪ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), রংপুর বিভাগে ৪৩ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে) নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

    এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ৯৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭১ হাজার ৪৮৭ জন।

    এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৭৫ হাজার ৯৯২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩০২ জনের।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

    বি/এ