লেখক: Daily BD Times

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যা বলল জামায়াত

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যা বলল জামায়াত

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এর আইনি ভিত্তি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আজকের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা সনদে একমত হয়েছি, তবে এর আইনি ভিত্তি এখনো বাকি রয়েছে। সরকারের উচিত তা দ্রুত নিশ্চিত করা।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

    এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পাঁচদিন অব্যাহতভাবে আমরা আলোচনা করেছি। সমাপনী সেশনে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাহেব কনক্লুশান দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর একটা সুপারিশমালা তৈরি হবে, সেটার খসড়া আমরাও পাবো, সরকারের কাছেও যাবে। কিন্তু আমরা উনাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও পাইনি। আজকেও কথা বলেছি, সেই জায়গা থেকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা জাতির কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেল।’

    ‘আমরা বলেছি আইনি ভিত্তি দিতে হবে। আইনি ভিত্তি যদি না দেন তাহলে এই সনদটা, বিপ্লবের স্পিরিট, ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য যে সংস্কার সেই উদ্দেশ্যটা ব্যবহত হবে এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এজন্য আমরা আইনি ভিত্তির জন্য আগেও বলেছি, একটা আদেশ জারি করতে হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে এটা টেকসই করতে হবে’-যোগ করেন আযাদ।

    ডা. তাহেরও আইনগত স্বীকৃতির ওপর জোর দিয়ে যোগ করেন, সনদে স্বাক্ষর করা হলেও আইনগত স্বীকৃতি না থাকায় এর কার্যকরী প্রয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মিটিংয়ে যে নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারিত হয়েছে, সেটি যেন সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করে।
    জামায়াতের এ নেতা সতর্ক করে বলেন, যদি সরকার ডিলে করে বা এমন কিছু চিন্তা করে, তাহলে সেটা আবার জুলাইয়ের সাথে জাতীয় গাদ্দারি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং নতুন রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করবে।

  • কী আছে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায়?

    কী আছে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায়?

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    বহুল আকাঙ্ক্ষিত জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা স্বাক্ষর করেছেন।

    শুক্রবার বিকালে  এ স্বাক্ষর গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় কী আছে তা  পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

    জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা

    গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার ও ঘোষণা করছি যে-

    ১।  জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।

    ২।  যেহেতু জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক, তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সেহেতু রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ গ্রহণ করেছি বিধায় এ সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফশিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব।

    ৩।  জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না, উপরন্তু উক্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।

    ৪।  গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করব।

    ৫।  গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।

    ৬।  জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান এবং বিদ্যমান আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।

    ৭।  জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

  • ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না

    ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দেশের  রাজনৈতিক দলের নেতারা শুক্রবার বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছেন। যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা ও  সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

    তবে বহুল আলোচিত এই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী- বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এজন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে বলেও জাতীয় সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি নয় সিদ্ধান্তে বিএনপি ও জামায়াতসহ মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করে।

  • পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া লজ্জাজনক: জামায়াত আমির

    পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া লজ্জাজনক: জামায়াত আমির

    বিডি নিউজ ডেকস্ক:

     

    জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনেও জুলাই যোদ্ধাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশের হাতে মার খেতে হয়েছে- এটা লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) মিরপুর ১০ নম্বরের শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশের হাতে জুলাই যোদ্ধাদের মার খাওয়া লজ্জাজনক। অনেকের দাবি

    মেনে নেওয়া হচ্ছে অথচ তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতের মতো আর কাউকে এব বেশি জুলুমের শিকার হতে হয়নি। তাই জুলাই মজলুমদের কষ্ট আমরা সবচেয়ে ভালো বুঝি।

    জামায়াত কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়নি উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়া হয়নি।

    সুযোগ থাকার সত্ত্বেও জামায়াত কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়নি উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এমনকি সামনের দিনগুলোতে কাউকে অপরাধ করতে দেওয়া হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির।

  • জুলাই সনদে জরুরি সংশোধন হয়েছে: আলী রীয়াজ

    জুলাই সনদে জরুরি সংশোধন হয়েছে: আলী রীয়াজ

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

     

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এবং  রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর অঙ্গীকারনামার ৫নং দফার পরিবর্তন করা হয়েছে৷

    জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় জরুরি সংশোধন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই বীর যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

    এ সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ অঙ্গীকারনামার ৫নং দফার সংশোধিত ভাষ্যটি পাঠ করেন।

    এতে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।

    কমিশনের সহসভাপতি জানান, কমিশন এই অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারকে সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল এবং ঐকমত্য কমিশনের কোনো মতপার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

  • জুলাই যোদ্ধাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র সংসদ এলাকা

    জুলাই যোদ্ধাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ; রণক্ষেত্র সংসদ এলাকা

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেওয়া ‘জুলাই শহীদের পরিবার ও আহত’ ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

    শুক্রবার দুপুরের দিকে তাদের ওপর লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ডিএমপি কমিশনার তাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা। ভাঙচুরেরও চেষ্টা চালান।

    জুলাই যোদ্ধা, আহত জুলাই যোদ্ধা বিভিন্ন ব্যানারে শুক্রবার সকাল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউতে বেশ কিছু তরুণ জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে স্থাপিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েন।পুলিশি বাধা উপেক্ষ করে বৈধ আমন্ত্রপত্র ছাড়াই প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশের ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।

    একপর্যায়ে ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মঞ্চের সামনে সাজানো চেয়ারগুলোতে বসে পড়েন তারা।

    এরপর মাইক হাতে নিয়ে তাদেরকে শান্ত হবার অনুরোধ করেন একজন প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম উপস্থিত হন।

    পুলিশের ব্যারিকেড একত্রিত করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে।

    জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সেচ ভবনের সামনে তৈরি করা অস্থায়ী তাঁবুতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি এখন থমথমে রয়েছে।এক পর্যায়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থেকে জুলাইযোদ্ধাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেন।

    কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা হুশিয়ারি আমলে না নিলে এক পর্যায়ে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং লাঠিপেটা করে তাদের ভেন্যু থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। পুলিশের লাঠিপেটায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

    এর আগে শুক্রবার সকালে তিন দফা দাবিতে সংসদ ভবনের ফটক টপকে মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন জুলাইযোদ্ধারা। এক পর্যায়ে ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মঞ্চের সামনে সাজানো চেয়ারে বসে পড়েন তারা। এরপর মাইক হাতে নিয়ে তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান একজন প্রতিনিধি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল উপস্থিত হয়।

    সূত্র: আমারদেশ

  • বদলে যাচ্ছে জামালপুরের মানচিত্র!

    বদলে যাচ্ছে জামালপুরের মানচিত্র!

     

    বিডি নিউজ ডেস্ক

    নদীমাতৃক বাংলাদেশে যে কয়টি জেলা সারা বছর ভাঙনের মুখে থাকে তার মধ্যে জামালপুর একটি।

    জামালপুরে বর্ষার ভরা মৌসুমে কিংবা শীতের শুকনো মৌসুমেও যমুনা নদীর পাড় ভাঙতে দেখা যায়। এ ছাড়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্রেও ভাঙনে বদলে যাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে ভরা নদীতে ভাঙন দেখা দিচ্ছে জিঞ্জিরাম নদীতে।

    যমুনার করালগ্রাস আর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনেই বদলে গেছে জেলার মূল মানচিত্র। শুধু ভাঙনেই থেমে নেই নদীগুলো, শুকনো মৌসুমে জেগে ওঠা চর নিয়ে হতে দেখা যায় কাটাকাটি।

    নদীমাতৃক বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে ‘সেচ, পানি উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়’ -এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে ‘পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়’ হিসেবে নতুনভাবে এর নামকরণ করা হয়।  জামালপুরে পাউবোর কার্যক্রম রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই নদীভাঙনের শিকার জামালপুরের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    জানা গেছে, ইমার্জেন্সি ডাম্পিং, এনডিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হলেও স্থায়ী বাঁধ তৈরির প্রকল্প সহজে পাস হয় না। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙতে ভাঙতে, লাল ফাইলের দৌরাত্ম্য চলতে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বসতভিটা ভাঙার পর হয়ত একটা সময় গিয়ে একটা প্রকল্প পাস হয়।

    দেওয়ানগঞ্জের পোল্লাকান্দি এলাকার স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, আমি জন্মের পর যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই দেখি প্রায়ই নদীভাঙন। এ পর্যন্ত অসংখ্যবার আমাদের বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যাদের একটু জায়গাজমি বেশি আছে তারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়। আর যাদের শুধু বাড়ির জায়গাটুকু নদীগর্ভে হারিয়ে যায়, তাদের সপরিবারে অন্য কোথাও চলে যেতে হয়। বেশিরভাগই চলে যায় ঢাকায়। রাজধানীতে গিয়ে তারা জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার চেষ্টা করে।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসমত আলী বলেন, আমাদের বাড়িঘর ২৫-২৬ বার পরিবর্তন করতে হয়েছে। আগেও নদীভাঙন ছিল, এ বছরও পাশের গ্রামে নদীভাঙন চলছে।

    জামালপুর জেলার উত্তর পশ্চিম, পশ্চিম এবং পশ্চিম দক্ষিণ অংশে পুরো যমুনা নদীতে ঘেরা। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ এবং সরিষাবাড়ী উপজেলা যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বদলে গেছে জামালপুর জেলার মূল মানচিত্র। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি, বাজারঘাট, সরকারি বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা নিমেষেই তলিয়ে গেছে যমুনার করালগ্রাসে। ২০৩২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জামালপুর জেলায় বর্তমানে পঁচিশ লাখ মানুষের বসবাস।

    জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান  বলেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। কোনো এলাকায় নদীভাঙনের খবর পেলে দ্রুত সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য যা যা করার করে থাকি কিন্তু পাশ করার দায়িত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।

    তিনি আরও বলেন, যমুনা নদীতে বিশ কিলোমিটার এবং ব্রহ্মপুত্রে দশ কিলোমিটারের মতো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে হয়ত নদীভাঙন মোটামুটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তিন হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে বলে জানান তিনি।

    সূত্র: কালবেলা

     

     

  • নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

    বিডি নিউজ ডেস্ক:

    নেত্রকোনার শতবর্ষের ঐতিহ্যের ধারক ‘বালিশ মিষ্টি’। নেত্রকোনার অনন্য এই মিষ্টি এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। আনুমানিক ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম ‘বালিশ মিষ্টি’। সাধারণ সন্দেশ বা রসগোল্লা থেকে একেবারেই ভিন্ন এই মিষ্টি এখন নেত্রকোনার সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও উপহারের অপরিহার্য অংশ। গয়ানাথ ঘোষের তৃতীয় প্রজন্ম এখনো এই মিষ্টি বানানোর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

    নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ডিপিডিটিতে বালিশ মিষ্টির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। পণ্যের ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বিস্তৃত প্রতিবেদন দাখিলের পর যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি এর স্বীকৃতি মিলল। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান কর্ণধার ও গয়ানাথ ঘোষের নাতি বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে যে মিষ্টির সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।’ তিনি জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে তার বাবা নিখিল চন্দ মোদক এবং এখন তৃতীয় প্রজন্মের তিন ভাই মিলে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

    নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘এর আগে বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই সনদ পেয়েছিল। এবার বালিশ মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় নেত্রকোনাবাসীর গর্ব আরও বেড়ে গেল। আমরা এটিকে জেলার ব্র্যান্ডিং হিসাবে তুলে ধরতে কাজ করব।’ এর আগে ২০২১ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছিল। ২০২৫ সালে এসে বালিশ মিষ্টির এই অর্জন জেলার জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক গৌরব যোগ করল। শত বছর আগে গড়ে ওঠা এই মিষ্টি এখন শুধু স্থানীয় স্বাদের সীমায় নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

  • ভারতে অনুপ্রবেশকালে শেরপুর সীমান্তে ২৪ জন আটক

    ভারতে অনুপ্রবেশকালে শেরপুর সীমান্তে ২৪ জন আটক

    শেরপুর সীমান্তে অবৈধ পথে দালাল চক্রের সহযোগিতায় ভারতে পাচারকালে পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ২৪ জনকে আটক করে বিজিবি। এসময় তাদের থেকে ১৪টি মোবাইল ফোন, একটি হাত ঘড়ি এবং নগদ ৫৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ভোরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম বিওপির সীমান্ত পিলার ১১১০/এমপি এর পাশে শালবাগান হতে তাদের আটক করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদীগ্রাম বিওপির সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি। এসময় ৪টি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বহন করা মোট ২৪ জনকে আটক করে বিজিবি। পরে তারা জানায়, ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চুক্তি হয় শেরপুরের দুইজন দালাল চক্রের সঙ্গে। আর আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং শেরপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ১৪ টি মোবাইল ফোন, একটি হাত ঘড়ি এবং নগদ ৫৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদী হাসান জানান, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে ভারতের চেন্নাই শহরে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। আটককৃত দুই মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ অনুযায়ী ঝিনাইগাতী থানায় মামলা কার হয়েছে।
  • মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে  ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ফেনীর ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

    খেলায় জেলার ছয়টি উপজেলার দল অংশ নিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধনী খেলা ফেনী সদর ও ফুলগাজী উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

    ‎আয়োজক সূত্রে জানায়, টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে এক লাখ টাকা। রানার্স-আপ দল পাবেন ৫০ হাজার টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ২০ হাজার টাকা। টুর্নামেন্টের ক গ্রুপে রয়েছে পরশুরাম, সদর ও ফুলগাজী উপজেলা, আর খ গ্রুপে আছে ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলা। টুর্নামেন্টের প্রতিটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথমে লীগ পর্ব খেলবে। লীগ পর্ব শেষ করে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি ম্যাচে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচন করা হবে এবং দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা গোলকিপারকে যথাক্রমে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে।