লেখক: Daily BD Times

  • ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করেছে, সবচেয়ে ধুরন্ধর গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র সামাল দিয়েছে; রক্তাক্ত হয়েছে, হারিয়েছে বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্বকে- তবু ভেঙে পড়েনি। দিনের পর দিন বীরের মতো মাথা উচু করে লড়েছে, শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষকে বাধ্য করেছে আলোচনার টেবিলে আসতে। ৪০ দিন আগেও যা পুরোপুরি অসম্ভব মনে হচ্ছিল, আজ সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অহং মাটিতে মিশিয়ে কার্যত যুদ্ধজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। ফলে চারদিকে আজ একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের বুকে কি নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটেছে?

    রাজনীতি, জোট বা প্রোপাগান্ডা—সব কিছু সরিয়ে রেখে যদি কেবল বাস্তবতার দিকে তাকানো হয়, তবে একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই: ইরান এমন একটি দেশ যা মাথা নত করতে রাজি নয়। একে কেউ হয়তো কৌশল বলবেন, কেউ বলবেন টিকে থাকার লড়াই, কিংবা একরোখা জেদ—তবে একে উপেক্ষা করা অসম্ভব।

    ইরান কোনো ছোটোখাটো শক্তির বিরুদ্ধে লড়েনি, তারা সরাসরি টক্কর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অন্য যে কোনো দেশ পিছিয়ে আসতো বা চুপচাপ আপস করে নিতো। কিন্তু ইরান তা করেনি। তারা সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছে।

    এরপর আসে ইসরায়েলের কথা—যাদের কাছে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থা। কিন্তু ইরান অনবরত তাদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে, চাপ সহ্য করছে এবং পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এটি কেবল লোকদেখানো প্রতিরোধ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম অশান্ত একটি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় লড়াই।

    সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইরানের পেছনে শক্ত কোনো ‘নিরাপত্তা ঢাল’ নেই। এই মুহূর্তে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তিগুলোর কাছ থেকে কোনো সরাসরি সামরিক সহায়তা বা গ্যারান্টি ছাড়াই তারা এগিয়েছে। এটি কেবল একটি সুচিন্তিত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি নেওয়ার অসীম সাহস মাত্র।

    হামলা, ক্ষয়ক্ষতি বা শীর্ষ নেতাদের হারানো—এসব ইরানের জন্য কোনো কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতা। ইরান বড় বড় ধাক্কা খেয়েছে, তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশটির প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। তারা প্রতিবার নিজেকে সামলে নিয়েছে এবং লড়াই চালিয়ে গেছে। এই ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সহজে আসে না।

    রাজনীতি বা যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি একটু দূর থেকে নিরপেক্ষভাবে দেখে, তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কম দেশই এত চাপের মুখে এমন অটুট মনোবল দেখাতে পেরেছে। ফলে, ইরান এখনই পরাশক্তি—এমন দাবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দেশটির ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে, এ বিষয়ে অনেকেই একমত।

  • সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ পাস

    সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ পাস

    ডেস্ক নিউজঃ     জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। পরে তা সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংসদে পাস হওয়া ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিলের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে এসব অভিযোগ বাতিল করা হবে। এ ছাড়া এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ আইনত বাধা (বারিত) হিসেবে গণ্য হবে। এর আগে, জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলো। এই সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকেও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পাবে সরকার।

  • পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।

    পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।

    ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।

  • হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ পরাজয় হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একতরফা, আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক’ হামলার কৌশল চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

    রাষ্ট্র মালিকানাধীন স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, কিছুদিন আগে ‘আরও আক্রমণাত্মক, আগ্রাসী এবং বিজয় খুব সন্নিকটের’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে এসব নিয়ে অনেক লেখালেখিও করেছিলেন। কিন্তু সেগুলোর সবই এখন ভয়াবহভাবে হেরে গেছে। একতরফা ও উসকানিমূলক হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়েছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেয়। ৩৯ দিনের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
  • স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত একাই লড়বে

    স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত একাই লড়বে

    ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদের পর এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। যদিও ১১ সিটি করপোরেশন ও ৪২ জেলা পরিষদে বর্তমান সরকারদলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষোভের পাশাপাশি এ নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জোরদারের পাশাপাশি প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিচ্ছে জামায়াত।

    ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। জোটের আরো কয়েকটি দলের একই ধরনের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের প্রায় সব পদে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের এলাকায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডসহ নানাভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্যরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    সূত্রমতে, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিশূন্যতা বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি ছিল জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের। তবে বিএনপির বিরোধিতায় অন্তর্বর্তী সরকার সে দাবি আমলে নেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন দেবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন পদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় সে আশাও ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টির কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এটা সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে দলটি।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন একক দলগতভাবে প্রার্থী ঠিক করা হবে। পরে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।

    তিনি আরো জানান, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তীতে আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। সেভাবে আমাদের প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু হয়েছিল। সে প্রস্তুতির সঙ্গে যোগ-বিয়োগ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

    সূত্রমতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য করে অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামী। এতে জামায়াতের ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচন-পরবর্তী ৭৭টি আসন নিয়ে জোটগতভাবে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জামায়াত।

    জামায়াতের মতো জোটের আরো কয়েকটি দল তাদের মতো করে স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচন জোটগতভাবে করার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

    স্থানীয় নির্বাচনকে দ্বিতীয় লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঈদের আগে সিলেটে দলীয় অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম লড়াই ছিল জাতীয় নির্বাচন আর দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। এ লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন আমাদের খালি না থাকে। গত ২৫ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

    সূত্রমতে, স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় গত ১ মার্চ অনুষ্ঠিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। তখন এ নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি নিতে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী কাজ চালাচ্ছেন তারা।

    জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তৃণমূলের মতামত নিয়ে নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী জনপ্রিয় প্রার্থীকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে। এক্ষেত্রে মেয়র প্রার্থী ঠিক করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। উপজেলা পরিষদের জন্য প্রার্থী ঠিক করবেন দলের আঞ্চলিক দায়িত্বশীলরা। ইউনিয়ন পর্যায়ের জন্য জেলা শাখা থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

    ঢাকার দুই সিটিতে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে জামায়াত। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সংরক্ষিত মহিলাসহ প্রায় সব কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। তারা নিজ নিজ এলাকায় শুভেচ্ছা পোস্টারিংসহ বিভিন্ন তৎপরতাও চালাচ্ছেন। তবে মেয়র পদে এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্যরা তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য জামায়াত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭৫টির মধ্যে ৭০ জনের মতো কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ চালাচ্ছেন। তবে মেয়র পদে কেন্দ্র থেকে এখনো কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। এই সিটি এলাকার সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে কেউ প্রার্থী হতে পারেন বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

    একই ধরনের মন্তব্য করে ঢাকা উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা জানান, এই সিটির অধিকাংশ কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তারা ঈদের আগে পোস্টার ছাপিয়ে জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়র পদে এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করা হলেও আগের প্রার্থী হিসেবে মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এর আগে ২০১৮ সালেও উত্তর সিটির মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি।

    আর আই খান

  • যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক আয়োজন করবে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুধবার (৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তাদের প্রতিনিধি দলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতিও দেশটি সংবেদনশীল। একইসাথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ইসলামাবাদ। শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনে আরো ভালো খবর দিতে পারব।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান ধ্বংসের হুমকির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরাইলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর, দেশটির সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবাননও। এর জবাবে ইসরাইল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ও দেশটির দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করে। শরিফ বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘সব জায়গায়’ প্রযোজ্য, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে পরে ইসরাইল জানায়, লেবাননে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয় এবং সেখানে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আকাশ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অস্থায়ী এই যুদ্ধবিরতি এসেছে। তারা ট্রাম্পের ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি ঠেকাতে কাজ করে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে তুরস্ক ও মিসরও। আর চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে বুধবার এএফপিকে জানিয়েছেন ট্রাম্প। দুই বছর আগে ইরানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিনিময় এবং ওয়াশিংটনের সাথে কখনো টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দুই পক্ষের সাথেই উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা আরো জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও বেইজিংয়ের মতো প্রভাবশালী অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল পাকিস্তান। ইরানের সাথে তাদের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ওয়াশিংটনে তেহরানের কোনো দূতাবাস না থাকায়, সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে ইসলামাবাদ।

  • যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরপরই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার ও নাবাতিয়েহ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে চলা সঙ্ঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে- এই দাবি অস্বীকার করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল।সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহ যে কোনো চুক্তির মধ্যে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। ইতোমধ্যে ইসরাইলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরাইলের দখলে চলে যেতে পারে।
  • কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    প্রবাসের যে শহরগুলো একদিন ছিল রুটি-রুজির নিশ্চিন্ত আশ্রয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সেগুলো আজ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। কুয়েত, কাতার কিংবা লেবানন—মানচিত্রভেদে নাম বদলালেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্দশার চিত্র সবখানে একই। মাথার ওপর যুদ্ধের ড্রোন আর মিসাইলের গর্জন, পায়ের নিচে অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের মাটিÑদুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধারা।

    ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে কাতার ও কুয়েতে কঠোর বিধিনিষেধ আর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত শ্রমিক। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলার লেলিহান শিখা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আশ্রয়হীন প্রবাসীদের। আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া আর পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে ফেরার পথও আজ রুদ্ধ তাদের। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশছাড়া এই মানুষগুলো এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো এই মানুষগুলোর জীবনের নিরাপত্তা দেবে কে?

    কাতার : নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধস

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান কাতারে। প্রতিদিন আকাশে সন্দেহভাজন ড্রোন প্রতিরোধের ঘটনা এবং সমুদ্রবন্দর এলাকায় জাহাজে হামলার খবর সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। রাজধানীর মুশরিব ভিআইপি এলাকা, যেখানে একাধিক আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে, সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে কাতার কর্তৃপক্ষ ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করাসহ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

    কাতার প্রবাসী রিফাত আলম হিরো  জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। বিশেষ করে যারা ফ্রি ভিসায় এসে কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তারা এখন কাজ ও আয় হারিয়ে দিশাহারা।

    তিনি বলেন, অনেকের কাজ নেই, আয় নেই। ঘর ভাড়া আর খাবারের খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। দেশে ফিরতেও পারছেন না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অথচ আয় শূন্যের কোঠায়।

    সংকট আরো বেড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থায়। বর্তমানে শুধু কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালু থাকায় টিকিটের দাম সাধারণ প্রবাসীর নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পাসপোর্ট জটিলতা। প্রবাসীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট নবায়নের জন্য জমা দিয়েও তারা তা সময়মতো ফেরত পাচ্ছেন না; ফলে জরুরি প্রয়োজনেও দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংকটকালে পর্যাপ্ত সতর্কতা বা কার্যকর সহায়তা না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

    অন্যদিকে দোহার পুরোনো সমুদ্রবন্দরে একটি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ আটকা পড়ে থাকায় সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে খুললেও স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো ফিরে আসেনি।

    কুয়েত ও লেবানন : আতঙ্কের জনপদ

    কুয়েত থেকে জাহিদ হাসান অভি নামের এক বাংলাদেশি  জানান, সেখানে যুদ্ধ আতঙ্কে জনজীবন থমকে গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় প্রবাসীরা চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু পর্যটক কুয়েতে এসে আটকা পড়েছেন; কারণ কোনো বিমান চলাচল করছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে সর্বত্র।

    অন্যদিকে লেবানন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে; ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি বর্ডার এরিয়া, দাহিয়ে ও বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে তীব্র হামলা চলছে।

    লেবানন প্রবাসী আলমগীর  জানান, বর্তমানে ৫০০-৬০০ বাংলাদেশি বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ৭০ শতাংশই অবৈধ হওয়ায় সেখান থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার হার খুবই কম। বর্তমানে হুন্ডি বা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কাজ হারিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ।

    সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকটে নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থনৈতিক চাপ এবং মানবিক দুর্ভোগের সবচেয়ে ভারী বোঝাটি বইতে হচ্ছে প্রবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে। নিজ ভূমিতে ফেরার আকুতি আর প্রবাসে টিকে থাকার লড়াইয়ে তারা আজ বড়ই একা।

    জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ২০২৬-এর ডেটামতে, কাতারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, কাতারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের প্রবাহে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮৭৭ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। নির্মাণ, সেবা ও ড্রাইভিং খাতে কর্মরত এসব বাংলাদেশি কাতারের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

    কুয়েতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি ছিল মোট অভিবাসনের প্রায় চার শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২০ হাজার ৬৪৪ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। এখানকার সরকারি ক্লিনিং সেক্টর, ড্রাইভিং ও কৃষি খাতে বাংলাদেশিদের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে, যা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত।

    লেবাননে বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যাদের এক বড় অংশ নারী গৃহকর্মী এবং পুরুষ কৃষি ও গ্যারেজ মেকানিক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের অনেকেই দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর্মরত। অর্থনৈতিক মন্দা এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে লেবানন থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • আরবের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়

    আরবের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়

    ডেস্ক নিউজ : ইতিহাসের ধুলোমাখা পাতায় বাগদাদ যেন এক রূপকথার নগরী। দজলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহর একসময় ছিল বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্রভূমি। যখন ইউরোপ অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত, চীনের ঐশ্বর্য পৃথিবীর কাছে প্রচ্ছন্ন, ভারতে সবে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে গৌরবময় মুসলিম শাসন, তখন আব্বাসী খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাগদাদে জ্বলছিল প্রদীপ্ত জ্ঞানশিখা। সেই শিখার উজ্জ্বলতম আধারটির নাম মুসতানসিরিয়া মাদরাসা। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল আরব জাহানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়।

    প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

    হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শুরুর কথা। আব্বাসী খেলাফতের তখন শেষ বিকাল, তবু সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে বাগদাদ তখনো বিশ্বের মধ্যে অনন্য। ৬২৩ হিজরিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পরে খলিফা আল-মুসতানসির বিল্লাহ উপলব্ধি করলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা ও পাঠদানের কার্যক্রমকে সুসংহত করতে বহুমুখী সুবিধা-সংবলিত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। খলিফা মুসতানসির বিল্লাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যা হবে জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার সব শাখা-প্রশাখা বা স্কুল অব থটের সমন্বয়ক। যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানেরও নিরবচ্ছিন্ন চর্চা হবে।

    ৬২৫ হিজরি (১২২৭ খ্রি.) সনে দজলা নদীর পূর্বতীরে মুসতানসিরিয়া মাদরাসার নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ৬৩১ হিজরিতে (১২৩৪ খ্রি.) নির্মাণকাজ শেষ হয়। উৎসবমুখর আয়োজনে মাদরাসাটির উদ্বোধন করা হয়। ১৬০টি উটের পিঠে চাপিয়ে দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ও বইপত্র মাদরাসার লাইব্রেরিতে আনা হয়।

    বৈচিত্র্যময় পাঠ্যক্রম

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম। এটি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র না, বরং সেখানে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো বিদ্যমান ছিল। এই প্রতিষ্ঠানে দক্ষ বিচারক, কূটনীতিক, চিকিৎসক, গণিতবিদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শী ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা হতো।

    ধর্মীয় বিজ্ঞান ও ভাষা-সাহিত্য : কোরআনের তাফসির, হাদিসচর্চা ও ফিকহ (ইসলামি আইন শাস্ত্র) ছিল ধর্ম-শিক্ষার মূল সাবজেক্ট। এই প্রতিষ্ঠানের অনন্যতা ছিল, ইসলামি আইন শাস্ত্রের চারটি স্কুল অব থটের (মাজহাব) সমন্বিত পাঠদান। আরবি ব্যাকরণ এবং উচ্চতর অলংকার শাস্ত্রও পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    প্রাকৃতিক ও গাণিতিক বিজ্ঞান : পাটিগণিত, জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান মুসতানসিরিয়া মাদরাসার পাঠ্যক্রমের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।

    চিকিৎসাশাস্ত্র : মাদরাসার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে একটি বিশেষ চিকিৎসা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত ছিল ‘বিমারিস্তান’ বা হাসপাতাল নামে। সেখানে হাতে-কলমে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা পদ্ধতি শেখানো হতো।

    এছাড়া আরো অনেক বিষয় মাদরাসার শিক্ষা-কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    আবাসিক ব্যবস্থাপনা

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসার আবাসিক ব্যবস্থা ছিল সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপ কর্মসূচির সঙ্গে এর উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য দেখা যায়। খলিফা মুসতানসির বিল্লাহর পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা ছিল এবং পাঠ গ্রহণের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত মনোরম।

    প্রতিটি শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ব্লক ও সুসজ্জিত কক্ষের ব্যবস্থা ছিল। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষ, মাদুর ও গালিচা সরবরাহ করা হতো। মাদরাসার রান্নাঘরে প্রতিদিন উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হতো।

    মাদরাসার লাইব্রেরিতে প্রায় ৮০,০০০ দুর্লভ পাণ্ডুলিপি ছিল। সেখানে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং রাতে পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত আলোর সুবিধা ছিল।

    শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে এক দিনার করে ভাতা দেওয়া হতো। পাশাপাশি সাবান, তেল, লেখার কাগজসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচও বহন করা হতো। অসুস্থদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও ছিল।

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসা ছিল এতিমবান্ধব একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। এখানে এতিম শিশুদের জন্য ছিল আলাদা ‘দারুল কোরআন’। শিক্ষার্থীদের একমাত্র কাজ ছিল রুটি-রুজির চিন্তা না করে জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন থাকা।

    মুসতানসিরিয়ার প্রাণপুরুষ

    মুসতানসিরিয়া মাদরাসা শুধু ইটপাথরের কোনো কাঠামো ছিল না; এর আসল প্রাণ ছিলেন বরেণ্য শিক্ষকরা। মাদরাসার পরিচালক মহিউদ্দিন আবুল মাহাসিন ইউসুফ ইবনুল জাওজি ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত এবং আলোকিত ব্যক্তি। মিসরের সুলতান আলকামিল তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে বলেছেন, ‘দুনিয়ার মানুষের জ্ঞানবুদ্ধির ঘাটতি থাকলেও মহিউদ্দিনের জ্ঞানবুদ্ধি ছিল অনেক বেশি। এই জিনিসটা তার আরেকটু কম হলেই বরং ভালো হতো।’

    শেষ পরিণতি

    ৬৫৬ হিজরির (১২৫৮ খ্রি.) মোঙ্গল সেনাপতি হালাকু খান বাগদাদ অবরোধ করে, তখন ইবনুল জাওজি খলিফার দূত হিসেবে মোঙ্গল শিবিরে গিয়ে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাগ্য ছিল নির্মম। তাতাররা শহরে প্রবেশ করে মুসতানসিরিয়ার বিশ্ববিখ্যাত লাইব্রেরির প্রায় ৮০ হাজার দুর্লভ পাণ্ডুলিপি দজলা নদীতে ফেলে দেয়। এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই ইবনুল জাওজি ও তার তিন ছেলে নির্মমভাবে শহীদ হন।

    আজ দজলা নদীর তীরে মুসতানসিরিয়ার জীর্ণ দেয়ালগুলো সেই হারানো গৌরব ও শৌর্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—সভ্যতার উত্থান ঘটে জ্ঞানের ভিত্তিতে আর পতন ঘটে তখনই, যখন সেই জ্ঞানকে রক্ষা করার শক্তি ও ঐক্য রাষ্ট্র হারিয়ে ফেলে।

    আর আই খান

  • আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’

    ট্রাম্প বলেন, আমি এটা চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এমনটাই হবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যস্থার পরিবর্তন দেখেছি, যেখানে ভিন্ন, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তাধারার মানুষেররা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো ভালো কিছু ঘটতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব—বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এটি। ৪৭ বছরের অবৈধ জুলুম, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক!গত রোববার ইরানকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’, ‘সেতু দিবস’। সময়সীমা হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা’ (যুক্তরাষ্ট্রের সময়)। বাংলাদেশ সময় তা বুধবার সকাল ৬টা।

    পরদিন সোমবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলতে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘এক রাতেই’ নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আর সেই রাতটি হতে পারে মঙ্গলবার রাত।