কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় খুলতে ১৫২ মিলিয়ন ডলার বাজেট প্রস্তাব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা জানান তিনি।
লেখক: Daily BD Times
-

কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় খুলতে ১৫২ মিলিয়ন ডলার বাজেট প্রস্তাব ট্রাম্পের
সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজের কাছে অবস্থিত এই কারাগারটি ‘দ্য রক’ নামেও পরিচিত। একসময় একে আমেরিকার অন্যতম ভয়ংকর ও কুখ্যাত কারাগার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকজন রাজনীতিক। আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় খুলতে, প্রকল্পের চূড়ান্ত খরচ কত দাঁড়াবে এবং আলকাট্রাজকে একটি সক্রিয় কারাগার হিসেবে চালানোর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।উল্লেখ্য, এই কারাগারটি ১৯৬৩ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে -

যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর প্রস্তাবের জবাব তৈরি করেছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে কাজ করা মধ্যস্থতাকারীদের জন্য একটি জবাব প্রস্তুত করা হয়েছে।সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের ইতি টানতে একটি শান্তি প্রস্তাবের রূপরেখা পাকিস্তান তৈরি করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিনিময় করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’র উদ্ধৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা কোনোভাবেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘সঙ্ঘাতের অবসান করতে একদিকে তারা আলোচনাও করতে চায়, অন্যদিকে আবার হামলার আল্টিমেটামও দিচ্ছে।’ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান তার নিজের স্বার্থ বিবেচনা করেই জবাব প্রস্তুত করছে। আমরা শুরু থেকেই বলেছি আমরা কী চাই। আমরা কোনো রেডলাইন অতিক্রম করিনি। আমাদের অবস্থান এখনো পরিষ্কার।’ -

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান নিহত
মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়েদ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের সন্ত্রাসী হামলায়’ মেজর জেনারেল সাইয়েদ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।ইসরাইলি হামলায় তার পূর্বসূরি জেনারেল মোহাম্মদ কাজেমী নিহত হওয়ার পর, ২০২৫ সালের জুনে খাদেমিকে আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।
-

রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি
- ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে চারটি কূপ খনন।
- এর মধ্যে তিনটিতে বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান মেলে।
- খনিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন।
- উত্তোলনযোগ্য প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।
ডেস্ক নিউজঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরে আবিষ্কৃত সম্ভাবনাময় কয়লাখনির কার্যক্রম প্রায় দুই দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনতায় থমকে আছে। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচিত হলেও এখনো শুরু হয়নি কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম।
১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে পীরগঞ্জের খালাশপীর এলাকায় প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় চারটি কূপ খনন করা হয়। এর মধ্যে তিনটিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খনিটিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।
২০০৬ সালের আগস্টে খনির সমীক্ষা প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) অনুপ কুমার রায় বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আমরা প্রস্তুত রেখেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আমদানি করা কয়লা ও ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর (মাগুরা) গ্রামে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খনিটি চালু হলে এখান থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বছরে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হলে প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত রাখা যেতে পারে। এতে দেশের কয়লার চাহিদা দীর্ঘ সময়ের জন্য পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কয়লা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে প্রকল্পটিতে কাজ করছেন ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাঁদের কাজ মূলত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও খনির রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ। খনিটি চালু হলে এলাকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এতে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ বলেন, পীরগঞ্জের কয়লাখনি চালু হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারে। এতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গড়ে উঠবে নতুন শিল্পাঞ্চল, উন্নত হবে যোগাযোগ ও অবকাঠামোব্যবস্থা। আরেক বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, এই কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে দেশের কয়লার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পীরগঞ্জের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ‘সংসদে সুযোগ পেলে পীরগঞ্জের কয়লাখনির বিষয়টি উত্থাপন করব, যাতে দ্রুত এটি উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া যায়।’
এম কে
-

কুড়িগ্রামের এসপিকে প্রত্যাহারের দাবি বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের
ডেস্ক নিউজঃ
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় অটোরিকশা আটকে দম্পতিকে হয়রানির অভিযোগে হওয়া মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী এক ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে সংগঠনের জেলা শাখার দপ্তর সেলের সম্পাদক লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্ট’ আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এসপির ফ্যাসিস্ট আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাজিবপুর উপজেলা ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। মেহেদী ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে-জামাতাসহ কয়েকজনকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। পরে ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রাজিবপুরের বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক রবিউল ইসলাম রবিন বলেন, ঈদের রাতে অটোরিকশায় কয়েকজন যুবক ও দুজন মেয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টিতে সন্দেহ হওয়ায় অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন ছাত্র প্রতিনিধি। শুধু মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এমনটা করেছিল। সেখানে বিবাহিত দম্পতি থাকার বিষয়টি জানা ছিল না।
এ বিষয় নিয়ে জানতে এসপি মাহফুজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ দিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এম কে
-

ভূরুঙ্গামারীতে জুয়েলারি দোকানে হামলা, ১২ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
ডেস্ক নিউজঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি জুয়েলারি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকান থেকে প্রায় ১২ ভরি সোনার গয়না ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন মালিক। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ভূরুঙ্গামারী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দ্য নিউ চিত্ররেখা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গোপাল চন্দ্র প্রসাদ জানান, সুবল, তাপস, পরিমল, তরণীকান্ত, সন্তোষ, সমর, লক্ষণ, সুকুমারসহ অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তি অতর্কিতভাবে তাঁর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ১২ ভরি সোনার বিভিন্ন গয়না নিয়ে যায় তারা। যার মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। হামলার সময় তাঁর বড় ভাই কৃষ্ণ চন্দ্র প্রসাদকেও মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলার প্রমাণ নষ্ট করতে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভূরুঙ্গামারী জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি ও হিন্দু কল্যাণ ফ্রন্টের থানা আহ্বায়ক মধু মোহন প্রসাদ বলেন, একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই জুয়েলারি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার সব জুয়েলারি দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। এই হামলার বিচার দাবি করছে জুয়েলার্স সমিতি।
দোকানের কর্মচারী আল-আমীন বলেন, এক থেকে দেড় শ মানুষ এসে দোকানে হামলা চালায় এবং দোকানমালিকের বড় ভাইকে মারধর করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন সন্তোষ কুমার রায়। তিনি বলেন, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা করা হয়নি; বরং দোকানের মালিকেরাই ভাঙচুর করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম কে
-

লোকজ ঐতিহ্যে মুখর চিলমারী, জমে উঠেছে ‘বউ মেলা’
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের চিলমারীর বালাবাড়ি হাটে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’। এ মেলাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করেই এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ডেস্ক নিউজঃ
সরেজমিন শনিবার( ২৮ মার্চ) দুপুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে নববধূ ও গৃহবধূদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রঙিন শাড়ি, গয়না ও গ্রামীণ সাজে সজ্জিত নারীদের উপস্থিতিতে মেলায় তৈরি হয়েছে এক বর্ণিল পরিবেশ।
মেলায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পসরা—হাতের তৈরি গহনা, মাটির তৈজসপত্র, নকশিকাঁথা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রীসহ নানা রকম গ্রামীণ পণ্য। এছাড়া শিশুদের জন্য খেলনা, নাগরদোলা এবং বাহারি খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নানকে ঘিরে বালাবাড়ি হাটে এ ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে আসছে। প্রায় ৪০০ বছরের এই প্রাচীন আয়োজনের অংশ হিসেবে স্নানের পরবর্তী দুই দিন এলাকায় বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘জামাই মেলা’ এবং পরদিন ‘বউ মেলা’, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য প্রতিফলন।
আয়োজকরা জানান, বালাবাড়ি হাটের এ মেলা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। মূলত নারীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা এই মেলায় তারা নিজেদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম হচ্ছে।
মেলায় আসা সালেহা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, এই মেলায় এসে খুব ভালো লাগছে। এখানে আমরা নিজেদের তৈরি জিনিস বিক্রি করতে পারছি, আবার আনন্দও উপভোগ করছি।
রংপুর থেকে আসা দোকানী রাবেয়া বেগম বলেন, প্রতিবারে অষ্টমীর আগের দিন আসি। অষ্টমীর দিনে ভালোই বিক্রি হয়েছে। এবারে বউ মেলায় তেমন কোন বিক্রি করতে পারিনি। এখানে এবারে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আশা করি, পরের বার যেন সরকারের ব্যবস্থাপনায় মেলাটি হয়।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, আগামীতে এই মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে এবং এটি হয়ে উঠবে অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।
এম কে
-

কুড়িগ্রামে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টি, ভিডিও ভাইরাল
কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে যাওয়ায় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার ( ১৫ মার্চ) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ডেস্ক নিউজঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটেছে। ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সাথে প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
অপরদিকে ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আসামিরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম, মেয়ে আফ্রিদা আজিজ সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং বসতঘরে থাকা আসবাব ভেঙে টাকা চুরি করে।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেন। এরপর থানা-পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার মামলা গ্রহণ করা হয়।
বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।
বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মোবাইল ফোনে তার বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে।
পুলিশকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছে।
এ বিষয়ে উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিরা নারী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি আজ রোববার সকাল ১০টায় ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
এম কে
-

পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে আজিমুল ইসলাম (২৪) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৪ এপ্রিল) তিনি মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে।
ডেস্ক নিউজঃ
মৃত আজিমুল ইসলাম শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামের অটোচালক ফজলুল হকের ছেলে। আজিমুল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে এসে বাবা ফজলুল হকের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চান। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার বাবা টাকা দিতে পারেননি। এতে অভিমান করে আজিমুল নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
মায়ের তৎপরতায় রশি কেটে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
আজিমুল ইসলামের মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এভাবে চলে যাওয়া আমরা কেউই মেনে নিতে পারছি না। আর্থিক সংকটের কারণে তার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান নাঈম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এম কে -

বিয়ের আশ্বাসে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিক গ্রেপ্তার
বিয়ের আশ্বাসে প্রেমিকাকে (২২) ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জাহিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ডেস্ক নিউজঃ
পুলিশ জানায়, নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের ওই নারীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বল্লভের খাষ ইউনিয়নের ধারিয়ার পাড় গ্রামের জাহিদ হাসানের মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় ওই নারীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের আশ্বাস দেন জাহিদ। পথিমধ্যে আয়নালের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদীর তীরে একটি ভুট্রা খেতে নিয়ে গিয়ে জাহিদ ও তার বন্ধু বাবু এবং অজ্ঞাত আরেক বন্ধু পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। পরে গভীর রাতে ওই নারী এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে কচাকাটা থানায় মামলা করা হলে রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি প্রেমিক জাহিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, বিষয়টি জেলা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এম কে