লেখক: Daily BD Times

  • চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরু চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই চোর নিহত হয়েছেন।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন—পার্শ্ববর্তী দশানী গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মজনু (২৭) এবং ছয়আনি গ্রামের বান্ধু মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম (২২)।

    স্থানীয়রা জানান, রাতে পাশের ইমামনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে তালা ভাঙার চেষ্টা করে পাঁচজনের একটি চোরচক্র। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পাঁচজন চোরের মধ্যে দুজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মজনু ও দীন ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তারা দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত চোর ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, গত তিন বছর ধরে এই চক্র এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও কয়েকবার তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও জানান, ধরা পড়ার পর নিহত দুই চোর তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

    এ বিষয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

     

  • ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ডেস্ক নিউজ :

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার ২০টি আসন থেকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সম্ভাব্য ১৬২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ২৭ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। সে হিসেবে ঢাকার এই আসনগুলোতে ভোটের মাঠ লড়বেন ১৩৫ প্রার্থী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সারাদিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তিনটি কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এসব মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন প্রার্থীরা।

    জানা যায়, সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় মিলে মোট ২৭ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।

    এদের মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত বিলকিস নাসিমা রহমান। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা তাহজীব হাসান হৃদম এ তথ্য জানান।

    এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্যে আছেন, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী।

    ঢাকা-৬ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির, ঢাকা-৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ।

    এছাড়া ঢাকা-১০ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক, ঢাকা-১৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)।

     

    ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন ও ঢাকা-১৫ আসনে গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে খেলাফত মজলিশের এ কে এম এনামুল হক, জামায়েতে ইসলামীর আফজাল হোসাইন, ঢাকা-২০ আসনে জামায়েত ইসলামীর আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পেরোনোর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ পাবেন প্রার্থীরা। এর ফলে তারা পরদিন থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

    এদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিধানে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার সই যুক্ত কোনও লিখিত নোটিসের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিন বা তার আগে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

    কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকলে ওই দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

  • একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    ডেস্ক নিউজ

    মশিউর রহমান সম্রাটের ছদ্মনামে সবুজ শেখ যেন হয়ে ওঠেছিলেন অপরাধের সম্রাট। একের পর এক ঘটিয়েছেন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তার ভাষায় ‘থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজড’ মানেই হত্যা করা। 

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)  রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি)  সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয় হত্যার দায় স্বীকার করেন সবুজ শেখ।

    মশিউর রহমান সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে সাভার মডেল মসজিদে থাকতেন তিনি। এরপর সাভার থানার  আশপাশে ভবঘুরেদের মতো থাকতেন।

    সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম তানিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

    সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। মূলত তার নাম সবুজ শেখ। সে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ভবঘুরেদের মতো চলাফেরা করতো। ছদ্মনাম ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে থাকেন। তবে তার বিস্তারিত আর কিছু পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার  থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নিহত ওই যুবকের এখনো পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে তিন খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।  তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

  • আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

    দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

    রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

    সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

    আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

    কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

    কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

    গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

  • স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    স্মৃতিচারণা-আড্ডায় মাতলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

    এইচএসসি বিভিন্ন ব্যাচের সহপাঠীরা মঞ্চে উঠে কলেজজীবনের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন। সামনে চেয়ারে বসে অনেকে তন্ময় হয়ে তা শুনেছিলেন। কেউ কেউ সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে, গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন, খুনসুটি করছিলেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছিলেন।

    মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুলাউড়া সরকারি কলেজে গতকাল শনিবার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দিনভর এভাবেই সময় কাটান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কুলাউড়া সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ১৯৬৯ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়।

    গতকাল রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগতিক বক্তব্য দেন পুনর্মিলনী প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্যপ্রদীপ ভট্টাচার্য। শুরুতে প্রতিষ্ঠানের প্রয়াত সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণা শুরু হয়। দুপুরে প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সুফিয়ান আহমদ।কলেজের ১৯৭২ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন খন্দকার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, কুলাউড়া কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে আশপাশের বড়লেখা, জুড়ী ও রাজনগর উপজেলায় কোনো কলেজ গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা কুলাউড়া কলেজেই পড়তেন। তখন ভালো যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। বাস-ট্রেনে করে, কেউ হেঁটে কলেজে যাতায়াত করতেন। সে সময় কলেজে ৭০০ থেকে ৮০০ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে মোবাইল ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ঠিকানা ছিল এ কলেজই। কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত। এখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। রাজনীতিতেও অসহিষ্ণু পরিবেশ। আগে এমনটা ছিল না।’

    ১৯৮৭ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন রাহাত আরা বেগম। তিনি বর্তমানে কুলাউড়া পৌর শহরে অবস্থিত লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সহপাঠী ও চাচাতো বোন রুবিনা বেগমকে নিয়ে মঞ্চের সামনের চেয়ারে পাশাপাশি বসা ছিলেন। রাহাত আরা বললেন, ‘আমাদের ব্যাচের কয়েকজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। মেয়েবন্ধুদের কেউ আসেনি। তাদের কেউ বিদেশে, কেউ কেউ ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত। তবে তাদের মিস করছি।’

    ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর কলেজে যাননি বেসরকারি একটি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান ইকবাল নেওয়াজের। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর পর এলাম। দুই সহপাঠীকে পেয়ে আড্ডা দিলাম, একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেলাম। অনেক স্মৃতি মনে হলো। মনে হচ্ছে, পুরোনো দিনে ফিরে গেছি।’

    অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘এ সংগঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন সৃষ্টি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।’

  • দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    দরদাম, হাঁকডাক, সেলফি—পৌষসংক্রান্তিতে জমজমাট মাছের মেলা

    পৌষসংক্রান্তি এলেই মৌলভীবাজারের শেরপুরে প্রাণ ফিরে পায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটির বাস্তব রূপ যেন এই আয়োজন। শুধু মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ মেলা আজ আর কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি স্থানীয় মানুষের আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলার নাম।

    পৌষসংক্রান্তির আগের সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয় মাছ নিয়ে কোলাহল। সারা রাত ধরে চলে পাইকারি কেনাবেচা, পরদিন চলে খুচরা বিক্রি। দুই রাত ও এক দিনব্যাপী এ মেলা বছরে মাত্র একবারই বসে।

    কুশিয়ারা নদীপাড়ের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় মেলাটির আয়োজন করা হয়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাছের মেলা শুরু হয়েছে। রাতে প্রধানত পাইকারি কেনাকাটা চলে। আজ মঙ্গলবার সারা দিন ধরে খুচরা বিক্রি চলছে। আগামীকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত এভাবেই মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলবে। মাছের পাশাপাশি মেলায় রয়েছে খেলনা, রকমারি খাবার, খই-মোয়া-গজা, কৃষিপণ্য ও ঘরসংসারের নানা সামগ্রী।স্থানীয় মানুষ, মৎস্য ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছোট-বড় ট্রাকসহ নানা যানবাহনে করে মাছ নিয়ে বিক্রেতারা মেলায় আসেন। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তগুলোয় দরদাম হাঁকাহাঁকিতে জমে ওঠে কেনাবেচা। এখান থেকে মাছ ছড়িয়ে পড়ে জেলার ছোট-বড় হাটে।

    সোমবার রাতে দেখা গেছে, ডালায় সাজানো মাছ ঘিরে ভিড় করছেন অনেকে। কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মাছের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। পছন্দ হলে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন।

    মাছ বিক্রেতা আরবেশ মিয়া বলেন, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে মেলায় এসেছেন। প্রায় দুই মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছের দাম তিনি চাইছেন তিন লাখ টাকা। আরেক বিক্রেতা মুহিবুর রহমান বলেন, মানুষ কিনছে কম। সেলফি তুলছে বেশি। প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে তিনি মেলায় এসেছেন।

  • কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    কুয়াশামাখা শীতের সকালে হাইল হাওরের পাড়ে

    শুক্রবার সকালে হাওরপারের বাড়িগুলো তখনো ঘুমিয়ে। হাওরপারের সেই স্থান থেকে পথের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো মাছের খামার। এখন বোরোখেত চাষের সময়। বিভিন্ন স্থানে বোরো ফসলের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। অনেক স্থানেই হালিচারার জমিকে মনে হয় সবুজ চাদরের মতো, যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে।

    একটি খেতে কয়েকজন কৃষক রোপণের জন্য হালি চারা উত্তোলন করছেন। কোথাও চারা রোপণ করছেন কৃষক। কিছু খেতে এরই মধ্যে চারা রোপণ শেষ হয়ে গেছে। ধূসর কুয়াশায় সেই খেতগুলো ডুবে আছে।

    একটি স্থানে মাছ ধরতে কয়েকজন সেচযন্ত্র লাগিয়ে ডোবার পানি শুকিয়ে নিচ্ছেন। পানি শুকানো হলে তাঁরা মাছ ধরবেন, চলছে সেই প্রস্তুতি। কেউ রাতের বেলা, নয়তো ভোরে হাওরের বিভিন্ন খাল-বিলে মাছ ধরে একা একা বাড়ি ফিরছেন।

    কেউ সেঁউতি (পানি সেচার বাঁশ-বেতের যন্ত্র), কাকরাইন (বাঁশ-বেতের তৈরি মাছ রাখার পাত্র) কাঁধে ঝুলিয়ে হাওরের দিকে ছুটছেন। তাঁরা ‘খাইনজা (ছোট ছোট ডোবা)’ সেচ দিয়ে মাছ ধরবেন। নিজেদের খাওয়ার জন্য মাছ রেখে বাকিগুলো বিক্রি করতে পারেন।

  • বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    বাঁচানো গেল না ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া হাতিটিকে

    সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়া আহত পোষা হাতিটিকে বাঁচানো গেল না। চিকিৎসাচেষ্টার মধ্যে আজ সোমবার দুপুরে হাতিটির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    পোষা হাতিটির নাম সুন্দরমালা। বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম হাতিটির মালিক।

    ঢাকার প্রাণীসেবা প্রতিষ্ঠান পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক আজ বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সকাল থেকেই হাতিটি নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে ছিল। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এটি মারা যায়। এ সময় হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবদুস সবুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্ধার করার পর আহত হাতিটি ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে ছিল জানিয়ে রাকিবুল হক বলেন, প্রাণীটির দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। পেট ফোলা ছিল এবং পেছনের ডান পা নাড়াতে পারছিল না। পিঠে মেরুদণ্ডের মাঝবরাবর ক্ষত দেখা গেছে। এসব কারণে রক্তচাপ বেড়ে হাতিটির হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

    সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠানে হাতিটিকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে ইমন ও রাকিব নামের দুজন মাহুত ছিলেন। ফেরার পথে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় হাতিটি রেললাইন-সংলগ্ন একটি ডোবায় পড়ে যায়।

    এরপর গতকাল রোববার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দলের যৌথ প্রচেষ্টায় পেলোডার যন্ত্রের সঙ্গে রশি বেঁধে হাতিটিকে ডোবা থেকে টেনে ডাঙায় তোলা হয়। দীর্ঘ সময় ডোবায় পড়ে থাকায় হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ জন্য এটিকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এর আগে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করা হয়েছিল।

  • মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে আসছেন। এদিন তিনি শেরপুরের আইনপুর মাঠে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ জনসভা হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান এই অঞ্চলে আসছেন। এই সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও কর্মযজ্ঞ চলছে। বিএনপি আশা করছে, এ জনসভায় সারা জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটবে।

    জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন। এ জন্য বুধবার রাতে আকাশপথে তিনি সিলেটে পৌঁছাবেন।

    তারেক রহমান পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর এদিন বেলা ১১টায় সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি।

    সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান ঢাকা-সিলেট সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এ সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় আইনপুর খেলার মাঠে দিনের দ্বিতীয় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। বেলা একটা থেকে দুইটার মধ্যে জনসভায় তাঁর উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। পরে

    তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সমাবেশকে সফল করতে মৌলভীবাজার জেলা, জেলার সাতটি উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। জনসভা সফল করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। মৌলভীবাজার জেলা ছাড়াও শেরপুরের কাছাকাছি হওয়ায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার একাংশ এবং সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশের মানুষ এ জনসভায় অংশ নেবেন।

    জেলা বিএনপির নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, সমাবেশের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে মাঠের কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রায় দিনই কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা মাঠ ঘুরে দেখছেন

    জেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর মৌলভীবাজারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এ জনসভা হচ্ছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৌলভীবাজারের এই শেরপুর এলাকা সফর করেছেন।

    মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম আজ সোমবার  বলেন, ‘শেরপুরের আইনপুর মাঠে জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে। এই জনসভায় আমরা লক্ষাধিক লোকসমাবেশ আশা করছি। এটা একটা বড় প্রোগ্রাম। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন মাঠে কাজ চলছে। আমরা রেগুলার মাঠে যাচ্ছি, মিটিং করছি। জেলা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ পরিদর্শন করেছেন।’

  • পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    পতিত জমিতে আপেল ও বলসুন্দরী কুল চাষে সফল জুড়ীর কৃষক পাখি মিয়া

    কৃষক পাখি মিয়া (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতের শাকসবজির আবাদ করছেন। এবার তিনি এক বিঘা পতিত জমি বর্গা নিয়ে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের বাগান করেন, যা থেকে ব্যাপক ফলন এসেছে এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই এলাকার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এ ফলের আবাদ করেন।

    কুলগাছের সারির ফাঁকে ফাঁকে ডাঁটাশাকের আবাদ করেছেন পাখি মিয়া। তাঁর এই সফলতায় আশপাশের অনেকেই এখন পতিত জমিতে কুলবাগান তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাঁর বাগান পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন।

    পাখি মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে। তিনি বাড়ির পাশে এক আত্মীয়ের পতিত জমি বর্গা নিয়ে কুলবাগান করেন।

    গত রোববার বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ১ বিঘা জমিতে ২৩০টি আপেল ও বলসুন্দরী কুলগাছ, যেগুলোর সব গাছে কমবেশি ফলন এসেছে এবং ফলের ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। কুলগাছের প্রতিটি সারির মাঝখানে ফাঁকা স্থানে ডাঁটাশাক লাগানো হয়েছে।

    পাখি মিয়া বলেন, ছয় মাস আগে যশোর থেকে আপেল ও বলসুন্দরী কুলের কলমচারা কিনে এনে জমিতে লাগান এবং নিয়মিত বাগান পরিচর্যা করেন, এরপর ফলন আসে। সপ্তাহখানেক আগে পাইকারি বিক্রি শুরু করেন এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কেজি বরই বিক্রি করেছেন। প্রতি কেজি দাম ৮০ টাকা। তাঁর আশা, অন্তত চার লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে, ফল আবাদে তাঁর খরচ পড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ফলে তিনি লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারেন।

    পাখি মিয়া বলেন, ‘আমার কিছু জমি আছে, কোনোটাই খালি ফালাই রাখছি না। লাউ, টমেটো, বেগুন ও শিমের চাষ করছি। এখন পর্যন্ত ১ লাখ টাকার লাউ আর বেগুন বিক্রি করছি, খরচ হয়ছে ২০ হাজার টাকা। কয়েক দিন পর টমেটো আর শিম বিক্রি শুরু করব। মৌসুমি শাকসবজি বিক্রি করে আল্লাহর রহমতে ভালোই সংসার চলছে।’

    কৃষি বিভাগের স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রতন পাল বলেন, জুড়ীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আগে কেউ আপেল ও বলসুন্দরী কুলের চাষ করেননি। পাখি মিয়া সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এবং এ কাজে তাঁকে অনেক শ্রমও দিতে হয়েছে। হাসনাবাদ ও পাশের বাহাদুরপুর এলাকায় অনেক পতিত টিলাভূমি আছে। পাখি মিয়ার সফলতা দেখে অনেকেই পতিত টিলাভূমিতে বরইগাছ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

    রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিমসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা পাখি মিয়ার কুলবাগান পরিদর্শন করেন।