শিক্ষা ডেস্ক:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ নীতিমালা জারি করে।
বিস্তারিত আসছে———-

শিক্ষা ডেস্ক:
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ নীতিমালা জারি করে।
বিস্তারিত আসছে———-
স্বাস্থ্য ডেস্ক:
হাম-রুবেলা ও ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।
৬মে (বুধবার) বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার এই নতুন চালান পৌঁছায়।
হাম-রুবেলা-ওরাল পোলিও ছাড়াও এই চালানে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি ও টাইফয়েড টিকাও রয়েছে।
চালান গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে পৌঁছেছে। আগামীতে টিকার আর কোনো সংকট তৈরি হবে না।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এসব টিকা দেশে আনার ব্যবস্থা করেছে সরকার। আগামী ১০ মে’র মধ্যে হামসহ আরও ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে।
বি/ এ

বিডি ডেস্ক নিউজ,
বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার পাঁচ শ’ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯৪টি ফ্লাইটে মোট ৩৭ হাজার ৭৯২ জন বাংলাদেশী হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো: লোকমান হোসেন জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে জেদ্দায় ৯৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার পাঁচ শ’ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। হজ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় ৩০টি প্রধান অ্যাজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারীসহ মোট ৬৬০টি অ্যাজেন্সি কাজ করছে।
এয়ারলাইনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪১টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ৮৬৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৩৫টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৮১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৪২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
বাংলাদেশী বাকি ৪০ হাজার ৫০৫ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে জানান পরিচালক।
হজ অফিস জানায়, এ বছর দেশ থেকে চার হাজার ৫৬৫ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।
ঢাকায় সৌদি দূতাবাস গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ২৯৭ জনের ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৪১৯টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৮৭৮টি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ, আর

বিডি ডেস্ক নিউজ.
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর নামক স্থানে গোগালীছড়া ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজিপুর নামক স্থানে গোগালীছড়া ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাতে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ফসল রক্ষা বাঁধে এ ভাঙন দেখা দেয়।
এ সময় পাহাড়ী ঢলে গোগালীছড়ার বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘা আউশক্ষেত, বোরো ধান, আউশের বীজ তলাসহ শতাধিক ফিশারি তলিয়ে যায়
সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাদিম মাহমুদ রাজু জানান, বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের গাজিপুরসহ ১৫ গ্রামের বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ জানান, বাঁধ ভেঙে ১৫ গ্রামের ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিউদ্দিন জানান, কুলাউড়া ও জয়চণ্ডি ইউনিয়নে পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করছে।
এ,আর

বিডি ডেস্ক নিউজ,
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রধান ইভারস আইজবস’র নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন মিস বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার মিস ইন্টা লেইস, লিগাল এনালিস্ট মিস ইরিনি মারিয়া গোওনারি ও রায়ান ইসলাম।
বিরোধীদলীয় নেতার সাথে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতেই ইভারস আইজবস বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সার্বিক ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
এ সময় বাংলাদেশের সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানকে হস্তান্তর করা হয়।
সফররত ইইউ মিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতার কাছে সর্বশেষ তথ্য জানতে চান।
বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের অবস্থান তুলে ধরে জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে একমত হলেও পরবর্তীতে এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যাপারে জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে।
বিরোধীদলীয় নেতা তার আলোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সহিংসতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য এবং একাধিক স্থানে জামায়াতের সংসদ সদস্য আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সফররত ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য বেশ কিছু সুপারিশমালা সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন।
এ,আর

নিউজ ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার দেশের রিপোর্টার ইমরান হোসেন।
তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে সোমবার দুপুরে হাসপাতালটিতে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এ সময় তিনি সাংবাদিক ইমরান হোসেনের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন।
আর আই খান

নিউজ ডেস্ক : দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার গোয়েন্দা সতর্কতার পর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সোমবার বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জারি করা সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে। এরই অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ও বাইরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগমন (অ্যারাইভাল) ও প্রস্থান (ডিপারচার) উভয় ক্ষেত্রেই যাত্রী ও মালামালের তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত না হলেও আগাম সতর্কতা হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিতভাবেই এমন ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও জোরদার করা হয়েছে।’
সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশসংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
কর্মকর্তা আরও জানান, যেসব বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট পরিচালনা হয় না, সেসব স্থানেও রাতের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি ব্যবস্থায় যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়েও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: সিটিটিসি জানাল, ইন্টেলিজেন্স টিম কাজ করছেসরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: সিটিটিসি জানাল, ইন্টেলিজেন্স টিম কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সম্প্রতি গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে গত ২৩ এপ্রিল এ সতর্কতা জারি করা হয়।
আর আই খান
ডেক্স নিউজ :
দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্য এবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট বেঁধেছেন দেশটির দুই হেভিওয়েট রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী—সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়াইর লাপিদ। ডানন্থি ও মধ্যপন্থিদের এ ‘সুপার কোয়ালিশন’ গঠনের ঘোষণা চলতি বছরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্লেষকরা এ জোটকে হাঙ্গেরির সেই জোটের সঙ্গে তুলনা করছেন, যা কট্টরপন্থি ভিক্টর অরবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিল। বেনেটের দল ‘বেনেট ২০২৬’ এবং লাপিদের মধ্যপন্থী দল ‘ইয়েশ আতিদ’ একীভূত হয়ে নতুন এ জোট গঠন করেছে।
রাজনৈতিক এ নাটকীয় মোড় এমন এক সময়ে এল যখন নেতানিয়াহু তার প্রস্টেট থেকে একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার অপসারণের খবর প্রকাশ করেছেন। এ অসুস্থতার খবর প্রকাশের সময় এবং বিস্তারিত তথ্যের অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গত রোববার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাপিদ বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য আমরা আজ এক হয়েছি। ইসরাইল রাষ্ট্রের বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন করা এখন সময়ের দাবি’।তার পাশেই দাঁড়িয়ে বেনেট ঘোষণা করেন, তাদের নতুন দলের নাম হবে ‘টুগেদার’ (একত্রে) এবং তিনি নিজেই এ দলের নেতৃত্ব দেবেন। বেনেট বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর পর এখন নেতানিয়াহুকে বিদায় জানিয়ে ইসরাইলের জন্য নতুন এক অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে’।
বেনেট সাবেক সেনাপ্রধান এবং ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটকেও এ জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জনমত জরিপ বলছে, এই তিন নেতা এক হলে তা নেসেটে (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে। আইজেনকোট আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণা না দিলেও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘মারিভ’-এর এক জরিপে দেখা গেছে, বেনেটের দল একাই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমান ২৪টি আসন পেতে পারে। পাশাপাশি আইজেনকোটের ১২টি এবং লাপিদের ৭টি আসন যুক্ত হলে তা নেতানিয়াহুর জন্য অপরাজিত থাকা অসম্ভব করে তুলবে।
তবে ইসরাইলের জোট রাজনীতির মারপ্যাঁচে বেনেটের জন্য ঝুঁকিও আছে। লাপিদের মতো মধ্যপন্থির সঙ্গে হাত মেলালে বেনেট তার কট্টর লিকুদপন্থি সমর্থকদের একাংশকে হারাতে পারেন।
মুক্ত

নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল হওয়ার পর রাশিয়া সফর করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি৷ আজ সোমবার তিনি রাশিয়ায় পৌঁছোন৷ সেখানে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার সমর্থন চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও ওমান সফরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টা অগ্রসর না হওয়ায় রাশিয়া সফরে গেলেন আরাঘচি ৷ রাশিয়া ও ইরান ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র৷ তবে ইউক্রেনে আগ্রাসন অব্যাহত রাখায় মস্কো এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে জড়ায়নি৷ এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, পাকিস্তান সফরের সময় এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন আরাঘচি৷ শনিবার তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির কারণে আগের দফার আলোচনায় অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে৷’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়৷’’ তার মতে, সংঘাতের কারণে প্রণালীটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে৷

নিউজ ডেস্ক:
ইরানের মূল সমস্যাটা ঠিক কোথায়? দেশটি এখন রীতিমতো ‘ফেরাউনি’ তর্জন-গর্জনের মুখে দাঁড়িয়ে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না করলে ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু ইরানি নেতৃত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো হুমকিকেই তোয়াক্কা করছে না। ইরানিরা না মরণকে ভয় পায়, না হার মানাকে। ইরানের সাফ কথা—আগে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নাও, তারপর আলোচনা; আর তা না হলে আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এ অনমনীয় অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা আনতে পাকিস্তান অনেক চেষ্টা করেছে। লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষকে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মুখোমুখি বসানো। কিন্তু নৌ-অবরোধ বহাল রেখে মার্কিনিদের সঙ্গে বসতে অস্বীকার করেছে তেহরান। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পাকিস্তান সফর পিছিয়ে গেছে। মার্কিনিরা অবাক—একটি সুপারপাওয়ারের সঙ্গে লড়তে ইরান কেন এতটা মরিয়া?
গত রাতে এক মার্কিন সাংবাদিক এক ইরানি সাংবাদিককে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমাদের সমস্যাটা আসলে কী?’ ইরানি সাংবাদিক মুচকি হেসে জবাব দিলেন, ‘আমাদের সমস্যা হলো ইকবাল!’ এ উত্তর মার্কিন সাংবাদিকের মাথার ওপর দিয়ে গেল। তিনি অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, ‘এই ইকবাল আবার কে?’ উত্তর এল, ‘ইকবাল পাকিস্তানের জাতীয় কবি।’ মার্কিন সাংবাদিকের বিস্ময় কাটে না, ‘ইকবাল কি তোমাদের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন? দুই সপ্তাহ আগে যখন ইসলামাবাদে আলোচনা হলো, তখন ইকবাল কোথায় ছিলেন?’
ইরানি সাংবাদিক আর কথা না বাড়িয়ে ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। কৌতূহলী মার্কিন সাংবাদিক খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, পাকিস্তানে তিনি ‘আল্লামা ইকবাল’ আর ইরানে ‘ইকবাল লাহোরি’ নামে বিখ্যাত। এরপর সেই সাংবাদিক আমার (কলামিস্টের) কাছে এসে হাজির। আমি তাকে গুগলে সার্চ করতে বললাম। তিনি ল্যাপটপ খুলে দেখালেন যে, অনেক খুঁজেও তিনি মেলাতে পারছেন না—যে মানুষ ১৯৩৮ সালে মারা গেছেন, তার কারণে ২০২৬ সালে এসে ইরানিরা আমেরিকার সঙ্গে লড়তে চাইছে কেন?
আমি তাকে বললাম, মার্কিন প্রতিনিধি দল যখন আসবে তখন বুঝিয়ে দেব। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। তিনি এখন ইরান ও ইকবালের সম্পর্কের ওপর স্টোরি লিখতে চান। বাধ্য হয়ে তাকে পাঁচ মিনিট সময় দিলাম। তাকে জানালাম, কদিন আগেই লাহোরে ইকবালের মৃত্যুবার্ষিকীতে এক বিশাল সমাবেশ হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন লাহোরে নিযুক্ত ইরানের কনসাল জেনারেল মেহরান মোয়াহেদ ফার। তিনি তার বক্তৃতায় স্পষ্ট বলেছেন, ‘ইকবাল ইরানিদের যে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছেন, তা দিয়েই আমরা আমেরিকাকে পরাজিত করেছি।’
মার্কিন সাংবাদিক নোট নিচ্ছিলেন। আমি তাকে আরও বললাম, ‘আপনি হয়তো জানেন না, এমনকি ট্রাম্পও জানেন না, কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বহু বছর আগে আল্লামা ইকবালের ওপর একটি আস্ত বই লিখেছিলেন। ইরানের বিপ্লবে ইকবালের কবিতা জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছিল।’
সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, ‘ইকবাল যদি পাকিস্তানি ও ইরানিদের যৌথ নায়ক হন, তবে পাকিস্তান কীভাবে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হবে?’ আমি হেসে বললাম, ‘ইকবাল সাধারণ পাকিস্তানিদের নায়ক, কিন্তু সেই শাসকগোষ্ঠীর নয় যারা মরণকে ভয় পায়।’
আসলে ট্রাম্পকে কে বোঝাবে যে, ইকবাল ফারসিতে লিখেছিলেন:
‘আল্লাহ ছাড়া মুসলমান অন্য কারও দাস নয়,
কোনো ফেরাউনের সামনে তার মাথা নত হয় না।’
ট্রাম্পকে ‘ফেরাউনি’ ভঙ্গি ছাড়তে হবে, হুমকি বন্ধ করতে হবে। ইরানি হোক বা পাকিস্তানি—খাঁটি মুসলমানদের জন্য দাম্ভিক শাসকের আনুগত্য করা কঠিন। এমনকি ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ লিও-ও এখন ইরানের অবস্থানের সমর্থন দিতে শুরু করেছেন। হয়তো তিনিও ইকবালের দর্শনে প্রভাবিত!
আসল কথা হলো, ইরানিরা ইকবালের চিন্তা দ্বারা অনুপ্রাণিত। আর ইকবালের চিন্তা মানেই ফেরাউন ও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। ট্রাম্পের পক্ষে এটা বোঝা কঠিন যে— ‘প্রকৃতপক্ষে হোসেনের (রা.) শাহাদাতই হলো ইয়াজিদের মৃত্যু।’ ইয়াজিদ জিতেও আসলে চিরকাল হেরে যায়।