ক্যাটাগরি কৃষি

  • নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    ডেস্ক নিউজ:

    চলতি বোরো মৌসুমে চাষি মোস্তফা হাসান চার বিঘা জমিতে মাত্র ২১ কেজি বীজ লাগিয়ে ২২১ মণ ধান উৎপাদন করেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা! বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে সোনালি বর্ণের এই ধান।

    বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক জাত ব্রি-১০৮ ধান চাষে এ অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার শৌখিন এই চাষি।

    ইউটিউবের মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক মোস্তফা হাসান শেরপুর থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে ২১ কেজি বীজ ধান সংগ্রহ করেন। চার বিঘা জমিতে কিষান খরচ, জমি চাষ, সার ওষুধ ও সেচ খরচ মিলে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অধিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় বীজতলা থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত তার এই খরচ হয়েছে বলে জানান। সার ব্যবস্থাপনা কম লাগায় ও বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় অধিক লাভের আশা প্রকাশ করেন। জানুয়ারিতে রোপণ করা ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। এক শতক জমির ধান নমুনা কর্তনে ৪৫ কেজি ধান পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৬০০ টাকা বলে তিনি জানান। ২/১ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা হবে বলে জানান মোস্তফা হাসান।

    ইতোমধ্যে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বীজের জন্য ২০ মণ ধানের চাহিদার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার  সকালে উপজেলার বাহিরদিয়া ব্লকে কৃষক মোস্তফা হাসানের ধানক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের অনেক কৃষক আগ্রহ নিয়ে ধান দেখতে এসেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের লোকজন কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

    উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নয়ন সেন বলেন, সোনালি রঙের ব্রি-১০৮ জাতের ধানটি এই উপজেলায় প্রথম চাষ হয়েছে। সম্ভবত জেলায়ও প্রথম হবে। এ ধানের চাল মাঝারি লম্বা ও চিকন। ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় উচ্চ মূল্যের জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে অধিক দামের কারণে ইতোমধ্যে ধানটির প্রতি ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষক মোস্তফা হাসান ও ক্ষেত মজুর রহমত ফকির জানান, ৪ বিঘা ৫ শতক জমিতে ব্রি-১০৮ ধান চাষের সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হবে। এ অঞ্চলে প্রথম চাষেই সাফল্য পাওয়ায় অনেক চাষি এটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা করতে চান তিনি। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রি-১০৮ হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আবিষ্কৃত সর্বাধুনিক জাতের ধান। এ ধানটি অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়। প্রতি গোছায় গড় কুশির সংখ্যা ১৬/১৭টি। দানার পুষ্টতা শতকরা ৮৮.৬ ভাগ। চালে প্রটিনের পরিমাণ ৮.৮ ভাগ যা অন্যান্য চালের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্য সম্মত।

    উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মাঝে ধানটি ছড়িতে দিতে এই ক্ষেত থেকে সরকারিভাবে বীজ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

  • শীতের সবজিতে ভরেগেছে মেহেরপুরে মাঠ

    শীতের সবজিতে ভরেগেছে মেহেরপুরে মাঠ

    ডেস্ক নিউজ:

    মেহেরপুরে শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে কৃষকের মাঠ।  শীতের আগমনি বার্তার সাথে সাথে হরেক রকমের শীতের সবজিতে ভরে যাচ্ছে গ্রামীন বাজার গুলো।

    জেলার মাঠজুড়ে চাষ হচ্ছে ফুলকপি, বাধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, সিম, করলা, টমেটোসহ নানান আগাম জাতের সবজি। ভোর হলেই কৃষকরা ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার কেউ ফসল বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি নেন।

    জেলার সাহারবাটি মাঠের চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের বাধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। আগাম জাতের সবজি হওয়ায় বাজারে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি ফুলকপি ১২০ টাকা ও বাধাকপি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচের তুলনায় লাভ ভালো হবে। তাই এই সকল সবজি চাষে অনেক চাষিদের আগ্রহ বেশি।

    একই মাঠের লাউ চাষি সেলিম রেজা বলেন, এক বিঘা জমিতে লাউ লাগিয়েছি। ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিদিনই জমি থেকে প্রায় চারশ পিস লাউ উত্তোলন করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি পিস লাউ ৩০-৩৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। এতে খরচের তুলনায় লাভ ভালো হচ্ছে।

    এছাড়া এই মাঠের বিভিন্ন সবজি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বাজারজাত করা হয়। তবে জেলার মটমুড়া মাঠের শিম চাষি রাকিব অভিযোগ করে বলেন, সার-বিষের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনূকুলে না থাকায় সবজিতে বেশি পরিমাণে সার ও বিষ স্প্রে করা হচ্ছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে ভালো দামে বিক্রয় হচ্ছে। প্রতি কেজি শিম বাজারে পাইকারি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে।

    মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা বলেন, আমরা সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছি। এ বছর উৎপাদন খরচ বেশি হলেও আগাম শীতকালীন সবজির চাষ ভালো হওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছর জেলাতে ২ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম জাতের সবজি চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এসব সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হবে।

  • দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    দেবহাটায় মাছের ঘেরে তরমুজ চাষ করে সফলতা

    ডেস্ক নিউজ

    দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ পাতার ছায়ায় ঝুলছে রঙিন ফলের মালা। কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো অসময়ের তরমুজ। নিচে মিঠে ও লোনা পানির মিশ্র ঘেরে মাছের খেলা। ওপরে মাচায় ঝুলছে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন আর বাংলা লিংকের তরমুজ। এ মন ভোলানো দৃশ্য এখন সাতক্ষীরার দেবহাটার কৃষি মাঠে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    কয়েক বছর আগেও দেবহাটার মৎস্য ঘেরের ভেড়িগুলো ছিল অব্যবহৃত বা স্রেফ আগাছায় ভরা। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সেই ভেড়িগুলোতে শুরু হয় পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষ। প্রথমে অনেকে সন্দিহান ছিলেন, লোনা পানির প্রভাবে কি তরমুজ হবে? তবে প্রথম ফসলেই মিললো সাফল্য। সেই সাফল্য ছড়িয়ে পড়লো আশপাশের গ্রামগুলোতে।

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৫০ জন কৃষক এ চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আলাদা জমির দরকার নেই। মাছের ঘেরের ভেড়ি আর সামান্য জমিই যথেষ্ট। ফলে বিনিয়োগ কম, ঝুঁকি কম আর লাভ অনেক।

    এখন বাজারে কেজিপ্রতি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। মৌসুমের বাইরে এত দাম পাওয়ায় কৃষকদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। উপজেলার তিনটি প্রদর্শনী প্লটে এরই মধ্যে বাম্পার ফলন এসেছে। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। যার মধ্যে সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলা লিংক আছে।

    টিকেট গ্রামের চাষি বিশ্বনাথ টাপালী বলেন, ‘লোনা এলাকায় টিউবওয়েলের পানি বালতিতে করে এনে প্রতিদিন গাছে পানি দিই, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করি। কষ্ট অনেক কিন্তু ফল মিষ্টি। প্রথম চালানেই ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। আরও দুই দফা তোলা বাকি।’

    কৃষক আবুল কাশেমের অভিজ্ঞতা আরও উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘তরমুজ দেখতে সুন্দর, খেতেও অসাধারণ মিষ্টি। বাজারে চাহিদা প্রচুর। আশা করছি প্রায় ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।’

    উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, ‘লোনাতে সোনার খোঁজে কাজ করছি আমরা। প্রথমে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। এখন নিজেরাই এসে বীজ চাইছেন।’

    দেবহাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান বলেন, ‘যেখানে আগে ভেড়ি পতিত থাকতো; সেখানে এখন ফসল হচ্ছে। এতে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার হচ্ছে। কৃষকের আয় বাড়ছে আর স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।’

  • সসনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    সসনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষির মুখে হাসি

    ডেস্ক নিউজ :

     

    সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা।

    মাছে মড়ক না লাগা, অতি দ্রুত বড় হওয়া এবং মাত্র তিন মাসে বিনিয়োগ করা অর্থের দ্বিগুণ ফিরে পাওয়ায় সংঘবদ্ধভাবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন তাঁরা। মৎস্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় বাগদা চিংড়ির এ চাষাবাদে উৎসাহ জোগাচ্ছে অন্যদের।

    জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে ৫৫ হাজার ঘেরে সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ হয়। এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে প্রতিবছর লোকসানে জর্জরিত হতো সাতক্ষীরার চাষিরা। ভাইরাস ও দাবদাহে ঘেরে বাগদা চিংড়ি উজাড় হয়ে যাওয়ায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো তাঁদের। পরবর্তী সময়ে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা হলেও তেমন সফলতা ছিল না। ফলে দিন দিন বাগদা চাষে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছিল চাষিদের।

    তবে এ বিপর্যয় থেকে চাষিদের রক্ষায় এগিয়ে আসে মৎস্য বিভাগ। ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ নামক একটি প্রকল্পের আওতায় উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পানির গভীরতা ঠিক রাখা ও বায়োসিকিউরিটি নির্বাহ করা এ চাষের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নতুন এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করতে জেলার সব চাষিকে পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে কালীগঞ্জের শিবপুরে ১৩ একর জমিতে ২৩ জন চাষি ২৩টি ঘেরে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করছেন।

    শিবপুরের বাগদাচাষি মোক্তাদির হোসেন বলেন, ‘আমরা ২৩ জন মিলে এই প্রজেক্টে চাষ করছি। কালিন্দি নদী থেকে এই খালে নোনাপানি আসে। প্রথমে ঘেরে পানি ভর্তি করি। তারপর পর্যায়ক্রমে চুন ও ব্লিসিং মারার পর ভাইরাসমুক্ত পোনা ছাড়ি। এরপর নির্দেশনামতো খাদ্য দিই। এতে ব্যাপক সফল আমরা। ৭২ শতাংশ জমিতে আমি ১৮৫ কেজি মাছ উত্তোলন করেছি। অথচ আগে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ কেজি মাছ তুলতে পেরেছি।’

    চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির পিপিটি অনুযায়ী উৎপাদিত পোনা ছাড়া হয় বলে মড়ক নেই বললেই চলে। আগে পানির লবণাক্ততা ও ভাইরাস পরীক্ষা হতো না বলে ৪০ দিন যেতে না যেতে মাছ মারা যেত। আর এখন মাছ মরে না বললেই চলে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে আমরা মাছ চাষ করে শতকে তিন-চার কেজি মাছ উৎপাদন করতে পেরেছি।’

    এ বিষয়ে কালীগঞ্জের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের আওতায় শিবপুরের ২৩ জন চাষিকে নিয়ে কাজ শুরু করি। সেখানে সফলতা ব্যাপক। বায়োসিকিউরিটি ও ভাইরাসমুক্ত পোনা ব্যবহার করা হয় ঘেরে। আমরা খুব আনন্দিত, মাত্র ৩ মাসে ২০টি চিংড়িতে ১ কেজি ওজন হচ্ছে। চাষিদের এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ করা উচিত।’

     

  • চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছায় জিআই পণ্য খেজুরগুড় সংগ্রহে গাছ কাটা’র উদ্বোধন 

    চৌগাছা প্রতিনিধি
    যশোরের জিআই পণ্য খেজুর গুড়ের রস সংগ্রহের জন্য গাছ কা’টার (গাছ তোলা ও চাচ দেয়া) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
    রোববার (২নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুরে গাছ তোলা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আক্তার।
    এসময় এসিল্যান্ড প্রকৌশলী তাসমিন জাহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আনোযারুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা তাসলিমা জেবিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা মাহমুদা, সমবায় কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
    হায়াতপুর গ্রামের গাছি আব্দুর রহমান গাজী গাছ তোলা ও চাচ দেয়া কাজ করেন। তার সাথে গাছি কামাল হোসেনসহ কয়েকজন গাছি ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
    ২০২২ সালে চৌগাছার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার উদ্যোগে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে খেজুরগুড়ের মেলা, গাছিদের প্রশিক্ষণ, গাছি সমাবেশ, গাছিদের সমবায় সমিতি গঠন, খেজুর গাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একই বছর যশোরের বিখ্যাত খেজুর গুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতির আবেদন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে খেজুরগুড়কে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দেয় সরকার। সে বছর থেকে প্রতি বছর ১লা মাঘ থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাটি খেজুর গুড়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারও মেলা যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে উপজেলা প্রশসন সূত্রে জানা গেছে।
    বিডিটাইমস/এআর/নিইআর/
  • এক গরুতেই কোটিপতি

    এক গরুতেই কোটিপতি

    বিডিনিউজ ডেস্ক :

     

    ৩০ বছর ধরে গরু লালনপালনের নেশায় মগ্ন বিমল প্রামাণিক আজ একজন সফল খামারি। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছয়খাদা গ্রামের কৃষক বিমল প্রামাণিক প্রথমে একটি গরু পালন শুরু করেন, সেই থেকে আজকে কোটিপতি হয়েছেন।

    গরু ও দুধ বিক্রি করে আজ তিনি দুটি ফ্লাট বাড়ির মালিক, কিনেছেন ৬ বিঘা জমিও। প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, গরু পালনে এ খামারির কোনো বাড়তি খরচ না থাকায় আজ তিনি সফল। বর্তমানে বিমলের খামারে ছোট-বড় ৪৫টি গরু রয়েছে।

    সফলতা দেখে এলাকাতে তার মতো অনেকেই ছোট-বড় খামার গড়ে তুলেছেন।

    বিমল প্রামণিক জানান, “প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে গরুগুলো নিয়ে মাঠে ঘাস খাওয়াতে যাই। গরু লালনপালন করা আমার নেশা। যতদিন বেচেঁ আছি, ততদিনই গরু পালন করতে চাই।”

    স্থানীয় বাসিন্দা রইস উদ্দিন, রিনা খাতুন ও আফজাল হোসেন জানান, বিমল প্রামাণিক একটি গরু থেকে আজ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। গরুর ওপর নির্ভর করে তার অনেক উন্নতি হয়েছে। গরু বিক্রি করেই বাড়ি, জমি কিনেছেন।

    বিমলের মেয়ে চন্দনা বিশ্বাস জানান, বাবা গরু বিক্রির টাকায় আমাকে বিয়ে দিয়েছেন। আর দুই ভাইকে বিদেশও পাঠিয়েছেন।

    আর বিমল প্রামাণিকের স্ত্রী পদ্মা রানী জানান, প্রতিদিন সকালে গরুর পালগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় আমি রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেই। আর সারাটা দিন সে মাঠে গরুর ঘাস খাইয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি নিয়ে এলে খামারে রাখার সময় আমি সহযোগিতা করি। খামার থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ কেজি দুধ পাওয়া যায়। সে দুধ ঘোষদের কাছে বিক্রি করি। গোবর সংগ্রহ করে সেটিও বিক্রি করি।

     জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার ব্যনার্জী জানান, গাভি গরু লালনপালন করে বিমল প্রামণিক তার জীবনটাকেই পাল্টে ফেলেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ তার সার্বিক খোঁজখবর ও পরামর্শ দিয়ে থাকে।

     

  • অসময়ের তরমুজ চাষে বেল্লালের বাজিমাত

    অসময়ের তরমুজ চাষে বেল্লালের বাজিমাত

    বিডিনিউজ ডেস্ক

    অসময়ে তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তরমুজ চাষি বেল্লাল।

    বছর ছয়েক আগেও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি ইউনিয়নের এই চাষি অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারে বাবা, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ছিল তার টানাটানির সংসার। একার আয়ে সংসার চালানো ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। কিন্তু অসময়ে তরমুজ চাষ করে বাজিমাত করেছেন তিনি। ঘেরে মাছ চাষের পাশাপাশি অসময়ে তরমুজ চাষ করে তার ভাগ্য বদলেছে।


    শুরুতে নিজের দুই বিঘা জমিতে তিনি তরমুজের চাষ শুরু করেন। লাভের মুখ দেখায় পরের বছর আরও কিছু জমি বর্গা নিয়ে চাষের ব্যপ্তি বাড়ান। দিন দিন আয় বাড়তে থাকে তার। তারপর অন্যেদের দেখাদেখি অফসিজনে তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। আরও কিছু জমি যুক্ত করে মাছের ঘের তৈরি করে চার পাড়ে মাচা করে শুরু করেন তরমুজ চাষ।

    দেখা যায়, ঘেরের পাড়ে পানির ওপর বাঁশের খুঁটির ওপর নেট দিয়ে মাচা তৈরি করা। মাচায় ঝুলছে সারি সারি তরমুজ। প্রত্যেকটি তরমুজ নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুকুরে রয়েছে নানান জাতের দেশি মাছ। পথের পাশে লাগিয়েছেন করলা, পুঁইশাক, লাউসহ নানান জাতের সবজি।

    বেল্লাল বলেন, অফসিজন তরমুজ চাষে পরিশ্রম তুলনামূলক কম। সিজনের তরমুজ বিলের ভিতর চাষ করায় পানি সেচ করতে হয়, যেটা ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। কিন্তু ঘেরের পাড়ে তরমুজে এই পানি সেচের কাজটা করা লাগে না।

    তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ১ লাখ টাকারও বেশি তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এ সিজনে অন্তত ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হওয়ার প্রত্যাশা তার। ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।

    তরমুজ চাষি বিল্লাল  বলেন, আগে শুধু মৌসুমে তরমুজ চাষ করতাম। এখন অফসিজন তরমুজ চাষ শুরু করেছি। প্রতিটা তরমুজ ৩.৫ কেজি থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে। সিজনের তরমুজ থেকে এখনকার তরমুজের স্বাদ অনেক বেশি। শহর থেকে পাইকাররা ক্ষেতে এসে ১৮০০-১৯০০ টাকা মণ দরে কিনে নিচ্ছে। এতে খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে।

    বেল্লাল এখন সচ্ছল। তার ইচ্ছেগুলো পূরণ করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা তার। ছেলে মেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াতে ভাবতে হবে না তাকে। বেল্লালের স্বপ্ন আগামী বছর তার ক্ষেতের পরিসর আরও বাড়াবে। বাড়বে আয়ও।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, খুলনার আবহাওয়া ও মাটি অফসিজন তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। জেলার সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয় বটিয়াঘাটায়। এ বছর অফসিজন তরমুজ চাষে কৃষি অফিস থেকে সার, বীজসহ বালাই নাশক সরবারহ করা হয়েছে। বেল্লালের মত তরমুজ চাষিদের আমরা প্রশিক্ষণও দিচ্ছি। কৃষি অফিস কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

  • বিল ডাকাতিয়া এখন খুলনার অভিশাপ

    বিল ডাকাতিয়া এখন খুলনার অভিশাপ

    বিডিনিউজ ডেস্ক

    খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া ও আড়ংঘাটার বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই মাস ধরে পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ।

    আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টির পানিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয় বিল ডাকাতিয়ায়। এতে পানিবন্দি হয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছেন এলাকাবাসী। উপরন্তু বিভিন্ন চর্ম ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।স্থানীয়রা জানান, একজন মানুষ মারা গেলে তাকে যে মাটি দেবে, তার কোনো জায়গা নেই এ অঞ্চলের মানুষের।বিল ডাকাতিয়ার বিস্তৃতি খুলনার ফুলতলা, ডুমুরিয়া, আড়ংঘাটা এবং যশোর জেলার অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলা এলাকায়।

    ৩০ হাজার একর চাষযোগ্য জমি রয়েছে এই এলাকায়। প্রবল বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে প্রায় দুই মাস ধরে তলিয়ে আছে বিলের জমি। মাছ চাষিদেরও বিপাকে পড়তে হয়েছে।

    নদীতে পলি জমাট এবং অতিবৃষ্টিই এর মূল কারণ। এজন্য ফসল নষ্ট, আয়ের পথ বন্ধের পাশাপাশি চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এ এলাকায়। পরিস্থিতি এমন যে, বিল ডাকাতিয়া এখন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে স্থায়ী সমাধানের দাবি এখানকার পানিবন্দি প্রায় ১৫ লাখ মানুষের।

    ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আল-আমিন বলেন, “এ বছর বিল ডাকাতিয়ার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। আমরা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহের জন্য সম্ভবত ১-২ সপ্তাহ সময় নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

    পানিসম্পদ সচিব নাজমুল আহসান বলেন,  ঘবে দ্রুত সমাধান খুঁজতে আগ্রহী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আমরা স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন পরিকল্পনা করছি।”

  • স্লুইসগেটের বেহাল দশা

    স্লুইসগেটের বেহাল দশা

    বিডিনিউজ ডেস্ক

    রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে খুলনার তেরখাদার স্লুইস গেটগুলো। খালগুলোরও মৃতপ্রায় অবস্থা। এতে পানির প্রবাহ না থাকায় ও বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায়  বিভিন্ন ফসল চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

    জানা যায়, তেরখাদা উপজেলার মোট আয়তন ১৮ হাজার ৭৬৯ হেক্টর। উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বসবাস করেন। অঞ্চলটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজ করেন। অঞ্চলটি মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত গঙ্গা পললভূমি, গঙ্গা কটাল পললভূমি ও গোপালগঞ্জ-খুলনা জৈব মাটির বিলাঞ্চল নিয়ে গঠিত। চাষাবাদ প্রধানত বৃষ্টি নির্ভর হলেও বর্তমানে সেচের মাধ্যমে আধুনিক জাতের বোরো ধানের আবাদ করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

    উপজেলার পানির প্রধান উৎস নদী ও খাল। বছরের তিন-চার মাস লবণাক্ত থাকে এসব নদী-খালের পানি। এসময় লবনাক্ত পানির প্রবাহ আটকাতে স্লুইস গেটগুলো মুখ্য ভূমিকা পালন করে। খালগুলো নদীর সঙ্গে যুক্ত স্লুইস গেটর মাধ্যমে। কিন্তু খাল ও স্লুইস গেটের সংস্কার না হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের চাষাবাদ।

    কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তেরখাদায় বোরোর আবাদ বেশি হয়। গত বছর ৮ হাজার ৪৬৫ হেক্টর ধান উৎপাদন হয়েছে। এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ৯৪৯ হেক্টর। উপজেলায় ৩৭টি খাল ও ২১টি স্লুইস গেইট রয়েছে। এসব খাল ও স্লুইস গেটের ওপর নির্ভর করে কৃষকরা চাষাবাদ করেন। এর মধ্যে ১৪টি খাল প্রায় মৃত ও ৯টি স্লুইস গেট সংস্কারের অভাবে অকেজো হয়ে আছে। এতে চাষাবাদের জন্য কৃষকরা সঠিকভাবে পানি পাচ্ছেন না।

  • নাটোরের সফল  উদ্যোক্তা আড়াই বিঘা থেকে এখন ২০০বিঘা চাষ, রিক্ত-বিত্ত

    নাটোরের সফল উদ্যোক্তা আড়াই বিঘা থেকে এখন ২০০বিঘা চাষ, রিক্ত-বিত্ত

    নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার একটি সাধারণ গ্রাম খন্দকার মালঞ্চি, যেখানে কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনই অধিকাংশ মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এই গ্রামেই বাবা আশরাফ আলী ও মা আতেজান বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহ, যিনি এখন স্থানীয়ভাবে একজন প্রখ্যাত ফলচাষী, উদ্যোক্তা এবং শতাধিক পরিবারের জীবিকার ভরসা।
    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পেরিয়ে ১৯৯৫ সালে কলেজে ভর্তি হলেও সংসারের অভাব-অনটনে থমকে যায় তার পড়ালেখা। পরিবারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ বদলানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। চাকরি নয়, নিজেই উদ্যোক্তা হবেন-এই ভাবনা থেকেই যাত্রা শুরু তার।
    শুরুটা হয়েছিল মাত্র আড়াই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ দিয়ে। বাবা-মায়ের দেয়া জমিকে কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান তিনি। ২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ‘তন্ময় দাস’ ও কৃষি কর্মকর্তা ‘সুভ্রত বাবু’ তার পাশে দাঁড়ান এবং ফল বাগান করার পরামর্শ দেন। সেই উৎসাহে শুরু করেন মাল্টা ও ড্রাগনের মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ।
    বর্তমানে তার ‘রিক্ত-বিত্ত কৃষি খামার’ এ পেয়ারা, ড্রাগন, বারমাসি আম, মাল্টা, কলা, কমলা, আনারস সহ নানা জাতের ফল উৎপাদিত হচ্ছে। খামারে এখন প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে। তার প্রজেক্ট শুধু বাগাতিপড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি রাজশাহীর-গোদাগাড়ী, নাটোরের লালপুর ও নিজ উপজেলা বাগাতিপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে বিস্তার করেছেন। শুধু মাল্টা চাষেই রয়েছে ৪৫ বিঘা, যেখানে চলতি মৌসুমে তার প্রত্যাশিত আয় প্রায় কোটি টাকা। এই খামারে কাজ করেন প্রায় ১০০ জন শ্রমিক।
    শ্রমিক ইমরান আলী বলেন, আমি ১৬ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। খামার মালিক অত্যন্ত মানবিক। আমাদের অসুস্থতায় কাজ না করলেও তিনি মজুরী দেন, এমনকি চিকিৎসার খরচও বহন করেন। আমাদের পরিবারগুলো এই খামারের আয়ে চলে।”
    শুধু শ্রমিকদের জীবনমান নয়, এই খামারী নিজ গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনেরও রোল মডেল হয়ে উঠেছে।
    আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহ ফলের মিষ্টতা ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে অর্গানিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। নাইট্রোজেনের ব্যবহার সীমিত রেখে তিনি স্বাস্থ্যসম্মত ফল উৎপাদনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার উৎপাদিত ফল ঢাকা, রাজশাহী সহ দেশের নানা বাজারে পাঠানো হয়।
    মাসিদুল ইসলাম শিপন নামের একজন ফল ব্যবসায়ী জানান, এই বাগানের ফল ভেজালমুক্ত। আমি প্রতিদিন প্রায় ১০০ মন পেয়ারা, ৬০-৭০ মন মাল্টা ঢাকার মোকামে পাঠাই।”
    নাটোর কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, বাকিবিল্লাহর মাল্টা বাগান পরিদর্শন করেছি। তার উৎপাদিত মাল্টা খুবই মিষ্টি এবং চাহিদাসম্পন্ন। আমরা তাকে সবধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।”
    খামার পরিদর্শেনে আসা সাবেক এ্যাডিশনাল ডাইরেক্টর মনজুর-উল হক বলেন, আমি একসময় নাটোরের ডিডি ছিলাম। আমরা ২০১৭ সাল থেকে মাল্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করলেও সবাই সফল হননি। কিন্তু বাকিবিল্লাহর চাষপদ্ধতি প্রশংসনীয়। তার বাগান রিসার্চ ও লার্নিং সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে।”
    বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. ভবসিন্ধু রায় বলেন, তিনি শুধু একজন সফল চাষী নন, বরং তিনি একটি ফল হাব-গড়ে তুলেছেন। তার খামার পুষ্টি নিরাপত্তা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে দারুণ একটি উদাহরণ। তাকে নিয়ে কৃষি দপ্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, আমরা লিখেছি আশা করছি তিনি স্বীকৃতি পাবেন।”
    নিজের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে বাকিবিল্লাহ বলেন, ‘চাকরির আশায় বসে থাকলে আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পারতাম না। নাটোরের সাবেক ডিডি খামার বাড়ীর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক থাকা অবস্থায় আব্দুল আওয়াল মহোদয় আমার খামারে এসেছেন এবং তিনি প্রজেক্টের উন্নয়নে ও ফলের গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য নিয়মতি পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছেন। এমনকি কৃষি অধিদপ্তরের এ্যাডিশনাল ডাইক্টের হযরত আলী স্যার সম্প্রতি আগষ্ট মাসে এসে খামার পরিদর্শন করে স্থানীয় কৃষি দপ্তরকে আরো বেশী নজরদারী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।’ তিনি এরা বলেন- ‘উদ্যোক্তা হতে হলে ঝুঁকি নিতে হয়, সাহস রাখতে হয়। সৃষ্টিকর্তার উপরে ভরশা রেখে আমি সেই ঝুঁকি নিয়েছিলাম।’
    স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, আব্দুল বারী বাকিবিল্লাহর মতো কৃষি উদ্যোক্তারা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। কারণ,  আমদানিনির্ভর ফল তিনি উৎপাদন করে দেশের চাহিদা পূরণ করছেন।
    অভাবের তাড়না থেকে উঠে আসা একজন মানুষ এখন একটি বৃহৎ কৃষি উদ্যোগের সফল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রিক্ত-বিত্ত কৃষি খামার আজ শতাধিক পরিবারের জীবিকা, দেশের পুষ্টির উৎস, এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রেরণার উৎস।
    এমন মানুষদের নিয়ে পরিকল্পিত গবেষণা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহযোগিতা দেওয়া গেলে বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তার সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে-যা কর্মসংস্থান ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্কত গুরুত্বপূর্ণ।