ক্যাটাগরি বরিশাল বিভাগ

  • ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসায় চারজন চিকিৎসক

    স্বাস্থ্য ডেস্ক

    উত্তরে ভোলা সদর। দক্ষিণে লালমোহন। মাঝখানে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা। যুগের পর যুগ ধরে যথাযথ চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এ উপজেলার বাসিন্দারা। চিকিৎসক, নার্স, আধুনিক ভবনসহ রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি সংকটে ধুঁকছে বোরহানউদ্দিনের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা। রোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ এটি নামেমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মেলে না যথাযথ চিকিৎসা।

    সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়েই সেখানকার বাসিন্দাদের কেউ কেউ যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। এতে তিন থেকে চারগুণ বেশি টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। ফলে ক্ষুব্ধ তারা।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোলা জেলা অফিসের তথ্য মতে, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৭ জন মানুষ। বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩০টি ও নার্সের পদ রয়েছে ৩৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন টিএসসহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের শুন্য পদ রয়েছে ২৫টি ও নার্সের ২৩টি।

    স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছেন আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগ মিলিয়ে প্রায় ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন রোগী। অন্যদিকে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চলছে ৩০ শয্যা নিয়ে। গত ১৫ দিনে আন্তঃবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৪৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশু ও বহিঃবিভাগে প্রায় আড়াই হাজার। যাদের অধিকাংশই নারী-শিশু,জ্বর ঠান্ডাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকের সামনে পুরোনো একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জরুরি বিভাগ, ভেতরে খসে পড়া অবস্থায় রয়েছে ছাদের প্লাস্টার, বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনটির ভেতরে একপাশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষ, অপরপাশে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষসহ দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য কয়েকটি কক্ষ, সেখানেই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত বসছেন তারা।

    পুরোনো ভবনটির পেছনে রয়েছে প্রায় ১ যুগ আগে নির্মিত আরেকটি ১৯ শয্যার ভবন। অতিরিক্ত রয়েছে আরও ১১টিসহ মোট ৩০টি বেড। ওপর তলায় চলছে আন্তঃবিভাগ ও নিচ তলায় বহিঃবিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। আন্তঃবিভাগের অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে,নেই অপারেশন থিয়েটার। অন্যদিকে, ধারণক্ষমতার চেয়ে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

    বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিতে হয়
    আমার স্বামী গাঙ্গে (নদীতে) মাছ ধরে। ছেলে-মেয়ে লইয়া (নিয়ে) ৫ জনের সংসার। স্বামী ছাড়া আর কেউ কামাই (আয়) করার নাই। ছোডো পোলাডার ৫ দিন ধইরা জ্বর-ঠান্ডা, বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে আইন্না (এনে) ভর্তি করাইছি। হাসপাতালে ভর্তির পর একবার ডাক্তার আসছিল, এক নজর দেইখা গেছে, এরমধ্যে আর আসেনি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। নার্সদের ডাকলেও তারা আসতে চান না। আমরা গরিব মানুষ, অন্য কোথাও পোলারে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার সামর্থ্য নাই, কি করব? এভাবেই ঢাকা পোস্টের কাছে অভিযোগ করছিলেন চিকিৎসাধীন শিশু মো. ওসামার মা মাইমুনা।

    প্রায় একই অভিযোগ রোগী রাবেয়া বেগমের। তিনি বলেন, আমাদের টাকা থাকলে এখানে চিকিৎসার জন্য আসতাম না, বরিশাল বা ঢাকা যেতাম চিকিৎসার জন্য।

    হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য ষাটোর্ধ্ব মোতাহার হোসেনকে তার স্বজনরা এনেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্মরতরা রোগীর স্বজনদের রোগীর ইসিজি করানোর জন্য বলেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন নেই জানান তারা।

    মোতাহারের স্বজনরা বলেন, আমরা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যন্ত্রপাতি নেই। যদি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসিজি মেশিন থাকতো তাহলে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হতো না। সরকারিভাবে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা করাতে পারলে কম টাকা লাগে। তাছাড়া পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনও নেই।

    ক্ষুব্ধ বোরহানউদ্দিনবাসী
    স্থানীয় বাসিন্দা মো.শফিউল্লাহ, মো. বশার ও আমজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা প্রায় পৌনে ৩ লাখ লোক বসবাস করি এ উপজেলায়। বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত। কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও গিয়ে চিকিৎসা নেবে সেই সামর্থ্য অনেকের নেই। অনেকটা বাধ্য হয়েই বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে হয়। অন্যদিকে, কথায় কথায় এখান থেকে রোগীদের ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়। এখানে চিকিৎসক ও নার্সের তীব্র সংকট। এছাড়া হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নেই। ৩ থেকে ৪ গুন বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামেমাত্র চিকিৎসা সেবা চলে।

    নানা অসুবিধায় রোগীর স্বজনরা প্রায় সময়ই ক্ষিপ্ত হয়ে নার্সদের সাথে অসদাচরণ করে বলে আক্ষেপ করে জানান বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সম্পা বেপারি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে নার্স সংকট, বেড সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। এসব সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ নার্স সংকটের সমাধান করলে আমরা আরও ভালোভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারতাম।

    বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার সোহাগ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখানে চিকিৎসক-নার্স ও রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে। মাত্র ৪ জন চিকিৎসক ও ১৪ জন নার্স দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। আন্তঃবিভাগ বহিঃবিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। প্রচুর রোগীর চাপ থাকে। এটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আন্তঃবিভাগের সকল রোগীকে বেড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি আধুনিক ভবনও প্রয়োজন। এসব সমস্যায় সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।

    যা বলছেন ভোলার সিভিল সার্জন
    আগামী ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসক ও নার্স সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা.মু.মনিরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুইমাসের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ হবে। নার্সদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারা শুন্য পদে যোগদান করলে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-নার্স সংকট কেটে যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ তাই সেখানে বেড স্থাপন করা সম্ভব না। ১৯ বেডের ভবনে ৩০ বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এক্সরে মেশিন অকেজো, টেকনোলজিস্ট নেই, সার্জন ও এনেস্থেসিওলজিস্ট না হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয় জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং সেখানাকার বাসিন্দারা যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    এদিকে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে অতিদ্রুত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও বাসিন্দারা।

  • চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

    চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

    ডেস্ক নিউজ

    সম্প্রতি ভোলার লালমোহন উপজেলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে নৃশংভাবে কুপিয়ে হত্যার পর তার রিকশাটি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মূল হোতাসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এখনও উদ্ধার হয়নি অটোরিকশাটি।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হতাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার চরকলমি ইউনিয়নের মো. ইব্রাহীম (৩৬), তার সহযোগী বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রাজা (৩২) ও কাজী তারেক ৩৫)।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।

    এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর ‘চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় ঢাকা পোস্টে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, হত্যাকারী সাতজন গত ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বোরহানউদ্দিন যাওয়ার কথা বলে আবু বকর ছিদ্দিকের অটোরিকশায় ওঠেন। সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার কচুয়াখালী এলাকায় এসে অটোরিকশাচালক আবু বকর ছিদ্দিকের বুকের ডান পাশে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে ফেলে অটোরিকশা ছিনতাই করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। পরে নিহতের ছেলে সুলতান ১ জানুয়ারি বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) মূল আসামি ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে ইব্রাহীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. রাজা ও কাজী তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহীম ও রাজার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও অটোরিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ সময় জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    বাইসাইকেল উপহার পেল ২৮ শিশু

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর গলাচিপায় টানা ৪১ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে বাইসাইকেল উপহার পেয়েছে ২৮ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় পৌর এলাকার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে এ উপহার তুলে দেওয়া হয়।

    এর আগে গলাচিপা পৌর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দল এবং গলাচিপা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মসজিদভিত্তিক এ নামাজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    আয়োজকরা জানায়, মসজিদভিত্তিক প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে শিশুদের নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা ও ধর্মীয় চর্চায় আগ্রহ বাড়াতেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।প্রতিযোগিতায় ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী মোট ৪৬ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। ৪১ দিন ধরে তাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ২৮ জন শিশুকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।বিজয়ীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন।

    এম কে

     

     

  • মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অধিভুক্ত আধাপাকা দুটি সরকারি ভবন মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে ভবন দুটির দরজা-জানালা ও বারান্দার চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়ে গেছে মাদকসেবীরা। ফলে ভবন দুটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই ভবনগুলোতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও জমিদাতাদের করা মামলার কারণে এবং ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দপ্তরটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো তদারকি না থাকায় ভবন দুটি মাদক সেবন, জুয়া এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর সুবিদখালী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিম সুবিদখালী–বটতলা সড়কের পাশে অবস্থিত ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সীমানাপ্রাচীর থাকলেও লোহার গেটের একটি দরজা ভেঙে পড়ে রয়েছে। দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় ভবন দুটি কঙ্কালে পরিণত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের আলামত, মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এসব কক্ষে মাদক সেবনের পাশাপাশি জুয়ার আসর বসে। চলে অসামাজিক কার্যকলাপও। আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, রাত হলেই দলবেঁধে মাদকসেবীরা ভবনটিতে প্রবেশ করে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট ভাঙা থাকায় মূল ফটক দিয়েই তারা দলবল নিয়ে অবাধে ভেতরে ঢুকে আড্ডা বসিয়ে মাদক সেবন করে। আবাসিক এলাকা হওয়ার এখানে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৬-৮টি পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় অর্ধশত পবিরারের বসবাস। মাদকসেবীদের মধ্যে ২-৪ জন যুবক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বলতে পারি না।

    স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পরিত্যক্ত ভবন দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।’

    মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘ব্যবহার-অনুপযোগী হওয়ায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিসটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। ভবনটির জমিদাতারা মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন, যেখানে আমাদের পক্ষে রায় এসেছে। ইতোমধ্যে ভবনগুলোর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছি।’

    মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. ছালাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানম বলেন, ‘সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক সেবন করা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    এম কে

  • নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনি কাজ না করায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনের কাছে এ বিষয়ক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি নিজস্ব কোনো প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। তবে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ দলীয় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেনি। বরং তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (সদ্য বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ প্রেক্ষাপটে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

    এর আগে বিএনপির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনি কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

    অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, সেখানে কর্মীদেরও বহিষ্কৃত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। আমাদের অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই, আমরা হাসান মামুনের সাথেই আছি।’পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটির বিলুপ্তির কাগজ পেয়েছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারি।

    এম কে

  • প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

    প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর দুমকিতে প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে পায়রা সেতু (লেবুখালী ব্রিজ) থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এক কলেজছাত্রী।

    রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।‌ তবে স্থানীয় জেলে ও সেনাসদস্যরা তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া তানজিলা বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষাবর্ষের বিবিএ অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানজিলার সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সেনাসদস্য সজিবের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে ক্ষোভ ও অভিমানে তানজিলা পায়রা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করলে লেবুখালী সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা বিষয়টি তাৎক্ষণিক নজরে আনেন। পরে জেলেদের নৌকার সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তানজিলাকে নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং তাকে লেবুখালী ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অনেক উচ্চতা থেকে নদীতে পড়ে তিনি কিছুটা আঘাত পেয়েছেন, তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীর পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    এম কে

  • পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।জেলা বিএনপির সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ আয়োজন করেন আব্দুল জব্বার মৃধা। এসব সভায় তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একাধিক লিখিত অভিযোগও করেন। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন।

    এম কে

  • বাউফলে পুকুরে ডুবে খিচুনিতে আক্রান্ত গৃহবধুর মৃত্যু

    বাউফলে পুকুরে ডুবে খিচুনিতে আক্রান্ত গৃহবধুর মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজঃ

    পটুয়াখালীর বাউফলে পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা. মরিয়ম বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    নিহত মরিয়ম বেগম উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা সুজন শিকদারের স্ত্রী। পরিবার ও শাশুড়ির সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খিচুনি রোগে ভুগছিলেন।
    শনিবার বিকেল ৫টার দিকে খেলাধুলা শেষে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে পুকুরঘাটে যান মরিয়ম। পরে সন্তানদের ঘরে পাঠিয়ে থালা-বাসন ধোয়ার সময় হঠাৎ খিচুনি উঠে তিনি পুকুরের পানিতে পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    দীর্ঘ সময় তাকে না দেখে সন্তানরা বিষয়টি শাশুড়িকে জানালে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে নেমে ডুবন্ত অবস্থায় মরিয়মকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
    এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এম কে

  • বিষ প্রয়োগে ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    বিষ প্রয়োগে ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মনোয়ারা বেগম (৫০) নামের এক নারী কৃষকের মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি কলাপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
    শনিবার  সকালে কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের কাংকুনি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ওই এলাকার ‘শিশু পল্লী একাডেমি’ নামের একটি বিদ্যালয় থেকে ঘের লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন মনোয়ারা বেগম। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময় পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা তার মাছের ঘেরে অনধিকার প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগ করে।
    ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ প্রয়োগের ফলে প্রায় ৪ লাখ টাকার রুই, কাতল, গ্রাসকার্প ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া আরও প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ঘেরে মরে ভেসে ওঠে। এতে তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
    মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া কিছু জমি ও এই মাছের ঘের পরিচালনা করেই সংসার চালাতাম। দুর্বৃত্তরা এমন বড় ক্ষতি করবে কখনো ভাবিনি। এখন আমি প্রায় নিঃস্ব। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
    কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, “মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে নিধনের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    এম কে

  • ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদান

    ঝালকাঠিতে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর জামায়াতে যোগদান

    ডেস্ক নিউজঃ

    ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সুজিত ঘরামীর নেতৃত্বে শতাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

    ঝালকাঠি জেলা বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে স্বাগত জানানো হয়।অনুষ্ঠানে নবাগত সদস্যদের ফুল ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি সদর-নলছিটি আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে যোগদান প্রমাণ করে জামায়াতে ইসলামী একটি গণমানুষের রাজনৈতিক সংগঠন। ন্যায়, সততা ও সুশাসনের রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। জামায়াতে যোগদানকারী কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা সুজিত ঘরামী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের কল্যাণ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অবদান রাখতেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি।

    এম কে