ক্যাটাগরি সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে, যে আওয়ামী লীগ জাতি ও বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করত এবং লাঠিয়াল দিয়ে কর্তৃত্ববাদ কায়েম করেছিল। আর বর্তমানে আফসোসের ব্যাপার হলো রাষ্ট্রের যেখানে যেখানে সংস্কার দরকার তার প্রত্যেকটি বিষয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। এটি জাতির সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন।

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।

    জামায়াত আমির বলেন, মহান জাতীয় সংসদে সরকারি দল মুখে ঠিকই জুলাইয়ের কথা বলেন, শহীদ হাদির কথাও বলে; কিন্তু কার্যত আমরা সরকারি দলের কাছ থেকে তার উল্টোটা দেখতে পাই। তারা দুটি ভোটের একটা ৫১% মানেন-যা তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে, কিন্তু আরেকটি গণভোটের ৭০% মানেন না- যা শাসকগোষ্ঠীকে স্বৈরতন্ত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে, জাতিকে বৈষম্যমুক্ত করবে, সুশাসন কায়েম করবে এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য। তাদের এই দ্বিচারিতা জাতির জন্য লজ্জার, দুঃখের। তিনি বলেন, যেদিন ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মানবে, সেদিন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন আপামর ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সবাই মাস্টারমাইন্ড। প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কি পারছি আর পারিনি তার জবাবদিহিতিা আছে।

    তিনি আরোও বলেন, যে আইন বাস্তবায়ন হলে, অধ্যাদেশ পাস করলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে- সেগুলো বিএনপি বাতিল করে দিচ্ছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমপি মাসুম মোস্তফার উপর হামলা করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ক্রিস প্রদর্শনী এমন বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধারা চায়নি। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। মা বোনেরা নিরাপত্তার সাথে বের হবে এবং কাজ শেষে নিরাত্তার সাথে ফিরবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে। সেই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমরা সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। জনতার বিজয় হবে। আমরা আশাবাদী এ বাংলাদেশ পাল্টাবে। আমাদের এই যুদ্ধ সংসদে ও রাজপথে চলমান থাকবে। আমরা দেশবাসীকে মাঠে চাই। ব্যক্তিগত কোনো দাবি দাওয়া আমাদের নেই। সব দাবি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল দেশবাসী। ফলে সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাস বয়সে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকার। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি। আমরা জনতার দাবি আদায় করে ছাড়বো।

    এলডিপির চেয়াম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। জনগণ কৃষক কার্ড চায় না, ফ্যামিলি কার্ড চায় না। তিনি বলেন, সামনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে, অর্থনীতিকে সামাল দেয়া যাবে না। যার প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত বিএনপির লোকেরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হন। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে বসে জাতিকে মুক্তি দিতে সেই পলিসি নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের ৭০% গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে রায় দিয়েছে। কিন্তু তলে তলে বিএনপি না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়তে, আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে। আজ সেই আন্দোলনকে অস্বীকার করা হচ্ছে। আজকে দুমাসের মাথায় রাজপথে নামতে হচ্ছে। এটি কারো জন্য সুখকর হবে না। জুলাইয়ে দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে। আজকে আবার এক ব্যক্তির শাসনের দিকে নিতে চায় বিএনপি, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ১১ দল আন্দোলনের ডাক দিলে প্রথম কাতারে থেকে প্রথম শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। যেসব সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী, তার প্রত্যেকটি সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাবনা, তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, গুম সংক্রান্ত কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গণভোট মানেন না। গায়ের জোরে তারা এসব বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি। জুলাই শহীদ পরিবার, জুলাই আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাইযোদ্ধারা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ের দাবি নিয়ে আবার সমাবেশ করতে হবে, তা জুলাইযোদ্ধারা চিন্তা করেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। জুলাই শহীদ পরিবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বক্তব্য শুনতে চায় না, বরং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকবেন- তা শুনতে চায়। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বো।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করছেন তাদের পরিণতি পলাতক আওয়ামী লীগের মতোই হবে। সরকার যে মসনদে বসে আছে- সেই মসনদ জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের মসনদ। জুলাইযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারি করে তাদের পা ভাঙতে আসলে আপনাদের পা ভেঙে যাবে। জুলাইযোদ্ধারা আজ শাহবাগে একত্রিত হয়ে যে আওয়াজ তুলেছে, সেই আওয়াজকে বোঝার চেষ্টা করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যা্ডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমি, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম, জুলাইয়ের শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহরুল ইসলাম।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের নায়েবে আমিরবৃন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের মাননীয় এমপিবৃন্দ এবং ডাকসু, জাকসু, চাকসু, জকসু, রাকসু নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সারা দেশ থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী দুই সহস্রাধিক জুলাইযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার জুলাইযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন।

    সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। সমাবেশে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, জুলাই শহীদ যুবায়ের খানের পিতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান, শহীদ আনাস ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম খান, হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা তৌহিদ ফারাজী, জুলাই শহীদের পিতা জাকির হোসেন, শহীদের পিতা শেখ জামাল হোসাইন, শহীদের পিতা গাজিউর রহমান ও হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা আতিউর ইসলাম প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত। সকাল ১০টায় ক্বারী এনায়েত উল্লাহ সাইফি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কোরআন তেলয়াওয়াতের অনুবাদ করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান।

    এ,আর

  • দেশের অন্যতম বৃহৎ তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি

    দেশের অন্যতম বৃহৎ তুলা খামারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ বর্ধন খামারটি একসময় ছিল সম্ভাবনার প্রতীক। তবে বর্তমানে জনবল সংকট, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় খামারটির কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশাল এই খামারের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি করেছেন স্থানীয় সংসদসদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    এ বিষয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তৃতা করেন। তিনি খামারটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে অব্যবহৃত সম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব হবে এবং দেশের কৃষি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    ১৯৮০ সালের ১৯ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান র খামারটির উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সরকার ও তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক স¤প্রদায়ের (ইইসি) আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির মোট আয়তন ৬৩ দশমিক ৭০ হেক্টর (প্রায় ১৫৭ একর)। এর মধ্যে গবেষণা, বীজ উৎপাদন, বিভিন্ন ফসল চাষ, বাগান, পুকুর, রাস্তা ও অবকাঠামোসহ নানা কাজে জমি ব্যবহার করা হলেও প্রায় ১৪ দশমিক ৭২ হেক্টর জমি বর্তমানে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

    খামারটিতে প্রজনন, কৃষিত্বত্ত¡, কীটতত্ব, মৃত্তিকা ও রোগতত্ব এই পাঁচটি ডিসিপ্লিনের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। পাশাপাশি রয়েছে আবাসিক সুবিধাসহ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১২০ জনকে থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই সহজেই একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।
    খামারের পাশেই অবস্থিত চৌগাছার মর্জেদ বাওড়, যা মৎস্য গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এছাড়া খামারের পতিত জমিতে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বিষয়ক গবেষণাও চালানো যেতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

    চৌগাছার সিনিয়র সাংবাদিক রহিদুল খান বলেন, যশোর একটি উন্মুক্ত কৃষি উৎপাদন এলাকা, যেখানে সারা বছর বিভিন্ন প্রজাতির ফসল উৎপাদন সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষি গবেষণা ও শিক্ষার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। তার মতে, জগদীশপুর তুলা খামারেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে সরকারের ব্যয় কম হবে এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যাবে।

    খামারের ব্যবস্থাপক কর্টন এগ্রোনোমিস্ট যোবায়ের ইসলাম তালকদার বলেন, এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হবে।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বিন হুসাইনও একই মত পোষণ করে জানান, যশোর অঞ্চলের মাটি সব ধরনের ফসল উৎপাদনের উপযোগী হওয়ায় এই এলাকায় কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে।

    বি/এ

  • যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    যাদুকাটা নদীতে গোসল করতে নেমে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

    বিডি ডেস্ক নিউজ হ

    আবু সাঈদের সাথে থাকা অন্য ছাত্ররা সাঁতার কেটে টিলার পাড়ে উঠতে পারলেও আবু সাঈদ পানিতে তলিয়ে ন

     

    আবু সাঈদের সাথে থাকা অন্য ছাত্ররা সাঁতার কেটে টিলার পাড়ে উঠতে পারলেও আবু সাঈদ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।

    ‎সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত নদী যাদুকাটায় গোসল করতে নেমে আবু সাঈদ (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বিজিবি ক্যাম্পের উত্তরে যাদুকাটা নদীর শাহিদাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ‎এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রশিদ।

     

    নিখোঁজ আবু সাঈদ উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের শাহিদাবাদ গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে।

    নিখোঁজ আবু সাঈদের চাচা শহিদ মিয়া জানান, দুপুরের দিকে শাহ আরেফিন শাহিদাবাদ এতিমখানা ও মাদরাসা থেকে সমবয়সী চার-পাঁচজন ছাত্র গোসল করতে মাদরাসার পেছনে যাদুকাটা নদীতে যায়। এ সময় যাদুকাটা নদীর উৎস মুখে পূর্ব পাড়ে থাকা ছোট একটি নালা পাড় হয়ে নদীর পশ্চিম পাড় বারিক্কার টিলা সংলগ্ন বাঘের মুখ নামক নালায় গিয়ে গোসল করতে নামে সবাই।

    তবে, আবু সাঈদের সাথে থাকা অন্য ছাত্ররা সাঁতার কেটে টিলার পাড়ে উঠতে পারলেও আবু সাঈদ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। এ সময় তার সাথে থাকা ছাত্ররা মাদরাসা ও আবু সাঈদের বাড়িতে তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ জানায়। পরে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বিকেল থেকে যাদুকাটা নদীতে নিখোঁজ আবু সাঈদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে তাকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    এ,আর

     

  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: আট ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৯0 শতাংশ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: আট ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৯0 শতাংশ

    নিউজ ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দিনে বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত গড় ভোট পড়েছে ৯0 শতাংশ।

    নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখাচ্ছে যে ভোট গ্রহণের আট ঘণ্টায় সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ আসনে। সেখানে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    এই আসনটি মুসলমান অধ্যুষিত এবং এই আসন থেকেই ভোটার তালিকায় সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছিল।

    অন্য যে দুটি আসনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বাধিক নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়েছিল, সেই লালগোলা ও ভগবানগোলা আসন দুটিতেও যথাক্রমে প্রায় ৮৫ শতাংশ ও প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    ওই তিনটি অঞ্চলেই যখন বিবিসির সংবাদদাতারা গিয়েছিলেন, তখন দেখেছেন যে বহু পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্য থেকে শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি ফিরে আসছেন।

    এই তিনটি এলাকার মানুষদের মধ্যে একটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে এবারের ভোট না দিতে পারলে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়, তাই তারা কাজের পরোয়া না করেই বাড়ি ফিরেছেন।

    রাজ্যের বিদায়ী বিধানসভায় বিরোধী-দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে নন্দীগ্রাম আসন থেকে লড়ছেন, সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ।

    অন্যদিকে সবথেকে কম ভোটদানের হার পুরুলিয়া আসনটিতে। সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ।

  • সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ

    সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের ৩৬টি মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে শুরু হয় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। পরে বিএনপি জোটের ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

    এ সময় স্বতন্ত্র জোট মনোনীত সুলতানা জেসমিনের মনোনয়নপত্রও প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে কমিশন। তবে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা তিনজন মাহবুবা রহমান, শারমিন আক্তার এবং মেহেরুন নেছার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

    যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা ২৬ এপ্রিলের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    এদিকে বুধবার এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনকে প্রয়োজনীয় নথি প্রদানের জন্য আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    তারা হলেন-সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা এবং রেজেকা সুলতানা।

    ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২১ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাই। ২৬ এপ্রিল বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে আপিল করা শুরু হয়ে এর নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।

    ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    এআর/এনআর

  • ইসরায়েলের হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল

    ইসরায়েলের হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল

    নিউজ ডেস্ক:

    সেই এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল৷ কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেন তার মরদেহ৷ লেবাননের দৈনিক আল-আখবার জানিয়েছে, নিহত সাংবাদিক ছিলেন তাদের প্রতিবেদক – নাম আমাল খলিল৷

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম হামলায় নিহত হয়েছিলেন দুজন৷ পরে আবার হামলা চালায় ইসরায়েল৷ তখন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের আল-তিরি গ্রামের ওই বাড়িটিতেও আঘাত হানা হয়৷ আমাল খলিল ও তার সহকর্মী জেইনাব ফারাজ আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই বাড়িতে৷

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, উদ্ধারকর্মীরা গুরুতর আহত ফারাজকে উদ্ধারের পর প্রথম বিমান হামলায় নিহত দুজনের মরদেহও উদ্ধার করেন৷ কিন্তু ইসরায়েলের বাহিনী তারপর উদ্ধারকারীদের ওপর গুলি চালানোয় তখন আর আমাল খলিলের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি৷ হামলার অন্তত ছয় ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ৷

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দা আমাল খলিল ২০০৬ সাল থেকে আল-আখবারের হয়ে স্থানীয় খবর সংগ্রহ করছিলেন৷ তার সর্বশেষ প্রতিবেদনটি ছিল ইসরায়েলের সেনাবাহিনী অবস্থান করছে লেবাননের এমন গ্রামগুলোতে লেবানিজদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করা নিয়ে৷

    আমাল খলিলের মৃত্যুর ফলে ২০২৬ সালে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়ালো নয়৷

  • বাস ভাড়া বাড়ল প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা

    বাস ভাড়া বাড়ল প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন এই ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারেও বাড়ানো হবে ১১ পয়সা।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।’

    ভাড়া বাড়নোর সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে রবিউল আলম বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এ সময় জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে বলেও জানান তিনি।

    বৈঠকে রেল ও নৌ পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

    এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ে। জ্বালানি তেলের নতুন দাম ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়।

    এর পরই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন মালিক ও শ্রমিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এর আগে ২০২২ সালে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।

  • ইসরায়েলের লক্ষ্য আল-আকসা মসজিদ ধীরে ধীরে ধ্বংস করা: ইরান

    ইসরায়েলের লক্ষ্য আল-আকসা মসজিদ ধীরে ধীরে ধ্বংস করা: ইরান

     

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদে পুনরায় হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোহসেনি এজেয়ি এক বার্তায় বলেছেন, ইসরায়েলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এই পবিত্র স্থাপনাটি ধ্বংস করা এবং পবিত্র জেরুজালেমের পরিচয় পরিবর্তন করা।

    তিনি সব মুসলমানের জন্য এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

    বিচার বিভাগের প্রধান সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তা প্রকাশ করে ইসরায়েলের অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    তিনি বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের অবমাননার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সেখানকার বর্ণবাদী সামরিক বাহিনীর সরাসরি ও সর্বাত্মক সহায়তায় আবারও আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে হানা দিয়েছে এবং এই পবিত্র স্থানের মর্যাদার অবমাননা করেছে।

    বিচার বিভাগের প্রধান এই শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ কেবল একটি সাধারণ হামলা নয়; বরং তারা পরিকল্পিতভাবে আল-আকসা মসজিদকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করা যা এখন আর কারও অজানা নয়।

    মোহসেনি এজেয়ে তার বার্তার শেষে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতাকে সবার দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের সব মুসলমানের কর্তব্য হলো এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে মুসলমানদের প্রথম কিবলাকে আগ্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করা।#

  • জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে কমিটির ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের সমস্যার সমাধানের সুপারিশ করতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই মধ্যে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে সভাপতি করে সরকারি দলের পাঁচ সদস্যের নামের কথা জানিয়েছেন। বিরোধী দলকে পাঁচ সদস্যের নাম দিতে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় কমিটি গঠনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    গতকাল বুধবার জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি দল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলে আলোচনা করে একমত হয়েছিলাম বা একটি বিষয়ে আমরা উপনীত হয়েছিলাম এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, সারা বিশ্বেই এই সমস্যার তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা উনার বক্তব্যে বাংলাদেশের যে উদ্বেগ সেটি জানিয়েছেন এবং উনারা প্রস্তাব দিয়েছেন, উনাদের কাছে কিছু পরামর্শ আছে, সরকারি দল এবং বিরোধী দল একসঙ্গে সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে পারি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সব সময় দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোনো আলোচনা, যে কারও সঙ্গে করতে প্রস্তুত রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, আমাদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। আমি বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধী দলকে অনুরোধ করব, উনারাও যদি পাঁচজনের নাম দেন, তাহলে এই ১০ জন ব্যক্তি বসে এই বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করতে পারে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পরামর্শ থাকলে এই কমিটির মাধ্যমে সেটি সরকারের কাছেও আসল এবং সেটার মধ্যে কোনো বাস্তবতা থাকলে অবশ্যই সেটি কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

    কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকবেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অন্য চার সদস্য হলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), মঈনুল ইসলাম খান এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

    প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করব উনাদের পক্ষ থেকে নামগুলো যদি দ্রুত আমাদের কাছে দেন, তাহলে কমিটি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবে।’

    পরে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফ্লোর দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমরা আশা করি, এই সংসদ জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশা আল্লাহ এবং আমরা মনে করি, এই সংসদের জন্য এটি একটি নবযাত্রা। এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং আমরা শিগগিরই ইনশা আল্লাহ নাম প্রদান করব।’

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আশা করি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিরোধী দলের নেতা পাঁচজন সদস্যের নাম দেবেন। কারণ, এই সংসদ (অধিবেশন) এ মাসের শেষেই শেষ হবে। আপনাদের এই বক্তব্যের ফলে জনগণের মনে অনেক আশা সঞ্চার হয়েছে। সরকার এবং বিরোধী দল এইভাবে যদি সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হয়, তবে দেশের কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’

    এআর/এমআর

  • হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের

    হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কারে ছয় মাসও লাগতে পারে, দাবি পেন্টাগনের

    নিউজ ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা নিয়ে যেমন এখনো অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে, ঠিক তেমনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে তা এখনো অনিশ্চিত। এরইমধ্যে পেন্টাগন বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যেসব মাইন পুঁতে রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো অপসারণ করতে ছয় মাস পর্যন্তও সময় লাগতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তারা মনে করছে।

    দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিবিসি অ্যারাবিক জানিয়েছে, মঙ্গলবার হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ মন্তব্য করেন। ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত তিন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    ওই তিন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন বলেন, সম্ভাব্য এই সময়সূচি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের সদস্যরাই হতাশা প্রকাশ করেছেন। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হলেও জ্বালানি ও তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য উচ্চ অবস্থায় থাকতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই তিন কর্মকর্তা জানান, কমিটিকে জানানো হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরান মাইন পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

    এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কংগ্রেসকে বলেন, এসব মাইনের কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে স্থাপনের সময় মার্কিন বাহিনীর জন্য সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    এ ছাড়া, আরও কিছু মাইন ছোট নৌযান ব্যবহার করে ইরানি বাহিনী পুঁতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।