ক্যাটাগরি সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে লিখেছে, পত্রিকাটির স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত ঘাঁটি বা স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে’।

    ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ‘বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম’। মার্কিন এই সংবাদপত্রটি লিখেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কখনো স্বীকার বা এর আগে কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসা যেকোনো তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।’ কয়েক দিন আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই ধরনের এক প্রতিবেদনে অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানিয়েছিল।

    এখন ওয়াশিংটন পোস্ট লিখছে, কর্মকর্তাদের মতে বিমান হামলার হুমকি ‘অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে এবং কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন’।

    তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ‘বিশেষজ্ঞদের বর্ণনাকে ব্যাপক ধ্বংস বা ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়’, কারণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে’।সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে আরো বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ইরানের হামলা সম্পর্কে আরো পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারবেন।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে ঘোষণা দেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধের ব্যয় হবে ২৫ বিলিয়ন বা ২৫০০ কোটি ডলার। তবে একইসাথে তিনি স্বীকার করেন যে এই যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লেগে যেতে পারে। এদিকে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

  • মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সাগরে আটকে পড়া ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি। প্রতিনিয়ত ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে বিভিন্ন বার্তা দেয়া হচ্ছে। বার্তা পাচ্ছি- কেউ যদি হরমুজ প্রণালী ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে।’

    জাহাজটিতে নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তাদের কয়েকজন জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তে দেখেছেন তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে কবে হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিয়ে নিরাপদে উপসাগরীয় এলাকা ছাড়তে পারবেন, জানেন না জাহাজটিতে থাকা বাংলাদেশী নাবিকদের কেউ।জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো: শফিকুল ইসলাম বুধবার (৬ মে) বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এমন একটা জায়গায় আটকে পড়েছি, ধরে নিতে পারেন এটা একটা পুকুর। আমাদের বের হওয়ার রাস্তা একটাই, সেটা হরমুজ প্রণালী। জানি না কবে এখান থেকে বের হতে পারব।’

    জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির অন্তত দুই হাজার ২৭৩টি জাহাজ। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য-ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজও রয়েছে।এদিকে আটকে পড়া বাংলাদেশী জাহাজটিকে বের করে আনতে কূটনীতিক চ্যানেলে ইরানের সাথে কয়েক দফায় যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন বা বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশের জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

    এদিকে, বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি’র নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘আগ্রাসীদের হুমকি বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালী আবারো খুলে দেয়া হতে পারে।’উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালী থেকে বের হতে পারেনি। বরং এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

  • বিশ্বজুড়ে  তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    বিশ্বজুড়ে তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইঁদুরবাহিত প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এখন বিশ্বজুড়ে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে। আক্রান্ত একটি বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীরা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাইরাসটির সংস্পর্শে শত শত মানুষ এসে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ বাড়ছে। এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজ জাহাজটি শনিবার থেকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আতঙ্কের কেন্দ্রে রয়েছে। জাহাজটিতে বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল

    এতে বলা হয়, যদিও সাধারণত ইঁদুরের মূত্র, মল ও লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে, এই সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসটি হলো হান্টাভাইরাসের বিরল ‘অ্যান্ডিস’ ধরন। এটিই একমাত্র পরিচিত হান্টাভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

    ডব্লিউএইচও চেষ্টা করছে কীভাবে হান্টাভাইরাসটি জাহাজে এল, তা নির্ধারণ করতে। প্রথম মৃত ব্যক্তি- ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক ৬ এপ্রিল অসুস্থ হন। তিনি ১১ এপ্রিল মারা যান। এ সময় জাহাজটি ট্রিস্টান দা কুনহার দিকে যাচ্ছিল। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, তার মরদেহ ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজেই রাখা হয়েছিল। পরে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয় তা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় আরও ২৩ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমেছিলেন এবং পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন।

    ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে, ওই নারী ২৫ এপ্রিল এয়ারলিংক পরিচালিত একটি বিমানে জোহানেসবার্গে যান। ওই বিমানে ৮২ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। তিনি গুরুতর উপসর্গ থাকা অবস্থায় জোহানেসবার্গ থেকে নেদারল্যান্ডসগামী আরেকটি বিমানে ওঠেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে কর্মীরা তাকে নামিয়ে দেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন অন্তত ৮০ জন যাত্রীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যারা ওই নারীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন। ২৭ এপ্রিল ক্রুজের এক বৃটিশ যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অ্যাসেনশন দ্বীপ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় নেয়া হয়। কয়েক দিন পর আরেক যাত্রী এক জার্মান নাগরিক মারা যান।

    ৩রা মে এমভি হন্ডিয়াস কেপ ভার্দেতে পৌঁছালেও জাহাজটিকে ভিড়তে দেয়া হয়নি। ফলে যাত্রীরা কার্যত সমুদ্রে আটকা পড়েন। এরপর তিনজন রোগীকে নেদারল্যান্ডসের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট হেলেনা থেকে দেশে ফেরা দুই বৃটিশ যাত্রী বর্তমানে বৃটেনে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। বৃটিশ সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাইরাসটির উপসর্গ সাধারণত সংস্পর্শে আসার দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে দুই দিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী দিন বা সপ্তাহগুলোতে আরও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

    সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার চুবুত প্রদেশের এপুয়েন শহরে অ্যান্ডিস ভাইরাসের আরেকটি প্রাদুর্ভাবে সংক্রমণের হার ছিল ২ দশমিক ২। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে আরও দুজনের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করা হয়েছে, জাহাজে থাকা এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকও ২১ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় নেমে দেশে ফিরে গেছেন।

  • হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান খলিল আল-হাইয়ার ছেলে আজম আল-হাইয়া বুধবার গাজা সিটিতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। হামাসের কর্মকর্তা বাসিম নাঈম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    এর আগে খবরে বলা হয়, ইসরাইলি হামলায় আল-হাইয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ আল-হাইয়ার নিহতের খবর প্রকাশ করেছে হামাস। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-হাইয়াকে হত্যার জন্য বহুবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তবে সাত সন্তানের এতদিন বেঁচে থাকলেও ইসরাইলি হামলায় আর তার শেষ রক্ষা হলো না। এর আগে গত বছর দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সেইবারও প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন আল-হাইয়া।

  • যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র দুই দিন পর বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে এই হামলা হয়।

    তদন্তকারীরা জানান, প্রথম ভুয়া নম্বর প্লেটধারী এক গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ি গতিরোধ করে। এরপর হামলাকারীমোটরসাইকেলে এসে তিনবার চন্দ্রনাথকে গুলি করে।
    দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। চন্দ্রনাথের গাড়িটি প্রথমে দোলতালার কাছে মধ্যমগ্রামে আটকানো হয়।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি রাস্তার মাঝে চন্দ্রনাথের গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি গুলি চালায় হামলাকারীরা।

    এরপর ওই ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি ফেলে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

    স্থানীয় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক পিটিআই’কে বলেন, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বুকে এবং হৃদপিন্ডে গুলি লেগেছিল।

    ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের বুকে দুটি গুলির আঘাত ছিল, যার একটি হৃৎপিণ্ড ভেদ করে এবং আরেকটি গুলি তার পেটে লাগে। তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
    একজন প্রতক্ষ্যদর্শী দাবি করেছেন যে হামলাকারীরা পেশাদার ছিলেন।
    ওই ব্যক্তি এনডিটিভিকে বলেন, চন্দ্রনাথের গাড়িটি কেবল আমাকে অতিক্রম করলো, এরপর রাস্তার মাঝে হুট করে থামলো এবং বাইকে আসা এক ব্যক্তি গাড়ির বামপাশে গুলি চালালো। হামলাকারীদের দেখে পেশাদার মনে হয়েছে।

    এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
    প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি গাড়ি এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছে।

    পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, চন্দ্রনাথের গতিরোধ করা গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়িতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল তা ভুয়া। এ ছাড়া মোটরসাইকেলগুলোর নম্বর প্লেটও ভুয়া ছিল।

    হামলায় অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার
    পুলিশ ধারণা করছে, এই হামলায় হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছেন, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লোক ৪৭এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গের ঊর্ধতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ ক্রিমিনালরা ব্যবহার করে না। আমরা তদন্ত করে দেখছি যে এই হামলায় পেশাদার শুটার জড়িত ছিল কিনা।

    সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করেছি। এই মুহূর্তে হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।

    ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল হামলাকারীরা
    চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মধ্যমগ্রামের দোহারিতে আবাসিক কমপ্লেক্সে থাকতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা চন্দ্রনাথের জন্য ৪০মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল। তিনি স্করপিও এসইউভি ব্যবহার করতেন। এই গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্টিকার লাগানো ছিল। তাই তার গাড়ি চিনতে হামলাকারীদের কোনো সমস্যা হয়নি।

  • পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    গ্রীষ্মকাল মানেই তীব্র গরম। এসময় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ঘুমের ব্যাঘাত, পড়াশোনার চাপ সব মিলিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী উদ্বেগ, হতাশা কিংবা অস্থিরতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে। তাই এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গরম মানুষের মেজাজের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বাড়লে বিরক্তি, রাগ এবং মানসিক ক্লান্তি বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে বা মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

    পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব

    গরমের কারণে অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

    হাইড্রেশন ও সুষম খাদ্য

    শরীর পানিশূন্য হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায় ফলে মনোযোগে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ফলমূল, সবজি ও হালকা খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা উচিত।

    পড়াশোনায় সঠিক পরিকল্পনা

    গরমের দিনে দীর্ঘ সময় একটানা পড়াশোনা করা কষ্টকর হতে পারে। তাই ছোট ছোট বিরতি নিয়ে পড়াশোনা করা বেশি কার্যকর। সকালে বা রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়া যেতে পারে। একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।

    মানসিক চাপ কমানোর কৌশল

    শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হালকা শরীরচর্চা কিংবা কিছু সময় নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলা বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাও মানসিক স্বস্তি দেয়।

    অভিভাবকদের ভূমিকা

    এই সময়ে অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে সন্তানদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং মানসিক সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন। তুলনা বা অতিরিক্ত প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কখন পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন

    যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অনিদ্রা বা হতাশায় ভোগে তবে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্রুত সহায়তা পাওয়া গেলে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    বি/ এ

  • ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    ধূমপানের বাড়ছে নারীদের বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পুরুষদের মধ্যে ধূমপানের হার কিছুটা কমলেও নারীদের মধ্যে এই অভ্যাস ক্রমেই বাড়ছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানকারী নারীরা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পুরুষদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। এমনকি যারা ধূমপান করেন না, তাদের তুলনায় ধূমপায়ী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি থাকে। অর্থাৎ একই অভ্যাস হলেও নারীদের শরীরে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে মারাত্মক।

    বর্তমানে অনেকেই ধূমপানকে আধুনিকতা বা ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। আবার কেউ কেউ মানসিক চাপ কমানোর অজুহাতে সিগারেটের দিকে ঝুঁকেন। বন্ধু-বান্ধবের প্রভাব বা আশপাশের পরিবেশও এ অভ্যাস গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ধূমপানের ক্ষতি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ত্বকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, দ্রুত বলিরেখা পড়ে এবং অকালেই বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি দাঁত ও মাড়ির নানা সমস্যার কারণে মুখের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে।

    মানসিক দিক থেকেও ধূমপান ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া এটি হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দিয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়, ফলে অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রভাব পড়ে নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে। ধূমপান সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং গর্ভপাত, অকাল প্রসব কিংবা মৃত সন্তান জন্মের মতো জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

    স্বল্পমেয়াদে এটি হয়তো তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই নিজের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ এবং মাতৃত্বের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। ধূমপান কোনো স্টাইল বা আভিজাত্যের প্রতীক নয় এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ধ্বংস করে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

    বি/ এ

  • ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    ই-সিগারেটের ক্ষতি কতটা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    ই-সিগারেট মূলত একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র। এতে থাকা তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা ব্যবহারকারী নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন। একেই বলা হয় ‘ভ্যাপিং’। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই তরলে সাধারণত নিকোটিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে।

    ই–সিগারেট ব্যবসায়ীদের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রথম ই–সিগারেট আমদানি হয়েছিল ২০১২ সালে। পরবর্তী কয়েক বছরে এই সিগারেট ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। তার বড় কারণ, ই-সিগারেট থেকে নির্গত ধোঁয়া দৃশ্যত নিরীহ প্রকৃতির এবং এর মিষ্টি সুবাস। তার পাশাপাশি ই-সিগারেট আমদানিকারক ও বিক্রেতারা দাবি করেন, এটি প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় বেশি নিরাপদ।

    তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, বাস্তবে অধিকাংশ ই-সিগারেটেই নিকোটিন থাকে এবং এটি ব্যবহারকারীর আসক্তি তৈরির প্রধান কারণ।

    জাতীয় হৃদ্‌রোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের চিকিৎসক অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ই-সিগারেট ব্যবহারে নিকোটিন গ্রহণের মাত্রা প্রচলিত সিগারেটের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ, এটি বারবার ও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী মনে করেন তরুণ ও কিশোরেরা সহজেই এই পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনগুলোতে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও ব্যাপকভাবে দেখা দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন

    ই–সিগারটের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব এখনো অজানা, তবে বিগত কয়েক বছরের বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই পণ্য নিরাপদ নয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্ব তামাক মহামারি প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা ই-সিগারেট ব্যবহার করে, তাদের ভবিষ্যতে সাধারণ সিগারেটে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়।

    দেশে তামাক ও তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে ২০০৫ সালে প্রথম আইন (ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন করে বিএনপি সরকার। ওই আইনের মধ্য দিয়ে তামাকজাত পণ্যের যত্রতত্র বিজ্ঞাপন সীমিত হয় এবং ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো প্রথমবারের মত আইনে স্বীকৃতি পায়।

    পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে আইনে সংশোধন আনা হয় এবং সিগারেটের প্যাকেটের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়।

    তবে আইনে কড়াকড়ি করেও বন্ধ করা যায়নি সিগারেট সেবন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তথ্য বলছে, সিগারেট ফুঁকে বছরে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর দেন ধূমপায়ীরা।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঠানো ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের ওই চিঠিতেও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তামাকজনিত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রতি বছর ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত কারণে; যা জাতীয় মৃত্যুহারের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ।

    বি/ এ

  • বদহজম কেন হয়

    বদহজম কেন হয়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

     

    আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ‘বদহজম’ বা indigestion খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অনেকেই এটিকে সামান্য গ্যাসট্রিক বা খাবারের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গকে বলা হয় ডিসপেপসিয়া (Dyspepsia), যা কখনো কখনো গুরুতর রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

    বদহজম আসলে কী

    বদহজম কোনো একক রোগ নয়, বরং ওপরের পেটের (epigastric region) কিছু উপসর্গের সমষ্টি। যেমন—

    * পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা।

    * অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া।

    * পেট ফাঁপা।

    * বমি বমি ভাব।

    কেন হয়

    বদহজমের কারণ দুই ধরনের হতে পারে—

    ১. ফাংশনাল (কারণ ধরা যায় না)।

    অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট রোগ পাওয়া যায় না, কিন্তু রোগী উপসর্গ অনুভব করেন।

    ২. অর্গানিক (নির্দিষ্ট রোগের কারণে) যেমন—

    * গ্যাসট্রিক আলসার।

    * গ্যাস্ট্রাইটিস।

    * অ্যাসিড রিফ্লাক্স।

    * বিরল ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসার।

    সতর্কসংকেত

    নিম্নলিখিত লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—

    * অকারণে ওজন কমে যাওয়া।

    * গিলতে সমস্যা।

    * রক্তবমি বা কালো পায়খানা।

    * দীর্ঘদিনের বমি।

    গুরুত্বপূর্ণ কারণ

    একটি বিশেষ জীবাণু Helicobacter pylori—বদহজমের একটি বড় কারণ। এছাড়া—

    * ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs)।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল।

    * অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।

    * মানসিক চাপ।

    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

    জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

    * নিয়মিত ও অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া।

    * অতিরিক্ত মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।

    * ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।

    সবশেষে বলব, বদহজম শব্দটি সহজ হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বারবার বদহজম মানেই শুধু গ্যাসট্রিক নয়—সময়ে পরীক্ষা করুন, সুস্থ থাকুন।

    বি/ এ

  • হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি ব্যথা কমায়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারি কী? কখন হিপ প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হিপ জয়েন্টকে একটি কৃত্রিম কাঠামো দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা কৃত্রিম ইমপ্লান্ট নামে পরিচিত। অনেক রোগী যারা অস্টিওআর্থারাইটিস বা হিপ জয়েন্টের অন্যান্য অবস্থা, যেমন রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, হাড়ের বিকৃতি বা আঘাতে ভুগছেন, তাদের চরম নিতম্বের ব্যথা এবং নড়াচড়া করতে অক্ষমতা, ঘুমের সমস্যা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। যখন সার্বিক অবস্থা ওষুধ, ফিজিক্যাল থেরাপি বা ইনজেকশন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্য হলো শেষ পর্যন্ত একটি বেদনাদায়ক নিতম্বের জয়েন্টকে ব্যথামুক্ত করা এবং হাঁটার জন্য নড়াচড়া সহজ করা।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির সুবিধা এবং ঝুঁকি কী কী?

    উত্তর : সাধারণত হিপ বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন একটি ব্যাপক যত্নের অংশ, যা ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করার পাশাপাশি নড়াচড়া ও কার্যকারিতার উন্নতির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। হিপ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অর্জিত সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো—ব্যথা থেকে মুক্তি, গতিশীলতা উন্নত হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, স্কোয়াটিং বা হাঁটার মতো প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপগুলো অনুসরণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। এটি একটি বড় সার্জারি, যা কিছু ঝুঁকি বা জটিলতাও বহন করে। সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকি হলো—পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা, যা ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস নামে পরিচিত। এই জমাট রক্ত ফুসফুসে গিয়ে পালমোনারি এমবোলিজম নামের অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের স্থানে বা জয়েন্টের মধ্যে সংক্রমণ, নিতম্বের স্থানচ্যুতি, জয়েন্টের ঢিলা হয়ে যাওয়া, ক্রমাগত অস্বস্তি এবং সার্জিক্যাল সাইটের হেমাটোমা বা রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে। এটা মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, ইমপ্লান্ট বসানোর দুর্বলভাবে সঞ্চালিত কৌশলের কারণে এই জটিলতাগুলোর অনেকগুলো দেখা দিতে পারে। তাই অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির পর সেরে উঠতে কতক্ষণ লাগে?

    উত্তর : নিতম্ব বা হিপ প্রতিস্থাপনের রোগীদের সুস্থতা হাঁটু প্রতিস্থাপনের রোগীদের তুলনায় সাধারণত দ্রুত হতে দেখা যায়। তবে এটাও দেখা যায় যে, সম্পূর্ণ হিপ প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হওয়ার সময় রোগীভেদে যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। অনেকগুলো কারণ এই সেরে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ করে; যেমন ডায়াবেটিস, অস্টিওপরোসিস এবং রোগীর ওজনের মতো শারীরিক অবস্থার উপস্থিতি। যদিও কিছু রোগীর সুস্থ হতে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, অন্যদের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে । কোনো অন্তর্নিহিত জটিলতা নেই এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সেরে ওঠার জন্য সাধারণত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন সার্জারির খরচ নির্ভর করে কোন বিষয়গুলোর ওপর?

    উত্তর : অস্ত্রোপচারের খরচ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে; যেমন ইমপ্লান্টের ধরন ও ব্র্যান্ড, অর্থোপেডিক সার্জন ও তার দলের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা। এছাড়া রোগীর অন্যান্য শারীরিক অবস্থা যা হাসপাতালে থাকা এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা ও ওষুধের প্রয়োজনীয়তাকে প্রভাবিত করতে পারে। হাসপাতালের বিলিং নীতির ওপরও খরচ অনেকখানি নির্ভর করে।

    প্রশ্ন : হিপ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতাল নির্বাচন করার সময় কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত?

    উত্তর : হিপ প্রতিস্থাপন একটি প্রধান অস্ত্রোপচার যা অর্থোপেডিক সার্জনের দক্ষতার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। এছাড়া যে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়, সেখানে প্রি-অপারেটিভ ও পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত দল থাকতে হবে। হাসপাতাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জনের প্রাপ্যতা, যিনি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন সার্জারি সম্পাদনে দক্ষ এবং অস্ত্রোপচারকারী দলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ সুসজ্জিত অপারেশন থিয়েটার থাকতে হবে। অপারেশন থিয়েটারে বিশেষায়িত অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, যেমন সিমেন্টের ‘ভ্যাকুয়াম মিক্সিং’, সি-আর্ম, পালস ল্যাভেজ ইত্যাদির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের জন্য দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জন, অ্যানেস্থেটিস্ট, নার্সিং এবং প্যারামেডিক্যাল স্টাফদের একটি ২৪ ঘণ্টা প্রশিক্ষিত দলের উপস্থিতি জরুরি। ফিজিওথেরাপির জন্য অর্থোপেডিক সার্জনের তত্ত্বাবধানে দক্ষ কর্মী এবং হাসপাতাল ছাড়ার পর ব্যায়াম পরিচালনার সঠিক নির্দেশিকা থাকতে হবে। সর্বোপরি ডায়াগনস্টিক, খাদ্যতালিকাগত এবং ফার্মেসির প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক সহায়তা থাকা বাঞ্ছনীয়।

    বি/ এ