ক্যাটাগরি চট্টগ্রাম বিভাগ

  • ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    ‘সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ’

    ডেস্ক নিউজ

    রাঙামাটির পার্বত্য জুরাছড়ির দুর্গম লেবারপাড়া গ্রামের এক কোণে দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন বিধবা লুংঘাছড়ি চাকমা (৬৫)। স্বামীর মৃত্যু তাঁর জীবন থেকে যেন সব আলোই কেড়ে নিয়েছিল। টিন আর বাঁশে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি নড়বড়ে কুঁড়েঘরে ঝড়-বৃষ্টির রাতগুলো তাঁর জন্য হয়ে উঠত নিদারুণ কষ্টের। নিজের অসহায় জীবনের বোঝা বহন করতে করতে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন একটি বসতঘর পেয়ে লুংঘাছড়ির জীবনে ফিরেছে আশার আলো।

    মুহূর্তটি লুংঘাছড়ির জীবনে যেন নতুন জন্মের মতো। ঘরের চাবি হাতে নিয়ে তিনি আর স্থির থাকতে পারেননি, আনন্দে চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রুধারা।

    লুংঘাছড়ি চাকমা বলেন, ‘আমার আর কিছু চাওয়ার ছিল না। শুধু মাথার ওপর একটা নিরাপদ ছাদ চেয়েছিলাম। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। সেনাবাহিনীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।

    ঘর হস্তান্তরের সময় পাশে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান শান্তি রাজ চাকমা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সবার চোখেমুখে তখন ছিল সন্তুষ্টির হাসি।

  • ক্লান্ত হয়ে আকাশ থেকে পড়ল হিমালয়ান শকুন

    ক্লান্ত হয়ে আকাশ থেকে পড়ল হিমালয়ান শকুন

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি পরিযায়ী হিমালয়ান শকুনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উত্তর কাঞ্চনা এলাকা থেকে পাখিটি উদ্ধার করা হয়।

    পাখিটির ডান পায়ের থাবার অংশ নেই এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় দীর্ঘ উড়ানের ক্লান্তিতে নিচে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর কাঞ্চনা এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে শকুনটি হঠাৎ আকাশ থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে মাদ্রাসার ছাত্ররা বন বিভাগকে খবর দিলে কর্মকর্তারা রাতে গিয়ে শকুনটিকে উদ্ধার করে।

    বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিবেশ ও খাদ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশে শকুন বিলুপ্তপ্রায়। উদ্ধার হওয়া শকুনটি পরিযায়ী প্রজাতির ‘হিমালয়ান গৃধিনী’ নামে পরিচিত। এটি শীত এলে ভারত, নেপাল, ভুটান ও তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দক্ষিণে নেমে আসে। দীর্ঘ পরিযায়নের ক্লান্তিতে শীতকালে এ প্রজাতির শকুন প্রায়ই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্বল অবস্থায় আটকা পড়ে।

    আইইউসিএনের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের গবেষক সীমান্ত দীপু জানান, প্রতি বছর শীতকালে হিমালয়ান গৃধিনী শকুন বাংলাদেশে আসে এবং উড়তে না পেরে অনেক সময় আটকা পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বন বিভাগ বা আইইউসিএনকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    মাদার্শা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন বলেন, প্রায় সাত কেজি ওজনের উদ্ধার হওয়া শকুনটির ডান পা ছিল না। দীর্ঘ পথ উড়ার পর খাবার না পেয়ে শকুনটি ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। আমরা শকুনটিকে খাবার দিয়েছি, এখন মোটামুটি সুস্থ। তবে উড়তে পারার মতো শক্তি নেই। শকুনটিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালে পাঠানো হ

    য়েছে। সেখানেই পরিচর্যার পর পাখিটিকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

    উদ্ধার হওয়া হিমালয়ান গ্রিফন শকুন প্রজাতিটির আইইউসিএনের লাল তালিকায় রাখা হয়েছে ‘প্রায়-বিপদগ্রস্ত’ ক্যাটাগরিতে। এর মানে হলো, এই প্রাণীর প্রজাতি অদূর ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

  • কর্ণফুলীতে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    কর্ণফুলীতে অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে অস্ত্র ও কার্তুজসহ রাশেদ নুর প্রকাশ রাশু (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোর চারটার দিকে বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত যুবক একই এলাকার রাজ্জাক নুর প্রকাশ রজ্জক নুরের ছেলে। এসময় তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ১টি এলজি এবং ৩ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ।
    বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারকৃত বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে থানায়। পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে’।

  • চট্টগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু

    চট্টগ্রামে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজ

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মাহবুবুর রহমান (৪৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। এ নিয়ে এই ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হলো।

    মাহবুবুর রহমান চট্টগ্রামের চন্দনাইশ দক্ষিণ বলতলী গ্রামের কবির আহামেদ ভূঁইয়ার ছেলে। তার আগে এ ঘটনায় মো. ইদ্রিস (২৭) ও মো. ইউসুফ (৩০) নামে দুজন মারা গেছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মাহবুবুর রহমানের শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে মারা যান তিনি। একই ঘটনায় দগ্ধ রিয়াজ নামে আরো একজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, গত বুধবার ভোরে চট্টগ্রামে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী সৈয়দাবাদ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের একটি গুদামে বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই গুদামের মালিক মাহাবুবুল আলমসহ ১০ জন আহত হন। বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ায় গুদামটিও পুড়ে যায়।

    সেখানে অবৈধভাবে বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা (রিফিল) হতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 1305

    ডেস্ক নিউজ

     

    ‘হাতি আপনাদের মেহমান। মেহমান এসে ফসল খেয়ে ফেললেও তাদের কোনো ক্ষতি করবেন না। সরকার আপনাদের ফসলের ক্ষতিপূরণ দেবে। কেউ যেন হাতির ক্ষতি না করে।’

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বন্য হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারি ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন বন বিভাগের বাঁশখালীর জলদি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ।

    আজ বুধবার সকালে আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে চেক বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা বাঁশখালীর জলদির রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার। উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ অফিসার মাজহারুল ইসলাম ও মো. ফোরকান মিয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    অনুষ্ঠানে ১১ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আইন ও বিধিমালা–সম্পর্কিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    ক্ষতিপূরণ নিতে আসা আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক এলাকার আবু বক্কর প্রথম আলোকে বলেন, তিনি হাতির আক্রমণে আহত হন। এ জন্য এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। তাঁর এলাকায় প্রায় হাতি হানা দেয়। এক রাতে ঘর থেকে বের হয়েই হাতির সামনে পড়েন তিনি। তখন হাতির আক্রমণে আমি আহত হন।

    দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত হানা দেয় হাতি। ২০১৮ সালের সালের ১৩ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ছয় বছরে এই দুই উপজেলায় হাতির আক্রমণে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ এ বছরের ২২ মার্চ মো. আরমান জাওয়াদ নামের এক শিশু নিহত হয়।

    বন বিভাগ বলছে, হাতির আবাসস্থল ধ্বংস, চলাচলের পথ নষ্ট, বনভূমি উজাড় ও খাদ্যসংকটের কারণে হাতিরা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে আসছে। এর আগে বন বিভাগের উদ্যোগে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাতির লোকালয়ে হানা দেওয়া বন্ধ হয়নি। হাতির আক্রমণে মানুষ যেমন প্রাণ হারিয়েছে, তেমনি মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদেও হাতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

  • গাছের ডাল ভেঙে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু

    গাছের ডাল ভেঙে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজ:

    চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাথায় গাছের শুকনো ডাল পড়ে উত্তম দাস (৪২) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার  দুপুর একটার দিকে পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্ব গোমদণ্ডী কৈবর্ত্যপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    উত্তম একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢোলবাদক বিনয় বাঁশি জলদাসের বাড়ির গোপাল দাসের ছেলে। উত্তম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তিনি মঙ্গলবার বাড়িতে এসেছিলেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা ব্রজেন্দ্র লাল দাস জানান, উত্তম দুপুরে গোসল করার জন্য ছন্দারিয়া খালে গিয়েছিলেন। এসময় খাল পাড়ের একটি বড় শুকনো আম গাছের ডাল বাতাসে তার মাথায় পড়ে। এতে উত্তম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজর্ষি নাগ বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয় লোকজন উত্তম নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

  • ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান

    ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান

    কৃষি ডেস্ক

    কেউ খেতে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন, কেউ পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কোথাও তোলা হচ্ছে কাঁচা-পাকা টমেটো। চাষিরাও এসব টমেটো বাছাই করে খেতের পাশেই স্তূপ করছেন। সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আমেজ। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নের গ্রামগুলোর বর্তমান চিত্র এটি। এই এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান হয়েছেন চাষিরা।

    অন্য বছর অক্টোবরে টমেটো চাষ শুরু হতো। কারণ, এ সময়টাতে সাধারণত বৃষ্টি হয় না। তবে এবার আগস্টেই শুরু হয়েছে টমেটো চাষ। বৃষ্টির পানিতে ক্ষতি রোধে চাষিরা রেখেছেন বিশেষ ব্যবস্থাও। পানি জমে যেন টমেটোগাছের ক্ষতি না হয় এ জন্য খেতজুড়ে কেটেছেন সেচের নালা। আর এটিই সাফল্য এনে দিয়েছে।

    উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, বৈলছড়ী, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, শীলকূপ, চাম্বল ও পুইছুড়ি ইউনিয়নে এবার ৪১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নেই চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে ‘প্রফিট আর্লি’, ‘দুর্জয়’ ও ‘বাহুবলী’ জাতের উচ্চফলনশীল টমেটো চাষ করছেন কৃষকেরা। অন্য বছরের তুলনায় ভালো ফলন আর বাজারদর বেশি থাকায় কৃষকের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

    খেত থেকে সংগ্রহ করা টমেটো বিক্রির জন্য বাছাই করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পাওয়ার প্ল্যান্ট এলাকায়ছবি: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সৌজন্যে

    গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, বৈলছড়ী, খানখানাবাদ, কাথরিয়া, শীলকূপ, চাম্বল ও পুইছুড়ি ইউনিয়নে এবার ৪১৫ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে গন্ডামারা ও সরল ইউনিয়নেই চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এসব জমিতে ‘প্রফিট আর্লি’, ‘দুর্জয়’ ও ‘বাহুবলী’ জাতের উচ্চফলনশীল টমেটো চাষ করছেন কৃষকেরা।

    উপজেলার যে এলাকাটিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে এটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আগস্টের শুরুতে বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটো রোপণ শুরু করেন তাঁরা। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে চাষিরা বৃষ্টিতে জমা পানি সেচে খেত থেকে বের করেছেন। কারণ, জমিতে পানি জমে থাকলে টমেটোর ফল ভালো হয় না। চার মাস পর এখন ফল পাচ্ছেন তাঁরা। অন্য বছর ছোট আকারে চাষাবাদ হলেও এ বছর হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।

    উপজেলার যে এলাকাটিতে আগাম টমেটো চাষ হয়েছে এটি উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই আগস্টের শুরুতে বিশেষ পদ্ধতিতে টমেটো রোপণ শুরু করেন তাঁরা। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে চাষিরা বৃষ্টিতে জমা পানি সেচে খেত থেকে বের করেছেন। কারণ, জমিতে পানি জমে থাকলে টমেটোর ফল ভালো হয় না। চার মাস পর এখন ফল পাচ্ছেন তাঁরা। অন্য বছর ছোট আকারে চাষাবাদ হলেও এ বছর হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে।সরেজমিন দেখা যায়, সারি সারি লাগানো গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা টমেটো। প্রতিটি খেতের মধ্যেই নালা করেছেন চাষিরা। এ নালা যেমন বর্ষায় পানিনিষ্কাশনের কাজে আসে তেমনটি শুষ্ক মৌসুমে নালা থেকে গাছের গোড়ায় পানিও দেওয়া হয়। অনেকের খেতের টমেটো তোলা শেষ হয়েছে। তাঁরা নতুন করে আবার টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন।সম্প্রতি গন্ডামারা ইউনিয়নের কেজি স্কুল এলাকায় কথা হয় চাষি আবদুর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচ কানি (৪০ শতাংশে ১ কানি) জমিতে টমেটো চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় অন্তত চার লাখ টাকা লাভ হয়েছে। আগে এ জমিতে ধান চাষ করতাম। তবে তেমন লাভ হতো না। ভবিষ্যতে এ এলাকায় টমেটো চাষ আরও বাড়বে।’

    ছবিতে একটি টমেটৌ ক্ষেত

    একই এলাকার আরেক চাষি আজগর আলী ৮ কানি জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। চার মাস আগে এসব টমেটো চাষ করা হয়। এ এলাকার জমিতে লবণাক্ততা রয়েছে। এখানে এত টমেটো ফলন হবে ধারণা করতে পারিনি।’

    উপজেলার চরপাড়া এলাকায় গিয়ে কথা হয় দশম শ্রেণির ছাত্র সিফাতুল ইসলামের সঙ্গে। সে বাবার সঙ্গে টমেটো চাষ করেছে। জানতে চাইলে সে বলে, ‘আমরা এক কানি জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি করে পেয়েছি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।’

    জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বাঁশখালী উপকূলে টমেটো চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন চাষিরা। গ্রামের পর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে টমেটো চাষ হচ্ছে । প্রতিবছরই চাষাবাদের পরিমাণ বাড়ছে। আমরা নিয়মিত চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি।’

  • পটিয়া পৌরসভায় ময়লার বেড়িবাঁধ!

    পটিয়া পৌরসভায় ময়লার বেড়িবাঁধ!

    ডেস্ক নিউজ:

    ৩৫ বছরের পৌরসভা, কিন্তু নেই একটি ডাম্পিং স্টেশন। ফলে মহাসড়কের পাশেই ফেলে রাখা হয় বর্জ্য, দেখে মনে হবে যেন ময়লার বেড়িবাঁধ। এভাবেই পচা গন্ধ আর বিষাক্ত জীবনের সঙ্গে বসবাস পটিয়াবাসীর। একদিকে পরিবেশ ধ্বংস, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকি।

    জানা গেছে, চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা পটিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মাথায় প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পেলেও ৩৫ বছরে এখানকার জন্য একটি স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র বা ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি। ফলে ৪ বর্গমাইল এলাকার লক্ষাধিক বাসিন্দাকে প্রতিদিনের গৃহস্থালি ও অন্যান্য বর্জ্য নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাহুলী এলাকার একটি খোলা জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে হাজার টন বর্জ্য। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন কয়েক শ টন ময়লা এনে সেখানে ফেলা হয়। এলাকায় পৌঁছালে তীব্র দুর্গন্ধে দাঁড়ানো দায় হয়ে পড়ে। চারদিকে উড়ছে অসংখ্য মশা-মাছি। এতে রোগজীবাণুর দ্রুত বিস্তার ঘটছে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বৃষ্টির পানিতে ময়লার স্তূপ ভেঙে আবর্জনা নেমে আসে মহাসড়কে। এতে পথচারীসহ বাস ও ট্রেনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। এ ছাড়া খোলা জায়গায় আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলায় নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

    এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক অরজিত কুমার দাশ বলেন, ‘১৪ জন নারী ও ৩২ জন পুরুষ শ্রমিক নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত। কিন্তু আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

    পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) নেজামুল হক বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের জন্য পটিয়া সদরের ইন্দ্রপুল এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মামলা জটিলতার কারণে কাজ আটকে আছে।’

    পটিয়া পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, ‘একটি ডাম্পিং স্টেশন পটিয়া পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। আশা করছি, দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।’

    বি/এ

  • ট্যাপের পানি বোতলজাত করে বিক্রি,  তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    ট্যাপের পানি বোতলজাত করে বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

    নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মিনারেল ওয়াটারের নামে সরাসরি লাইনের পানি বোতলে ভরে বিক্রি করায় তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি বোতলজাতকরণ, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি না থাকায় ওই তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

    সোমবার  বিকেলে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার পৃথক স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসির আরাফাত।

    অভিযানে র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

    পুকুর, খাল ও মাটির নিচ থেকে মটরের সাহায্যে ভর্তি করা হয় পানির ট্যাঙ্ক। তারপর সেই ট্যাঙ্ক থেকে ট্যাপের মাধ্যমে বোতলজাত করে মিনারেল ওয়াটার বলে তা বিক্রি হয় গ্রাহকের কাছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালীতে তিনটি পানির কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসন।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কারখানার কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকা এবং কারখানার লাইসেন্স না থাকায় এশিয়া ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ দাউদ হোসেন ফাইসালকে ৫০ হাজার টাকা, পিপাসা ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ৫০ হাজার টাকা এবং এবি পিউর ড্রিংকিং ওয়াটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফকে ৩০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    লে. কমান্ডার মাহমুদুল হাসান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জরিমানা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ট্যাপের পানি বোতলজাত করে সুপেয় পানি বলে বাজারজাত করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ পূর্বক উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপরোক্ত কারখানা মালিকদের আর্থিকভাবে জরিমানা করে।

  • নোয়াখালী-৫ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে লড়বেন হুমায়রা নূর

    নোয়াখালী-৫ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে লড়বেন হুমায়রা নূর

    নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচন করবেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হুমায়রা নূর।

     

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে প্রথম ধাপের ১২৫ জন দলীয় মনোনীত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে এনসিপি। এতে নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    এগুলো হলো—নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ।

    নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) ও নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের প্রার্থী এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
    এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হুমায়রা নূর বলেন, আপনাদের ভালোবাসা আর দোয়ায় দল আমাকে নোয়াখালী-৫ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়—এটি আপনাদের আস্থা ও সমর্থনের ফসল। আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে, আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে চাই। এলাকার উন্নয়ন, অধিকার ও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।