ক্যাটাগরি কান্ট্রি সাইড

  • চৌগাছায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি

    1. বিডি ডেস্ক নিউজ

    যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

    যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

    এক হাজার ৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে এবং বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকায়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ছোট-বড় ৩০টি হাট-বাজারে নির্ধারিত নতুন দামের চেয়েও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি করছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।

    রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার সলুয়া, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, চৌগাছা, পাতিবিলিা, হাকিমপুর, নারায়নপুর, পুড়াপাড়া, মাশিলা ও চাদপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে এর দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছিল ৩৮৭ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রির কথা ছিল।

    Oil & Gas

    তবে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলিন্ডারের কৃত্রিম সঙ্কটের অজুহাতে বেশি দাম রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৮১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে।

    রোববার বিকেলে উপজেলার চৌগাছা বাজারে খুচরা এক বিক্রেতা বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আমি প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে ডিলাররা ১০ থেকে ১২টি করে সিলিন্ডার দিতেন। এখন তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার দেন। দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেন। আমরা খুচরা ব্যবসায়ী অল্প লাভে ব্যবসা করি।’

    বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড

    চৌগাছা বাজারের আম্রকানন পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘ক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে এই গ্যাসের দাম বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।’

    যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তাদের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    এ/ আর

  • কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    বিডি ডেস্ক নিউজ:

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকের উল্টে খাদে পড়ে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), বিরাপুর উপজেলার ভাইঘর উপজেলার উপজেলার পলাশের ছেলে সুমন (২১), একই গ্রামের বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) ও রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চাল বোঝাই একটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের উপর অবস্থানরত ১৩ যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।

    দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো থানায় রাখা আছে। স্বজনরা এলে তাদের কাছ লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    ‘বিশ্ব আজ নানা সঙ্কট ও সঙ্ঘাতে বিপর্যস্ত। এ প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

    আগামীকাল ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেয়া এক বাণীতে তিনি পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সাথে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

    তিনি বলেন, বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

    তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এ কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সঙ্কট ও সঙ্ঘাতে বিপর্যস্ত। এ প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে তিনি আবারো আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

    এ/আর

  • চৌগাছায় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত

    ডেস্ক নিউজঃ

    চৌগাছা(যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস/২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ উপলক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’–এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুঃ আহসানুল মিজান রুমি। আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আর এম ও ডাঃ সুরাইয়া পারভিন, শিশু কনসাল্টটেন্ট ডাঃ সুমাইয়া জেসমিন, ডেন্টাল কনসাল্টটেন্ট ডাঃ তানজিম সাবিহা, পরিসংখ্যানবিদ শহিদুল ইসলাম, নাসিং সুপারভাইজার ঝুমুর হালদার, মফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ,প্রেসক্লাব চৌগাছার সাংবাদিক বৃন্দ।

    ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সম্মেলন ডাকার সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ অর্থনীতি ও সমাজ পরিষদ। একই বছরের জুন ও জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলন। সেই সঙ্গে গৃহীত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাংগঠনিক আইন। ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় এই আইন। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসাবে নির্ধারিত হয় দিনটি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪৮ সালের ৭ই এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়, আর সেই দিনটিকেই স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়।দিবসটি ঘিরে প্রতিবছর সংস্থাটি এমন একটি স্বাস্থ্য ইস্যু বেছে নেয়, যা বিশেষ করে সারা পৃথিবীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ দিন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয় দিবসটি।

    এম কে

    ০১৭১৩৯১৮৬৫৯

  • টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

    টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

    নিউজ ডেস্ক :

    একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।

    শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।

    এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।

    অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

    টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়।

    হলুদ রঙের আপনার শিশুকে টিকা দিন ব্যানার

    সরকারি টিকা

    সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    • বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
    • পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।
    • ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়।
    • পিসিভি (নিউমোকক্কাস কনজুগেট ভ্যাকসিন): এই টিকা মূলত নিউমোকক্কাস নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) এবং রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে সুরক্ষা দেয়
    • এমআর (মিজেলস রুবেলা): এটি এমন একটি টিকা, যা শিশুকে হাম ও রুবেলা- এই দুটি ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। হাম হলে শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি ও কাশি হয়। জটিল হলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে, শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে। অন্যদিকে গর্ভবতী মায়ের রুবেলা হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু টিকা নেয়া থাকলে মায়ের এই ঝুঁকি থাকে না।
    • ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস)/টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া)/ টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)/ ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস): শরীরের কাটা বা আঘাত থেকে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ ডিপথেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে এই টিকা দেয়া হয়।
    • র‍্যাবিস: কুকুর, বিড়াল, বানর ইত্যাদি আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক প্রতিকারে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর টিকা বিনামূল্যে দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের খরচেই টিকা কিনতে দেখা গিয়েছে।

    এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সরকারিভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়ে থাকে।

    সরকারি এসব টিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র , কমিউনিটি ক্লিনিক বা টিকা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার সময় গ্রহণ করলে সরকার এর খরচ বহন করবে।

    এর বাইরে নিজের সুবিধামতো সময়ে টিকা নিতে গেলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে একটা খরচ দিতে হতে পারে।

    একটি শিশু হা করে ক্যাপসুল খাচ্ছে

    বেসরকারি টিকা

    বেসরকারি টিকা হলো সেই সব টিকা, যা দেয়া বাধ্যতামূলক নয়, এগুলো মূলত শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

    সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এসব টিকা কিনে প্রয়োগ করতে হয়। বেসরকারি টিকার মধ্যে রয়েছে।

    • রোটাভাইরাস: ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া যেতে পারে।
    • ভারিসেলা: চিকেনপক্স বা জলবসন্ত থেকে সুরক্ষা পেতে এই টিকা ব্যবহার হয়।
    • হেপাটাইটিস এ: এই টিকা শিশুকে জন্ডিস বা লিভার সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর টিকা।
    • টিসিভি (টাইফয়েড কনজুগেট): শিশুকে টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টাইফয়েড মূলত বদহজম, খাবার বা নোংরা পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
    • ইনফ্লুয়েঞ্জা: এই টিকা শিশুকে সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথা ব্যথা থেকে রক্ষা করে। আবার যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশ জরুরি টিকা, এতে তার হাঁপানি ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
    • এমএমআর (মিজেলস মাম্পস রুবেলা): হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
    • এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস): এই টিকা মেয়ে শিশু, কিশোরী ও নারীদের গর্ভাশয়ের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
    • মেনিনোকোক্কাল: মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।
    • ইটিইসি: কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।

    টিকা ভেদে বেসরকারি টিকার দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ডোজ আনুমানিক এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। হাসপাতাল ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।

    শিশুর পায়ে ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে, শিশু কাঁদছে।

    কখন কোন টিকা দিতে হবে

    শিশুর পূর্ণ সুরক্ষার জন্য অনেক পরিবার শুধু সরকারি টিকাগুলো দিয়ে থাকে আবার অনেকে সরকারি বেসরকারি দুই ধরনের টিকাই দেয়।

    অনেকেই প্রশ্ন করেন, সব টিকা কি নেওয়া জরুরি, নাকি সরকারি টিকাই যথেষ্ট?।

    এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ জানান, “সরকারি টিকা কিছু রোগ থেকে শিশুর জীবন রক্ষার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি আর বেসরকারি টিকা আরো অন্যান্য কিছু রোগের ব্যাপারে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করে”।

    তবে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সময়সূচি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস

    বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

    ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

    বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

    সম্প্রসারিত টিকা কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পর পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারি বিসিজির এক ডোজ টিকা নিতে হয়। এটার আর কোন বাড়তি ডোজ নেই।

    শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি টিকার একটি করে মোট তিনটি ডোজ দেয়া হয়। পোলিওর ওপিভি দু’ফোঁটা করে মুখে এবং বাকি দুই ডোজ আইপিভি টিকা শিশুর উরুর মাংসপেশিতে দেয়া হয়।

    এর চার সপ্তাহ পর অর্থাৎ শিশুর ১০ সপ্তাহ বয়সে তিনটি টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। আরো চার সপ্তাহ পর শিশুর ১৪ সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পোলিওর তৃতীয় ডোজ দেয়া হয়। ১৮তম সপ্তাহে দেয়া হয় পিসিভির তৃতীয় ডোজ।

    মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ পরে বেসরকারি মেনিনজোকোক্কাল টিকা দেয়া যেতে পারে। এর তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হবে।

    শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি রোটা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা দেয়া যেতে পারে। দুটি ডোজের মাঝখানে চার সপ্তাহের ব্যবধান রাখতে হবে।

    শিশুর ছয় মাস বয়সে বেসরকারি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার প্রথম ডোজ। এর চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ। তারপর প্রতি বছর ফ্লু এর মৌসুমের আগে এক ডোজ করে টিকা দেয়া যেতে পারে।

    নয় মাস থেকে দুই বছর

    শিশুর জন্মের নয় মাসের মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে সরকারি এমআর টিকা দিতে হয় সেইসাথে পোলিওর চতুর্থ ডোজের বুস্টার টিকা নিতে হবে। এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয় ১৫ মাস বয়সে।

    যদি সরকারি এমআর টিকা দেয়া না যায়, তাহলে শিশুর এক বছর বয়সে চাইলে বেসরকারি এমএমআর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এর চার থেকে ছয় বছর পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ।

    এমএমআর টিকা প্রাপ্ত বয়স্করাও নিতে পারেন।

    শিশুর এক বছর বয়সের পর বেসরকারি হেপাটাইটিস এ টিকার প্রথম ডোজ এবং এর ছয় মাস পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়া যেতে পারে।

    শিশুর ১৫ মাস বয়সে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে সরকারি টিটি টিকা এবং সরকারি এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয়। এই ডোজটি প্রথম টিকার কার্যকারিতা আরও বাড়ায়।

    শিশুর এক থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে যেকোন সময় জলবসন্ত প্রতিরোধে দুই ডোজ বেসরকারি ভারিসেলা টিকা নেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজ নেয়ার চার থেকে আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। তবে শিশুর যদি ইতিমধ্যেই জলবসন্ত হয়ে যায় তাহলে টিকার দরকার নেই।

    শিশুর ১৮ মাস বয়সে দেয়া হয় সরকারি ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস) বুস্টার ডোজ এবং সরকারি ওপিভি (পোলিও) বুস্টার ডোজ।

    মূলত প্যান্টাভেলেন্ট ও পোলিওর তিন ডোজ নেওয়ার পরে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই দুটো বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।

    শিশুর দুই বছর বয়সের পর কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বেসরকারি ইটিইসি টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এরপর এক সপ্তাহ অন্তর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।

    শিশুর দুই বছর বয়সের পর বেসরকারি টাইফয়েডের প্রথম ডোজ টিকা। এরপর প্রতি তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হয়।

    কিশোরীর বাহুতে ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে। সে মুখ ফিরিয়ে আছে।

    পাঁচ থেকে ১৬ বছর

    পাঁচ বছর বয়সে শিশু স্কুলে যাওয়ার আগে তাকে ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস) টিকা দেয়া হয়ে থাকে। এই সময়ে শিশুর সামাজিক মেলামেশা বাড়ে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

    ১০ বছর বয়সের পর মেয়ে শিশুদের তিন ডোজে বেসরকারি এইচপিভি টিকা দেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজের পর এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ, এরও ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।

    পরে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের সরকারি টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া) টিকা দেয়া হয়। কিশোরীদের এই টিকা দেয়া হলে সে এবং তার ভবিষ্যত প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকতে পারে।

    অন্যদিকে শিশুর বয়স ১৫ বছর হওয়ার পর এবং মা হওয়ার আগে পাঁচ ডোজ সরকারি টিটি টিকা নিতে হয়। প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ, এর ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এক বছর পর চতুর্থ ডোজ, আরো এক বছর পর পঞ্চম ডোজ টিকা।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদের মতে, প্রতিটি টিকা সময়সূচি মেনে পূর্ণ ডোজ দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমে আসতে পারে।এজন্য বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়। বুস্টার ডোজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুনরায় সক্রিয় বা শক্তিশালী করে।

    ডোজ মিস হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ তৈরি হয় না, ফলে যেকোনো সময় ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    তাই কোনো কারণে টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ পার হয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে দ্রুত কাছের টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকাটি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেনজির আহমেদ।

    তিনি বলেন, “টিকা দেয়ার একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। এখানে জরুরি হলো কোন টিকা সময়ের আগে দেয়া যাবে না। কিন্তু কোন ডোজ দেয়ার সময় পেরিয়ে যায় সেক্ষেত্রে দেরিতে হলেও দেয়া যাবে”।

    টিকাদান কর্মসূচি।

    টিকা দেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও প্রচলিত ভুল ধারণা

    অনেক অভিভাবক এখনও টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভয় পোষণ করেন বিশেষ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। এসব নিয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।

    যেমন অনেকেই টিকা দিতে ভয় পান কারণ টিকা দিলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো টিকা নেয়ার পর শিশুর হালকা জ্বর বা ব্যথা হতে পারে, শিশু ছটফট করে কান্নাকাটি করতে পারে, টিকা দেওয়ার স্থানে সামান্য ফুলে বা লাল হয়ে যেতে পারে। যা স্বাভাবিক এবং সাময়িক বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    এসব লক্ষণ সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে অতিরিক্ত জ্বর বা খিঁচুনি হলে, শিশু শকে চলে গেলে, শরীরের কোন অঙ্গ অবশ হয়ে গেলে, টিকা দেয়ার স্থানে সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    আরেকটি ধারণা রয়েছে যে একসাথে এতো টিকা দিলে ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীর সময়সূচি মেনে সব টিকা সামলাতে সক্ষম।

    অনেকেই মনে করেন সরকারি টিকাই যথেষ্ট, বাকি দরকার নেই। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, চাইলে যে কেউ যথাযথ সময়সূচি মেনে বেসরকারি টিকা নিয়ে কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

    অনেকে আবার মনে করেন, আমার বাচ্চা বাসায় থাকে, টিকার দরকার নেই। তবে বাস্তবতা হলো সংক্রমণ শুধু বাইরে থেকে আসে না, পরিবার, অতিথি, এমনকি বাতাসেও ছড়াতে পারে।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে হার্ড ইমিউনিটি অর্থাৎ, একটি সমাজের বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিলে পুরো সমাজই সুরক্ষিত থাকে।

    সেক্ষেত্রে শিশুর টিকাদান শুধু কোন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব।

    কারণ একটি শিশুকে টিকা দেওয়া মানে শুধু তার নিজের সুরক্ষা নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্ম এবং সমাজ সুরক্ষিত থাকে। তাই একটি শিশুর টিকা নেওয়া মানে অন্যদেরও রক্ষা করা।

  • লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম

    লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম

    নিউজ ডেস্ক :
    ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।
    এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য প্রতি লিটার ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা।
    এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ১ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হয়েছে।
    জানা গেছে, ফার্নেস অয়েল মূলত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), সরকারি/বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে এবং শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য গ্রাহক ব্যবহার করে।
  • নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নিউজ ডেস্ক :

    নদীতে কলাপতা করে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে রোববার থেকে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

    আজ ভোরের দিকে শিশু থেকে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে গঙ্গা মা-এর উদ্দেশ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১৩ ভাষাভাষির ১৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জাতিসত্তাদের বসবাস। এসব জাতি গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, পাতা। তবে এ উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায় নানান নামে অভিহিত করলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। আজ ‘ফুল বিজু’র দিন ভোরে কলাপতায় ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীরা।

    সকালে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতার উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে রাজ বন বিহার পুর্বঘাটে পানিতে ফুল নিবেদন করা হয়।

    শহরে কোরানী পাহাড়স্থ কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদনে আসা রিপা চাকমা, নন্দিতা চাকমা, রকি চাকমা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে ‘ফুল বিজুতে’ পুরাতন বছরের সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, বেদনা, ভয়, অন্তরায় উপদ্রবকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছর যাতে সুখ-শান্তি, অনাবিল শান্তি বয়ে আনে সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কলাপাতার মাধ্যমে পানিতে গঙ্গা মা এর উদ্দেশ্য ফুল নিবেদন করতে এসেছেন।

    তারা আরও জানান, এ উৎসবটি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এ সংস্কৃতির অংশের একটি ধাপ। ‘ফুল বিজু’র দিন বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মেলা বসে থাকে। এ দিনে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এছাড়া বিশেষ করে বিগত বছরে অনেক ঝামেলা হয়েছে। তাই ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে নতুন বছর যাতে শান্তিতে কেটে যায়। এছাড়া ফুল বিজুর দিনে ফুল দিয়ে বাড়ি ঘর সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা পাড়ায় পাড়ায় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নান করায়। সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দির, নদীর ঘাটে, বাড়ীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে থাকে। কাল সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-পূর্তি। ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের তরকারি দিয়ে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। পরদিন রয়েছে গজ্যাপজ্যা বিজু। এ দিনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখকে চাকমারা গজ্যাপজ্যা বিজু, ত্রিপুরা-বিসিকাতাল, মারমা-সাংগ্রাই আপ্যাইনং বলে অভিহিত করে থাকেন। এদিনে পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকে এবং বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে যত্নসহকারে ভাত খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নিয়ে থাকেন।

    বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন পার্বত্য জেলায় বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর উৎসব খুব সুন্দরভাবে উদযাপন করছি। এবার নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে সকল গ্লানি মুছে ফেলে, অতীত সব কিছু ভুলে গিয়ে আমরা নতুনভাবে অগ্রসর হবো। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবো এবং আমরা যাতে একিভূত হয়ে বিজুর দিনগুলো উপভোগ করতে পারি সে আহ্বান জানান।

  • গণআন্দোলন ছাড়া সরকার ‘সংস্কার’ বাস্তবায়ন করবে না: নাহিদ ইসলাম

    গণআন্দোলন ছাড়া সরকার ‘সংস্কার’ বাস্তবায়ন করবে না: নাহিদ ইসলাম

    নিউজ ডেস্ক :

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আমরা সবাই এক জায়গায় আছি। আমরা সেই ঐক্যের জায়গায় আছি যে বাংলাদেশকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে। এবং এই পরিবর্তনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।

    মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

    সরকার কখনো সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সংসদে সবকিছুর সমাধান হবে। কিন্তু সংসদকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। এবার আমাদের গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলন ছাড়া সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না। তবে এবার আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক রাজপথে নামতে হবে। এবার আর ব্যর্থ কিংবা অর্ধেক সফল হতে চাই না।

    তিনি বলেন, সংস্কার কোনো দলের না। এটা বাংলাদেশ রক্ষার দাবি। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এবার আমরা মঞ্চে যারা বসে আছি তারা সামনে দাঁড়াবো। গুলি আসলে আগে আমাদের বুকে লাগবে। আপনারা সহযোগিতা করবেন। ইনশাআল্লাহ, নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে। সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি কিংবা কোনো বিদেশি শক্তি বাধা দিলে তাদের পরাজিত করা হবে।

    শহীদ পরিবার নিয়ে সরকার ব্যবহার করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতরা এদেশের সম্পদ। তাদের নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের দাবি সমর্থন করলে আমাদের সহযোগিতা করবেন। কিন্তু সরকার কখনো জুলাই যোদ্ধা, কখনও একাত্তরের নাম ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন কাজের বৈধতা দিচ্ছে। কিন্তু চব্বিশ এবং একাত্তর কোনোটিকেই ধারণ করে না তারা।

    বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ পেছনের দিকে হাঁটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এদেশের গণআন্দোলনের সুফল বিএনপি ভোগ করেছে। নব্বই এর গণঅভ্যুত্থানের সুফল তারা ভোগ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় বসে তিন জোটের রূপরেখাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এখনও জুলাই সনদ এবং অধ্যাদেশ প্রত্যাখ্যান করছে।’

    এসময় অনুষ্ঠানে এগারো দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • যেভাবে নিরর্বাচিত হয় সংরক্ষিত নারী আসনে

    যেভাবে নিরর্বাচিত হয় সংরক্ষিত নারী আসনে

    ডেস্ক নিউজ:

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয় ভোটের কয়েক দিন আগে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।

    এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাত জন, যার ছয়জনই বিএনপির এবং একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।

    বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকেন আর এর বিপরীতে নির্বাচিত হতেন; কখনো কখনো বিরোধী দলের নারী প্রার্থীরা কয়েকটা আসনে।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন ৩০০ আসনের মধ্যে আসনভিত্তিক আনুপাতিক হারে।

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুসারে, অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দলের ছয় জন যদি নির্বাচিত সাংসদ হন, তাহলে ওই দল থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হবেন।

    তখন ওই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ওই বিশেষ রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন এবং সেই দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে পারবেন ওই প্রার্থী। এই নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে থাকে নির্বাচন কমিশন। ভোটের জন্য একটি দিনও নির্ধারিত রাখা হয়।

    বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেও দলগুলো আসন সংখ্যা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার দিনই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো।

    এবার কোন দল কতটি আসন পাবে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। এর বাইরে বিএনপি জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদ একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি আসনে জয় পায়।

    সেই হিসাবে বিএনপি জোট এই ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। আইন অনুযায়ী আসনসংখ্যার ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টন হবে এবারও।

    প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত থাকায় অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পাবে বিএনপি জোট। বাকি তিনটি আসনের ভোট ও ফলাফল চূড়ান্ত হলে বাড়তি আরো একটি আসন পেতে পারে।

    এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।

    সেই হিসাবে জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসনের বিপরীতে ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে জানাচ্ছেন নির্বাচন বিশ্লেষকেরা।

    এই নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একত্রে জোটবদ্ধ হলে তারা অন্তত একটি আসন পেতে পারেন।

    যেভাবে সংরক্ষিত আসন চালু

    এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩টি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সংসদে নারী আসনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এবং ৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদে ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। তবে ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে চতুর্থ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না।

    ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ওই সংসদেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল।

    ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ওই নির্বাচনটি বাতিল হলে ওই বছরের জুন মাসে সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখনও ৩০টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।

    অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে সরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদে নারী আসন বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়।

    ধাপে ধাপে জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানো হলেও এই নির্বাচন পরোক্ষভাবে হওয়ায় নারী ক্ষমতায়ণ কতখানি নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনে নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলেই প্রকৃতভাবে নারীর ক্ষমতায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব। না হলে এই নারী আসন শুধু অলংকারিকভাবেই ক্ষমতায়িত হবে।

    যেভাবে বন্টন হয় সংরক্ষিত আসন

    আসনবণ্টন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনও নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকা নেই। তারা কেবল দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবে। এক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টিত হবে। নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জোটবদ্ধ হয়ে তাদের অংশ হিসেবে মহিলা আসন বন্টনের সুবিধা নিতে পারবে।

    বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৫০। এই ৫০ সংখ্যাকে ৩০০ (দেশের নির্বাচনি এলাকা) দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে সেটাকে কোনও দল বা জোটের যে সংখ্যক সদস্য শপথ নিয়েছেন তা দিয়ে গুণ করলে যে ফল পাওয়া যাবে, সেই সংখ্যক মহিলা সদস্য হবে ওই দল বা জোটের। গুণফল ভগ্নাংশ হলে সেক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫ (০.৫) বা তার থেকে বেশি সংখ্যকের জন্য একটি আসন পাওয়া যাবে। অর্থ্যাৎ ০.৫ এর বেশি হলে এক এবং কম হলে শূণ্য গণনা হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে বণ্টিত আসন সংখ্যা মোট আসনের (৫০) থেকে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনও কোনও ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।

    উহাদরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এবার জামায়াতে ইসলামী সংসদে ৬৮টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে এ দলটির ১১টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাওয়ার কথা। [৫০÷৩০০ = ০.১৬৬৭। এরপর ২২x০.১৬৬৭= ১১.৩৩৬] এখানে .৩৩৬ এর জন্য শূণ্য গণনা হবে।

  • যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    উভয় পক্ষ যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো।

    তেহরান জোর দিয়ে বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

    ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে এটি এর অংশ।

    ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের সম্পদ থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং বছরের পর বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য শিথিলতার বিষয়ে আগ্রহী, তবে তা কেবল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের বিষয়ে ছাড় দেওয়ার বিনিময়েই।

    ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার কর্তৃত্বের স্বীকৃতি চায়, যেখানে তারা ট্রানজিট ফি আদায় এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই প্রণালি তেলের ট্যাংকার এবং অন্যান্য জাহাজের জন্য কোনো রকম সীমাবদ্ধতা ছাড়াই খুলে দেওয়া হোক, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর টোলও অন্তর্ভুক্ত।

    ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের সময়ে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হোক। তেহরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার নিয়ে কোনো আপস চলবে না।

    ইরান চায় এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার, সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি এবং অনাক্রমণনীতির প্রতি অঙ্গীকার। ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরান শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে লড়াই ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

    বি/এ