ক্যাটাগরি কান্ট্রি সাইড
-

চৌগাছায় ইজিবাইক উল্টে যুবক নিহত
বিডিটাইমস ডেস্কযশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইমরান হোসেন (২৫) নামে এক জন নিহত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে চৌগাছা- কোটচাঁদপুর সড়কের মেসার্স বিশ্বাস ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চানপাড়া গ্রামের রায়হান হোসেনের ছেলে।জানা যায়, ইমরান হোসেন ইজিবাইকযোগে তার শাশুড়িকে ডাক্তার দেখানোর জন্য চৌগাছায় যাচ্ছিলেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইজিবাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় ইজিবাইক চাপা পড়ে মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে খানে তার অবস্থা অবনতি হলে যশোর সদর হাসপাতালের রেফার্ড করেন। যশোরে যাওয়ার পথে মারা যায়।চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। -

২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট‘ ঘোষণা
বিডিটাইমস ডেস্ক
দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরিভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২১ মে তথা পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
হামের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে- বরগুনা জেলা পৌরসভা ও সদর, পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা, চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও রামু উপজেলা। গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা। এ ছাড়াও রয়েছে, নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা, নওগাঁর পোরশা। যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোর পৌরসভা ও সদর, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা, মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু করা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।
-

কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের লাশ উদ্ধার
বিডিটাইমস ডেস্ক
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা পৌনে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ লাশ উদ্ধার করেন।
এর আগে গ্যাস লাইটার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। পরে যোগ দেয় আরও ৪ ইউনিট। দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
-

অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা
নীলফামারীর জলঢাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বিক্রি করার দায়ে আতাউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম শিমুলবাড়ী সালটিতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডেস্ক নিউজঃ
নীলফামারীর জলঢাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেলমজুত করে বিক্রী করার দায়ে আতাউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন। সেখানে থানা পুলিশের সদস্য ও র্যাবের সদস্যরা সহায়তা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী আডাউর রহমান অবৈধভাবে তেল মজুত করে বিক্রি করে আসছিলেন। গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ৫৫ লিটার তেল জব্দ করে বিক্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ৫০ লিটার ডিজেল ও ৫ লিটার পেট্রোল জব্দ করে বিক্রি করা হয়েছে।
এম কে
-

নীলফামারীতে বাস-ট্রাক-অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষ
নীলফামারীর ডোমারে বাস, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে নীলফামারী থেকে ডোমার মহাসড়কের হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা নিলাহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ডেস্ক নিউজঃ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে এসে একটি যাত্রীবাহী বাস নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময়ে শালমারা নিলাহাটি নামক স্থানে পোঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসের ধাক্কায় পাশে থাকা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। একইসঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটিও সড়কের নিচে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাস ও অটোরিকশার ১২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ডোমার থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বাস, ট্রাক ও অটোরিকশাটি থানা হেফাজতে রয়েছে।
এম কে
-

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাভর্তি মানিব্যাগ মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য ফজলুল হক। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে সৈয়দপুর থানায় প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগ হস্তান্তর করা হয়।
ডেস্ক নিউজঃ
জানা যায়, দুপুরের দিকে পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক সৈয়দপুর থেকে নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢেলাপীর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা একটি টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মানিব্যাগে থাকা মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে প্রকৃত মালিক আলমগীর হোসেনকে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দেন তিনি। মানিব্যাগে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিল।
পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক বলেন, আজকে দুপুরের দিকে নীলফামারিতে যাচ্ছিলাম। এ সময় টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। পরে মানিব্যাগে থাকা কাগজপত্র দিয়ে মালিকের পরিচয় শনাক্ত করে তাকে কল দিয়ে থানায় ডেকে সবকিছু বুঝিয়ে দেই।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, থানার এক পুলিশ সদস্য এক ব্যক্তির টাকাভর্তি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পান। পরে মালিককে ডেকে সেটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
এম কে
-

নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু
নীলফামারীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।
ডেস্ক নিউজঃ
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়ে ৮০ শিশুসহ ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে আইসোলেশন বিভাগে রেখে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম বলেন, আমার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। বিকেলের দিকে সারা শরীরে র্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছে এটা হামের উপসর্গ।
আরেক রোগীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারি সে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধে ফুটানো পানি পান, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।
এম কে
-

ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি : প্রশাসকের ৩৭৭ ও দলীয় ১২০০
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির কার্ড বণ্টন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অন্নদানগর ইউনিয়নে প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনে প্রশাসকের নিজের জন্য ৩৭৭টি এবং ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য ১২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।
ডেস্ক নিউজঃ
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।
এর আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের গত ৫ মার্চের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের কপি পাওয়া যায়। রেজুলেশনটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বিভিন্ন খাতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন প্রশাসকের জন্য ৩৭৭টি কার্ড এবং দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া, ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭৫টি, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০টি করে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি কার্ড বিতরণের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জন্য পৃথকভাবে ২৭৫টি করে কার্ড বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তবে ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত দরিদ্র, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৩৯৭টি কার্ডের বিপরীতে ৪৮৩.৯৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কল্যাণী ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি, পারুল ইউনিয়নে ৫,৯৮৬টি, ইটাকুমারী ইউনিয়নে ৪,০৮৬টি, অন্নদানগর ইউনিয়নে ৪,৭৯৭টি, ছাওলা ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, তাম্বুলপুর ইউনিয়নে ৬,৩৮৬টি, পীরগাছা ইউনিয়নে ৭,০৯৮টি, কৈকুড়ী ইউনিয়নে ৫,২৮৬টি ও কান্দি ইউনিয়নে ৪,০৩৬টি কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে।
এদিকে ভাগাভাগির রেজুলেশনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভিজিএফের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বণ্টনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা ‘দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের’ জন্য নির্দিষ্ট কার্ড সংরক্ষণের বিধান সরকারি নীতিমালায় নেই। ফলে এমন রেজুলেশন তৈরি করা হলে তা নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্য হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। কার্ড ভাগ বণ্টনের বিষয়টি প্রকাশ হলে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো।
পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা চলে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান। এ সময় তিনি হারুন অর রশিদ বাবু নামে এক স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ হুমকি দেন।
রেজুলেশনে উল্লেখিত কার্ড বরাদ্দের বিষয়ে জানতে অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কার মাধ্যমে বিতরণ হলো সেটা বিষয় না। তবে সবাই যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায় সে লক্ষে কাজ করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পরে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে বিতরণ করা হয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এম কে
-

জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন
লালমনিরহাট-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বিশেষ করে জামায়াত আমিরের নারী কর্মীদের সঙ্গে সেলফি তোলা এবং তাদের ‘বন্ধু’ সম্বোধন করার বিষয়টিকে তিনি ইসলামের আদর্শ পরিপন্থি ও ইমান বিধ্বংসী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ডেস্ক নিউজঃ
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান ও পর্দার বিধান দিয়েছে। আল্লাহ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমরা দেখছি, জামায়াতের আমির ছেলেদের সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন। তিনি মুরব্বি মানুষ হয়ে বেপর্দা মেয়েদের বলছেন— ‘ছেলে বন্ধুরা সরে যাও, মেয়ে বন্ধুরা আসো’।
চরমোনাই পীর বলেন, এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলে ইমান থাকবে না, এমন আচরণ নিয়ে কখনো আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়। ইসলামী আন্দোলনের ৩৮ বছরের ইতিহাসে কোনো নেতা পরনারীর সাথে এমন সেলফি তোলেননি।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা ইসলামী দলগুলোর সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়িত হবে না। জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আমেরিকা দূতাবাসে গিয়ে আমাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ বা বিএনপিও আমাদের জঙ্গি বলেনি, কিন্তু তারা ভারতের লক্ষ্য হাসিল করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। এমনকি তারা এমন প্রার্থী দিয়েছে যিনি নিজেই বলছেন জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়।
এলাকার উন্নয়ন ও মিথ্যাচারের জবাব দিতে হাতপাখা মার্কায় ভোট চেয়ে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, করোনাকালে যখন স্বজনরা মরদেহ ফেলে পালিয়েছিল, তখন হাতপাখার কর্মীরাই দাফন-কাফনের কাজ করেছে। ৫ আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় আমরা পাহারাদারের ভূমিকা পালন করেছি। যাদের পা থেকে মাথা অবধি মিথ্যায় ভরা, তারা ইসলাম কায়েম করতে পারবে না। তাই এলাকার শান্তি ফেরাতে হাতপাখাকে বিজয়ী করুন।
জনসভায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এম কে
-

নলিতাবাড়িতে বাজি জেতা মহিষ ফেরত দিলেন বিএনপি সমর্থক
বিডিটাইমস ডেস্কঃ
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে ঘটে যাওয়া ব্যতিক্রমী ‘মহিষ বাজি’ এবার পেল এক মানবিক পরিণতি। মানবিক বিবেচনায় বাজিতে জেতা মহিষটি শেষ পর্যন্ত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থক মো. আব্দুল মান্নান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিশ্চিত করেন কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ। মহিষের মালিকের কষ্ট দেখে হৃদয়ে আঘাত অনুভূত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের আব্দুল মান্নান ও বালুঘাটা গ্রামের আমির হোসেনের মধ্যে অভিনব এক বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক জয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন ৬টি মহিষ, আর ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হলে আমির হোসেন দেবেন ১টি মহিষ।
ভোট গণনা শেষে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হওয়ায় বাজিতে পরাজিত হন আমির হোসেন। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন আব্দুল মান্নান। মহিষ নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কৌতূহলী ভিড় জমে সেই দৃশ্য দেখতে। তবে আনন্দের সেই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহিষটি ছিল আমির হোসেনের পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। মহিষ হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের আর্থিক কষ্ট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার বিষয়টি সামনে আসতেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
এলাকাবাসী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আব্দুল মান্নান ও আমির হোসেন সম্পর্কে ওরা আত্মীয়, নির্বাচনের আগে তারা মহিষ নিয়ে বাজি ধরেছিল। আমির হোসেন বাজিতে হেরে যাওয়ার পর আব্দুল মান্নান বিএনপির সমর্থক লোকজন নিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মহিষটি নিয়ে আসেন এরপর তিনি মানবিক বিবেচনা করে ফেরত দিয়ে দেন। এতে করে আমরা এলাকাবাসী ব্যাপক খুশি হয়েছি।
আব্দুল মান্নান বলেন, বাজি ছিল নিছক আনন্দের জন্য, কিন্তু কারও জীবিকা বিপন্ন হোক তা তিনি চান না। এরপর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটি আমির হোসেনের হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তে উপস্থিত সবাই সাধুবাদ জানান।
আমির হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দুজন মাঠে মহিষ চড়াইতে গিয়ে কথার এক পর্যায়ে বাজি ধরি। নির্বাচনের পর বাজিতে আমি হেরে গেলে আমার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে একটি মহিষ দিয়ে দেই। পরবর্তীতে উনি আমার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করে, উনার মনোবল বড় বিদায় আমার প্রতি খুব ভালোবেসে মহিষটি ফেরত দেন, এতে করে আমি তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আনন্দের বাজি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার অনন্য উদাহরণ।