ক্যাটাগরি কান্ট্রি সাইড

  • গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    গাইবান্ধার ব্র্যান্ডিং পণ্য ভুট্টায় বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি

    উত্তরের নদীবিধৌত জেলা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে সোনালি ভুট্টা চাষে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। চরবাসীর কঠোর পরিশ্রম ও উর্বর পলিমাটির কারণে ভুট্টা এখন জেলার অন্যতম লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের জীবনমান।

    ডেস্ক নিউজঃ

    জেলার সাতটি উপজেলাতেই ভুট্টা চাষ হলেও সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৬৫টি ছোট-বড় চরে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে হাজারো কৃষকের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠেছে এই ফসল।

    কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উর্বর পলিমাটি ও বিস্তীর্ণ জমি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় গত এক দশকে এ অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পোল্ট্রি ও মৎস্য খাদ্য শিল্পে চাহিদা থাকায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।

    গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ১৭ হাজার ৮২৫ হেক্টর (১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ বিঘা) জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৩৬ হেক্টর বেশি এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬৮৩ হেক্টর বেশি।

    উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদরে ১,১৯০ হেক্টর, সাদুল্লাপুরে ১,১০০, পলাশবাড়ীতে ১,০০০, গোবিন্দগঞ্জে ১,৩৮৫, সাঘাটায় ২,০০৫, সুন্দরগঞ্জে ৪,৪০৫ এবং ফুলছড়িতে ৫,৯৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।

    সম্প্রতি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের চর রসুলপুর, গুপ্তমনি, উরিয়া ইউনিয়নের রতনপুর ও কাবিলপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ভরা ভুট্টাক্ষেত। অধিকাংশ জমিতে গাছে কলা এসেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কৃষকরা সেচ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

    স্থানীয় কৃষকদের মতে, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হয়েছে প্রায় ১,১৫০ টাকায়। ফলে খরচ বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব।

    চরের কৃষক মাজের আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। সবই বর্গা নেওয়া। এই ফসলই আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসা।

    আরেক কৃষক ফুল মিয়া জানান, ভুট্টা লাভজনক ফসল। গাছ কাঁচা অবস্থায় গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এবং শুকনা অবস্থায় জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

    কৃষকদের দাবি, চরাঞ্চলে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও গুদাম নির্মাণ করা হলে ফসল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চরভিত্তিক বাজার বা সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

    গাইবান্ধার কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে। এটি লাভজনক হওয়ায় চরাঞ্চলে এর আবাদ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, উৎপাদিত ভুট্টা দেশের বিভিন্ন ফিড মিল ও খাদ্য শিল্পে সরবরাহ হওয়ায় এর চাহিদাও বাড়ছে।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা জেলার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ভুট্টা ও মরিচ এই জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে।

    এম কে

  • ভালোবাসায় বিদায়

    ভালোবাসায় বিদায়

    ডেস্ক নিউজঃ

    ভালোবাসা দিবসে প্রিয় শিক্ষককে জাঁকজমক আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা মাইক্রোবাসে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। পেছনে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর—যা চোখে পড়ার মতো দৃশ্য। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

    সম্প্রতি অবসর নেওয়া বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীকে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানান প্রায় ৫০০ প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

    দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন। বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কাদিহাট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান আলী মানিক, বালিয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

    বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইউসুফ আলী।

    তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এত ভালোবাসায় বিদায় পাব, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

    এম কে

  • আসামি ধরতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে এএসআইয়ের মৃত্যু

    আসামি ধরতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে এএসআইয়ের মৃত্যু

    ডেস্ক নিউজঃ

    ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শহিদুল ইসলাম শহীদ (৪০) নামে এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মারা গেছেন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের সেনুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত শহিদুল ইসলাম পীরগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন।

    থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার গভীর রাতে পীরগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে উপজেলার সেনুয়া গ্রামে অভিযানে যান। সেখানে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় এএসআই শহিদুল ইসলাম হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আসামি ধরার পর গাড়িতে ওঠার সময় এএসআই শহিদুল অসুস্থবোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানজিনা এএসআই শহিদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এম কে

  • ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার  রাতে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি করেন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।

    আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মো. ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।

    এর আগে শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী ইউএনও’র কক্ষে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন পরীক্ষার খাতা নিয়ে যায়।

    হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে মব সৃষ্টি করে নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় টাকা লেনদেনের একটা বিষয় নিয়ে ইউএনও সাহেবকে অবগত করতে গিয়েছিলাম। এ সময় ইউএনও আমাদের কথা আমলে না নিলে আমাদের ছেলেরা কাগজপত্র নিয়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে আবারো সেগুলো দিয়ে আসা হয়েছে।

    মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিছন্নতাকর্মী পদে আটজন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষে আমরা ইউএনও স্যারের রুমে বসেছিলাম। সেখান থেকে আমাদের সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় যাচ্ছি।

    এ বিষয়ে হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ রাতে ওই ঘটনায় হরিপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। যারা প্রকৃতপক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    এম কে

  • ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত ৪

    ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। 

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার  রাতে উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের চন্দনচহট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই গ্রামে যুবদলের কয়েকজন নেতা জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় নেকমরদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হলে দুই দলের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি নেতা মো. আরিফুল, মো. ফারুক, মো. রুবেল এবং জামায়াত নেতা মো. আক্তার হোসেন আহত হন।

    আহতদের উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় আহতদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি এজাহার দেওয়া হয়েছে অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি এজাহার পাওয়া গেছে, সেটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

    এম কে

  • মির্জা ফখরুলের অনুরোধে টার্মিনালে ফিরল দূরপাল্লার বাস

    মির্জা ফখরুলের অনুরোধে টার্মিনালে ফিরল দূরপাল্লার বাস

    ডেস্ক নিউজঃ

    দীর্ঘদিনের যানজট, সড়ক দখল ও অনিয়মিত পরিবহন স্টপেজের ভোগান্তি দূর করতে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব কোচের জন্য চালুর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই যুগ আগে বিএনপির তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া ভবনটির উদ্বোধন করলেও বাস্তবে এটি কখনই ব্যবহার হয়নি। টার্মিনালটি নিয়মিত ব্যবহৃত হলে শহরের যানজট কমবে এবং ঠাকুরগাঁওবাসী প্রকৃত সুফল পাবে। শহরের ভেতরে বাস-ট্রাক প্রবেশের কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তাই মালিক ও শ্রমিক ভাইদের অনুরোধ করব গাড়িগুলো টার্মিনালে রাখুন, শহর আরও সুশৃঙ্খল হবে।

    তবে উদ্বোধনের পর কয়েক দিন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মাঝে তেমন সাড়া দেখা যায়নি। আগের মতোই শহরের প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে চলতে থাকে যাত্রী ওঠানামা। ফলে যানজট আবারও তীব্র আকার ধারণ করে।


    প্রশাসনের তৎপরতায় শহরের প্রধান সড়ক দখলমুক্ত করা হয় এবং দূরপাল্লার সব বাসকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী ওঠানামার জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবহন মালিক শ্রমিকরাও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং টার্মিনালে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেন।

    একাধিক পথচারী বলেন, আগে প্রধান সড়কে হাটারই উপায় ছিল না। যানজট, হর্ন, ধুলো আর ভিড়ে প্রতিদিনই কষ্ট পোহাতে হতো। বাসগুলো যেখানে-সেখানে দাড়ালে আমরা ভুগতাম সবচেয়ে বেশি। এখন বাসগুলো টার্মিনালে চলে যাওয়ায় অনেক স্বস্তি লাগছে। রাস্তাঘাট আগের তুলনায় অনেক খালি, চলাচলও সহজ হয়েছে। আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ তার উদ্যোগে বিষয়টি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

    ঠাকুরগাঁও জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে টার্মিনাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমেছে এবং সবার জন্যই সুবিধা তৈরি হয়েছে।

    ঠাকুরগাঁও জেলা মটর মালিক সমিতির সভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী বলেন, শহরের যানজট কমানো এবং পথচারী, যাত্রী ও শ্রমিকদের সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ব্যবহারের উদ্যোগ আমরা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি। প্রশাসন ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা নিশ্চিত করব যে টার্মিনাল ব্যবহারে যাত্রী সেবা সুবিধাজনক হবে এবং শহরের রাস্তাগুলো শৃঙ্খলাপূর্ণ থাকবে। সবাই মিলে কাজ করলে ঠাকুরগাঁওবাসীর স্বস্তি এবং সুবিধা দুটোই নিশ্চিত করা সম্ভব।

    এম কে

  • লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

    লালমনিরহাটে সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

    ডেস্ক নিউজঃ

    লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সারের বাজারে চলছে চরম নৈরাজ্য। সরকারি বরাদ্দের সার ডিলারদের গুদামে খুঁজে পাওয়া না গেলেও খুচরা বাজারে তা মিলছে দ্বিগুণ দামে। একদিকে সারের কৃত্রিম সংকট, অন্যদিকে ভেজাল সারের রমরমা কারবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। অভিযোগ উঠেছে, সারের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

    সরেজমিনে আদিতমারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রবি মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মাঝে হাহাকার। আলু ও অন্যান্য ফসল রোপণের জন্য টিএসপি সারের তীব্র প্রয়োজন থাকলেও বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলাররা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন ‘সার নেই’। অথচ পাশের খুচরা দোকানেই সেই সার ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

    চরিতাবাড়ী এলাকার কৃষক সুজন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আলু রোপণের সময় টিএসপি সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে ৩২০০ টাকা দরে কিনেছি। ডিলাররা সার বাইরে বিক্রি করে দেয়, আর আমাদের বলে বরাদ্দ নেই।’

    কৃষকদের প্রধান অভিযোগ উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকি নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তাদের দেখা মেলা ভার। অভিযোগ রয়েছে, তারা কেবল ডিলারদের রেজিস্টার খাতায় সই করেই দায়িত্ব শেষ করেন। এই সুযোগে ডিলাররা অবৈধভাবে সারের মজুদ সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

    অনিয়মের বিষয়ে কোনো কৃষক অভিযোগ করলে কৃষি কর্মকর্তারা দায় চাপান প্রশাসনের ওপর। তাদের দাবি, ‘এসিল্যান্ড স্যার ছাড়া অভিযান সম্ভব নয়।’

    প্রশাসনের এমন রশি টানাটানির সুযোগে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখছেন না ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন পর পর উপজেলা প্রশাসন বা কৃষি বিভাগ থেকে দুয়েকটি নামমাত্র অভিযান চালানো হলেও তাতে মূল হোতারা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতাকে সামান্য জরিমানা করেই দায় সারছে প্রশাসন। কৃষকদের মতে, এসব অভিযান কেবল লোক দেখানোর জন্য।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘বাজারে সারের কোনো সংকট নেই।’

    এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি সংকট না থাকে, তবে কৃষক কেন দ্বিগুণ দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে?

    সার সংকটের আড়ালে ভেজাল সারের কারবারও এখন তুঙ্গে। নকল সার ব্যবহারে ফসলি জমি ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

    বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে লালমনিরহাটের কৃষককূলের একটাই দাবি এই ‘শক্ত সিন্ডিকেট’ ভেঙে দিয়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হোক এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় ব্যাহত হবে খাদ্য উৎপাদন, পথে বসবে উত্তরের জনপদের হাজারো কৃষক।

    এম কে

     

  • ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫০০০ টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে

    ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫০০০ টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে

    ডেস্ক নিউজঃ

    ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে সরাসরি পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেলহেড ডিপোতে।

    বুধবার সন্ধ্যায় ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব তেল পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    আহসান হাবিব বলেন, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেলহেড ডিপোতে ডিজেল পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬০ ঘণ্টা।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কৃষিনির্ভর উত্তরের আট জেলায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ নিতে ২০১৭ সালে ২২ অক্টোবর ১৫ বছর মেয়াদি ভারতের সঙ্গে চুক্তি সই হয়।

    রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রেলপথ এবং যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি এড়াতে ভারতের আসামের শিলিগুড়ির নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে দিনাজপুরের পাবর্তীপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

    চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালে মোট এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ। সেই চুক্তি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ডিজেল আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকি অংক ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

    আগামী চার মাসের মধ্যে একই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি।পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশটি ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।

    এম কে

  • দিনাজপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার বাসের ধাক্কা, নিহত ২

    দিনাজপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে স্লিপার বাসের ধাক্কা, নিহত ২

    ডেস্ক নিউজঃ

    দিনাজপুরের বিরামপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে ঢাকাগামী স্লিপার বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

    রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর চন্ডিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতদের মধ্যে বাসের যাত্রী মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার খবির উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন বাবুর পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

    বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে বেশ কিছু যাত্রী নিয়ে হেরিটেজ স্লিপার কোচ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছিল। পথে চন্ডিপুর এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই বাসের চালকের সহকারী ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।

    জানতে চাইলে বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, সকালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতরা বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এম কে

  • ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ

    ডেস্ক নিউজঃ

    উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৪২২ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদ অন্যতম। স্থাপনাটি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি গ্রামে অবস্থিত। ছোট আকৃতির এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করা হয়। দেশি-বিদেশি মানুষ এখনো মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন।

    শালবন ঘেরা মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদের শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১০১০ বঙ্গাব্দ বা ১৬০৪ সালে নির্মিত হয় এটি। ১২ ফুট দৈর্ঘ ও প্রস্থের মসজিদের উচ্চতা মিনারসহ প্রায় ৩০ ফুট। একসময় নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যে দেখতে আসা পর্যটকেরা নামাজ আদায় করেন। এ ছাড়া দুই ঈদের নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।স্থানীয়রা জানান, মসজিদটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগই পারে এই শতাব্দী প্রাচীন স্থাপনাটিকে রক্ষা করতে। যদিও বা অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মসজিদটি রক্ষা পেলেও অনেকটা নিদর্শন হারিয়ে ফেলেছে।

    মসজিদটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ইউসুফ আলী জানান, তার পূর্বপুরুষরাই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে আমলে জনবসতি এবং জনসংখ্যা কম থাকায় ছোট পরিসরে নির্মিত হয় মসজিদটি। মাত্র ৮ থেকে ১০ জন মুসল্লি দুই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চারপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। সেই গভীর জঙ্গলের অস্তিত্ব নেই।

    তিনি জানান, মসজিদটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো টিকে আছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে এটি প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ২০১১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংস্কার করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করলে বাইরের নকশা এবং কারুকাজ ঠিক রাখা সম্ভব হতো। এতে মসজিদটি জৌলুস হারাতো না। পুরোনো নকশার আদলে নতুন করে ৪টি মিনার ও ১টি গম্বুজ নির্মাণ করলেও বর্তমানে ২টি মিনার ও ১টি গম্বুজ টিকে আছে।স্থানীয় শিক্ষাবিদ মাহাতাব উদ্দীন বলেন, ‘কালের বিবর্তনে মসজিদের ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুনেছি, অতীতে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হতো। এখন পর্যটকেরা এসে আত্মতৃপ্তির জন্য নামাজ আদায় করেন। তবে দুই ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতের সেই জঙ্গলঘেরা নির্জন পরিবেশ আর নেই। ঈদগাহ মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে।’

    ২০১১ সালে সংস্কার কাজের মিস্ত্রি নুর আলম বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহারের উপযুক্ত ছিল না। মসজিদটির ওপরে বটগাছসহ জঙ্গলে ভরে গিয়েছিল। চুন, সুরকির পলেস্তারা খসে ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। চেষ্টা করেছি পূর্বের নকশা অনুযায়ী সংস্কার করার। যদি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কার করা যেত, তাহলে উন্নতমানের প্রযুক্তি ও মেডিসিন ব্যবহার করে আগের অবস্থায় আনা যেতো।’

    এম কে