ক্যাটাগরি কান্ট্রি সাইড

  • রূপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, অভিযুক্তকে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

    রূপগঞ্জে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, অভিযুক্তকে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রুপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাবো মোড় এলাকায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

    নিহত নারীর নাম আমেনা বেগম (৪৫)। তিনি স্থানীয় মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। অন্যদিকে পিটুনিতে নিহত যুবকের নাম মেহেদী ইসলাম (৩২)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং উপজেলার বিরাবো খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বাবুল দেওয়ানের নবনির্মিত বাড়িতে টাইলসের কাজ করেছিলেন রাজমিস্ত্রি মেহেদী ইসলাম। চার দিন আগে সেই কাজ শেষ হয়। আজ বিকেল তিনটার দিকে বাড়িটি ফাঁকা পেয়ে মেহেদী সেখানে ঢুকে একটি মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করেন। এ সময় আমেনা বেগম তাকে দেখে ফেললে মেহেদী তার গলায় ছুরিকাঘাত করেন।

    আমেনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আমেনা বেগমকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আমেনার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আটক থাকা মেহেদীর ওপর চড়াও হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু আমেনার মৃত্যুর খবরে উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছ থেকে মেহেদীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ অভিযুক্তকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলেও একদল লোক তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে লাথি, ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করছেন। গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল ‘সি’) মেহেদী ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তকে পুরোপুরি হেফাজতে নেওয়ার আগেই জনতা তার ওপর হামলা চালায়।”

    পুলিশ জানায়, দুটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়েই পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

    এম কে

  • জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

    জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সাঈদীর দুই ছেলে

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ-

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) ও পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    তাদের মধ্যে পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর, ইন্দুরকানী) আসনে লড়বেন মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ (নেছারাবাদ, কাউখালী, ভান্ডারিয়া) আসনে লড়বেন শামীম সাঈদী।

    এ সময় পিরোজপুর-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেন, আজ একটি আনন্দঘন পরিবেশে আমার বড় ভাই শামীম সাঈদী ও আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আসলে এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের, কারণ এই আসনে আমার শহীদ পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্বাচন করার কথা ছিল। আমি কিংবা আমার ভাই-কারোরই এখানে নির্বাচন করার কথা ছিল না। আমাদের একটি কষ্টের ইতিহাস আছে, জনগণ সেগুলো জানেন এবং জনগণ নিশ্চয়ই সে বিষয়ে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। আমরা নির্বাচনে এসেছি মূলত এই প্রজন্মের মানুষ বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে ভাবে, আমরা সেই বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই। আমরা একটি শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে চাই এবং ইনশাআল্লাহ জনগণ যথোপযুক্ত সময়ে সেই রায় দিয়ে জনগণের মনের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

    এ/আর

     

  • ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের  চিতই পিঠার মহোৎসব

    ‎পিরোজপুরে নাজিরপুর শীতের চিতই পিঠার মহোৎসব

    বিডি নিউজ ডেস্ক-

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভেসে আসছিল মাটির চুলার ধোঁয়া আর গরম চিতই পিঠার ঘ্রাণ। কালীমন্দিরের প্রাঙ্গণে সারি সারি জ্বলতে থাকা ১০৮টি মাটির চুলা, নারীদের ব্যস্ত হাত আর চিতই পিঠার গরম ঘ্রাণে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব এবারও রূপ নেয় জনসমাগমের মহোৎসবে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারসংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এ শতবর্ষী পিঠা উৎসব। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে উৎসব চলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত। ধর্মীয় আচারকে ঘিরে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এই আয়োজন এখন পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে।

    ‎অথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায়, সারিবদ্ধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ১০৮টি মাটির চুলা। প্রতিটি চুলার ওপর রাখা হয়েছে মাটির সাজ ও সরা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নারীরা চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সন্ধ্যা ঘনানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে কেউ ভক্ত, কেউ মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থী, আবার কেউ নিছক দর্শনার্থী। অনেকেই সঙ্গে করে এনেছেন চালের গুঁড়া, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ।

    ‎সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী মন্ত্রপাঠ শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা হয়। তিনি প্রতিটি চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দিলে নারীরা পিঠা বানাতে শুরু করেন। সরা তুলে সাজ থেকে পিঠা নামিয়ে বড় পাত্রে জমা করা হয়। পরে সেই পিঠা প্রতিমার ভোগে অর্পণ শেষে প্রসাদ হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে মানত নিয়ে আসা পুণ্যার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চিতই পিঠা।

    ‎বরিশাল থেকে আসা পুণ্যার্থী সুমিত্রা রানী দাস বলেন, ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে আসতাম। বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছি, তবু এই দিনটা এলে মন টানে। মনে হয় এখানকার পিঠার সঙ্গে আমার শৈশব মিশে আছে।

    ‎গতবছর সন্তানের আশায় এখানে মাতন করে গিয়েছিলেন শ্যামা পাল। এবছর সন্তান কোলে নিয়ে এসেছেন পিঠা তৈরি করতে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার সন্তান হয় না। গত বছর এখানে এসে মানত করে গিয়েছিলাম। মানত করে যাওয়ার ১ মাসের মধ্যেই আমার সুখবর আসে। এ বছর সন্তান কোলে নিয়ে চিতই পিঠা বানাতে এসেছি।

    ‎স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল বিশ্বাস বলেন, আগে শুনতাম এটা শুধু মানতের আয়োজন ছিল। এখন এটা আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় উৎসব। ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে সবাই এখানে আনন্দ করতে আসে।

    ‎মনোবাসনা পূরণের আশায় আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুসলিম গৃহবধূ বলেন, আমার সন্তান না হওয়ায় এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার জায়গা তো সবার জন্য তাই এসেছি।

    ‎১৯৮৬ সাল থেকে বংশপরম্পরায় এই মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেবলাল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ৯২ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী মাঘের অমাবস্যা তিথিতে এই কালীমন্দির প্রাঙ্গণে মেলার আয়োজন করতেন। অমাবস্যায় শুকনা খাবার খাওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মন্দিরে চিতই পিঠা তৈরি করে প্রসাদ দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। মানুষ মনোবাসনা পূরণের আশায় এই পিঠা গ্রহণ করতেন। যুগের পর যুগ ধরে সেই রীতিই আজও চলে আসছে। বর্তমানে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠা তৈরির এই আয়োজন ধীরে ধীরে বৃহৎ উৎসবে রূপ নিয়েছে।

    ‎শত বছরের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এই আয়োজন আজ আর কেবল ধর্মীয় রীতি নয় পরিণত হয়েছে নাজিরপুরের সর্বজনীন লোকউৎসবে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনেই টিকে আছে চিতই পিঠার এই অনন্য উৎসব।

    এ/আর

  • বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    বন্দরে সরস্বতীপূজা উপলক্ষে শিক্ষাসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    ডেস্ক নিউজঃ

    সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বন্দরেও মঙ্গল যজ্ঞ, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে পূজিত হলেন জ্ঞানের দেবী সরস্বতী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বন্দরের ৩৫নং এস.এস শাহ রোড এলাকায় পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর কাছে আশীর্বাদ কামনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় মূল পূজা। পূজা শেষে অনেক মণ্ডপে খুদে শিক্ষার্থীদের হাতেখড়ি দেয়া হয়। পরে বিতরণ করা হয় প্রসাদ।

    বন্দরে ঐতিহ্যবাহী একতা সংঘের (প্রাক্তন বালক সমিতি) উদ্যোগে প্রায় ৪৫ বছর ধরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের পূজায় তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী ও নারীদের মাঝে আলতা-সিঁদুর ছাড়াও শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র (চাদর) বিতরণ করা হয়।

    মহানগর মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর পূজা ফ্রন্টের সদস্য সচিব শ্রী ঋষিকেশ মন্ডল মিঠুর সভাপতিত্বে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের একমাত্র কন্যা সিদরাতুল মুনতাহা ইহন খান।

    ইহন খান তার বক্তব্যে সম্প্রতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সরস্বতী দেবী হলো জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতীক। আমরা আমাদের জীবনে তিনটি বিষয় অনুসরণ করবো—জ্ঞান অর্জন করবো আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য, শিক্ষা গ্রহণ করবো জাতির অগ্রগতির জন্য আর নিজেকে তৈরি করবো আদর্শ মানুষ হিসেবে। আমি এখানে উপস্থিত সকল শিশু ও সকলের জন্য শুভ কামনা জানাই। আসলেই এ অনুষ্ঠানটি আমার জীবনে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করি, এটাই বাংলাদেশে সব চাইতে সুন্দর বৈশিষ্ঠ্য। এ অনুষ্ঠানটি এত সুন্দর করে আয়োজন করার জন্য ঋষিকেশ মন্ডল মিঠু চাচ্চুকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”

    সভাপতির বক্তব্যে মিঠু বলেন, “আজকে আমার মনটা ভীষণ আনন্দিত। না, শুধু পূজার জন্যই নয়। আজ আমার মনটা বেশি আনন্দিত কারণ, আমাদের মাঝে আমার প্রাণপ্রিয় নেতা জাকির খানের একমাত্র কন্যা ইহন এসেছে। ইহন এ প্রথমবারের মত কোন অনুষ্ঠানে এসে হাজির হয়েছে এবং সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন আমি নিজে করেছি। যাইহোক, ইহন খানের জন্য আশিবাদ করি এখান থেকেই যেন ওনার এগিয়ে যাওয়া শুরু হয়। সবশেষ আমার নেতা জাকির খানের সুস্বাস্থ্য ও আমাদের মা ইহন খান যেন তার পরিবারকে আরও ঐতিহ্যময় করে তোলতে পারে, এজন্য আমি সকলের কাছে দোয়া-আর্শিবাদ কামনা করছি।”

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাকিব হাসান রাজের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিংকন খান, সদর থানা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক সনেট আহমেদ, জেলা কৃষক দলের সহ সভাপতি শেখ সালেহ আহমেদ (রনি), জুয়েল, একতা সংঘের পূজা কমিটির সঞ্জয় মন্ডল, হৃদয় বনিক, পুসান্ত বর্মন, অমিত মোদক, জয় দাস, লিখন সরকার, সিমান্ত, পোলক, পার্থ, নীরব, নিলয়, ইয়ান্ত, প্রনান্ত, প্রীতম, রণবীর, প্রণয় প্রমুখ।

    এম কে

  • ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    ১২ মিনিট দেরি, মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি সেই সুধীর

    বিডি ডেস্ক নিউজ-

    পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে নির্ধারিত সময়ের ১২ মিনিট পরে পৌঁছানোয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি ৭৪ বছর বয়সি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। তিনি সপ্তমবারের মতো মনোনয়নপত্র জমা দিতে চেয়েছিলেন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস। এর আগে ৬টি নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল তার। তারপরও সোমবার মনোয়নয়নপত্র দাখিল করতে যান সুধীর।

    জানা গেছে, কখনো নিজের ভোটটি ছাড়া কোনো ভোট পাননি সুধীর বিশ্বাস।

    সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী বিশ্বাস ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে হেরে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকেই তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্যই নির্বাচন করে আসছেন সুধীর।

    নিজেকে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক দাবি করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে জমিয়ে রাখা টাকা ও কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে এ বছর মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছিলাম; কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে গেলে আমার কাগজপত্র জমা নেয়নি। আমার বয়স হয়ে গেছে, তাই কাগজপত্র রেডি করে নিয়ে যেতে একটু দেরি হয়।

    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার জানান, সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস দাউদখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। নির্বাচন করার অধিকার তার আছে। নির্ধারিত সময়ের পরে আসার কারণে তিনি জমা দিতে পারেননি।

    মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার ১২ মিনিট পরে তিনি কাগজপত্র নিয়ে আসায় জমা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

     

     

    উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জলিল শরীফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শামীম হামিদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুস্তম আলী ফরাজী, জাতীয় পার্টির মাসরেকুল আজম রবি, জাসদ মনোনীত প্রার্থী করিম শিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌহিদুর ইসলাম।

  • সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    সন্ধ্যা নদীতীরের গ্রামে ফুলের চারা উৎপাদন বদলে দিচ্ছে অর্থনীতি

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    শীত মৌসুম এলেই বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের নেছারাবাদের গ্রামগুলো যেন ভিন্ন এক কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষা এই দুই উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য নার্সারি। শীত মৌসুমে নার্সারিগুলোয় শুরু হয় ফুলের চারা উৎপাদনের প্রস্তুতি।

    নদীতীরের এসব গ্রামে নার্সারির চারাগুলোর শাখায় শাখায় আর কদিন পরই ফুটবে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি, বেগুনি—নানা ফুল। এই চারা ও ফুল উৎপাদনের মধ্য দিয়েই স্থানীয় উদ্যোক্তারা গড়ে তুলেছেন এক নীরব কিন্তু বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিপ্লব।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় অর্ধকোটি ফুলের চারা বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি।

    নার্সারিমালিকদের দাবি, গত বছর তাঁরা প্রত্যাশা অনুযায়ী ফুলের চারা বিক্রি করতে পারেননি। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আগের চেয়ে বেশি জমিতে তাঁরা চারা উৎপাদন শুরু করেছেন। অগ্রহায়ণের শুরুতেই এসব নার্সারি মুখর হয়ে ওঠে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায়।

    সম্প্রতি বানারীপাড়া উপজেলা সদরের তেতলা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠি, কুনিয়ারী, মাহমুদকাঠি, সুলতানপুরসহ নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—নার্সারিগুলোতে মানুষের ব্যস্ততা। গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, টিউলিপ, কসমস, বেলি, সূর্যমুখী, অর্কিড, সিলভিয়া, মর্নিং ফ্লাওয়ার, ক্যালেন্ডুলাসহ শতাধিক প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের চারা। কেউ চারা পরিচর্যা করছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউবা পলিথিনে, টবে, সিমেন্টের বস্তা দিয়ে বানানো ব্যাগে মাটি ভরে নতুন চারা করার জন্য প্রস্তুত করছেন। শুধু নেছারাবাদ ও বানারীপাড়া উপজেলাতেই অন্তত ২০টি গ্রামজুড়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

    নার্সারিমালিক আবদুর কাদের বলেন, ‘সারা বছর বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন করি, তবে শীত আসার আগেই শুরু করি ফুলের বীজ বপন। এই তিন মাস আমরা ফুলের চারা বিক্রি নিয়েই ব্যস্ত থাকি। প্রতি মৌসুমে পাঁচ–ছয় লাখ টাকার ফুলের চারা বিক্রি হয়—এর অর্ধেকই থাকে লাভ।’

    নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানার নার্সারিমালিক সমীরণ রায় বলেন, ‘এবার ৯০ শতাংশ জমিতে ফুলের চারা করেছি। আশা করছি অন্তত দুই লাখ টাকার বিক্রি হবে।’

    নার্সারির শ্রমিক রাহাত হোসেন জানান, এখানে ফুলের চারার দাম ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বনসাই ও বিদেশি জাতের ফুলের চারা সবচেয়ে দামি।

    নার্সারি ঘিরে দুই উপজেলায় অসংখ্য নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী শ্রমিক আয়েশা আক্তার তাঁদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন নার্সারি। প্রতিটি নার্সারিতে চার-পাঁচজন করে নারী শ্রমিক কাজ করেন। দৈনিক মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। এখানে কর্মসংস্থান হওয়ায় আমাদের সংসারে আগের টানাপড়েন আর নেই।’

    কোহিনুর নার্সারির ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গতবছর বরিশালের বাইরে থেকে ক্রেতারা কম এসেছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফুল ও বাগান তৈরির বরাদ্দও কম ছিল, তাই ক্ষতি হয়েছিল। এবার আশা করি, বিক্রি ভালো হবে। বাইরের ক্রেতারা এরই মধ্যে চারা নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন।’

    রূপ-গন্ধে ভরা অলংকারকাঠি

    বরিশাল শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, বরিশাল–বানারীপাড়া–নেছারাবাদ সড়কের পাশে অলংকারকাঠি গ্রাম। চোখ ফেরালেই দেখা যায়, সবুজ আর শাখায় শাখায় বাহারি ফুলের শোভা।

    গ্রামের নার্সারি মালিক নূর হোসেন ব্যাপারী (৬৫) জানান, তিনি দেড় একর জমি ভাড়া নিয়ে সাত বছর আগে গড়ে তুলেছেন ‘ইয়ামিন নার্সারি’। তিনি জানান, অলংকারকাঠি গ্রামেই এখন ১৫০টির বেশি নার্সারি। ফুলের চারা বিক্রির পাশাপাশি ফলের চারা বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তাঁরা।

    স্থানীয় লোকজন জানান, নদীনালায় ঘেরা এ অঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ কম। আগে চেরাই কাঠ, ভাসমান ফলদ-বনজ চারা উৎপাদন ও পেয়ারা–নারকেল–সুপারি বাগানের প্রচলন ছিল। সেই বাগানের চাহিদা থেকেই প্রায় ৫০ বছর আগে শুরু হয় বাণিজ্যিক নার্সারি ব্যবসা। গত দুই দশকে এখানে ফুলের চারা উৎপাদনও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ফুলের চারার বড় অংশই আসে পিরোজপুর-বরিশালের এই উপজেলা থেকে।

    নার্সারিমালিক শাহাদাৎ হোসেন জানান, আশ্বিন মাসে ঢাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করেন তাঁরা। এরপর তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করেন। ১৫–২০ দিন পর চারা গজালে পলিথিন, সিমেন্টের ব্যাগ, টবে তুলে পরিচর্যা শুরু হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়। এই ফুলও তাঁরা পাইকারি বিক্রি করেন। চৈত্র মাস পর্যন্ত ফুল বিক্রি চলে।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে এ অঞ্চলে ৯ হাজার ৫৬৭ একর জমিতে চারা উৎপাদন হচ্ছে। এর অর্ধেকের বেশি জমিতে শীতকালীন ফুলের চাষ হয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে পিরোজপুর জেলার ২৯১ একর জমিতে।

    নেছারাবাদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দুই হাজার নার্সারি আছে, এর মধ্যে ৩৬৩টি বড় আকারের। এ বছর চাষ বেড়েছে ১৫–২০ শতাংশ।

    বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নার্সারি ব্যবসা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের নানা অঞ্চলের ক্রেতারা বরিশাল ও পিরোজপুরের নার্সারির দিকে ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে, কৃষকেরাও লাভবান হবেন।

    এ/আর

  • কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

    কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    কাউখালীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে দুদক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা, গার্ডার ব্রিজ, সাইক্লোন শেল্টার ও ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় ২৫ থেকে ২৮টি প্রকল্প শুরু হলেও অধিকাংশ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদাররা প্রকল্পের অর্থ তুলে নিয়েছে। এসব অনিয়মে স্থানীয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ঠিকাদাররা কাজ ফেলে গা-ঢাকা দেয়। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় মানুষ। বর্তমানে উপজেলার জনদুর্ভোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অপূর্ণ রাস্তা ও ভাঙা ব্রিজ। অনেক জায়গায় শুধু পাইলিং করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে; কোথাও বা রাস্তা খুঁড়ে ইট-বালু ফেলে রেখেছে। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

    এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জিওবিএম, বিজেপি, আইবিআরপি, আইআরআইডিপি-৩, সিসিটিএফ, আইপিসিপি, পিডিআরআইডিপি ও ডিআরআরআইডব্লিউপি প্রকল্প। এর মধ্যে বিজেপি প্রকল্পের অধীনে মোল্লারহাট সাপলেজা সড়ক এবং পারসাতুরিয়া আদম আলী ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও ব্রিজের কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল অর্ধেক কাজ করে বন্ধ রেখেছে।

    একইভাবে আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় শিয়ালকাঠি ইউপির সামনে ৬ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজের কাজও পাইলিং পর্যায়ে আটকে আছে। এ ছাড়া পারসাতুরিয়া সালেকিয়া মাদ্রাসা, সয়না রঘুনাথপুর, জয়কুল খেয়াঘাট, চিরাপাড়া সুবিদপুর, জোলাগাতি ফলইবুনায়া ও কেউন্দিয়া সড়কের গার্ডার ব্রিজগুলোতেও একই চিত্র।

    এসব কাজের অধিকাংশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ ও তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের অধীনে চিরাপাড়া জিএম স্কুল-ডুমজুড়ি সড়ক উন্নয়ন কাজটি মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে ফেলে রেখেছে। অন্যদিকে ইফতি ইটিসিএল হোগলাবেতকা বাজার থেকে পুলেরহাট সড়কের কাজও শেষ করেনি।

    এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে শিয়ালকাঠি দারুদ সুন্নাত কামিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার এবং সোনাকুর ফেরিঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও অসমাপ্ত রয়েছে। একইভাবে হোগলা হাইস্কুল থেকে নান্না মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, চিরাপাড়া সুবিদপুর রোড ও রঘুনাথপুর মেঘপাল সড়কেও অল্প কাজ করে বন্ধ রেখেছে ইফতি ইটিসিএল। এভাবে ৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ২৮টি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে, আর ঠিকাদাররা পলাতক।

    স্থানীয়দের অভিযোগ-সরকারের বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়ে ঠিকাদাররা লাপাত্তা হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং করছে।’

    এ/ আর

  • মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    মিয়াবাড়ি মসজিদ দেখতে ছুটে আসেন পর্যটকরা

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মিয়াবাড়ি মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যের এক দৃষ্টিনন্দন নিদর্শন, যা প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ির কাছে পোনা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদ। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি এর সূক্ষ্ম নকশার জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সুরক্ষিত। ছোট এই মসজিদটিতে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি এর নকশায় স্থানীয় কারুকার্যের প্রভাবও দেখা যায়। এটি প্রায় ৩০ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়া। এই মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, যা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

    বেশ কিছুদিন ধরে এই স্থাপনাটির সংস্কার দাবি করে আসছিলেন স্থানীয়রা। অবশেষে ২০২২ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। লাল ইট ও চুনাপাথরের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মসজিদের দেওয়াল। স্থানীয়দের মতে, এটি নির্মাণের সময় গম্বুজের ছাদ ও খিলানের কারুকার্যে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। দেওয়ালের লাল ইটের বিন্যাস ও পোড়ামাটির ফলকের শিল্পকর্ম সবাইকে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

    আবুল কালাম আজাদ নামের স্থানীয় এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি সংস্কার করে। এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি মসজিদ, ভান্ডারিয়া থানার পেছনের মসজিদ ও ভেলাই চোপদারের বাড়ির মসজিদসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদগুলো।

    স্থানীয়রা জানান, মসজিদগুলোর দেওয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেওয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান নয়। রেলিং ও প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

    স্থানীয়রা আরও জানান, মিয়াবাড়ির মসজিদে এক কাতারে একসঙ্গে অন্তত ৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। বর্তমানে এ মসজিদের ভেতরের অংশ জরাজীর্ণ থাকায় এখন আর কেউ নামাজ পড়তে আসেন না।

    মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামের একজন ধনাঢ্য জমিদার প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর মোগল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দুটি দালান প্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও এ মসজিদগুলোর নির্মাণকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরও স্থাপত্য তথ্য বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়, মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল।

    মিয়াবাড়ির মসজিদের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ফুলবাগান ও এর সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মিয়াবাড়ি মসজিদটি সংস্কার করে এটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসাবে ঘোষণা করে।

    এ/আর-23/01/2026

     

     

  • শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা রক্ত দেয়নি : ফরিদা আখতার

    ডেস্ক নিউজঃ

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করণের উদ্দেশে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‎ফরিদা আখতার বলেন, ৭২-এর সংবিধান অনেকবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। সেটি আর সংবিধান নেই। যার যখন প্রয়োজন হয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই ‘হাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আগামীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কোনো সরকারকে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং কাউকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হতে দেওয়া যাবে না। যে প্রার্থীরা সংসদে যাবেন এবং সংসদে গিয়ে সরকার গঠন করবেন এবং দেশের জন্য কাজ করবেন তারা জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান, জেলা তথ্য অফিসার পরীক্ষিৎ চৌধুরীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ শুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

    এ আর

  • অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

    অস্ত্র কেনা-মজুত নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আলাপচারিতা ভাইরাল

     

    ডেস্ক নিউজঃ

    নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের আলোচনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বজলুর রহমানকে দেখা গেছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বজলুর রহমান নামে বিএনপির ওই নেতা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সোনারগাঁয়ের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে নির্বাচন সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই ভিডিওতে বজলুর পাশে বসা আরেকজনকে বজলুর কানে কানে বলতে শোনা যায় নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার। তাদের এই কথোপকথনে অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের সমর্থক হয়ে নির্বাচনে নেমেছেন বজলুর রহমান। আলাপচারিতায় উপস্থিতরা প্রত্যেকে এই প্রার্থীর হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

    এ বিষয়ে জানতে বজলু রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ের বক্তব্যের জন্য সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহিবুল্লাহ জানান, অস্ত্র নিয়ে আলাপচারিতার ভিডিওতে সম্পর্কে আমরা অবগত। এটা নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে এটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, আমরা ভিডিও সম্পর্ক অবগত রয়েছি। এটি নিয়ে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী  বলেছেন, আমি ভিডিও সম্পর্কে অবগত নই। খোঁজ নিচ্ছি।

    এম কে