ক্যাটাগরি কান্ট্রি সাইড

  • মাটিরাঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র উদ্ধার

    মাটিরাঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজ:

    খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি ভারতীয় পিস্তল, তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার  ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পলাশপুর জোনের বিজিবি সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    বিজিবি সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে আনুমানিক ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মাটিরাঙ্গা থানাধীন গোমতি ইউনিয়নের বেহাদন্তপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ভারতীয় পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা অ্যামোনিশন এবং তিনটি হাসুয়া (দা) উদ্ধার করা হয়।

    বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ মাটিরাঙ্গা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনূল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র পাচার ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সদস্যরা সর্বদা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জমিতে গাজা চাষ!

    খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জমিতে গাজা চাষ!

    ডেস্ক নিউজ:

    খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই একর জায়গাজুড়ে চাষ করা গাঁজা বাগানের সন্ধান পেয়েছে যৌথ বাহিনী।মঙ্গলবার  ভোরে উপজেলার চৌধুরীপাড়া এলাকায় ওই গাঁজা বাগানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে বাগানের সব গাঁজার গাছ কেটে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাগানটিতে আনুমানিক প্রায় ১০ কোটি টাকার গাঁজা উৎপাদন হতো। গুইমারা সদর ইউনিয়ন হলেও এলাকাটি দুর্গম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়। বাগানে দুই হাজারের মতো গাঁজার গাছ ছিল।

    গুইমারা থানার ওসি আরিফুর আমিন জানান, সকল গাছ কেটে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে গাঁজা চাষের সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    লোকালয়ে লজ্জাবতী বানর

    ডেস্ক নিউজ:

    রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের লোকালয় থেকে উদ্ধার একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার  সন্ধ্যায় কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলমসহ বনকর্মীরা বানরটি অবমুক্ত করেন।

    এ সময় বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এএসএম ম‌হিউ‌দ্দিন চৌধুরী, অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনীকরণ বিভাগের নানিয়ারচর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, বুড়িঘাট স্টেশন অফিসার মো. মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা এএসএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত হওয়া লজ্জাবতী বানরটি গত সোমবার নানিয়ারচর থেকে উদ্ধার করে বন বিভাগ।

    প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকায় রয়েছে ‘বেঙ্গল স্লো লরিস’ প্রজাতির এই লজ্জাবতী বানর।

    বিগত কয়েকমাসে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এই প্রজাতির বেশ কিছু বানর অবমুক্ত করা হয়; যেগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের লোকালয় থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল।

  • হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    হলুদের গালিচায় রঙিন স্বপ্ন

    ডেস্ক নিউজ:

    হলুদ সরিষার মাঠ যখন বাতাসে দুলতে থাকে, সেই দৃশ্য মনকে এক অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এই হলুদের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠোপথ। এই নয়নাভিরাম প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মনকে মুগ্ধ করবে। ফসলের মাঠের দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হলুদের রূপে মুগ্ধ হতে পারেন যে কেউ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবিনগরে বাঞ্চারামপুর ও বিজয় নগরে দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। প্রকৃতিতে ছড়ানো সরিষা ফুলের সুবাস আকৃষ্ট করছে সবাইকে। এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য উপজেলাজুড়ে এখন সবার নজর কাড়ছে। সবুজের বুকে হলুদের এমন মনোরম দৃশ্যে চোখ এমনিতেই আটকে যায়। দৃষ্টিনন্দন সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠ। আর সেই সরিষার হলুদ ফুলে দোল খাচ্ছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়া, চাহিদা, সেইসঙ্গে স্থানীয় কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

    গত বছর উপজেলায় উৎপাদিত সরিষার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চলতি বছর কৃষকের মাঝে আবাদের আগ্রহ বাড়লেও উৎপাদন কিছুটা কমেছে। এর কারণ হিসেবে কৃষি অফিস বলছে, দিন দিন কৃষি জমিতে বালু ভরাটের কারণে আবাদি জমি কমছে। তবে উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা বিচারে চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় সরিষার বাজার মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা হবে বলে মনে করছে কৃষি অফিস। গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়।

    একটা সময় উপজেলায় কৃষিজমিতে শুধু ধান চাষ হতো। এই ফসল চাষাবাদের মাঝের সময়ে কৃষিজমি ফাঁকা পড়ে থাকত। তবে এখন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সেখানে সরিষা, গম, ভুট্টা সূর্যমুখী ও পেঁয়াজ উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পতিত জমিতেও এ ধরনের শস্য উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইসমাইল মুন্সি বলেন, সরিষা চাষে প্রতিবিঘা জমিতে ব্যয় হয় আড়াই তিন হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হবে। সরিষা ক্ষেতকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। ফলন ভালো হলে প্রতিবিঘা জমিতে ৫-৬ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। তবে বেশি কুয়াশা সরিষা ক্ষেতের ক্ষতি করতে পারে।

    গত বছর প্রতিমণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। এ বছরও একই দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

  • কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    কৃষকের আলুগাছ উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা!

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের ঘিওরে সির্জন খলিফা নামে এক কৃষকের ৩০ শতাংশ আলুগাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময় সিংজুরী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাটুয়াবাড়ি চকে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম সির্জন খলিফা।

    সরেজমিন দেখা যায়, সির্জন খলিফার ৩০ শতাংশ জমির আলুগাছ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ক্ষেতের মধ্যেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেগুলো। গাছে সবেমাত্র আলুর গুঁটি বাঁধতে শুরু করেছিল। সকালে ক্ষেতের এই অবস্থা দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    সির্জন খলিফা বলেন, সকালে মেয়ের জামাইয়ের ফোন পেয়ে আলুক্ষেত দেখতে আসি। এসে দেখি সব শেষ। শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের কী দোষ। এনজিও থেকে ঋণ তুলে ও ধারদেনা করে এই আলু চাষ করেছিলাম। দুর্বৃত্তরা আমার প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষতি করে ফেলেছে। প্রশাসনের কাছে এই অমানবিক কাজের সুষ্ঠু বিচার চাই।

    উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, খবর শুনেছি বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাকে সরকারি কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

    ঘিওর থানার ওসি মীর মাহাবুব  বলেন, কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতাকে আজীবন বহিষ্কার

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপের সময় হাতেনাতে ধরাপড়া ইউনিয়ন বিএনপি এক নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

    শনিবার  দলীয় প্যাডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

    বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল। তিনি দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তিনি সদর উপেজেলায় ভাড়ার বাসায় বসবাস করতেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা বিরোধী এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মানিকগঞ্জ জেলা, দৌলতপুর উপজেলা ধামশ্বর ইউনিয়ন শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার রাত ২টার দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম মনজেলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এ বিষয় নিয়ে গ্রামবাসী দীর্ঘদিন কানাঘুষা করছিল। গতরাতে যখন সিরাজুল ইসলাম মনজেলকে গ্রামের কয়েকজন লোক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখেন। তার কিছুক্ষণ পরে অনৈতিক কাজের সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। পরে তাকে ঘর থেকে বের করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।

  • পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলবাসে আগুন

    পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুলবাসে আগুন

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার  রাত ৮টার দিকে উপজেলার উথলী মোড়ে সারমানো সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের পাশে পার্কিং করে রাখা অবস্থায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পেছন দিক থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে পাম্পের কর্মচারী ও স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে, তারা এসে আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে আরও কয়েকটি মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি। ফলে অনেকের ধারণা, নাশকতার উদ্দেশ্যে আগুন লাগানো হয়েছে।

    পাম্পের কর্মচারী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি তখন সিএনজিতে গ্যাস দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বাসের পেছন দিক থেকে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। আমরা পানি ঢেলে নেভানোর চেষ্টা করলেও পারিনি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বাসচালক মন্টু মিয়া বলেন, দুপুরে বাসটি পাম্পে রেখে বাসায় চলে যাই। শনিবার রাতে বাসের পেছনের কাচ ভেঙে এলইডি টিভি ও সাউন্ড বক্স চুরি হয়েছিল। বিষয়টি মালিককে জানিয়েছিলাম। আজ রাতে বাসটাই পুড়ে গেল। কী বলব বুঝতে পারছি না।

    বাসটির মালিক সিয়াম আহামেদ বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের বহনে ব্যবহৃত হয় বাসটি। আগুনের ঘটনায় প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এটি মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাস। আশপাশের কোনো গাড়ি না পুড়ে শুধু আমার গাড়ি পুড়েছে—তাই বিষয়টি নাশকতা বলেই মনে হচ্ছে।

    শিবালয় থানার ওসি এস. এম. আমান উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

    স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে মো. সেলিম নামে এক ইটভাটার শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরগজ পূর্বনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মো. সেলিম হরগজ পূর্বনগর গ্রামের মৃত দানের শেখের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে কাজে যাওয়ার আগে সেলিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তিনি ঘরের হাঁড়ি-পাতিল ভাঙচুর করেন। পরে স্ত্রী কর্মস্থলে চলে গেলে সকাল ১০টার দিকে ফোন করে শেষবারের মতো ক্ষমা চান তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই বিষপান করেন সেলিম।

    আরও জানা গেছে, পরিবারের লোকজন টের পেয়ে সেলিমকে দ্রুত সাটুরিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গেলেও খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

    সাটুরিয়া থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

  • পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    পলিটেকনিকের ছাত্র হাবিব বানালো মিগ-২৯

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মাত্র ১৭ বছর বয়সের কলেজপড়ুয়া ছাত্র কাজী হাসিব টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেছেন মিগ-২৯ মডেলের রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। বিমানটি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে আকাশে উড্ডয়ন করা হয়। যুদ্ধবিমানের মতোই দ্রুত গতিতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দৃষ্টিনন্দন ডিগবাজি খেতে খেতে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে। বিমানের শব্দ শুনে মনে হয়, যেন এটা আসলেই রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান।

    বিমানটি মাটি থেকে ৫০০ মিটার ওপরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এরিয়া নিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রদক্ষিণ করতে পারে বলে জানান এই তরুণ উদ্ভাবক।

    কাজী হাসিব উপজেলার চালা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কাজী ইলিয়াসের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সের (ডিপ্লোমা) প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র। কাজী হাসিবের এমন কারিশমায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

    ‎জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে মানিকগঞ্জ ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয় কাজী হাসিব। সে নবম শ্রেণি থেকেই শুরু করে এই বিমান তৈরির গবেষণা। অবশেষে দীর্ঘ তিন বছর পর সে সফলতার মুখ দেখেন। দরিদ্র পরিবারের কাজী হাসিব তার স্বপ্ন পূরণ হয়।

    দীর্ঘদিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে তৈরি করেন এই যুদ্ধবিমানের আদলে মিনি বিমান। এ জন্য তার খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। সাড়ে তিন ফুট দৈর্ঘ্য ও আড়াই ফুট প্রস্থ এ বিমানটি তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন, ডিপরম শিট ও ককশিটের বডি, পাওয়ার ব্যাটারি, ট্রান্সমিটার, রিসিভার, ইলেকট্রনিক স্পিড কন্ট্রোলার, সার্ভো, মোটর, প্রপেলার, ব্লগান, আঠা ও কসটেপ। এরপরই পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে ওড়ানো হয় এই মিনি বিমান। বিমানটি যখন আকাশে ওপরের দিকে উঠে তখন তার শব্দে চারপাশ ভারি হয়ে ওঠে। দেখে মনে হয় এটি সত্যিকারের একটি যুদ্ধবিমান।

    ‎তরুণ উদ্ভাবক কাজী হাসিব বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ব্যতিক্রম কিছু একটা করার। ক্লাস নাইন থেকেই এই বিমান তৈরির চিন্তাটা মাথায় ঘুরপাক খায়; কিন্তু আমরা গরিব মানুষ। অনেক কষ্টে আমাকে পড়াশোনা করায়। তাই এই কাজে বাবার কাছে হাত না পেতে আমার টিফিনের টাকা জমিয়ে আমি এই মিনি বিমানটি তৈরি করি। তবে আগে আরও দুইটা বানাইছিলাম। সেগুলো ঠিক মতো হয়নি। পরে এটা তৈরি করি এবং আকাশে উড়াই। এটা আরও উন্নত করতে পারলে অটো পাইলটের এ বিমানটি যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার সম্ভব হবে।’

    ছবি সংগৃহিত

    স্থানীয় বাসিন্দা সাইমুন বলেন, ‘আমরা আসলে অবাক হয়েছি ওর মেধা দেখে। এত অল্প বয়সে কত সুদূর পরিকল্পনা করে এ বিমানটি সে তৈরি করেছে। নিঃসন্দেহে হাসিব আমাদের এলাকার গর্ব। ওর বাবা গরীব মানুষ। তাই সরকারিভাবে হাসিবকে দেখভাল করলে দেশের জন্য ভালো কিছু হতে পারে। আমি ওর বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

    প্রতিবেশী মো. ইমন শেখ বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই হাসিব যে বিমানটি বানিয়েছে নিঃসন্দেহে আমাদের এলাকার গর্বের বিষয়। আমরা এতে গর্ববোধ করি। সরকারিভাবে যদি ওকে দেখভাল করে তাহলে ভালো করতে পারবে। কারণ ওর মেধা আছে। আমরা চাই সরকারিভাবে হাসিবকে সহযোগিতা করা হোক।’

    ‎হাসিবের মা বলেন, আমার ছেলের বিমান তৈরির জন্য এলাকার সব মানুষ অবাক হয়েছে। আমরাও অবাক। আসলে আমরা তো ওর খরচ ঠিক মতো চালাইতে পারি না। নিজের টিফিনের টাকা জোগাড় করে আজ যে বিমান বানিয়েছে অবশ্যই এটা গর্বের। আমার অনুরোধ রইল, আপনারা যদি আমার ছেলের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ও ভালো কিছু করতে পারবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    হাসিবের বাবা কাজী ইলিয়াস বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কৃষিকাজ করে খাই। আমার ছেলে তার টিফিনের টাকা জমা করে আজ ২২ হাজার টাকা খরচ করে এ বিমানটি বানিয়েছে। এর জন্য আমি গর্ববোধ করি। যদি সমাজের বিত্তবান কিংবা সরকারিভাবে আমার ছেলেকে সহায়তা করে তাহলে সে ভালো কিছু করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    ‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা আক্তার  বলেন, ‘বিষয়টি আগে শুনিনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। আমি  ওর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখি। তারপর দেখা যাবে আমরা ওর জন্য কিছু করতে পারি কি না।’

  • চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    ডেস্ক নিউজ:

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরু চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই চোর নিহত হয়েছেন।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন—পার্শ্ববর্তী দশানী গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মজনু (২৭) এবং ছয়আনি গ্রামের বান্ধু মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম (২২)।

    স্থানীয়রা জানান, রাতে পাশের ইমামনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে তালা ভাঙার চেষ্টা করে পাঁচজনের একটি চোরচক্র। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পাঁচজন চোরের মধ্যে দুজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মজনু ও দীন ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তারা দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত চোর ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, গত তিন বছর ধরে এই চক্র এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও কয়েকবার তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও জানান, ধরা পড়ার পর নিহত দুই চোর তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

    এ বিষয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।