ক্যাটাগরি ঢাকা

Dhaka district

  • এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

    এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ রুটিন প্রকাশ করা হয়।

    রুটিন অনুযায়ী, ২ জুলাই সকাল ১০টায় ‘বাংলা প্রথম পত্র’ (আবশ্যিক) বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। আর শেষ হবে ৮ আগস্ট ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে।এবারের পরীক্ষা নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।

    আবার দ্বিতীয় শিফটে বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল, রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।এদিকে ব্যবহারিক বিষয় সংবলিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের বহুনির্বাচনি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।

  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন, গ্রেফতার ৩

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, স্টোর রুমে রাখা ল্যাপটপসহ মালামালের ক্ষতি করতে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ আগুন দেওয়া হয়েছিল।

    আসমাউল ইসলাম নামে একজন পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী বোরকা পরে সেখানে আগুন দেয়। ওই আগুন দিতে তার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২ মে) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারসহ এসব তথ্য দেন।

    গ্রেফতার আসমাউল মাস্টাররোলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অধিদপ্তরে কাজ করতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন- স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস ও মাস্টাররোলে স্টোর কিপার হিসেবে কর্মরত হুয়ামুন কবীর খান।

    গতকাল শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। সেখানে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল, যেগুলো মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বলছে, আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ পুরোপুরি পুড়ে যায়। ২৯টির বেশির ভাগ অংশ এবং ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত ছিল।

    হিসাব অনুযায়ী বাকি ৮৩টি ল্যাপটপের ‘হদিস মেলেনি’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোস্তাক বলেন, ‘আগুন দেওয়া’ আসমাউলের সঙ্গে সেখানে কর্মরত আরো দুইজনসহ অন্তত তিনজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

    “স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও মালামালের ক্ষতি করতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আগুনে প্রায় ২-৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

    ঘটনার পরপরই কাজ শুরুর ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ।

    মোস্তাক সরকার বলেন, “চিহ্নিত করার পর আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি, আসলে সে প্রকৃত জড়িত কি না। নিশ্চিত হওয়ার পরে তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।”

    এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসমাউল তার সঙ্গে জড়িতদের আরো তিনজনের বিষয়ে তথ্য দেয়- যাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতারের কথা বলেন তিনি।

    “যে তথ্য পেয়েছি, হৃদয় নামে আরেকজন শনাক্ত হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান আছে।”

    পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মূল যে মোটিভ এবং পরিকল্পনায় তাদের বাইরে আর কেউ আছে কি না সেগুলো বের করতে কাজ করছি। তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করব, আশা করি মূল মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা কিছু জিনিস বলেছে, এটা আরও যাচাই করতে হবে। অনেকগুলো বিষয় সামনে আছে। এটা একটা সরকারি ভবন, মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ল্যাপটপগুলো রাখা ছিল, এই সময়ে কেন আগুন দেওয়া হল।

    “যে আগুন দিয়েছে সে ওখানেই চাকরি করে। অন্যান্য যারা আছে, তাদের উদ্দেশ্য কী? জানতে পেরেছি, যে আগুন দিয়েছে তাকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল এ কাজটা করে দেওয়ার জন্য। এরমধ্যে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সে বিভিন্ন জিনিস কিনেছে। এ তথ্যগুলো আছে, জিনিসগুলো উদ্ধারসহ অন্যান্য কাজগুলো করতে একটু সময় লাগবে।”

    তার ভাষ্য, “যেহেতু তদন্ত চলমান, সবগুলো বিষয় খোলাসা করে বলা যাবে না। তাতে তদন্তকাজ বাধাগ্রস্থ হতে পারে।”

    ৮৩টি ল্যাপটপের হদিস না মিললেও সিসিটিভি ভিডিয়োতে সেখান থেকে কোনোকিছু সরানোর প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

    কার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপাতত জানতে পেরেছি এ বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে।

    বি / এ

  • সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৭৭৯২ বাংলাদেশী হজযাত্রী

    সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৭৭৯২ বাংলাদেশী হজযাত্রী

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার পাঁচ শ’ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯৪টি ফ্লাইটে মোট ৩৭ হাজার ৭৯২ জন বাংলাদেশী হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো: লোকমান হোসেন জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে জেদ্দায় ৯৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার পাঁচ শ’ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। হজ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় ৩০টি প্রধান অ্যাজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারীসহ মোট ৬৬০টি অ্যাজেন্সি কাজ করছে।

    এয়ারলাইনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪১টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ৮৬৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৩৫টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৮১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৪২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

    বাংলাদেশী বাকি ৪০ হাজার ৫০৫ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে জানান পরিচালক।

    হজ অফিস জানায়, এ বছর দেশ থেকে চার হাজার ৫৬৫ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

    ঢাকায় সৌদি দূতাবাস গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ২৯৭ জনের ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৪১৯টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৮৭৮টি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এ, আর

  • বিরোধীদলীয় নেতার সাথে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সাথে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের প্রধান ইভারস আইজবস’র নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন মিস বাইবা জারিনা, ডেপুটি চিফ অবজারভার মিস ইন্টা লেইস, লিগাল এনালিস্ট মিস ইরিনি মারিয়া গোওনারি ও রায়ান ইসলাম।

    বিরোধীদলীয় নেতার সাথে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

    বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতেই ইভারস আইজবস বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সার্বিক ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    এ সময় বাংলাদেশের সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের একটি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানকে হস্তান্তর করা হয়।

    সফররত ইইউ মিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতার কাছে সর্বশেষ তথ্য জানতে চান।

    বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের অবস্থান তুলে ধরে জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে একমত হলেও পরবর্তীতে এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যাপারে জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে।

    বিরোধীদলীয় নেতা তার আলোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সহিংসতা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য এবং একাধিক স্থানে জামায়াতের সংসদ সদস্য আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    অন্যদিকে সফররত ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের সদস্যরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য বেশ কিছু সুপারিশমালা সম্পর্কেও বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন।

    এ,আর

  • সাংবাদিক ইমরানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জামায়াত নেতা

    সাংবাদিক ইমরানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জামায়াত নেতা

    নিউজ ডেস্ক: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার দেশের রিপোর্টার ইমরান হোসেন।

    তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে সোমবার দুপুরে হাসপাতালটিতে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এ সময় তিনি সাংবাদিক ইমরান হোসেনের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন।

    আর আই খান

  • বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে, যে আওয়ামী লীগ জাতি ও বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করত এবং লাঠিয়াল দিয়ে কর্তৃত্ববাদ কায়েম করেছিল। আর বর্তমানে আফসোসের ব্যাপার হলো রাষ্ট্রের যেখানে যেখানে সংস্কার দরকার তার প্রত্যেকটি বিষয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। এটি জাতির সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন।

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।

    জামায়াত আমির বলেন, মহান জাতীয় সংসদে সরকারি দল মুখে ঠিকই জুলাইয়ের কথা বলেন, শহীদ হাদির কথাও বলে; কিন্তু কার্যত আমরা সরকারি দলের কাছ থেকে তার উল্টোটা দেখতে পাই। তারা দুটি ভোটের একটা ৫১% মানেন-যা তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে, কিন্তু আরেকটি গণভোটের ৭০% মানেন না- যা শাসকগোষ্ঠীকে স্বৈরতন্ত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে, জাতিকে বৈষম্যমুক্ত করবে, সুশাসন কায়েম করবে এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য। তাদের এই দ্বিচারিতা জাতির জন্য লজ্জার, দুঃখের। তিনি বলেন, যেদিন ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মানবে, সেদিন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন আপামর ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সবাই মাস্টারমাইন্ড। প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কি পারছি আর পারিনি তার জবাবদিহিতিা আছে।

    তিনি আরোও বলেন, যে আইন বাস্তবায়ন হলে, অধ্যাদেশ পাস করলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে- সেগুলো বিএনপি বাতিল করে দিচ্ছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমপি মাসুম মোস্তফার উপর হামলা করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ক্রিস প্রদর্শনী এমন বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধারা চায়নি। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। মা বোনেরা নিরাপত্তার সাথে বের হবে এবং কাজ শেষে নিরাত্তার সাথে ফিরবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে। সেই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমরা সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। জনতার বিজয় হবে। আমরা আশাবাদী এ বাংলাদেশ পাল্টাবে। আমাদের এই যুদ্ধ সংসদে ও রাজপথে চলমান থাকবে। আমরা দেশবাসীকে মাঠে চাই। ব্যক্তিগত কোনো দাবি দাওয়া আমাদের নেই। সব দাবি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল দেশবাসী। ফলে সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাস বয়সে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকার। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি। আমরা জনতার দাবি আদায় করে ছাড়বো।

    এলডিপির চেয়াম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। জনগণ কৃষক কার্ড চায় না, ফ্যামিলি কার্ড চায় না। তিনি বলেন, সামনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে, অর্থনীতিকে সামাল দেয়া যাবে না। যার প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত বিএনপির লোকেরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হন। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে বসে জাতিকে মুক্তি দিতে সেই পলিসি নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের ৭০% গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে রায় দিয়েছে। কিন্তু তলে তলে বিএনপি না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়তে, আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে। আজ সেই আন্দোলনকে অস্বীকার করা হচ্ছে। আজকে দুমাসের মাথায় রাজপথে নামতে হচ্ছে। এটি কারো জন্য সুখকর হবে না। জুলাইয়ে দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে। আজকে আবার এক ব্যক্তির শাসনের দিকে নিতে চায় বিএনপি, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ১১ দল আন্দোলনের ডাক দিলে প্রথম কাতারে থেকে প্রথম শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। যেসব সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী, তার প্রত্যেকটি সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাবনা, তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, গুম সংক্রান্ত কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গণভোট মানেন না। গায়ের জোরে তারা এসব বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি। জুলাই শহীদ পরিবার, জুলাই আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাইযোদ্ধারা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ের দাবি নিয়ে আবার সমাবেশ করতে হবে, তা জুলাইযোদ্ধারা চিন্তা করেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। জুলাই শহীদ পরিবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বক্তব্য শুনতে চায় না, বরং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকবেন- তা শুনতে চায়। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বো।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করছেন তাদের পরিণতি পলাতক আওয়ামী লীগের মতোই হবে। সরকার যে মসনদে বসে আছে- সেই মসনদ জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের মসনদ। জুলাইযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারি করে তাদের পা ভাঙতে আসলে আপনাদের পা ভেঙে যাবে। জুলাইযোদ্ধারা আজ শাহবাগে একত্রিত হয়ে যে আওয়াজ তুলেছে, সেই আওয়াজকে বোঝার চেষ্টা করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যা্ডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমি, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম, জুলাইয়ের শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহরুল ইসলাম।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের নায়েবে আমিরবৃন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের মাননীয় এমপিবৃন্দ এবং ডাকসু, জাকসু, চাকসু, জকসু, রাকসু নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সারা দেশ থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী দুই সহস্রাধিক জুলাইযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার জুলাইযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন।

    সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। সমাবেশে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, জুলাই শহীদ যুবায়ের খানের পিতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান, শহীদ আনাস ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম খান, হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা তৌহিদ ফারাজী, জুলাই শহীদের পিতা জাকির হোসেন, শহীদের পিতা শেখ জামাল হোসাইন, শহীদের পিতা গাজিউর রহমান ও হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা আতিউর ইসলাম প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত। সকাল ১০টায় ক্বারী এনায়েত উল্লাহ সাইফি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কোরআন তেলয়াওয়াতের অনুবাদ করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান।

    এ,আর

  • সাইবার স্পেসে টার্গেটে বয়স্ক ও গৃহিণীরা

    ডেক্স নিউজ : দেশের সাইবার স্পেসে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বয়স্ক মানুষ ও গৃহিণীরা। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন বিনিয়োগ, ভুয়া বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা টার্গেটে পড়ছেন। এ ধরনের ঘটনায় থানায় দায়ের করা অন্তত ১৫টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়সূত্র ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে চাকরির প্রলোভন, ভুয়া লটারির প্রলোভন, বিদেশ থেকে অনলাইনে লোভনীয় দামে পণ্য উপহার পাঠানোসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পিন হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গৃহিণী ও বয়স্ক ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতা, আর্থিক সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামর্থ্যবান না হওয়া এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে পুঁজি করে চক্রটি গৃহিণী ও বয়স্কদের ক্ষতি করছে।ঘটনা ১ : ময়মনসিংহের কোতোয়ালি এলাকার আসমিনা খাতুন (৩৪) পেশায় গৃহিণী। বর্তমানে ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকেন। সাইবার প্রতারণার এক জটিল ফাঁদে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ১১ লাখ টাকা। গত ৯ ডিসেম্বর বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর থেকে তার কাছে অনলাইনে কাজের প্রস্তাব আসে। বিভিন্ন প্রলোভনে রাজি করিয়ে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ‘রিসেপশনিস্ট’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি ধাপে ধাপে তাকে টাকা বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর ১০ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১১ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। প্রতিবারই তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দিলেই লাভসহ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। একপর্যায়ে আরও টাকা দাবি করলে সন্দেহ সৃষ্টি হয় আসমিনার। পরে টাকা ফেরত পেতে চেষ্টা করেন। না পেয়ে থানায় মামলা করেন।গৃহিণী আসমিনা খাতুন জানান, পরিবারের পাশাপাশি বাবার বাড়ির আর্থিক দৈন্য দূর করতে অনলাইন ফ্ল্যাটফর্মে কাজটি শুরু করেছিলেন। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর প্রতারকরা তাকে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করে এবং প্রথমে ‘রেটিং টাস্ক’ দিয়ে ৩০০ টাকা প্রদান করে। পরে টেলিগ্রাম গ্রুপে নিয়ে ৮০০ টাকা বিনিয়োগে ১,০৪০ টাকা ফেরত দেয়। এতে তার বিশ্বাস তৈরি হয়। পরে ধাপে ধাপে ৩,০০০ ও ১২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর আরও বেশি লাভের প্রলোভন দেখানো হয়। গ্রুপের অন্য সদস্যদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি স্বামীকে না বলে টাকা দেন। আত্মীয়দের কাছ থেকেও ধার নেন। ১২,০০০ টাকা দেওয়ার পর প্রতারকরা আরও ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। এতে সন্দেহ হয়। কিন্তু আগের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় পরে চক্রের চাওয়া অর্থ দিতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ১১ লাখ টাকা হারান। ঘটনা-২ : ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সি খন্দকার কামরুজ্জামান বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। কিস্তিতে গাড়ি কেনার প্রলোভনে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন দেখে একটি নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রতারকরা গাড়ি

    সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম, রেজিস্ট্রেশন ও ডেলিভারি খরচের খাত দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নেয়। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিক নগদ নম্বরে তিনি অর্থ পাঠান। পরে গাড়ি না পেয়ে এবং প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় অভিযোগ করেন। কেন ঝুঁকিতে বয়স্ক ও গৃহিণীরা : মামলা ও তদন্তের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে এই শ্রেণির মানুষ বেশি প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক বয়স্ক মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও নিরাপত্তাবিষয়ক সেটিংস, ফিশিং লিংক বা ভুয়া ওয়েবসাইট চিহ্নিত করতে পারেন না। একই অবস্থা গৃহিণীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এছাড়া লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘লটারিতে জিতেছেন’, ‘বিদেশ থেকে উপহার এসেছে’, ‘ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’-এ ধরনের বার্তায় গৃহিণী ও বয়স্করা প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই করার সুযোগ তাদের হাতে থাকে না। ফলে ফাঁদে পড়ছেন।প্রতারকদের কৌশল: প্রতারকরা খুব পরিকল্পিতভাবে তাদের টার্গেটের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। প্রথমে তারা পরিচয় দেয় বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে। এর মধ্যে রয়েছে-ব্যাংক কর্মকর্তা, মোবাইল কোম্পানির কর্মী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়। এরপর ফোনে বা এসএমএসে তারা ভুক্তভোগীর আংশিক ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে বিশ্বাস তৈরি করে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বা বড় ধরনের ক্ষতি হবে-এমন ভয় দেখানো হয়। এতে ভুক্তভোগীরা চিন্তা না করেই ফোনের ওটিপি বা টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া ‘ঘরে বসে ইনকাম’, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের অভিনয় করে ধীরে ধীরে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রতারিত হলে যেখানে অভিযোগ করবেন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারকরাও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তাই সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন। বিশেষ করে বয়স্ক ও গৃহিণীদের সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে হবে। এছাড়া পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১০১৪৬-৪৮-এ অথবা সাইবার পুলিশের বেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ‘Cyber Police Centre, CID, Bangladesh police’ অভিযোগ দিতে পারেন ভুক্তভোগীরা। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ফোন বা মেসেজে ব্যক্তিগত তথ্য, পিন নম্বর বা ওটিপি শেয়ার করা যাবে না। সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া লোভনীয় কোনো অফার দেখলে পরিবারের প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করারও পরামর্শ দেন তিনি।

    M

  • বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া ৫২ হাজার ৩শ কোটি টাকা

    বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার তিনশ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    রোববার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

    বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই বকেয়ার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিল বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা ১১ হাজার ৬৩৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩১১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে জানান মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিপণনে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা-শেষে সফল হলে সারা দেশব্যাপী তা বাস্তবায়ন করা হবে। উক্ত ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

    স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কুয়েত, মালয়েশিয়া, চীন, আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ওমান ও ভারত হতে সরাসরি চুক্তির আওতায় বিপিসি ৫০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

    তিনি বলেন, ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসি-তে পরিশোধনের জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। বছরে ১৩-১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমদানি করা ক্রুড অয়েলের শতভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করা হয়। পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। সামগ্রিকভাবে মোট আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০-২৩ শতাংশ জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়ে থাকে।

    সরকার দলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের কুইক রেন্টাল প্রকল্পের নামে লুটপাট ও বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও জড়িত ছিলেন। এতে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

    সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিতর্কিত ওই বিশেষ বিধান আইনটি বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। ওই অধ্যাদেশটি গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। এর ফলে আগের মতো স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রী আরও জানান, লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    সরকার দলীয় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং না থাকলেও উদ্ভূত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, কৃষি-সেচ ও গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে থাকে ও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

    বি/ এ

  • ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতাকে নিয়োগ দিচ্ছে ভারত

    ডেক্স নিউজ : ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আর প্রণয় ভার্মা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে যাচ্ছেন।

    এতে আরও বলা হয়, ত্রিবেদীর জন্য ঢাকায় তারেক রহমান সরকারের কাছ থেকে সম্মতি চাওয়া হলেও, ৭৫ বছর বয়সী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনীতিকদের প্রতি জবাবদিহিতার একটি বার্তাও বহন করছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ত্রিবেদী ইউপিএ সরকারের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং ওই বছরের ৬ মার্চ ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা মেরামতের চেষ্টার অংশ হিসেবে ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

    দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগের মাধ্যমে মোদি সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের দূত হিসেবে পাঠাতে কুণ্ঠিত নয় এবং এসব কাঙ্ক্ষিত পদ কেবল ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিতও নয়।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে।

    সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর মাধ্যমে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাবে। এতে বোঝা গেল অন্তত উপমহাদেশে সুখসন্তপ্ত রাষ্ট্রদূতের যুগ শেষ হয়ে গেছে।

    M

    সুত্র: আমাদের সময় /আরডি

     

  • হামে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১১৫

    ডেক্স নিউজ : দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১২৭ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জনে। অন্যদিকে, এই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ২৪৩ জন।

    বিগত এক মাসে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৪ জন। ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগে ৯ হাজার ২৭৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। একই সাথে সংক্রমণ রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    M