ক্যাটাগরি ঢাকা

Dhaka district

  • দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার; নিখোঁজ ৪৫

    দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার; নিখোঁজ ৪৫

    ডেস্ক নিউজ:

    রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩নম্বর ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে পরে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসের ৪৫ যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছে এবং দুই নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে পৌঁছেছে। কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস সহ অন্যান্যরা।

    ফেরিতে উঠতে গিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায় । বাসে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। তবে এখনো ৪৫ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

    বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৌলতদিয়া ৩নম্বর ফেরি ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহাদ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বাসে অর্ধ শতাধিক যাত্রী ছিল। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠলেও বেশির ভাগ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি।

    স্থানীয় সোহেল মিয়া বলেন, সৌহাদ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠতে গেলে হঠাৎ করেই পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ৫-৬জন যাত্রী সাঁতরিয়ে নদীর কুলে আসলেও অন্যান্যদের পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে

    এখন পর্যন্ত দুইজন নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফুল ইসলাম।

  • ময়মনসিংহে পাম্পে নেই জ্বালানি, খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    ময়মনসিংহে পাম্পে নেই জ্বালানি, খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

    ঈদের ছুটিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ময়মনসিংহের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো খোলা আছে সেগুলোর সামনে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। অনেক পাম্পের সামনে “স্টক শেষ” বা “তেল নেই” সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখতেও দেখা গেছে।

    ডেস্ক নিউজঃ

    মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ময়মনসিংহ শহরের পুলিশ লাইন, বাইপাস মোড়সহ নান্দাইল, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে নতুন করে তেল সংগ্রহ করতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগে আনা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন করে তেল আনতে গাড়ি ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ পেলেই পুনরায় বিক্রি শুরু হবে।

    তেল সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলসহ সাধারণ চালকরা। হাজারীবাগ এলাকার ট্রাকচালক রিয়াজ বলেন, পটুয়াখালী থেকে তরমুজ নিয়ে ভালুকা আসছি, প্রায় ৩৫টি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। কোথাও পাওয়া গেলেও ৫ লিটারের বেশি দিচ্ছে না।

    ভালুকার মেদুয়ারী এলাকার মোখলেস নামে একজন বলেন, পাম্পে তেল না থাকায় খোলা বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

    ত্রিশালের আমিরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রমজান বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় সব পাম্প ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি। এ সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

    একই চিত্র তুলে ধরে ময়মনসিংহ সদর এলাকার রায়হান হাবিব বলেন, তারাকান্দা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত কোথাও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না, তবে খোলা বাজারে মিলছে।ভালুকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মোস্তফা বলেন, গ্যাস ও ডিজেল পাওয়া গেলেও অকটেন নেই। সহকারী অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার শাওন বলেন, সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের অকটেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    এম কে

  • কৌশলে ঘরে নিয়ে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

    কৌশলে ঘরে নিয়ে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে কৌশলে ঘরে নিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জিসান (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বিকালে শ্রীনগর উপজেলার বিরতারা ইউনিয়নের চারিগাঁও গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    ধর্ষক জিসান চারিগাঁও গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকালে জিসান ৫ বছরের এক শিশুকে কৌশলে ফাঁকা একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ধর্ষক জিসানকে আটক করেন। এ সময় ধর্ষকের পিতা প্রভাব খাটিয়ে তার ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন। পরে এলাকাবাসী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। রাতেই শ্রীনগর থানার পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে গ্রেফতার করে।

    শিশুটিকে প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মিটফোর্ড স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

    শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামি জিসানকে গ্রেফতারের পর মুন্সীগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন  ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

    মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে জসিম উদ্দিন নামে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে বাড়িতে ঢুকে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের দাবি।

    নিহত জসিম উদ্দিন (৩০) নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামের মাফিক নায়েবের ছেলে। তিনি নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন।

    উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে জসিম উদ্দিন (৩০) নামের ওই যুবককে তার বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

    অভিযুক্তরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ওই গ্রামের নাসির দেওয়ান ও তার ছেলে শাকিল দেওয়ান। শাকিল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন ফুটবল প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই গ্রামের ধানের শীষের সমর্থক ছিলেন নাসির দেওয়ান ও তার ছেলে শাকিল। শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে নাসির, শাকিলসহ ৫০-৬০ জন বাড়িতে ঢুকে জসিম উদ্দিন, তার বাবা মাফিক নায়েব, ভাই মোখলেস নায়েব ও মহসিন নায়েবকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় দুই ভাই জসিম ও মোখলেস এবং বাবা মাফিক নায়েবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম মারা যান।

    নিহত ব্যক্তির বড় ভাই মসিউর নায়েব গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ফুটবলের (প্রতীক) নির্বাচন করেছিলাম। এটাই আমাদের একমাত্র দোষ ছিল। আমরা কখনো কারো সঙ্গে অন্যায় করিনি। কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতাও ছিল না। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।

    এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাকিল মোবাইল ফোনে বলেন, সকালে জসিম উদ্দিনদের লোকজন আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। পরে আমি এ ঘটনায় অভিযোগ করতে থানায় যাই। তখন জসিম ও তার লোকজন এলাকা থেকে বের হয়ে যেতে পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে জসিমদের মারধর করেছেন । আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

    মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে বলে শুনেছি। ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

  • শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, দুই আসামির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

    শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, দুই আসামির বাড়িতে পুলিশের অভিযান

    শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে তিনজনের নামে মামলাটি করেন। এখন পর্যন্ত তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

    ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস হামলায় অংশ নেওয়া দুজনের নাম বলেছেন। এ ছাড়া পুলিশের তদন্তে আরও একজনের নাম উঠে এসেছে। ওই তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ডামুড্যার কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্যা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫)। ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ দুজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের বাবাদের আটক করে থানায় আনলেও পরে ছেড়ে দেয়।

    ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় এখন তাঁকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউয়ে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে আহত খোকন হামলাকারী হিসেবে কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যার নাম বলেছেন। ঘটনার পর কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও তিলই গ্রামের বাসিন্দারা অভিযুক্ত দুজনকে আটকের দাবি জানালে তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের না পেয়ে তাঁদের বাবাদের থানায় নেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় অংশ নেওয়া পলাশ সরদার নামের আরেকজনের নাম জানতে পেরেছে। গতকাল গভীর রাতে থানায় তাঁদের তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস। এরপর সোহাগ ও রাব্বির বাবাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

    খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা তার (খোকন) কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করার পর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় সে প্রাণে বেঁচে গেছে। জানি না কত দিনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনু

  • শরীয়তপুরে একই অ্যাম্বুলেন্স চক্র, একই ‘কৌশলে’ জিম্মি, আবার রোগীর মৃত্যু

    শরীয়তপুরে একই অ্যাম্বুলেন্স চক্র, একই ‘কৌশলে’ জিম্মি, আবার রোগীর মৃত্যু

    শরীয়তপুরে একটি অ্যাম্বুলেন্স চক্রের কাছে জিম্মি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। গত বছরের আগস্টে অ্যাম্বুলেন্স ‘আটকে’ রাখায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরে চক্রের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলেও রোগী জিম্মি করার ঘটনা বন্ধ হয়নি।

    নবজাতক মৃত্যুর ওই ঘটনার পাঁচ মাসের মাথায় গত মঙ্গলবার সদর হাসপাতাল থেকে এক রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এতে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

    গত বছরের ১৪ আগস্ট ওই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের ও শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এবার একই চক্রের সদস্য ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সুমন খানের নেতৃত্বে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনা ঘটল

    তৎপর অ্যাম্বুলেন্স চক্র

    শরীয়তপুরে ৫০ শয্যার ৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২০ শয্যার ১টি থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১০০ শয্যার ১টি জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার হাসপাতালগুলো থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। জেলায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র ৭টি।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি রোগী জেলার বাইরে বহন করা হয় না। অন্য রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    রোগীর স্বজন, চালক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকার ও হাসপাতালের রোগীদের ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়ার কাজ করছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চক্র। এ চক্রের ২৭টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছে শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাই মোল্যা ও সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের দেওয়ান। আবু তাহেরের ছেলে রহিম দেওয়ান বাবার হয়ে কাজ করেন। এই তিনজনই নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

    চার হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। আর ওই চক্রের অ্যাম্বুলেন্স নিলে ভাড়া দিতে হচ্ছে সাত–আট হাজার টাকা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের একজন চালক প্রথম আলোকে বলেন, আগে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চক্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মী ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এক সংসদ সদস্যের চাচাতো ভাইয়ের হাতে। ২০২৫ সালের পর সেটি চলে যায় স্বাস্থ্য বিভাগের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক গাড়িচালকের হাতে।

    ওই চালক আরও বলেন, শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক কল্যাণ সমিতির নামে ওই চক্র অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করে। তারাই ঠিক করে দেয় কোন গাড়ি কখন রোগী তুলবে, কত ভাড়া নেওয়া হবে। এটার অন্যথা হলেই বিপত্তি।

    অভিযোগপত্রে পাঁচজনের নাম

    সিভিল সার্জনের গাড়িচালক তাহেরের একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সেটি চালান তাঁর ছেলে রহিম।

    ঘটনায় তাহের, রহিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নবজাতকের বাবা নূর হোসেন সরদার। অন্য দুই আসামি হলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাই ও অ্যাম্বুলেন্সচালক বিল্লাল মুন্সি। পুলিশ তদন্ত শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এতে ওই চার আসামি ছাড়াও চক্রের সদস্য সুমন খানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    নূর হোসেন সরদার ঢাকায় থাকেন। তিনি  বলেন, ‘আমি ছোটখাটো কাজ করি। মামলা পরিচালনা করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও নেই। যদি সরকার মামলাটি চালায়, তাহলে হয়তো অপরাধীরা শাস্তি পাবে। আমিও চাই আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি হোক।’

    নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিল করেছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মীর সংশ্লিষ্টতা পায়নি কমিটি।

    সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের বলেন, ‘গত বছর যে মামলা হয়েছিল, তাতে আমরা জামিনে আছি। আর ওই ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা নেই, তা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটির কাছে জানিয়েছিলাম।’ তিনি কোনো অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

  • নারায়ণগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানচাপায় শ্রমিক নিহত

    নারায়ণগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানচাপায় শ্রমিক নিহত

    ডেস্ক নিউজঃ

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় জীবন চন্দ্র (২০) নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

     বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে লিংক রোডের চাঁদমারী এলাকায় ট্যাক্সিস্ট্যান্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জীবন চন্দ্র নামের এক তরুণ বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ইজিবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যান। এরপরেই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান তাঁকে চাপা দেয়। চাপা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাভার্ড ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

    ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মিলন ফকির জানান, নিহত তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক আইনে মামলা করা হবে।

    এম কে

  • কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

    কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    কাউখালীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে দুদক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা, গার্ডার ব্রিজ, সাইক্লোন শেল্টার ও ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় ২৫ থেকে ২৮টি প্রকল্প শুরু হলেও অধিকাংশ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদাররা প্রকল্পের অর্থ তুলে নিয়েছে। এসব অনিয়মে স্থানীয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ঠিকাদাররা কাজ ফেলে গা-ঢাকা দেয়। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মুখ থুবড়ে পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় মানুষ। বর্তমানে উপজেলার জনদুর্ভোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অপূর্ণ রাস্তা ও ভাঙা ব্রিজ। অনেক জায়গায় শুধু পাইলিং করে কাজ ফেলে রাখা হয়েছে; কোথাও বা রাস্তা খুঁড়ে ইট-বালু ফেলে রেখেছে। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটেও চলা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

    এলজিইডির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জিওবিএম, বিজেপি, আইবিআরপি, আইআরআইডিপি-৩, সিসিটিএফ, আইপিসিপি, পিডিআরআইডিপি ও ডিআরআরআইডব্লিউপি প্রকল্প। এর মধ্যে বিজেপি প্রকল্পের অধীনে মোল্লারহাট সাপলেজা সড়ক এবং পারসাতুরিয়া আদম আলী ব্রিজসংলগ্ন সড়ক ও ব্রিজের কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল অর্ধেক কাজ করে বন্ধ রেখেছে।

    একইভাবে আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় শিয়ালকাঠি ইউপির সামনে ৬ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজের কাজও পাইলিং পর্যায়ে আটকে আছে। এ ছাড়া পারসাতুরিয়া সালেকিয়া মাদ্রাসা, সয়না রঘুনাথপুর, জয়কুল খেয়াঘাট, চিরাপাড়া সুবিদপুর, জোলাগাতি ফলইবুনায়া ও কেউন্দিয়া সড়কের গার্ডার ব্রিজগুলোতেও একই চিত্র।

    এসব কাজের অধিকাংশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ ও তার ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের অধীনে চিরাপাড়া জিএম স্কুল-ডুমজুড়ি সড়ক উন্নয়ন কাজটি মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ আংশিকভাবে সম্পন্ন করে ফেলে রেখেছে। অন্যদিকে ইফতি ইটিসিএল হোগলাবেতকা বাজার থেকে পুলেরহাট সড়কের কাজও শেষ করেনি।

    এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে শিয়ালকাঠি দারুদ সুন্নাত কামিল মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টার এবং সোনাকুর ফেরিঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্পও অসমাপ্ত রয়েছে। একইভাবে হোগলা হাইস্কুল থেকে নান্না মেম্বার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, চিরাপাড়া সুবিদপুর রোড ও রঘুনাথপুর মেঘপাল সড়কেও অল্প কাজ করে বন্ধ রেখেছে ইফতি ইটিসিএল। এভাবে ৩৫ কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ২৮টি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত পড়ে আছে, আর ঠিকাদাররা পলাতক।

    স্থানীয়দের অভিযোগ-সরকারের বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়ে ঠিকাদাররা লাপাত্তা হয়ে গেছে।

    এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং করছে।’

    এ/ আর

  • ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ডেস্ক নিউজ :

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার ২০টি আসন থেকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সম্ভাব্য ১৬২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ২৭ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। সে হিসেবে ঢাকার এই আসনগুলোতে ভোটের মাঠ লড়বেন ১৩৫ প্রার্থী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সারাদিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তিনটি কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এসব মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন প্রার্থীরা।

    জানা যায়, সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় মিলে মোট ২৭ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।

    এদের মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত বিলকিস নাসিমা রহমান। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা তাহজীব হাসান হৃদম এ তথ্য জানান।

    এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্যে আছেন, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী।

    ঢাকা-৬ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির, ঢাকা-৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ।

    এছাড়া ঢাকা-১০ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক, ঢাকা-১৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)।

     

    ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন ও ঢাকা-১৫ আসনে গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে খেলাফত মজলিশের এ কে এম এনামুল হক, জামায়েতে ইসলামীর আফজাল হোসাইন, ঢাকা-২০ আসনে জামায়েত ইসলামীর আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পেরোনোর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ পাবেন প্রার্থীরা। এর ফলে তারা পরদিন থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

    এদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিধানে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার সই যুক্ত কোনও লিখিত নোটিসের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিন বা তার আগে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

    কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকলে ওই দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

  • চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

    চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

    ডেস্ক নিউজ

    সম্প্রতি ভোলার লালমোহন উপজেলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালককে নৃশংভাবে কুপিয়ে হত্যার পর তার রিকশাটি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মূল হোতাসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এখনও উদ্ধার হয়নি অটোরিকশাটি।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—হতাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার চরকলমি ইউনিয়নের মো. ইব্রাহীম (৩৬), তার সহযোগী বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রাজা (৩২) ও কাজী তারেক ৩৫)।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।

    এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর ‘চালককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় ঢাকা পোস্টে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, হত্যাকারী সাতজন গত ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বোরহানউদ্দিন যাওয়ার কথা বলে আবু বকর ছিদ্দিকের অটোরিকশায় ওঠেন। সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার কচুয়াখালী এলাকায় এসে অটোরিকশাচালক আবু বকর ছিদ্দিকের বুকের ডান পাশে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে ফেলে অটোরিকশা ছিনতাই করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। পরে নিহতের ছেলে সুলতান ১ জানুয়ারি বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) মূল আসামি ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে ইব্রাহীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. রাজা ও কাজী তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃত ইব্রাহীম ও রাজার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও অটোরিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ সময় জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।