ক্যাটাগরি ফরিদপুর

Faridpur district

  • সালথায় ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠিত ‍উল্লসিত এলাকাবাসি

    সালথায় ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠিত ‍উল্লসিত এলাকাবাসি

    সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফরিদপুরের সালথায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়দের আয়োজনে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের চিতাইলার বিল থেকে নিশাতলা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মোট ৯টি ঘোড়া অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে জসিম মোল্লার ঘোড়া ২৬ ইঞ্চি এলইডি টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে নুরুল ইসলামের ঘোড়া ৮ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে বিলায়েত হোসেনের ঘোড়া নগদ ৬ হাজার টাকা পুরস্কার জিতে নেয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বয়সের প্রায় লক্ষাধিক দর্শক উপস্থিত হয়ে আনন্দ উপভোগ করে।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এই প্রতিযোগিতা ফিরে আসায় এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকরাও ভবিষ্যতে নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। ‎

    ১ম স্থান অর্জনকারী ঘোড়ার মালিক জসিম মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত। ভবিষ্যতেও নিয়মিত অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। নুরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন, এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।

    ‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও ইউনিয়ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ইউপি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    আর আই খান

  • বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ডেক্স নিউজ : পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার (২৬) দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। সম্পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।

    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, ‘কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

    m

  • ওরসের দোহাই দিয়ে ৫ দিন স্কুল বন্ধ রাখে প্রধান শিক্ষক

    ওরসের দোহাই দিয়ে ৫ দিন স্কুল বন্ধ রাখে প্রধান শিক্ষক

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা ৫ দিন ধরে বন্ধ থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সদর ইউনিয়নের সাতের রশি গ্রামে অবস্থিত সতেররশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ৫ দিন ধরে বন্ধ পড়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    বৃস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির সব শ্রেণিকক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে। স্কুল প্রাঙ্গণ ছিল সম্পূর্ণ নীরব ও শিক্ষার্থীশূন্য। গত কয়েকদিন পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

    স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গত পাঁচদিন ধরে স্কুলটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যা তাদের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মাদ শহীদুর রহমান জানান, পার্শ্ববর্তী বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত ওরস উপলক্ষে বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তার দাবি, ওরসকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত কারণ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তবে বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কি না- এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

    এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, ওই বিদ্যালয়ে ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে আমরা কাউকে অনুমতি দেইনি। বিষয়টি জানার পর আমি প্রধান শিক্ষককে ডেকে এনেছি। কেন স্কুল বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানের অজুহাতে দীর্ঘ সময় ধরে একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা নিয়মবহির্ভূত। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

    M

  • ফরিদপুর-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ, বাতিল ৫

    ফরিদপুর-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়পত্র বৈধ, বাতিল ৫

    • বিডিনিউজ ডেক্স : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই শেষ করেছেন জেলা রিটানিং কর্মকতা মো. কামরুল হাসান মোল্লা। এসময় এ আসনে দাখিলকৃত মোট ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীসহ ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীসহ পাঁচ জনের।

    শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এসময় আসনটির সকল প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মকর্তা তারেক আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রামানন্দ পাল, মিন্টু বিশ্বাস, সোহরাব হোসেন প্রমুখ।

    জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে পাঁচ প্রার্থীর কাগজপত্রে ক্রটি থাকায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়। এছাড়া অন্য ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    মনোনয়পত্র বৈধ ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, দলের ও ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞতা। ভোটাররা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেননি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নতুন ও পুরাতন ভোটার আনন্দের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবে।

    M

  • আলফাডাঙ্গার ভিপি হলফনামায় কেন ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন

    আলফাডাঙ্গার ভিপি হলফনামায় কেন ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন

    বিডিনিউজ ডেক্স : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে এবার জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। সাতবার দল পরিবর্তন করে তিনি একাদশবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

    শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে রাজেন্দ্র কলেজের ভিপি হিসেবে তিনি ফরিদপুরে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

    তবে গত ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শাহ জাফর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে। অথচ রাজেন্দ্র কলেজের একজন ডাকসাইটে ভিপি কীভাবে ‘স্বশিক্ষিত’ হলেন—এ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

    শাহ জাফর প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৭৯ সালে। এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০১৪ সাল বাদে সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকেই প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এইচএসসি, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তা উল্লেখ করা হয় এসএসসি আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দাখিল করা হলফনামায় লেখা হয় স্বশিক্ষিত।

    বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্নভাবে উল্লেখ করার কারণ জানতে চাইলে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আগুন লাগার ঘটনায় তাঁর শিক্ষাসনদের কাগজপত্র পুড়ে যায়। নতুন করে সনদ সংগ্রহ করা জটিল হওয়ায় তিনি সর্বশেষ হলফনামায় ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন।

    ২০২৪ সালে এসএসসি লেখার বিষয়ে শাহ জাফর বলেন, ওই সময় তাড়াহুড়োর মধ্যে এসএসসি সনদটিই হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছিল।নিজের শিক্ষাজীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহ জাফর বলেন, ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তী সময়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

    M

  • নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    নগরকান্দায় জামায়াত নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    আহত জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। তিনি তালমা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

    ভুক্তভোগী নেতার দাবি, বিএনপিকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় এবং জামায়াতে ভোট দিতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়।

    ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর শেখের ভাষ্য, তিনি একজন জামায়াত নেতা। তাঁর দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। গতকাল রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রত্তন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তাঁর পথ আটকান। তাঁরা তাঁকে বলেন, ‘তোর কাজকর্ম সুবিধার মনে হচ্ছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’ তখন তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাঁদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

    অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ বলেন, হামলা হয়েছে সত্য। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনার পর রাতেই আহত আলমগীরকে দেখতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরিফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না?’ তিনি বলেন, যাঁরা আলমগীরের ওপর হামলা করেছেন, তাঁরা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জামায়াত–সমর্থিত জোটের প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

    M

  • মধুখালি উপজেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, একজন গ্রেপ্তার

    মধুখালি উপজেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান, একজন গ্রেপ্তার

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পেয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এ সময় কারখানার একজন মিস্ত্রিকে আটক করা হয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার ডুমাইন গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়। মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি চালানো হয়।

    আটক ব্যক্তির নাম বাদল সরকার (৫২)। তাঁর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, দুটি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার ও হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ডুমাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, বাদল সরকার নিজস্ব কারখানায় নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করতেন এবং এসব অস্ত্র ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তদের কাছে সরবরাহ করা হতো।

    আটক বাদল সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা আছে। তিনি নজরদারিতে ছিলেন। অভিযানের পর তাঁকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ মধুখালী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেছে। মামলায় বাদল সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে

    M

  • পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    পরিত্যক্ত জমি থেকে আধুনিক খেলার মাঠ: সমাজসেবক তুহিনের অনন্য উদ্যোগ

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করেছে একটি নিজস্ব ও আধুনিক খেলার মাঠ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৬ ডিসেম্বর বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও কার্যক্রম শুরু হয়।

    এর আগে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব মাঠ না থাকায় জাতীয় দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানগুলো স্থানীয় আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হতো। এবারই প্রথম উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজস্ব মাঠে বিজয় দিবস উদযাপিত হওয়ায় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

    উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের পুরোনো ভবনের পেছনে অবস্থিত একটি বড় নিচু জমি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল হক জায়গাটিকে ভরাট করে একটি আধুনিক খেলার মাঠে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন এবং এ কাজে স্থানীয় সমাজসেবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

    ইউএনওর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তরুণ সমাজসেবক তাজমিনউর রহমান তুহিন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে মাঠ নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিদ্যাধর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব আলী আহমেদ মৃধার ছেলে।

    হযরত শাহ্ জালাল মৎস্য অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী এবং লেবাজ সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান তুহিন প্রায় এক মাস ধরে বিপুল পরিমাণ মাটি ভরাট করে জমিটিকে একটি সমতল ও দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠে রূপান্তর করেন। বর্তমানে মাঠটি সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত একটি মনোরম পরিবেশে পরিণত হয়েছে।

    ১৬ ডিসেম্বর এই মাঠেই সুশৃঙ্খলভাবে কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা নতুন মাঠে প্রথম বড় আয়োজন হিসেবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

    নতুন মাঠে প্রথম আয়োজন সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাজমিনউর রহমান তুহিন বলেন, “তৎকালীন ইউএনও রফিকুল হকের অনুপ্রেরণায় আমরা এই উদ্যোগ নিই। আজ যখন দেখি আলফাডাঙ্গাবাসী এই মাঠে একত্রিত হয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করছে, তখন সত্যিই ভালো লাগছে। এটি ভবিষ্যতে সবার জন্য একটি স্থায়ী মিলনকেন্দ্র হবে।”

    এই উদ্যোগের প্রশংসা করে আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুল হক সিকদার বলেন, “উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি খেলার মাঠের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সমাজসেবক তুহিনের উদ্যোগে সেই সংকট দূর হয়েছে। এ ধরনের তরুণ উদ্যোগ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে।”

    উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজনদের মতে, নতুন এই খেলার মাঠটি ভবিষ্যতে খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

    M

  • সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    সালথায় নান্দনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হাজী বাড়ি, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হাজী বাড়ি বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও এক আকর্ষণীয় নাম। অনন্য স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক নকশা ও পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জার কারণে বাড়িটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গুগল ম্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি এক নজর দেখতে।

    গ্রামের শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত হাজী বাড়িটির প্রবেশপথেই চোখে পড়ে একটি সুন্দর নকশার সেতু, যা বাড়ির মূল ভবনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। সেতুর দু’পাশে কৃত্রিম জলাধার ও সবুজ গাছপালার সমন্বয় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মূল ভবনটি বহুতল বিশিষ্ট, যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে। কারুকাজ করা বারান্দা, সুদৃশ্য রেলিং, খুঁটিনাটি অলংকরণ এবং রঙের ব্যবহার বাড়িটিকে দিয়েছে রাজকীয় এক আবহ।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হাজী বাড়ি শুধু একটি আবাসিক ভবন নয়; এটি নারানদিয়া গ্রামের গর্ব। অনেকেই বলেন, এ ধরনের স্থাপনা গ্রামবাংলার সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে। বিশেষ করে তরুণরা এখানে এসে ছবি তুলতে ভালোবাসেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে হাজী বাড়ির ছবি ও ভিডিও নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে, যা এলাকাটিকে নতুন করে পরিচিত করে তুলছে।

    দর্শনার্থীদের কেউ কেউ জানান, শহরের কোলাহল ছেড়ে এমন একটি নান্দনিক ও শান্ত জায়গায় সময় কাটানো সত্যিই প্রশান্তিদায়ক। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে বাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন এবং স্মৃতিচারণমূলক ছবি তুলছেন। কেউ কেউ আবার এটিকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ পর্যটন স্পট হিসেবেও দেখছেন।

    স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাজী বাড়িকে কেন্দ্র করে যদি পরিকল্পিতভাবে পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এটি সালথা উপজেলার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নারানদিয়ার হাজী বাড়ি এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত স্থাপনা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। নান্দনিক স্থাপত্য আর প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূর্ব সমন্বয়ে হাজী বাড়ি নিঃসন্দেহে সালথার একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

    M

  • ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রাকচালক ও সহকারী নিহত

    ভাঙ্গায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রাকচালক ও সহকারী নিহত

    বিডিনিউজ ডেক্স : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। এতে আরও ১০ বাসযাত্রী আহত হন। আজ শনিবার সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন ট্রাকচালক নবীন শেখ (২২) ও সহকারী রাশেদ (৩০)। নবীনের বাড়ি ফরিদপুর শহরতলির ধলার মোড় এলাকায়।

    হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে রাজবাড়ীগামী সপ্তবর্ণা লিজা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সহকারী নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়।

    ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দুজনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

    M