ক্যাটাগরি ফরিদপুর

Faridpur district

  • ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    ফরিদপুরে সদরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী গণমিছিল

    বিডিনিউজ ডেক্স

    ফরিদপুরে ১০ দলীয় জোটের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলকে ঘিরে সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর মডেল মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মিছিলকারীরা দলীয় স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    গণমিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ফরিদপুর-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াব। এছাড়া জেলা জামায়াতের আমির মো. বদরুদ্দীন, নায়েবে আমির মো. আবুল বাশার, খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসেনসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

    বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যেখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তারা আরও বলেন, ১০ দলীয় জোট একটি আদর্শিক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

    সমাবেশে জানানো হয়, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই ১০ দলীয় জোটের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর আব্দুর তাওয়াবকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

    কর্মসূচিকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানও লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশ শেষে পুনরায় একটি সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে, যেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।

    M

  • ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

    ফরিদপুর বড়াল নদে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্য
    নিউজ ডেস্ক
    পাবনার ফরিদপুরের বড়াল নদে গোসল করতে নেমে তিন্নি খাতুন (১১) ও জোবায়ের আহমেদ (৭) নামে দুই শিশু ডুবে মারা গেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর থানাপাড়া এলাকার গড়াল নদে ডুবে যায় শিশু দুজন। আর বিকালে নদ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    মৃত তিন্নি ওই এলাকার আবু সামা কাউন্সিলরের মেয়ে এবং জোবায়ের একই এলাকার আলমগীর হোসেনেরছেলে। স¤পর্কে দুজন চাচাতো ভাই-বোন।
    স্থানীয়রা জানান, পরিবারের অগোচরে দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশে বড়াল নদে গোসল করতে নামে তিন্নি ও জোবায়ের। সাঁতার না জানার কারণে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

    বিকেলে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গোপালনগর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন্নি ও জোবায়েরকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ফরিদপুর থানার ওসি হাসনাত জামান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
    এ/আর

  • মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেন কৃষক দল সভাপতি

    মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেন কৃষক দল সভাপতি

    মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করলেন কৃষক দল সভাপতি
    ডেস্ক নিউজ
    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন।

    বৃহ¯পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুসা নাসের চৌধুরীর কাছ থেকে তিনি মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বকুল, সাবেক সাধারণ স¤পাদক ভিপি আব্দুল হাকিম,চাটমোহর পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ, হাসান জাফির তুহিনের সহধর্মিণী নিলুফা জাফির।

    এ সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী।

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সবার সহযোগিতা কামনা করে এ সময় হাসান জাফির তুহিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে একটি ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পরে আমরা আজকে মুক্ত বাংলাদেশে বাস করছি। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে আমি পাবনা-৩ এলাকার মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। আগামীতে আমি এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এজন্য তিনি এলাকার মানুষের দোয়া প্রার্থনা করেন।
    এ/আর

  • ধানের শীষের বাইরে কেন্দ্রে কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না, বললেন বিএনপি নেতা

    ধানের শীষের বাইরে কেন্দ্রে কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না, বললেন বিএনপি নেতা

    ডেস্ক নিউজঃ

    আমরা ধানের শীষের বাইরের কেউ না। ধানের শীষের বাইরে যদি কেউ নির্বাচন করার চিন্তা করে তাহলে ভাঙ্গুড়ার কোনো কেন্দ্রে তারা কেউ এজেন্ট দিতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন।

    শনিবার সন্ধ্যায় পাবনা- ৩ আসনের (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে বিশাল গণমিছিল শেষে চাটমোহর বালুচর খেলার মাঠে সমাবেশ থেকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।ভাঙ্গুড়ার বিএনপির আহ্বায়ক স্বপনের এমন বক্তব্যের পর চাটমোহর উপজেলাসহ পাবনা- ৩ এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মুহূর্তে তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।গণমিছিলে হাসান জাফির তুহিন ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপি, কৃষক দল, জেলা বিএনপি, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, পাবনা-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিনকে। তবে তাকে ‘বহিরাগত’ উল্লেখ করে স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কেএম আনারুল ইসলাম এবং চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাসাদুল ইসলাম হীরার নেতৃত্বে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

    তুহিনের মনোনয়ন বাতিল করে স্থানীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা তাদের মধ্যে থেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে শুক্রবার এক মশাল মিছিল থেকে ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে ও বাইরে চলছে চাপা উত্তেজনা। চলছে পাল্টাপাল্টি সভা সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি।

    এম কে

  • বোয়ালমারীতে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বোয়ালমারীতে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    ডেস্ক নিউজঃ

    ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আনুমানিক ৩৪ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মাঝকান্দি-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রামচন্দ্রপুর সেতু সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল ৩টার দিকে স্থানীয়রা রামচন্দ্রপুর সেতুর পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বোয়ালমারী থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।পুলিশ জানায়, যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান। পাশাপাশি মরদেহটি শনাক্তের জন্য জেলা পুলিশের একটি দল মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি।পুলিশ জানায়, যুবকের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান। পাশাপাশি মরদেহটি শনাক্তের জন্য জেলা পুলিশের একটি দল মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি।এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

    এম কে

  • আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    আজ মীর নিসার আলী তিতুমীরের মৃত্যুবার্ষিকী

    ডেস্ক নিউজ:

    বিপ্লবী ও বিদ্রোহী মীর নাসির আলী বেশি পরিচিত শহীদ তিতুমীর হিসেবে। তিনি শুধু ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেননি, তিনি বাংলার জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তার বাঁশের কেল্লা থেকে। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মীর নিসার আলী তিতুমীরের নাম উজ্জল হয়ে আছে। আজ এই বিপ্লবীর মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি সর্বপ্রথম ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মীর নিসার আলী তিতুমীর ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলার বারাসত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ মীর হাসান আলী এবং মা আবিদা রোকেয়া খাতুন।গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণের পর তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। কোরান ও হাদিস বিষয়ে অল্প বয়সেই তিনি পাণ্ডিত্য লাভ করেন।পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কায় অবস্থানকালে তিতুমীর মুক্তি সংগ্রামের পথপ্রদর্শক সৈয়দ আহমদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৮২৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন।

    তিতুমীর জীবন শুরু করেছিলেন একজন সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কারক হিসাবে। তখন মুসলমান সমাজে যেসব বিদআত (এমন রীতি যা ইসলামসম্মত নয়) এবং শিরক্ (আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা) ঢুকে গিয়েছিলো, সেগুলোকে দূর করার উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি তার কাজ শুরু করেছিলেন।

    কিন্তু এই ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট পরে একটা অর্থনৈতিক এবং ব্রিটিশ বিরোধী প্রেক্ষাপটে পরিণত হয়েছিলো।

    তিতুমীর হিন্দু ও মুসলমান কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন এবং জমিদার ও ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে নিতে উৎসাহিত করেন। ২৪ পরগণা ও নদীয়ার অনেক কৃষক তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    কৃষকদের নিয়ে তিতুমীরের আন্দোলন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। তিতুমীরের আন্দোলন, সংগ্রাম, কর্মকাণ্ড এবং জীবনাদর্শ সব কিছুকেই আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে ঔপনিবেশিক পটভূমিতে।

    এই বাংলায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশী যুদ্ধে জয়ী হবার সুবাদে প্রথম রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং সেখান থেকেই ক্রমাগত সারা উপমহাদেশে তাদের রাজ্যসীমা সম্প্রসারিত হয়। আবার এই বাংলা থেকেই ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিরোধ আন্দোলন। একাধিক এবং অসংখ্য প্রতিরোধ আন্দোলন হয়েছে বাংলায় ইংরেজ রাজত্বের বিরুদ্ধে।

    ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনগুলোর পটভূমিতে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হচ্ছে তিতুমীরের সংগ্রাম।

    প্রজাদের ওপর অত্যাচারের প্রতিকার তিতুমীর করতে চেয়েছিলেন শান্তিপূর্ণভাবে ও সমঝোতার মাধ্যমে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বারাসাতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কোম্পানির বিরুদ্ধে এটাই ছিলো তার প্রথম বিদ্রোহ।

    তিনি ২৪ পরগণার কিছু অংশ, নদীয়া ও ফরিদপুরের একাংশ নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। এই বিদ্রোহ ‘বারাসাতের বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহে ৮৩ হাজার কৃষক সেনা তিতুমীরের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন।

    তার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিলো উপনিবেশ বিরোধিতায়। এবং এই উপনিবেশ বিরোধিতা করতে গিয়ে, ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজের শক্তি পরীক্ষা করতে গিয়ে, তিনি কখনও ভাবেননি যে তিনি অত্যন্ত অসচ্ছল, ক্ষুদ্র একটি শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং তার বিপরীতে আছে বিরাট, বিশাল, শক্তিধর ইংরেজ রাজশক্তি। বারাসাত বিদ্রোহের পর তিতুমীর বুঝতে পারেন ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে সেখানে অস্ত্র জমা করেন। বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন।

    তার আন্দোলনের একটি বড় প্রতীকী তাৎপর্য ছিলো অন্যায়, এবং শাসকবর্গের অসঙ্গত শোষণের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়ে দাঁড়ানো এবং প্রতিবাদে জ্বলে ওঠা।

    তিতুমীরের আন্দোলনের দ্বিমাত্রিক একটা তাৎপর্য রয়েছে। তিনি শুধু উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন করেছেন একথা বললে তার অবদানকে কিছুটা সীমিত করা হয়, খণ্ডিত করা হয়। সমাজে অন্যায়, অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ, আন্দোলন ও সংগঠন- সেসব ব্যাপারে তার যে অবদান ছিলো, ঐটিই সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।

    ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে পদাতিক বাহিনী, অশ্বারোহী ও বন্দুকধারী সৈন্যদের একটি বিশাল বাহিনী পাঠায় ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি তিতুমীরের সঙ্গে লড়াইয়ের লক্ষ্যে। নারিকেলবাড়িয়ায় ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে ভীষণ যুদ্ধ হয়।

    ব্রিটিশ সৈন্যরা চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাদের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর তার অনুসারীদের অভয় দিয়ে বলেন মৃত্যুকে ভয় পলে চলবে না। এই লড়াই আমাদের শেষ লড়াই নয়। আমাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েই এ দেশের মানুষ দেশ উদ্ধার করবে। এই লড়াইয়ের পথ ধরেই একদিন দেশ স্বাধীন হবে।

    ইংরেজদের কামানের গোলাবর্ষণে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায় তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা। তিতুমীর ও তার চল্লিশজন সঙ্গী যুদ্ধরত অবস্থায় সেই বাঁশের কেল্লাতেই প্রাণ হারান।

    তিতুমীরের এই আন্দোলন, দেশপ্রেম আর আত্মত্যাগ সব স্বাধীনতাকামীদের মনে প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
    বি/এ