ক্যাটাগরি ঢাকা বিভাগ

  • প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে আইনি নোটিশ

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে আইনি নোটিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

    জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির (পল্লব) এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার এ নোটিশ পাঠান।

    নোটিশদাতারা বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যমূলক দফা বাতিল করে সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মেধা ভিত্তিক সমান সুযোগ নিশ্চিতের অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

    নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৮০ শতাংশ বৃত্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ  বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি জাতীয় মেধা ভিত্তিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নীতিমালার দফা  ৮.৬ অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।

    এ ধরনের বিধান সংবিধানের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী নীতির পরিপন্থী। নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ দফায় প্রবর্তিত ৮০:২০ প্রাতিষ্ঠানিক কোটা এবং পৃথক প্রতিযোগিতা কাঠামো সংবিধানের সমতার নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। যেকোনো শ্রেণিবিভাজন অবশ্যই যৌক্তিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সেই বিভাজনের সঙ্গে শ্রেণিকরণের যুক্তিসঙ্গত সম্পর্ক থাকতে হবে।

    বর্তমান নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের ধরনের (সরকারি এবং বেসরকারি) ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিভাজন করা হয়েছে তা অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। সংবিধান এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী বিভাজন সমর্থন করে না।

    এছাড়াও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারিভাবে ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য পৃথক কর্মসূচি চলমান রয়েছে। কাজেই মেধাভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষায় পুনরায় প্রাতিষ্ঠানিক কোটা আরোপ অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ২০২৬ সালে প্রণীত নীতিমালার অধীনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা অন্যায্যভাবে বৈষম্যের শিকার হবে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনোজগতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তির ওপর নেতিবাচক এবং বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।

    উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা, নীতিমালার ৮.১.১, ৮.৩.১ এবং ৮.৬ দফা পুনর্বিবেচনা করা এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি একক মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জনস্বার্থে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বি/ এ

  • রাত ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    রাত ৯টার মধ্যে ১৬ জেলায় কালবৈশাখীর আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দেশের ১৬ জেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে কালবৈশাখী হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, রোববার রাত ৯টার মধ্যে মৌলভীবাজার, সিলেট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার কিছু স্থানে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি/বৃষ্টি হতে পারে। এসময় ঘরের বাইরে না যেতে বলা হয়েছে।

    এর আগে এক বার্তায় জানানো হয়, এই মুহূর্তে দেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত সংঘটিত হচ্ছে। যা পরবর্তীতে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বি/ এ

  • সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

    সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

    ডেস্ক নিউজ:

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় মোট ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ৫টি, সংশোধিত ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪টি প্রকল্পের। তবে বড় অঙ্কের এই অনুমোদনের আড়ালে প্রকল্পে একাধিকবার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে চলতি অর্থবছরের দশম এবং বিএনপি সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। ওই সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। একনেক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদনের জন্য তালিকায় ছিল মোট ১৭টি প্রকল্প। কিন্তু সভায় ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

    এছাড়া, একনেক সভায় বিভিন্ন খাতের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রশ্ন উঠছে ব্যয় ও বাস্তবায়ন দক্ষতা নিয়ে। বিশেষ করে সড়ক খাতের কয়েকটি প্রকল্পে একাধিকবার সময় বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন এবং সেতু নির্মাণসংক্রান্ত তিনটি প্রকল্পে পাঁচবার পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কেন এই দীর্ঘসূত্রতা— তা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের, ‘নগর জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ’ প্রকল্প। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘কাস্টমস আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ‘পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ০৪টি প্রকল্প, (১) ‘অভিযোজন ও ঝুঁকি হ্রাসে সহনশীল অবকাঠামো (রিভার) প্রকল্প (১ম সংশোধন)’, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্ন কর্মীদের আবাসন নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ , ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধন)’ ‘ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ’ প্রকল্প।

    সড়ক (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’, ‘বৈরাগীরপুল (বরিশাল)-টুংচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক (জেড-৮৯১০) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধন)’, ‘বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮০৯) বরিশাল (চর কাউয়া) হতে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ম সংশোধন)’, এবং ‘বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকি জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ এবং ‘মধুখালী হতে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

  • ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : চিরকুটে শিক্ষকের নাম, আটক ২

    ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার : চিরকুটে শিক্ষকের নাম, আটক ২

    নিউজ ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে এক শিক্ষক ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড্ডা থানা পুলিশ উত্তর বাড্ডা পূর্বাচল উদয়ন ম্যানশন ১০ নম্বর লেনের ৫৯০ নম্বর বাড়ির নবম তলা থেকে লাশটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    নিহতের নাম মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাদারীপুর জেলার শিবচর থানা ডাইয়ারচর গ্রামের মো: গোলাম মোস্তফার মেয়ে ছিলেন তিনি।

    বাড্ডা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মোসা: ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর বাড্ডার ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ‘

    তিনি আরো বলেন, ‘সবার অজান্তে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে পরিবারের লোকজন থানায় ফোন দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করি।’ নিহতের মা তাহামিনা আক্তার জানান, ‘জানতে পেরেছি যে আমার মেয়ের লাশের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভাল থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’

    নিহত শিক্ষার্থীর সুইসাইড নোটে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী এবং এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীর নাম উল্লেখ থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ আজ দুপুরে  জানান, মিমোর লাশ বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। একটি চিরকুটে তিনি একজন শিক্ষক ও একজন সহপাঠীর নাম উল্লেখ করেছেন। ত্রিকোণ প্রেমের জটিলতায় মেয়েটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ শিক্ষক।

  • বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে : জামায়াত আমির

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে, যে আওয়ামী লীগ জাতি ও বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ করত এবং লাঠিয়াল দিয়ে কর্তৃত্ববাদ কায়েম করেছিল। আর বর্তমানে আফসোসের ব্যাপার হলো রাষ্ট্রের যেখানে যেখানে সংস্কার দরকার তার প্রত্যেকটি বিষয়ে বিরোধিতা করছে বিএনপি। এটি জাতির সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তিনি শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এসব কথা বলেন।

    বিএনপিকে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে জুলাই না হলে এই রাজনীতি থাকতো না। আমাদের ভাই বোনদের স্বামী-সন্তানরা জীবন না দিলে ক্ষমতায় বসতে পারতেন না আপনারা। শহীদ পরিবাররা যখন কান্না করছিলেন, তখন শহীদ পরিবারের পাশে যাওয়ার সময় ছিল না বিএনপির। তখন তারা নির্বাচন চেয়েছিল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।

    জামায়াত আমির বলেন, মহান জাতীয় সংসদে সরকারি দল মুখে ঠিকই জুলাইয়ের কথা বলেন, শহীদ হাদির কথাও বলে; কিন্তু কার্যত আমরা সরকারি দলের কাছ থেকে তার উল্টোটা দেখতে পাই। তারা দুটি ভোটের একটা ৫১% মানেন-যা তাদের নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে, কিন্তু আরেকটি গণভোটের ৭০% মানেন না- যা শাসকগোষ্ঠীকে স্বৈরতন্ত্র হওয়া থেকে রক্ষা করবে, জাতিকে বৈষম্যমুক্ত করবে, সুশাসন কায়েম করবে এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য। তাদের এই দ্বিচারিতা জাতির জন্য লজ্জার, দুঃখের। তিনি বলেন, যেদিন ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মানবে, সেদিন বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন আপামর ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সবাই মাস্টারমাইন্ড। প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। আমরা কি পারছি আর পারিনি তার জবাবদিহিতিা আছে।

    তিনি আরোও বলেন, যে আইন বাস্তবায়ন হলে, অধ্যাদেশ পাস করলে রাষ্ট্র সংস্কার হবে- সেগুলো বিএনপি বাতিল করে দিচ্ছে। তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমপি মাসুম মোস্তফার উপর হামলা করা হয়েছে। শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের ক্রিস প্রদর্শনী এমন বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধারা চায়নি। এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। মা বোনেরা নিরাপত্তার সাথে বের হবে এবং কাজ শেষে নিরাত্তার সাথে ফিরবে।

    বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে। সেই লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমরা সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। জনতার বিজয় হবে। আমরা আশাবাদী এ বাংলাদেশ পাল্টাবে। আমাদের এই যুদ্ধ সংসদে ও রাজপথে চলমান থাকবে। আমরা দেশবাসীকে মাঠে চাই। ব্যক্তিগত কোনো দাবি দাওয়া আমাদের নেই। সব দাবি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল দেশবাসী। ফলে সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা দিয়েছে বিএনপি। সবশেষে গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পর পরই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করছে। মাত্র দুই মাস বয়সে আর কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়নি, যা হয়েছে বিএনপি সরকার। আমরা জুলাইযোদ্ধাদের সম্মান আদায়ে রাজপথ ও সংসদে আছি। আমরা জনতার দাবি আদায় করে ছাড়বো।

    এলডিপির চেয়াম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের প্রকৃত অবস্থা তারেক রহমান জানতেন না। তাকে যা বলা হচ্ছে, তাই শুনছেন। জনগণ কৃষক কার্ড চায় না, ফ্যামিলি কার্ড চায় না। তিনি বলেন, সামনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে, অর্থনীতিকে সামাল দেয়া যাবে না। যার প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত বিএনপির লোকেরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনাকে ঘিরে রেখেছে, বেষ্টনী থেকে বের হন। বিরোধীদলীয় নেতার সাথে বসে জাতিকে মুক্তি দিতে সেই পলিসি নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণের ৭০% গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তে রায় দিয়েছে। কিন্তু তলে তলে বিএনপি না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। বিএনপি মোনাফিকি করে দ্বিচারিতা করে একবার পার পেয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে তাদের। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়তে, আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে। আজ সেই আন্দোলনকে অস্বীকার করা হচ্ছে। আজকে দুমাসের মাথায় রাজপথে নামতে হচ্ছে। এটি কারো জন্য সুখকর হবে না। জুলাইয়ে দেশ আবার স্বাধীন হয়েছে। আজকে আবার এক ব্যক্তির শাসনের দিকে নিতে চায় বিএনপি, কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ১১ দল আন্দোলনের ডাক দিলে প্রথম কাতারে থেকে প্রথম শহীদ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমরা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে আবার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। যেসব সাংবিধানিক কাঠামো ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার জন্য দায়ী, তার প্রত্যেকটি সংস্কারের জন্য যে প্রস্তাবনা, তাতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার কমিশন, গুম সংক্রান্ত কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গণভোট মানেন না। গায়ের জোরে তারা এসব বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকতে পারেনি। জুলাই শহীদ পরিবার, জুলাই আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ও জুলাইযোদ্ধারা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ের দাবি নিয়ে আবার সমাবেশ করতে হবে, তা জুলাইযোদ্ধারা চিন্তা করেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। জুলাই শহীদ পরিবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বক্তব্য শুনতে চায় না, বরং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন কবে ডাকবেন- তা শুনতে চায়। আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে জুলাই সনদের বাস্তবায়নের দাবি আদায় করেই ছাড়বো।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসন করছেন তাদের পরিণতি পলাতক আওয়ামী লীগের মতোই হবে। সরকার যে মসনদে বসে আছে- সেই মসনদ জুলাইযোদ্ধাদের রক্তের মসনদ। জুলাইযোদ্ধাদের সাথে গাদ্দারি করে তাদের পা ভাঙতে আসলে আপনাদের পা ভেঙে যাবে। জুলাইযোদ্ধারা আজ শাহবাগে একত্রিত হয়ে যে আওয়াজ তুলেছে, সেই আওয়াজকে বোঝার চেষ্টা করুন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন।

    এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যা্ডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমি, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়াম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম, জুলাইয়ের শিশু শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাকসুর জিএস মাজহরুল ইসলাম।

    সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের নায়েবে আমিরবৃন্দ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর দায়িত্বশীলবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের মাননীয় এমপিবৃন্দ এবং ডাকসু, জাকসু, চাকসু, জকসু, রাকসু নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সারা দেশ থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী দুই সহস্রাধিক জুলাইযোদ্ধাসহ কয়েক হাজার জুলাইযোদ্ধা সমাবেশে যোগ দেন।

    সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। সমাবেশে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গুত্ববরণকারী এবং জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, জুলাই শহীদ যুবায়ের খানের পিতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খান, শহীদ আনাস ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম খান, হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা তৌহিদ ফারাজী, জুলাই শহীদের পিতা জাকির হোসেন, শহীদের পিতা শেখ জামাল হোসাইন, শহীদের পিতা গাজিউর রহমান ও হাত হারানো জুলাইযোদ্ধা আতিউর ইসলাম প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত। সকাল ১০টায় ক্বারী এনায়েত উল্লাহ সাইফি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কোরআন তেলয়াওয়াতের অনুবাদ করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান।

    এ,আর

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ ৭৭,২২৭— দ্রুতই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি:  শিক্ষামন্ত্রী

    এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ ৭৭,২২৭— দ্রুতই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: শিক্ষামন্ত্রী

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ

    সারা দেশে বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭৭ হাজার ২২৭টি শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এসব শূন্য পদ পূরণে শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এমন তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

    মঈনুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে ই-রিকুইজিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা দেশে ৭৭ হাজার ২২৭টি শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব শূন্য পূরণের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শিগগিরই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। পর্যায়ক্রমে যোগ্য প্রার্থীদের মাধ্যমে পদসমূহ পূরণ করা হবে।’

    কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমান সরকার দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুণগত মান পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    এছাড়াও বাগেরহাট-৪ আসনের আবদুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আট হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। এক হাজার ৯২৩টি বিএম কলেজ রয়েছে।

  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

    ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান অব্যাহত, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে : মন্ত্রী

     

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার এসব অনুদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারি অনুদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং মসজিদভিত্তিক ধর্মীয় সেবাদানকারীদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    আজ বুধবার সংসদে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সরকারি দলের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, দেশের মসজিদসমূহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের যথাক্রমে পাঁচ হাজার, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, হিন্দু মন্দির, শ্মশান, বৌদ্ধ মন্দির ও শ্মশান, খ্রিস্টান গির্জা ও সেমিট্রিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বর্তমান অর্থবছরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চার কোটি ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হবে। এছাড়া বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিবছর বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ বিহার ও উপাসনালয়ে বিশেষ অনুদান বিতরণ করা হয়। এ অনুদান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বরাদ্দের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। একই সাথে ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকেও বিহার, উপাসনালয় ও শ্মশানের সংস্কার ও মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়।

    তিনি জানান, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমেও দেশের চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও তীর্থস্থানগুলোতে প্রতিবছর উৎসবভিত্তিক অনুদান দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দের ভিত্তিতে এ অনুদান বিতরণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে চার্চ, গির্জা, উপাসনালয় ও কবরস্থানের সংস্কার ও মেরামতের জন্যও অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার এসব অনুদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    এ/আর

  • আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    আইন প্রয়োগহীনতার কারণে দেশে অপরাধ বেড়েই চলছে,মাওলানা ইউনুস আহমদ

    বিডি ডেস্ক নিউজ,

    অধ্যক্ষ ই্উনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

    দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তথ্য উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেছেন, গত তিন মাসে সারাদেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিমাসে খুনের ঘটনা ২৮৪টি এবং প্রতিদিন ৯টার বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর ২০২৫ সালে এবং তার আগের বছরও তুলনামূলক কম খুন হয়েছে। চলতি বছরের তিন মাসে ডাকাতি হয়েছে ১৩৩টি, ছিনতাই ৪৩৯টি ও চুরির ঘটনা ২ হাজার ৩১৮টি। নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৯৪৭টি। তিন মাসে পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৪৭ বার। এই মাত্রার অপরাধ আসলেই উদ্বেগজনক। এই তিন মাসের দেড়মাস নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরে আশা করা হয়েছিলো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আশাব্যাঞ্জক কিছু চোখে পড়ছে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানা ও পুলিশের স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছয় লাখ ৫২ হাজার আট রাউন্ড গুলি লুট হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। গুলি উদ্ধার হয়নি দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪ রাউন্ড। এসব অস্ত্র অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জনমনে আশঙ্কা বিরাজ করছে।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, আইনের দুর্বলতা অপরাধ প্রবণতার পেছনে প্রধান কারণ । অপরাধ যত বড়ই হোক না কেন, ছয় মাসের মধ্যে জামিনে বের হওয়া যায়। আর কোনো অপরাধীর চূড়ান্ত বিচার এবং তা কার্যকর করার হার এতো কম যে, শাস্তির ভয় অপরাধীদের মনে স্থানই পায় না। ফলে অপরাধ করতে অপরাধীরা দ্বিতীয়বার ভাবছে না। এর সাথে রয়েছে আইনের প্রয়োগহীনতা। অপরাধীদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের অনীহা, পাকড়াও করলেও নানাভাবে মামলার ইজহার দুর্বল দেখানো, সাক্ষী উপস্থাপন না করা ইত্যাদি কারণে অপরাধীদের প্রকৃত বিচার হয়-ই না। ফলে দেশে খুন, গুম, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়েই চলছে।

    অধ্যক্ষ ই্উনুস আহমদ বলেন, বিদ্যমান আইন ও বিচারব্যবস্থার আমূল সংস্কার দরকার। অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে আরো দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

    এ/ আর

  • সাইবার স্পেসে টার্গেটে বয়স্ক ও গৃহিণীরা

    ডেক্স নিউজ : দেশের সাইবার স্পেসে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বয়স্ক মানুষ ও গৃহিণীরা। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন বিনিয়োগ, ভুয়া বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা টার্গেটে পড়ছেন। এ ধরনের ঘটনায় থানায় দায়ের করা অন্তত ১৫টি মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়সূত্র ও পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে চাকরির প্রলোভন, ভুয়া লটারির প্রলোভন, বিদেশ থেকে অনলাইনে লোভনীয় দামে পণ্য উপহার পাঠানোসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পিন হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গৃহিণী ও বয়স্ক ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমিত দক্ষতা, আর্থিক সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামর্থ্যবান না হওয়া এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে পুঁজি করে চক্রটি গৃহিণী ও বয়স্কদের ক্ষতি করছে।ঘটনা ১ : ময়মনসিংহের কোতোয়ালি এলাকার আসমিনা খাতুন (৩৪) পেশায় গৃহিণী। বর্তমানে ঢাকার মিরপুর এলাকায় থাকেন। সাইবার প্রতারণার এক জটিল ফাঁদে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ১১ লাখ টাকা। গত ৯ ডিসেম্বর বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর থেকে তার কাছে অনলাইনে কাজের প্রস্তাব আসে। বিভিন্ন প্রলোভনে রাজি করিয়ে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ‘রিসেপশনিস্ট’ পরিচয়ে এক ব্যক্তি ধাপে ধাপে তাকে টাকা বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর ১০ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১১ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। প্রতিবারই তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়, নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দিলেই লাভসহ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। একপর্যায়ে আরও টাকা দাবি করলে সন্দেহ সৃষ্টি হয় আসমিনার। পরে টাকা ফেরত পেতে চেষ্টা করেন। না পেয়ে থানায় মামলা করেন।গৃহিণী আসমিনা খাতুন জানান, পরিবারের পাশাপাশি বাবার বাড়ির আর্থিক দৈন্য দূর করতে অনলাইন ফ্ল্যাটফর্মে কাজটি শুরু করেছিলেন। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর প্রতারকরা তাকে হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করে এবং প্রথমে ‘রেটিং টাস্ক’ দিয়ে ৩০০ টাকা প্রদান করে। পরে টেলিগ্রাম গ্রুপে নিয়ে ৮০০ টাকা বিনিয়োগে ১,০৪০ টাকা ফেরত দেয়। এতে তার বিশ্বাস তৈরি হয়। পরে ধাপে ধাপে ৩,০০০ ও ১২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর আরও বেশি লাভের প্রলোভন দেখানো হয়। গ্রুপের অন্য সদস্যদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি স্বামীকে না বলে টাকা দেন। আত্মীয়দের কাছ থেকেও ধার নেন। ১২,০০০ টাকা দেওয়ার পর প্রতারকরা আরও ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। এতে সন্দেহ হয়। কিন্তু আগের টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় পরে চক্রের চাওয়া অর্থ দিতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ১১ লাখ টাকা হারান। ঘটনা-২ : ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সি খন্দকার কামরুজ্জামান বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। কিস্তিতে গাড়ি কেনার প্রলোভনে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন দেখে একটি নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রতারকরা গাড়ি

    সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম, রেজিস্ট্রেশন ও ডেলিভারি খরচের খাত দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নেয়। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে একাধিক নগদ নম্বরে তিনি অর্থ পাঠান। পরে গাড়ি না পেয়ে এবং প্রতারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে থানায় অভিযোগ করেন। কেন ঝুঁকিতে বয়স্ক ও গৃহিণীরা : মামলা ও তদন্তের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে এই শ্রেণির মানুষ বেশি প্রতারিত হচ্ছেন। অনেক বয়স্ক মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও নিরাপত্তাবিষয়ক সেটিংস, ফিশিং লিংক বা ভুয়া ওয়েবসাইট চিহ্নিত করতে পারেন না। একই অবস্থা গৃহিণীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এছাড়া লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘লটারিতে জিতেছেন’, ‘বিদেশ থেকে উপহার এসেছে’, ‘ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে’-এ ধরনের বার্তায় গৃহিণী ও বয়স্করা প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই করার সুযোগ তাদের হাতে থাকে না। ফলে ফাঁদে পড়ছেন।প্রতারকদের কৌশল: প্রতারকরা খুব পরিকল্পিতভাবে তাদের টার্গেটের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। প্রথমে তারা পরিচয় দেয় বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে। এর মধ্যে রয়েছে-ব্যাংক কর্মকর্তা, মোবাইল কোম্পানির কর্মী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়। এরপর ফোনে বা এসএমএসে তারা ভুক্তভোগীর আংশিক ব্যক্তিগত তথ্য জানিয়ে বিশ্বাস তৈরি করে। এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে বা বড় ধরনের ক্ষতি হবে-এমন ভয় দেখানো হয়। এতে ভুক্তভোগীরা চিন্তা না করেই ফোনের ওটিপি বা টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া ‘ঘরে বসে ইনকাম’, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের অভিনয় করে ধীরে ধীরে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।প্রতারিত হলে যেখানে অভিযোগ করবেন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারকরাও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তাই সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন। বিশেষ করে বয়স্ক ও গৃহিণীদের সচেতনতা প্রয়োজন। এছাড়া সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে হবে। এছাড়া পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১০১৪৬-৪৮-এ অথবা সাইবার পুলিশের বেরিফাইড ফেসবুক পেইজ ‘Cyber Police Centre, CID, Bangladesh police’ অভিযোগ দিতে পারেন ভুক্তভোগীরা। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ফোন বা মেসেজে ব্যক্তিগত তথ্য, পিন নম্বর বা ওটিপি শেয়ার করা যাবে না। সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া লোভনীয় কোনো অফার দেখলে পরিবারের প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করারও পরামর্শ দেন তিনি।

    M

  • বিএনপির এমপি হচ্ছেন ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী’ সুবর্ণা

    ডেক্স নিউজ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    আলোচিত সুবর্ণা ঠাকুর গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দাবি করছেন, আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুমতি না নিয়েই তার নাম রাখা হয়েছিল।

    কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাজ্ঞ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম।

    আজ সোমবার সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিএনপি।

    এই তালিকার ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণা শিকদারের (ঠাকুর) নাম। 

    বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমার স্বইচ্ছায় নাম ছিল না। অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছিল।

    আওয়ামী লীগের কোনো রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম না।’ 

    তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতি দেখা গেছে।গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘সুবর্ণা ঠাকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন। এখন তিনি অস্বীকার করে থাকলে ঠিক করছেন না। নতুন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য তিনি দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।সুবর্ণা ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় শিক্ষক।

    M