ক্যাটাগরি শিরোনাম

  • উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ

    উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ

    বিডি ডেস্ক নিউজ

    উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে থেকে ফ্লোর নিয়ে এমপিদের সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরাতন ভবনে যেখানে যে অবস্থা আছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সব সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

    আজ থেকেই জিও জারি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্ষটি প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য জানান

    এ/আর

  • জিও জারি  উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ আমার দেশ অনলাইন

    জিও জারি উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ আমার দেশ অনলাইন

    উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে থেকে ফ্লোর নিয়ে এমপিদের সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    > জাতীয়

    জিও জারি

    উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ

    আমার দেশ অনলাইন

    উপজেলা পরিষদে এমপিরা পাচ্ছেন অফিস কক্ষ
    ছবি: সংগৃহীত

    উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে থেকে ফ্লোর নিয়ে এমপিদের সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বিজ্ঞাপন

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরাতন ভবনে যেখানে যে অবস্থা আছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সব সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

    আজ থেকেই জিও জারি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্ষটি প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য জানান

  • নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ৪

    নিউজ ডেস্ক:

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরিবারপ্রধানের বাবা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন- হত্যার শিকার হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা, হালিমা ও ভাগ্নে সবুজ রানা।

    এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৬), স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), তাদের মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে জাকির হোসেন (১৪) ও শিশুকন্যা সাদিয়া ইসলাম মৌ (৪)।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যার শিকার ব্যক্তিরা নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘুমন্ত অবস্থায় হাবিবুর রহমানসহ তার স্ত্রীকে গলা কেটে এবং ছেলে ও মেয়েকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা সকালে তাদের ঘরের দরজার কাছে রক্ত দেখতে পেয়ে ঘরে প্রবেশ করলে খাটের উপর হাবিবুর রহমানের গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে। স্ত্রীর পপির লাশ ঘরের বাইরে এবং ছেলে জাকির হোসেন ও মেয়ে সাদিয়ার লাশ পাশের ঘরে দেখতে পান।

    পরে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। কিভাবে ও কেন তারা খুন হলো তা জানতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

    এডিশনাল ডিআইজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ শাওন, নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    নিহত পপি সুলতানার মা সাবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওরা (শ্বশুর পরিবার) আমার মেয়েকে নির্যাতন করে। কয়েকদিন আগে আমার মেয়ের ননদ শিরিনা তার স্বামী ভুটি ও তার ছেলের বউ মিলে আমার মেয়েকে মারধর করে। তখন তারা থানায় যায়। থানা তাদের অভিযোগ নিলেও আমার জামাইয়ের কোনো অভিযোগ নেয়নি। থানা থেকে ঘুরে এসে গ্রামের মানুষের কাছে বিচার দেয়। গ্রামের মানুষ তখন আপস মীমাংসা করে দেয়। তারপর কোর্টে মামলা করে। জমি যখন আমার জামাইকে দেয় তখন তার পাঁচ বোনকেও আড়াই বিঘা করে জমি লিখে দেয়। আর আমার জামাইকে বাড়ি ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি দেয়। আমার জামাই তার বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেয়াতেই তাদের মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তারা এর বংশকে নির্বংশ করে দেয়ার পরিকল্পনা করে। আমার মেয়েকে তারা বহুদিন থেকে নির্যাতন করে। ওরা পাঁচ বোন মিলেই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনীকে মেরে ফেলেছে।’

    নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান (পিপিএম) বলেন, ‘চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
  • বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    বিশ্বমঞ্চে ভারতকে ধরাশায়ী করছে পাকিস্তান

    নিউজ ডেস্ক:

    বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের খেলায় কেবল অর্থনৈতিক শক্তি বা সামরিক সক্ষমতাই শেষ কথা নয়; বরং কোন রাষ্ট্র নিজেকে কতটা “অপরিহার্য” করে তুলতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করে তার প্রকৃত কৌশলগত অবস্থান। এই বাস্তবতায় পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করে আসছে—যেখানে সীমাবদ্ধতাকেই সম্পদে রূপান্তর করা হয়। বিপরীতে ভারত, বৃহৎ অর্থনীতি ও বৈশ্বিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, অনেক ক্ষেত্রে সেই অপরিহার্যতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাগুলো এই বৈপরীত্যকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বহু দশকের নীরব সামরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অবস্থানকেও নিশ্চিত করে। এই অঞ্চলে ভারতের বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থ—প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিটেন্স, জ্বালানি নির্ভরতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক—থাকা সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি, স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। ফলে অর্থনৈতিক প্রভাব থাকলেও নিরাপত্তা স্থাপত্যে ভারত প্রান্তিকই থেকে গেছে।

    এই কৌশলগত অবস্থানের সরাসরি প্রতিফলন দেখা যায় চলমান পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন ভূমিকা সাধারণত সেই রাষ্ট্রগুলিই পায়, যাদের ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিকল্প কম থাকে। পাকিস্তান সেই অবস্থান তৈরি করেছে তার সামরিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বহুমুখী সম্পর্কের মাধ্যমে—যেখানে একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখা হয়।

    ঐতিহাসিকভাবে এই ধারা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জার-এর গোপন চীন সফরের পেছনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাই ছিল মূল চালিকা শক্তি, যার মাধ্যমে রিচার্ড নিক্সন প্রশাসন চীন-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ পায়। ১৯৮০-এর দশকে আফগান যুদ্ধে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সমর্থন আফগান মুজাহিদদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। এমনকি ২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধেও পাকিস্তান একসঙ্গে সহযোগী ও চ্যালেঞ্জ—দুই ভূমিকাতেই থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, পাকিস্তানের কৌশল কোনো একক সরকারের নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি।

    পাকিস্তানের এই অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে তার পারমাণবিক সক্ষমতা। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে যায়। ভারতের প্রচলিত সামরিক আধিপত্য কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, কারণ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি উভয় পক্ষের জন্যই বিপর্যয়কর হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ভারতের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট হয়, যেখানে পাকিস্তান সামরিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েও সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ফলে পারমাণবিক প্রতিরোধ শুধু নিরাপত্তা নয়, কূটনৈতিক দরকষাকষিরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

    সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্ভাব্য “পারমাণবিক ছাতা”। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রথমে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও দ্রুত তা প্রত্যাহার করেন। তবে এই ঘটনাই দেখায়, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কৌশলগত অস্পষ্টতা বজায় রাখছে—যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি না দিয়েও সম্ভাব্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইঙ্গিত রাখা হয়। এই ধরনের অস্পষ্টতা সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাকিস্তানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে, বিশেষত এমন সময়ে যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিবেশ অনিশ্চিত।

    ভৌগোলিক অবস্থান পাকিস্তানের এই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করে। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীন-এর সংযোগস্থলে অবস্থান করায় এটি একটি প্রাকৃতিক করিডোরে পরিণত হয়েছে। চীনের জন্য এটি অর্থনৈতিক করিডোরের শেষ প্রান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিক নিরাপত্তা অংশীদার, আর সৌদি আরবের জন্য নির্ভরযোগ্য সামরিক সহযোগী। ফলে বিভিন্ন শক্তির স্বার্থ এক জায়গায় এসে মিলে যায়—আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পাকিস্তান।

    অন্যদিকে ভারতের শক্তিই অনেক ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। বৃহৎ অর্থনীতি, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”-এর নীতি ভারতকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিলেও, তা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নিরাপত্তা ভূমিকায় যেতে নিরুৎসাহিত করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বজুড়ে সম্পর্ক বিস্তার করলেও, সেই সম্পর্কগুলোকে নিরাপত্তা নির্ভরতায় রূপান্তর করতে পারেনি। ফলে ভারত অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, কিন্তু অপরিহার্য নয়।

    সবশেষে দেখা যায়, পাকিস্তান তার অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, নিরাপত্তা নির্ভরতা এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সম্পদে পরিণত করেছে। অন্যদিকে ভারত তার শক্তির কারণে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায়, যেখানে আঞ্চলিক সংঘাত, শক্তির প্রতিযোগিতা এবং জোট রাজনীতি নতুনভাবে গড়ে উঠছে, পাকিস্তান সেই শূন্যস্থানগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাকে উপেক্ষা করা যায় না—এবং সেখানেই কৌশলগতভাবে ভারতকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

  • বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

    নিউজ ডেস্ক:

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনের শুরু থেকে তেলের দামে যে পতন লক্ষ্য করা গেছে, সময় বাড়ার সাথে সাথে সেই ধারা বজায় রয়েছে।

    মূলত মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল থেকে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে—এমন আশাবাদই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেল প্রতি ৬৯ সেন্ট কমে ৯৪.৭৯ ডলারে নেমে এসেছে। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে প্রায় ১.৩ শতাংশ।এর আগে গত সপ্তাহান্তে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে সোমবার (২০ এপ্রিল)  তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছিল।

    তবে বর্তমানে আলোচনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজার পরিস্থিতি পুনরায় স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে এবং তেলের দাম সেই বর্ধিত অবস্থান থেকে নিচে নেমে এসেছে।

  • ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    ভারতীয় বিমানের ওপর পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    নিউজ ডেস্ক:

    ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন করে জারি করা ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম)-এর মাধ্যমে আরও এক মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ভারতীয় নিবন্ধিত, লিজ নেওয়া, বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজ ২০২৬ সালের ২৪ মে ভোর ৫টা পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।

    ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ভারতীয় ফ্লাইটগুলোর জন্য আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান। এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কয়েক বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে।

    কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করলে পালটা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান। ভারত এ হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানায়।

    পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্তের পর ৩০ এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি উড়োজাহাজের জন্য নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    পেহেলগাম হামলার পর ২০২৫ সালের ৬–৭ মে ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ‘উসকানিবিহীন’ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে বড় পরিসরের পালটা সামরিক অভিযান চালায় এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে।

    পাকিস্তানের দাবি, তারা তিনটি রাফালসহ ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান এবং বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান হয়।

    এ সময় ভারতের বিমান খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও পাকিস্তানের বিমান খাতে প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

    এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। ওই দুই ক্ষেত্রেও ভারতের বিমান চলাচলে বেশি বিঘ্ন ঘটেছিল।

  • কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারে বিদেশি বিমান চলাচল শুরু

    কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো পর্যায়ক্রমে তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করছে।

    কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (কিউসিএএ) আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    কিউসিএএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল জাতীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতির একটি ব্যাপক মূল্যায়ন শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আঞ্চলিক সংকটের কারণে কাতারের আকাশপথ বিদেশি বাহনগুলোর জন্য কার্যত বন্ধ থাকার পর এই প্রথম তা পুনরায় উন্মুক্ত হলো।

    কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, সকল ফ্লাইট এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে পরিচালিত হবে। যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত বাছাইকৃত কিছু বিদেশি এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ফ্লাইটগুলো নিয়মিত করা হবে।

    আকাশপথ পুনরায় সচল হওয়াকে কাতারের বিমান চলাচল খাতের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো তাদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনরায় বুকিং দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানা গেছে।

  • চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

    চীনা স্যাটেলাইট যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইরানের রণকৌশল

     

    নিউজ ডেস্ক

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান ও চীনের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, চীনের তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে।

    বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলাগুলোর পেছনে এই চীনা প্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথির বরাতে জানা গেছে, ইরান গোপনে চীনের ‘আর্থ আই’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘TEE-01B’ স্পাই স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা উপগ্রহের নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছে। এই স্যাটেলাইটটি আধা-মিটার রেজোলিউশনের অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি পাঠাতে সক্ষম, যা ইরানের নিজস্ব স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

    এই প্রযুক্তির সহায়তায় ইরানি কমান্ডাররা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি, যেমন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেজ বা জর্ডানের মোয়াফ্ফাক সালতি ঘাঁটির রিয়েল-টাইম তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখন চীনের ‘বেইদু’ নেভিগেশন সিস্টেম এবং এই উচ্চমানের ইমেজিং স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে তারা নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারছে। এই স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান কোনো হামলার আগে যেমন লক্ষ্যবস্তু সুনির্দিষ্ট করতে পারছে, তেমনি হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত যাচাই করতে পারছে।

    এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদানের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। বেইজিং এই ধরণের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে সেই দেশের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

    তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত না থেকেও ইরানের হয়ে এক ধরণের ডিজিটাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শামিল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    এই স্যাটেলাইট কূটনীতি একদিকে যেমন ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অকার্যকর করে দিচ্ছে, অন্যদিকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের নতুন নজির স্থাপন করছে।

  • সবুজের বুকে সোনালী স্বপ্ন বুনছে চৌগাছা ধান চাষীরা

    সবুজের বুকে সোনালী স্বপ্ন বুনছে চৌগাছা ধান চাষীরা

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

    ফসলের মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন । এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা। যশোরের চৌগাছা উপজেলার কৃষক পরিবারে এখন পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। মাঠে মাঠে আনন্দে মাতুয়ারা সোনালী ধানের শীষ। প্রতিটি শীষে যেন কৃষকের জীবনের স্বপ্ন ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। অন্যদিকে সঠিক সময়ে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন উপজেলার চাষীরা। প্রচন্ড তাপদাহে শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা করছেন তারা। তার পরেও মাঠে মাঠে ধান কাটার উৎসবের আমেজ। কৃষাণ-কৃষাণীরা মনে বইছে আনন্দের বন্যা।

    উপজেলা জুড়ে ধানের বাম্পার ফলনে বাধ-ভাঙ্গা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে কৃষকের মন। দিগন্তজুড়া সোনালী ফসলের মনোরম দৃশ্য এখন গোটা উপজেলা জুড়ে। কোনো এলাকায় দু’একজন চাষী ধান কাটলেও এক সপ্তাহ পরে শুরু হবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। ফসল কাটার মহোৎসবে ব্যস্ততম সময় কাটাবেন এখানকার কৃষকরা।

    প্রচন্ড তাপদাহে খুব সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে সোনালী স্বপ্ন ঘরে তোলা সংগ্রাম। উপজেলার পাশাপোল গ্রামের মমিনুর রহমান, রাকৃষ্ণপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, কয়ারপাড়া গ্রামের আবু কালাম জানান , তারা তিন বিঘা করে বোরো ধান চাষ করেছেন। যে খরচ হয়েছে তাতে কম পক্ষে ১৭’শ টাক মন দরে ধান বিক্রি করতে পারলে তাদের জন্য ভালো হবে।
    কৃষকরা জানান, এবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও শ্রমিক সংকটের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এ বছর বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১৮ হাজার ২০০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ২০০ টন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, এবছরে ধানের আবহাওয়া ভালো। তাপে ধানের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ইতোমধ্যে দু’একজন কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করেছেন। উপজেলা অধিদফতরের পক্ষ থেকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে রোবধান কাটা শুরু করা হবে। এতে শ্রমিক সংকট অনেকটা কমে আসবে। তা ছাড়া যেসব ক্ষেতে ধান নুয়ে পড়েছে সেসব ক্ষেতের ধান দ্রæত কাটার জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

  • হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    হরমুজের পর কেন মালাক্কা প্রণালী নিয়ে শঙ্কা

    আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি, সেটি নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে চলমান অচলাবস্থার মাঝেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং সেটি হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালী।

    এটি সরাসরি দক্ষিণ চীন সাগরের সাথে যুক্ত, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়। এই প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২.৮ কিলোমিটার চওড়া যার অবস্থান সিঙ্গাপুরের কাছে ফিলিপস চ্যানেল এলাকায়।

    মালাক্কা প্রণালী আবারো আলোচনায় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমার ওপর দিয়ে সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিস্তৃত অনুমতি চেয়ে একটি প্রস্তাব দেয়। একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর এই প্রস্তাব আসে, তবে বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    বৈশ্বিক গুরুত্ব

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ আজিফাহ আস্ত্রিনা বলেন, ‘মালাক্কা প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারত মহাসাগরকে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে যুক্ত করা সবচেয়ে ছোট ও কার্যকর সমুদ্রপথ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের জন্য এটি অপরিহার্য।’

    যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন ২ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে নেয়া হয়েছে- যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২৯ শতাংশ। এই একই সময়ে প্রতিদিন ২৬ কোটি ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও পরিবহন হয়েছে এই পথ দিয়ে।

    যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিশেষজ্ঞ গোকি বালসি বলেন, এই পথ দিয়ে শুধু জ্বালানি নয়, ইলেকট্রনিকস, ভোগ্যপণ্য, শিল্পপণ্য, যন্ত্রপাতি ও গাড়িও পরিবহন হয়ে থাকে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ গাড়ির বাণিজ্য এই পথ দিয়ে হয়। এছাড়া শস্য ও সয়াবিনের মতো শুকনো পণ্যও পরিবহন হয় এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে।’বালসি আরো বলেন, ভৌগলিক, জ্বালানি পরিবহন, নানা ধরনের পণ্য পরিবহনের দিক থেকে হরমুজ প্রণালী গুরুত্বপূর্ণ হলেও মালাক্কার ভূমিকা আরো বিস্তৃত।

    তিনি বলেন, ‘হরমুজ মূলত জ্বালানি রুট। কিন্তু মালাক্কা প্রণালী শুধু জ্বালানি নয় বরং বহুবিধ পণ্যের ট্রান্স-শিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।’ আস্ত্রিনা বলেন, ‘এটা বলা যেতেই পারে যে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পথগুলোর একটি হলো মালাক্কা প্রণালী।’

    সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক রিক্যাপ তথ্য আদান-প্রদান কেন্দ্রের মতে, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালীতে ২০২৫ সালে ১০৮টি জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। তাই এই প্রণালীতে জলদস্যুতা একটি চিরস্থায়ী উদ্বেগের বিষয়।এছাড়াও, এই এলাকাটি সুনামি ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকিতেও রয়েছে। ২০০৪ সালের সুনামিতে এর দক্ষিণাঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

    কেন এখন উদ্বেগ?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালাক্কার গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয় বরং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।বালসি বলেন, ‘চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মধ্যে সমুদ্র আধিপত্য নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে এই পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।’

    আস্ত্রিনা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পেলে তা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।তার গবেষণা মতে, মালাক্কা প্রণালীর বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী দেশগুলোর মাঝের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামাল দেয়ার জন্য তৈরি নয়। এটি মূলত জলদস্যুতা, চোরাচালান ও সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো বড় শক্তি যখন এই অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম ও উপস্থিতি বাড়ায়, তখন এমন একটি নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সামাল দেয়ার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাটি তৈরি নয়।’তবে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা কম বলেও তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, ‘এখনই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হবে না, কারণ বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থ শক্তিশালী হওয়ায় সবাই সেটি বজায় রাখতে চায়।’তার মতে, বড় ঝুঁকিটি রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে।

    তিনি বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, যদি চীন এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বৃদ্ধির অবস্থান হিসেবে দেখে, তাহলে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তবে সেটি সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ করে নয় বরং এই অঞ্চলজুড়ে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে তা করতে পারে। ঝুঁকিটা সেখানেই। ধীরে ধীরে এমন এক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, যেখানে সহযোগিতামূলক ও আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক নিরাপত্তা পরিবেশ বদলে গিয়ে তা রূপ নিতে পারে আরো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে।’তিনি সতর্ক করে বলেন, সরাসরি সংঘাত না হলেও এমন পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাব থাকতে পারে।

    তিনি যুক্ত করেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরোক্ষ হলেও শক্তিশালী হবে যেমন বীমা খরচ বাড়বে, ঝুঁকির ধারণা বাড়বে এবং এমন একটি সমুদ্রপথে অস্থিরতা তৈরি হবে যার ওপর বিশ্ব অর্থনীতি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।’ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকা সরলভাবে দেখাকে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘এটিকে এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই যেন ইন্দোনেশিয়া কোনো এক পক্ষের সাথে জোট বাঁধছে। ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, চীনের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং অন্যদিকে রাশিয়ার মতো অন্যান্য অংশীদারদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে ভারসাম্য বজায় রাখছে। বাস্তবতা হলো মহাজোটগুলোর প্রতিযোগিতা এখন এমন এক অঞ্চলে প্রবেশ করছে, যা এতদিন বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য যৌথ ও কার্যকর করিডর হিসেবে পরিচালিত হয়ে এসেছে।’

    ‘মালাক্কা দ্বিধা’

    ২০০৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও ‘’মালাক্কা ডিলেমা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তাদের এই নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বোঝাতে।যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং চায়না পাওয়ার প্রোজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তেল আমদানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের মোট মূল্যের প্রায় ৬০ শতাংশ মালাক্কা প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    বালসি বলেন, ‘শুধু চীনই নয়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানির জন্য এই প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি এটির মধ্য দিয়ে আসে।’তিনি আরো বলেন, এই নৌপথ সিঙ্গাপুরের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দর এবং এটি জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের বড় কেন্দ্র।চীনের জন্য এই প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানো বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন আস্ত্রিনা। তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে চীনের পক্ষে বাস্তব অর্থে এই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কোনো কার্যকর উপায় নেই। পাইপলাইন বা অন্য কোনো করিডরের মতো বিকল্প পথ কিছুটা সহায়তা করতে পারলেও তা বৃহৎ পরিসরে মালাক্কার বিকল্প হতে পারবে না।’

    বালসিও এতে একমত। তিনি বলেন, সুন্দা প্রণালী ও লম্বক প্রণালী যে দু’টিই ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রসীমায় অবস্থিত তারাই সবচেয়ে কার্যকর দু’টি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।পাপুয়া নিউগিনির নিকটে টরেস প্রণালী সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অগভীর ও সংবেদনশীল নৌপথ যেখানে প্রবালপ্রাচীর রয়েছে। ফলে সেখান দিয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারে না।আর যদি জাহাজগুলোকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ঘুরে যেতে হয় সেক্ষেত্রে অত্যধিক সময় ও ব্যয় লাগবে বলে তিনি জানান।আস্ত্রিনা মনে করেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে চীন এই দুর্বলতা দূর করার চেয়ে বরং তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেবে।

    তিনি বলেন, ‘এই দ্বিধার মূল বিষয় নির্ভরতা কমানো নয় বরং চীন কিভাবে সেই নির্ভরতা পরিচালনা করে। এ কারণেই চীন শুধু বিকল্প পথ খোঁজার দিকে নয় বরং বৃহত্তর অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে নিজেদের প্রভাব ও উপস্থিতি বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।’